x

আসন্ন সঙ্কলন

গোটাকতক দলছুট মানুষ হাঁটতে হাঁটতে এসে পড়েছে একে অপরের সামনে। কেউ পূব কেউ পশ্চিম কেউ উত্তর কেউ দক্ষিণ... মাঝবরাবর চাঁদ বিস্কুট, বিস্কুটের চারপাশে লাল পিঁপড়ের পরিখা। এখন দলছুট এক একটা মানুষ এক হয়ে হাঁটছে চাঁদ বিস্কুটের দিকে। আলাদা আলাদা মানুষ এক হয়ে হাঁটছে সারিবদ্ধ পিঁপড়েদের বিরুদ্ধে। পথচলতি যে ক'জনেরই নজর কাড়ছে মিছিল তারাই মিছিল কে দেবে জ্বলজ্বলে দৃষ্টি। আগুন নেভার আগেই ঝিকিয়ে দেবে আঁচ... হাত পোহানোর দিন তো সেই কবেই গেল ঘুচে, যেটুকু যা আলো বাকী সবটুকু চোখে মেখে চাঁদ বিস্কুট চেখে চেখে খাক এই মিছিলের লোক। মানুষ বারুদ কিনতে পারে, কার্তুজ ফাটাতে পারে, বুলেট ছুঁড়তে পারে খালি আলো টুকু বেচতে পারেনা... এইসমস্ত না - বেচতে পারা সাধারণদের জন্যই মিছিলের সেপ্টেম্বর সংখ্যা... www.sobdermichil.com submit@sobdermichil.com

অতিথি সম্পাদনায়

মৌমিতা ঘোষ

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

মৌমিতা ঘোষ

সোমবার, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৮

সমীরণ চক্রবর্তী

sobdermichil | ডিসেম্বর ৩১, ২০১৮ |
"ঝুপড়ির লখা"
ঙ্গার পাড় বেয়ে চলে গেছে চক্ররেল। রেল লাইনের ধারে ঝুপড়িতে বাস লখিন্দরের, বাবা মা আর অবিবাহিত বোনের সাথে। মা আদর করে ডাকে 'লখা' বলে। বয়স সাতাশ আটাশ, রোগাটে গড়ন, কাগজ কুড়োয়, সুযোগ পেলে চুরি-চামারিও করে। 

আজ শ্রাবণ মাসের সোমবার, লখার কাজে মন নেই, সকাল থেকে উঠেই এদিক ওদিক ঘুরছিলো হঠাৎ দেখা বাচ্চুর সাথে। পুরানো দোস্ত, দু'জনে একসাথে দু'রাত হাজতবাস ও করেছে। বাচ্চুকে দেখে পুরানো নেশাটা চাগাড় দিলো লখার মাথায়, গঙ্গার পাড়ের চাতালে বসে "বোম ভোলে" বলে কল্কেতে টান দিলো দু'জন। লখার টানের চোটে কল্কের ঝিমানো আগুনটা দাউ করে জ্বলে উঠলো। নেশায় বুদ হয়ে চোখ বুজে দু'জনেই বসে থাকলো ঘন্টাখানেক। তারপর বাচ্চু হাঁটা দেয় বাগবাজার ঘাটের দিকে, আর লখার....?

লখা উঠে দাঁড়িয়ে বাওয়ালি শুরু, শুধু হাসি.. খিলখিলিয়ে হাসি...

এমন সময় দেখা মনুয়ার সাথে, "আরে...,লখা না...? অ্যা..অ্যায় দিকটায় ... অ্যায় ভাই... ভাই আমার..., বহুত দিন বাদ" বলে লখাকে নদীর পাড়ের বট গাছটার তলায় নিয়ে এসে বাংলা বোতল খাওয়ায়।

লখা জাতে মাতাল তালে ঠিক, বিনে খরচে দাদা মার্কা বাংলু টানছে আশ মিটিয়ে।

তখন নদীতে জোয়ার, আর পাড়ে বট গাছের হাওয়া খেয়ে লখা তখন ত্রিনেত্র দেখছে শুয়ে শুয়ে। একদল চ্যাংড়া ছেলে ঠাকুরের ফেলে দেওয়া জবা আর নীলকন্ঠের মালা পরিয়ে দিয়ে গেছে লখার গলায়, সঙ্গে কিছু ছেঁড়া কলাপাতাও ফেলে গেছে লখার গায়ে।

একটা নধর ষাঁড় এসে দাঁড়ালো লখার পাশে। ফুল মালা আর কলাপাতা খাওয়ার লোভে ষাঁড়টা ভয়ে ভয়ে মুখ বাড়ালো। নেশার ঘোরে অর্ধচেতন লখা ধরেছে 'ব'-সিরিজের গালি। যতই হোক... ধর্মের ষাঁড় লখার থেকে চালাক। নিজেকে সামলে নিয়ে শুয়ে পড়লো লখার পাশে, থেকে থেকেই চোখ চলে যায় কলাপাতায়, আড় চোখে তাকায় আর জাবর কাটে।

নেশার ঘোরে লখা ভাবে সে তো লখিন্দর। ছোটো বেলায় মনসামঙ্গল পালায় দেখেছে, বাসর ঘরে সাপের কামড়ে মৃত্যু হয়েছিলো লখিন্দরের...। তার ভয় হলো এখন তো অনেক রাত, সে দেখছে একটা কালো চকচকে সাপ ছুটে আসছে তার দিকে, তবে এ কি সেই কালনাগিনী...।

সাপটা তার কাছে এলো, ভালো করে লখাকে দেখে ভাবলো, এর যা অবস্থা, একে কামড়ালে, আমিই মরে যাব ওর বিষে। সাপটা ধীরে ধীরে মিশে গেলো সামনের ঝোপে।

লখা মনে মনে ভাবছে, তাকে কালনাগিনী ছোবল দিয়েছে বটতলার বাসরঘরে, সে মরে গেছে, আর প্রতীক্ষায় আছে বেহুলার। বেহুলা ঠিক এসে কলার ভেলায় নিয়ে বেরোবে ঘাটে ঘাটে তার প্রাণ ভিক্ষায়। অপেক্ষার রাত কেটে ভোর, লখার ঘোর কাটেনি, গঙ্গায় এখন ভাটার টান। কচুরি পানার ভেলায় এক পায়ে ভেসে চলেছে সাদা বক ভাটার টানে, তাই দেখে লখা জড়ানো গলায় বিড়বিড় করে, "ও বেহুলা, আমায় নিয়ে যাবেনা...?


bioplus.samiran@gmail.com
Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.