x

প্রকাশিত

​মহাকাল আর করোনাকাল পালতোলা নৌকায় চলেছে এনডেমিক থেকে এপিডেমিক হয়ে প্যানডেমিক বন্দরে। ওদিকে একাডেমিক জেটিতে অপেক্ষমান হাজার পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ।​ ​দীর্ঘ সাতমাসের এ যাপন চিত্র মা দুর্গার চালচিত্রে স্থান পাবে কিনা জানি না ! তবে ভুক্তভোগী মাত্রই জানে-

​'চ'য়ে - চালা উড়ে গেছে আমফানে / চ'য়ে - কতদিন হাঁড়ি চড়েনি উনুনে / চ'য়ে - লক্ষ্মী হলো চঞ্চলা / চ'য়ে - ধর্ষিতা চাঁদমনির দেহ,রাতারাতি পুড়িয়ে ফেলা।

​হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানুষটি লালমার্কার দিয়ে গোল গোল দাগ দেয় ক্যালেন্ডারের পাতায়, চোদ্দদিন যেন চোদ্দ বছর। হুটার বাজিয়ে শুনশান রাস্তায় ছুটে যায় পুলিশেরগাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স আর শববাহী অমর্ত্য রথ...। গঙ্গা দিয়ে বয়ে গেছে অনেকটা জল, 'পতিত পাবনী গঙ্গে' হয়েছেন অচ্ছুৎ!

এ কোন সময়ের মধ্যে দিয়ে চলেছি আমরা?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

সমীরণ চক্রবর্তী

শুক্রবার, নভেম্বর ৩০, ২০১৮

তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়

sobdermichil | নভেম্বর ৩০, ২০১৮ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
এক আশ্চর্য উচ্চারণের কাছে
“ধ্বংস করে দাও আমাকে যদি চাও
আমার সন্ততি স্বপ্নে থাক।” (বাবরের প্রার্থনা : শঙ্খ ঘোষ)

মোঘ এই লাইন দুটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে চিরন্তন এক স্বপ্ন। আসলে স্বপ্ন নয়, এক বিপন্ন সময়ের শ্রেষ্ঠ প্রার্থনা। এর ব্যঞ্জনা ব্যাখ্যা করা আমার সাধ্যাতীত! এর মধ্যে কত শিল্পীত ভাবে লুকিয়ে আছে অজানা ভবিষ্যৎ আর তার অন্তর্গত শাশ্বত আশা আকাঙ্ক্ষা! স্বপ্ন এভাবেই বোধ হয় মানুষকে তাড়িত করে নিয়ে যায় এক আশ্চর্য উচ্চাণের কাছে যেখানে আমিত্ব তুচ্ছ হয়ে যায়। জীবনের ধারাবাহিকতাকে উজ্জ্বল রাখার জন্য তা উচ্চারিত হয় প্রার্থনার মত করে।

তবু সব উচ্চারণ একরকম নয়। আলাদা আলাদা। মনের ভিতরে স্বপ্নের আদলে গড়ে ওঠে এক একরকম মানুষ, তাদের এক একরকম ব্যক্তিত্ব। সেখানে মুখে নয়, মনে মনে উচ্চারিত হয় সংকল্প। ঘুমের মধ্যে যে স্বপ্ন, সে এক অন্য চরাচরের গল্প। সেখানে কারও কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। কি দেখবো কিভাবে দেখবো, কোন পটভূমিতে কে কে থাকবে সেই স্বপ্নের মায়াবী দৃশ্যে – চেনা না অচেনা কেউ, সেসব আগাম জানা থাকেনা কারও। কিন্তু যেখানে থাকে সেই আকাঙ্ক্ষা আর পরিকল্পনা যা জীবনকে সুন্দর দেখতে চায়, ভবিষ্যতকে সার্থক দেখতে চায়, হাজারো বার্ণালিতে রাঙিয়ে তুলতে চায় প্রতিটি দিন, সেই স্বপ্ন ইচ্ছেমত গড়ে নেওয়া যায়, ভাঙাগড়া করা যায়। কি দেখবো, কিভাবে দেখবো, কে কে থাকবে সেই আপন ভুবনে তার একটা রূপরেখা তৈরি করে নেওয়া যায় অনেক আগে থেকেই। আর সেগুলোই তাড়িয়ে নিয়ে যায় আজীবন, অন্তত যতদিন না পৌঁছানো যাচ্ছে সেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্যে। তখন স্বপ্ন হয়ে যায় এক চালিকাশক্তি। জীবনের যাবতীয় অন্বেষণে এক অনন্ত প্রেরণা।

সেই প্রেরণা আর শক্তির জোরেই আমরা আকাশে উড়ে যেতে পারি, সমুদ্রে ভেসে যেতে পারি। শৈশব থেকেই একটু একটু করে মনের মধ্যে গড়ে ওঠে যে ভবিষ্যৎ জীবনের রূপ, সঠিক পদক্ষেপ আর উদ্যমের যুগলবন্দিতে একদিন পৌঁছানো যায় সেইখানে। পৌঁছানোটা সহজ নয়, কিন্তু স্বপ্নটাই না থাকলে আর কোথাও পৌঁছানোর প্রশ্ন থাকেনা। সুস্থ সুন্দর স্বচ্ছল সুখি জীবন কে না চায়। কিন্তু তা গড়ে তুলতে হলে প্রথমেই চাই সেই স্বপ্ন। ঘুমিয়ে দেখা নয়, চেতনার গভীর থেকে উৎসারিত এক আলোয় উজ্জীবিত হওয়া। তাকে ঘিরেই তৈরি হতে পারে যাবতীয় ব্লুপ্রিন্ট। জীবন মানে শুধু শ্বাস নেওয়া নয়, স্বপ্ন দেখতে শেখা এবং তা বাঁচিয়ে রাখাও।

তার মানে তো এমন নয় যে ঘুমিয়ে দেখা স্বপ্নের তেমন গুরুত্ব নেই। স্বপ্ন কি এবং কেন, স্বপ্ন কোন ঘটনার সংকেত কিনা ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তর আমার আরাধ্য নয়। কতবার গভীর খাদে পড়ে যেতে যেতে ঘুম ভেঙ্গে গেছে। রেললাইন পেরতে গিয়ে ট্রেন আসছে দেখে কিছুতেই পুরোটা পেরিয়ে চলে আসতে পারিনি। আমার পা তখনো লাইনে আর ট্রেন এসে গেছে এমন সময় ঘুম ভেঙে গেছে প্রতিবার। বহুবার ভয় পেয়ে ডাকতে গিয়ে আওয়াজ বের হয়নি গলা থেকে। ঘুম ভেঙে স্বপ্ন না বাস্তব বুঝতে বুঝতে কেটে গেছে বেশ কিছুটা সময়। আর কতবার যে স্বপ্নের মধ্যে নিজেকে বাইক চালাতে দেখেছি কিন্তু কিছুতেই স্পিড তুলতে পারিনি। এসব হয়তো অনেকেরই অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলে যাবে। কিন্তু স্বপ্ন যে কখনো কোনকিছুর ইঙ্গিতও দিয়ে দেয়, অভিজ্ঞতা থেকে তাও স্বীকার করি। সে যদিও অন্য প্রসঙ্গ। তবে মনে রেখে দেওয়ার মত অপরূপ কিছু স্বপ্ন যে খুব কমই দেখা হয় সেটিও সমান সত্যি। সেরকমই উজ্জ্বল হয়ে থেকে যাওয়া অনেক পুরনো একটি স্বপ্ন আমার কাছে খুব আদরের। গ্রামের বাড়ির বৈঠকখানার বারান্দায় বসে আছি আমি, প্রচণ্ড বৃষ্টি হয়ে যাচ্ছে। ভিজতে ভিজতে এক তরুণী এসে দাঁড়ালো। গায়ে ভিজে সপসপে শাড়ি। মুখমণ্ডল দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে বৃষ্টির ফোঁটা। তার পিছনে দেখি অনেকগুলি চিতাবাঘ। সে বারবার অনুরোধ করতে লাগলো বৈঠকখানার দরজাটি তাড়াতাড়ি খুলে দিয়ে চিতাদের সেখানে ঢুকতে দিতে। বৃষ্টি থেকে বাঁচাতে। আমি যতই তাকে বলি যে ভিতরে আছে অনেকগুলি হরিণ, তাদের কাছে আমি চিতাবাঘদের ছেড়ে দিতে পারিনা, তবু সে কিছুতে শুনবেনা। অনুনয় করে আর নিশ্চয়তা দেয় ওর চিতাবাঘেরা হরিণদের কোনরকম ক্ষতি করবেনা। তা শুনে ভিজতে থাকা তরূণীর চোখের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতেই বিস্ময়ে আবিষ্ট হয়ে সেই স্বপ্নের শেষ হয়েছিল। জানিনা এর কি কি অর্থ বা ইঙ্গিত হতে পারে। 

ইঙ্গিত যা-ই হোক, স্বপ্নাবিষ্ট মানুষ কিছু কম নেই। স্বপ্ন আছে বলেই জীবন এগিয়ে চলে নিজস্ব ছন্দে, পূর্ণতার দিকে। কেউ কেউ হয়ে যান স্বপ্নমানুষ। বাংলাদেশের বিখ্যাত কবি মহাদেব সাহার “বেঁচে আছি স্বপ্নমানুষ” কবিতার এই লাইনগুলির মতোই :-

“আমি হয়তো কোনোদিন কারো বুকে
জাগাতে পারিনি ভালোবাসা,
ঢালতে পারিনি কোনো বন্ধুত্বের
শিকড়ে একটু জল-
ফোটাতে পারিনি কারো একটিও আবেগের ফুল
আমি তাই অন্যের বন্ধুকে চিরদিন বন্ধু বলেছি;
আমার হয়তো কোনো প্রেমিকা ছিলো না,
বন্ধু ছিলো না,
ঘরবাড়ি, বংশপরিচয় কিচ্ছু ছিলো না,
আমি ভাসমান শ্যাওলা ছিলাম,
শুধু স্বপ্ন ছিলাম;
কারো প্রেমিকাকে গোপনে বুকের মধ্যে
এভাবে প্রেমিকা ভেবে,
কারো সুখকে এভাবে বুকের মধ্যে
নিজের অনন্ত সুখ ভেবে,
আমি আজো বেঁচে আছি স্বপ্নমানুষ”।

তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
tarasankar.b@gmail.com



Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.