x

আসন্ন সঙ্কলন

গোটাকতক দলছুট মানুষ হাঁটতে হাঁটতে এসে পড়েছে একে অপরের সামনে। কেউ পূব কেউ পশ্চিম কেউ উত্তর কেউ দক্ষিণ... মাঝবরাবর চাঁদ বিস্কুট, বিস্কুটের চারপাশে লাল পিঁপড়ের পরিখা। এখন দলছুট এক একটা মানুষ এক হয়ে হাঁটছে চাঁদ বিস্কুটের দিকে। আলাদা আলাদা মানুষ এক হয়ে হাঁটছে সারিবদ্ধ পিঁপড়েদের বিরুদ্ধে। পথচলতি যে ক'জনেরই নজর কাড়ছে মিছিল তারাই মিছিল কে দেবে জ্বলজ্বলে দৃষ্টি। আগুন নেভার আগেই ঝিকিয়ে দেবে আঁচ... হাত পোহানোর দিন তো সেই কবেই গেল ঘুচে, যেটুকু যা আলো বাকী সবটুকু চোখে মেখে চাঁদ বিস্কুট চেখে চেখে খাক এই মিছিলের লোক। মানুষ বারুদ কিনতে পারে, কার্তুজ ফাটাতে পারে, বুলেট ছুঁড়তে পারে খালি আলো টুকু বেচতে পারেনা... এইসমস্ত না - বেচতে পারা সাধারণদের জন্যই মিছিলের সেপ্টেম্বর সংখ্যা... www.sobdermichil.com submit@sobdermichil.com

অতিথি সম্পাদনায়

মৌমিতা ঘোষ

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

মৌমিতা ঘোষ

সোমবার, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৮

মন্দিরা ঘোষ

sobdermichil | ডিসেম্বর ৩১, ২০১৮ |
আমার নামতাপড়া ঠোঁট
খনো কখনো আসে চুপিসারে...., পাই খুঁজে সেই না পাওয়ার ঘোর ... সেই উত্তাপ নিয়ে, অভিমান নিয়ে আসে ফিরে ফিরে বুকের মধ্যিখানে যেখানে মস্ত বড় পুকুর কাটা.....পারহীন কুলহীন সেই বিস্তৃত শূন্যতায় জাল ছড়িয়ে দিয়ে বসে থাকি ....সকালটিকে মুড়ে দিই রোদের ভেতর.... নিজেও রোদ হতে থাকি, শীতের হিম শুকিয়ে দুপুরটিকে দরজা দিয়ে আগলে রাখি ভাতঘুমের সাথে ,মাদুর বিছিয়ে চেয়ে থাকি বিকেলের অন্তিমের দিকে, সেখানে আরো মায়ার খেলা....চু কিত কিত, সোনাপোকার ঘুর্ণি....কেটে কেটে বেরোই যখন বিকেল বেমালুম বুড়ো অশ্বত্থের কোটরে মুখ লুকিয়েছে....যেন মনে মনে এই সময়েরই অপেক্ষা!

এইটিই যেন চাইছি.. অন্ধকারটিই যেন নিজের....আপন, নিজেকে নিজের কাছে খুলে ফেলে বিস্তৃত শূন্যতায় অপার স্নান ....নির্জন আমবাগান তখন অলৌকিক লাল ধুলোর রেশমি চাদরের ওম নিয়ে শীতের দেওয়া নেওয়ার আদর মাখে, সে আদর বন পেরোয়,ডাকাত কালির গা ছুঁয়ে বনবিবির অন্ধকার আঁচলে মিশে যায় আর জালে গা ছম ছমের কণাগুলি আটকে যায় জোনাকি হয়ে....ছুঁতে ইচ্ছে করে অথচ হিম ঠান্ডা বাতাস কানে কানে মন্তর দ্যায় তখন জাল ছড়িয়ে দিই অন্য দিকে.... যেদিকে শিবমন্দির, পুরোনো ভাঙা বাড়ির শ্যাওলা পাতা উঠোন....,উঁচু উঁচু সেই বাড়ির আনাচে কানাচে অন্ধকার হয়ে ঘুরে বেড়াই,সব ঘর তখন অবাধ...খুব সহজেই লুকোনো বয়ামের জমাট ইতিহাস, বইঘরের কাগজের হলুদ বিষণ্ণতায় ঝুঁকে পড়ি,সেই অপার নৈশব্দের তুলি নিয়ে জাগাবার চেষ্টা করি অন্ধকারের ঘুম !পারি না, তখন শুধুই জাল পাতি, জালের ভেতর জাল, সেখানে কিশোরী অম্বালিকার ডাক,রথের মেলার আবদার,গভীররাতের অসুখের পাশে রাতজাগা ফর্সা ক্লান্ত ঘুম ঘুম মুখ... সব জালের ভেতর মেলে দিই...আর দড়িটা নিয়ে দৌড়তে থাকি....মাঠ বন পুকুর পেরিয়ে পেরিয়ে জাল টানতে টানতে হাঁপিয়ে উঠি...... ,পৌষলা মাঠ,ঘরবাড়ির মাঠ ছাড়িয়ে স্বপ্নের রাজার বাগানে কাঁঠালগাছের ছায়া....সে ছায়ায় সবাই থাকে, পরম্পরার ছায়া,যেখানে জালে আটকে পড়া সব উজাড় নামানো ... ফুরফুরে শীতের বাতাসে নতুন গুড়ের মিঠে গন্ধ,ধানের ভরন্ত শরীরের ভারে ভিজে মাটির অহংকারের আলো সব মিলে মিশে একাকার....আমাদের উত্তর আমাদের পূর্ব আমাদের নৈঋত সব এক আধারে আকারে ধারণে ঘাসের ওপর মেলে দিই শীতের রোদের মত মোলায়েম মায়ায়....এই তো সেই খোঁজ যা শেষ হয় না আর.... এই সেই ফিরে ফিরে পাওয়া...দাঁড়িয়ে থাকে সামনে... দেখতে দেখতে সব ভুল হয়ে যায় তখন সম্বিত তখন আবার না পাওয়া শূন্যতার আঁচে পুড়তে পুড়তে বিস্মরণের কুয়াশা জড়িয়ে নামতে থাকি ঘাটের শেষ সিঁড়িতে যেখানে একসময় লুকিয়ে রেখেছি আমার নামতাপড়া ঠোঁট .........


mandira444@gmail.com

Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.