x

আসন্ন সঙ্কলন

গোটাকতক দলছুট মানুষ হাঁটতে হাঁটতে এসে পড়েছে একে অপরের সামনে। কেউ পূব কেউ পশ্চিম কেউ উত্তর কেউ দক্ষিণ... মাঝবরাবর চাঁদ বিস্কুট, বিস্কুটের চারপাশে লাল পিঁপড়ের পরিখা। এখন দলছুট এক একটা মানুষ এক হয়ে হাঁটছে চাঁদ বিস্কুটের দিকে। আলাদা আলাদা মানুষ এক হয়ে হাঁটছে সারিবদ্ধ পিঁপড়েদের বিরুদ্ধে। পথচলতি যে ক'জনেরই নজর কাড়ছে মিছিল তারাই মিছিল কে দেবে জ্বলজ্বলে দৃষ্টি। আগুন নেভার আগেই ঝিকিয়ে দেবে আঁচ... হাত পোহানোর দিন তো সেই কবেই গেল ঘুচে, যেটুকু যা আলো বাকী সবটুকু চোখে মেখে চাঁদ বিস্কুট চেখে চেখে খাক এই মিছিলের লোক। মানুষ বারুদ কিনতে পারে, কার্তুজ ফাটাতে পারে, বুলেট ছুঁড়তে পারে খালি আলো টুকু বেচতে পারেনা... এইসমস্ত না - বেচতে পারা সাধারণদের জন্যই মিছিলের সেপ্টেম্বর সংখ্যা... www.sobdermichil.com submit@sobdermichil.com

অতিথি সম্পাদনায়

মৌমিতা ঘোষ

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

মৌমিতা ঘোষ

শনিবার, জানুয়ারী ২৬, ২০১৯

আব্দুল মাতিন ওয়াসিম

sobdermichil | জানুয়ারী ২৬, ২০১৯ |
আব্দুল মাতিন ওয়াসিম
পাসপোর্ট
মূল-মাহমুদ দারবিশ, ফিলিস্তিন
অনুবাদ- আব্দুল মাতিন ওয়াসিম

আমাকে চিনতে পারেনি ওরা, অন্ধকারে
যে অন্ধকার শুষে নিয়েছিল সব রং
আমার পাসপোর্টের।
ওদের কাছে আমার ক্ষতগুলো ছিল
নিখাদ লোক-দেখানো
ভালোবেসে ছবি সংগ্রহ করে
এমন পর্যটকদের জন্য;
ওরা চিনতে পারেনি আমাকে।
আমার হাতের তালু ইদানীং
সূর্যবিহীন, আমাকে যে চেনে
এখানকার সকল গাছপালা
চেনে বৃষ্টি, বৃষ্টির সকল গান;
তাই আমাকে ছেড়ে যেও না
ফেলে যেও না বিবর্ণ ক’রে চাঁদের মতো!

যে চড়ুই পাখীরা
অনুসরণ ক’রে আমার হাতের তালুকে
ছুঁয়েছিল দূরবর্তী বিমানবন্দরের দরজা
গমে-ভরা বিস্তৃত এই মাঠ
এখানকার সব ক’টা জেলখানা
শ্বেত সমাধির সকল পাথর
কাঁটাতারে ঘেরা এই সীমানা
দুলতে থাকা সব ক’টা রুমাল, সকল দৃষ্টি
সবই ছিল আমার সাথে
অথচ এসব কিছুকে
কেড়ে নিয়েছে ওরা আমার পাসপোর্ট থেকে।

এই দু’হাত দিয়ে বহু দিন যত্ন নিয়েছি যে-মাটির
সেই মাটিতেই আজ আমি অচেনা
সেই মাটিতেই হারিয়ে গেছে
আমার নাম, আমার ঠিকানা
এই লজ্জা এখন আমি কোথায় রাখি!
আজকের অসহায় আইয়ুবরা
আকাশ কাঁপিয়ে আর্তনাদ করছে,
স্থাপন করো না আর কোনো দৃষ্টান্ত
আমাদের নামে, হে সুশীল সমাজ!
হে বার্তাবাহকরা, জিজ্ঞেস করো না আর
গাছপালাগুলোকে তাদের নাম
জানতে চেয়ো না উপত্যকাসমূহের কাছে
তাদের মাতৃ-পরিচয়।
এখন আমার ললাট থেকে
বিচ্ছুরিত হচ্ছে আলোর তরবারি
স্ফুরিত হচ্ছে নদীর জল
আমার হাত থেকে ঝর্ণাধারার মতো।
প্রতিটি মানব-হৃদয় এখন আমার রাষ্ট্র
অতএব নিয়ে যাও আমার এই পাসপোর্ট!

[ফিলিস্তিনের জাতীয় কবি মাহ্‌মুদ দারবিশ (১৯৪১-২০০৮) নিজ কবিতার দ্বারা আন্তর্জাতিক মননে সংগ্রামের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। বিশ্বব্যাপী পাঠকবর্গ তাঁর কবিতার মাধ্যমে জানতে পারেন ফিলিস্তিনের হালহকিকত। দেখতে পান ফিলিস্তিনিদের সমস্যা-সংগ্রাম-সংস্কৃতি সম্পর্কিত সঠিক ও বাস্তব ছবি তাঁর শব্দের ক্যানভাসে। 

আইয়ুব। হিব্রু ও ইসলামি সাহিত্যে একজন নবির নাম। তাওরাত (ইহুদিদের ধর্মগ্রন্থ)-এর একটি অধ্যায়ের নাম ‘আইয়ুব’। সাহিত্যমানের বিচারে অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও উন্নত সাহিত্যকীর্তি সেটি। সেই অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে আইয়ুবের (আঃ) কথা। ফুটে উঠেছে অসহায় ও নিষ্পাপ মানুষদের নির্যাতিত হওয়ার করুণ ছবি। সেই সূত্র ধরেই কবি এখানে বর্তমান নির্যাতিত-নিপীড়িত ফিলিস্তিনি জাতিকে আইয়ুব বলে সম্বোধন করেছেন। এই কবিতায় তিনি প্রকাশ করেছেন, কীভাবে ইসরাইলি আগ্রাসন তাঁদের সব কিছুই কেড়ে নিয়েছে; এমনকি তাঁদের পরিচয়টুকুও।] 


جواز سفر

لم يعرفوني في الظلال التي
تمتصّ لوني في جواز السفر
و كان جرحي عندهم معرضا
لسائح يعشق جمع الصور
لم يعرفوني، آه.. لا تتركي
كفي بلا شمس
لأن الشجر
يعرفني ..
تعرفني كل أغاني المطر
لا تتركيني شاحبا كالقمر !
كلّ العصافير التي لاحقت
كفي على باب المطار البعيد
كل حقول القمح ،
كل السجون،
كل القبور البيض
كل الحدود ،
كل المناديل التي لوّحت ،
كل العيون
كانت معي، لكنهم
قد أسقطوها من جواز السفر
عار من الاسم من الانتماء؟
في تربة ربيتها باليدين ؟
أيوب صاح اليوم ملء السماء:
لا تجعلوني عبرة مرتين !
يا سادتي! يا سادتي الأنبياء
لا تسألّوا الأشجار عن اسمها
لا تسألوا الوديان عن أمها
من جبهتي ينشق سيف الضياء
و من يدي ينبع ماء النهر
كل قلوب الناس ..جنسيتي
فلتسقطوا عني جوار السفر !

Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.