x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

সোমবার, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৮

মন্দিরা ঘোষ

sobdermichil | ডিসেম্বর ৩১, ২০১৮ | | মিছিলে স্বাগত
আমার নামতাপড়া ঠোঁট
খনো কখনো আসে চুপিসারে...., পাই খুঁজে সেই না পাওয়ার ঘোর ... সেই উত্তাপ নিয়ে, অভিমান নিয়ে আসে ফিরে ফিরে বুকের মধ্যিখানে যেখানে মস্ত বড় পুকুর কাটা.....পারহীন কুলহীন সেই বিস্তৃত শূন্যতায় জাল ছড়িয়ে দিয়ে বসে থাকি ....সকালটিকে মুড়ে দিই রোদের ভেতর.... নিজেও রোদ হতে থাকি, শীতের হিম শুকিয়ে দুপুরটিকে দরজা দিয়ে আগলে রাখি ভাতঘুমের সাথে ,মাদুর বিছিয়ে চেয়ে থাকি বিকেলের অন্তিমের দিকে, সেখানে আরো মায়ার খেলা....চু কিত কিত, সোনাপোকার ঘুর্ণি....কেটে কেটে বেরোই যখন বিকেল বেমালুম বুড়ো অশ্বত্থের কোটরে মুখ লুকিয়েছে....যেন মনে মনে এই সময়েরই অপেক্ষা!

এইটিই যেন চাইছি.. অন্ধকারটিই যেন নিজের....আপন, নিজেকে নিজের কাছে খুলে ফেলে বিস্তৃত শূন্যতায় অপার স্নান ....নির্জন আমবাগান তখন অলৌকিক লাল ধুলোর রেশমি চাদরের ওম নিয়ে শীতের দেওয়া নেওয়ার আদর মাখে, সে আদর বন পেরোয়,ডাকাত কালির গা ছুঁয়ে বনবিবির অন্ধকার আঁচলে মিশে যায় আর জালে গা ছম ছমের কণাগুলি আটকে যায় জোনাকি হয়ে....ছুঁতে ইচ্ছে করে অথচ হিম ঠান্ডা বাতাস কানে কানে মন্তর দ্যায় তখন জাল ছড়িয়ে দিই অন্য দিকে.... যেদিকে শিবমন্দির, পুরোনো ভাঙা বাড়ির শ্যাওলা পাতা উঠোন....,উঁচু উঁচু সেই বাড়ির আনাচে কানাচে অন্ধকার হয়ে ঘুরে বেড়াই,সব ঘর তখন অবাধ...খুব সহজেই লুকোনো বয়ামের জমাট ইতিহাস, বইঘরের কাগজের হলুদ বিষণ্ণতায় ঝুঁকে পড়ি,সেই অপার নৈশব্দের তুলি নিয়ে জাগাবার চেষ্টা করি অন্ধকারের ঘুম !পারি না, তখন শুধুই জাল পাতি, জালের ভেতর জাল, সেখানে কিশোরী অম্বালিকার ডাক,রথের মেলার আবদার,গভীররাতের অসুখের পাশে রাতজাগা ফর্সা ক্লান্ত ঘুম ঘুম মুখ... সব জালের ভেতর মেলে দিই...আর দড়িটা নিয়ে দৌড়তে থাকি....মাঠ বন পুকুর পেরিয়ে পেরিয়ে জাল টানতে টানতে হাঁপিয়ে উঠি...... ,পৌষলা মাঠ,ঘরবাড়ির মাঠ ছাড়িয়ে স্বপ্নের রাজার বাগানে কাঁঠালগাছের ছায়া....সে ছায়ায় সবাই থাকে, পরম্পরার ছায়া,যেখানে জালে আটকে পড়া সব উজাড় নামানো ... ফুরফুরে শীতের বাতাসে নতুন গুড়ের মিঠে গন্ধ,ধানের ভরন্ত শরীরের ভারে ভিজে মাটির অহংকারের আলো সব মিলে মিশে একাকার....আমাদের উত্তর আমাদের পূর্ব আমাদের নৈঋত সব এক আধারে আকারে ধারণে ঘাসের ওপর মেলে দিই শীতের রোদের মত মোলায়েম মায়ায়....এই তো সেই খোঁজ যা শেষ হয় না আর.... এই সেই ফিরে ফিরে পাওয়া...দাঁড়িয়ে থাকে সামনে... দেখতে দেখতে সব ভুল হয়ে যায় তখন সম্বিত তখন আবার না পাওয়া শূন্যতার আঁচে পুড়তে পুড়তে বিস্মরণের কুয়াশা জড়িয়ে নামতে থাকি ঘাটের শেষ সিঁড়িতে যেখানে একসময় লুকিয়ে রেখেছি আমার নামতাপড়া ঠোঁট .........


mandira444@gmail.com

Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.