x

প্রকাশিত

গোটাকতক দলছুট মানুষ হাঁটতে হাঁটতে এসে পড়েছে একে অপরের সামনে। কেউ পূব কেউ পশ্চিম কেউ উত্তর কেউ দক্ষিণ... মাঝবরাবর চাঁদ বিস্কুট, বিস্কুটের চারপাশে লাল পিঁপড়ের পরিখা। এখন দলছুট এক একটা মানুষ এক হয়ে হাঁটছে চাঁদ বিস্কুটের দিকে। আলাদা আলাদা মানুষ এক হয়ে হাঁটছে সারিবদ্ধ পিঁপড়েদের বিরুদ্ধে। পথচলতি যে ক'জনেরই নজর কাড়ছে মিছিল তারাই মিছিল কে দেবে জ্বলজ্বলে দৃষ্টি। আগুন নেভার আগেই ঝিকিয়ে দেবে আঁচ... হাত পোহানোর দিন তো সেই কবেই গেল ঘুচে, যেটুকু যা আলো বাকী সবটুকু চোখে মেখে চাঁদ বিস্কুট চেখে চেখে খাক এই মিছিলের লোক। মানুষ বারুদ কিনতে পারে, কার্তুজ ফাটাতে পারে, বুলেট ছুঁড়তে পারে খালি আলো টুকু বেচতে পারেনা... এইসমস্ত না - বেচতে পারা সাধারণদের জন্যই মিছিলের সেপ্টেম্বর সংখ্যা... www.sobdermichil.com submit@sobdermichil.com

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

মৌমিতা ঘোষ

শনিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৮

শব্দের মিছিল

sobdermichil | নভেম্বর ১৭, ২০১৮ |
আমরা স্তম্ভিত! আমরা লজ্জিত! আমরা আহত!
পুর্বে লিখেছিলাম, প্রাণী জগতের অন্যতম সৃষ্টি বেশীরভাগ মানুষেরাই ধোঁয়াশার চাদরে আচ্ছাদিত। কেউ কেউ পারে, কেউ কেউ পারে না, আগুনের প্রজ্বলিত শিখায় নিজেকে নির্ভিক বহিঃপ্রকাশে। জাত চিনিয়ে দিতে যারা পারেন, তাঁরা স্মরণে এবং বরণে চিরকাল পাথেয়, আর যারা পারেন না তাঁরা জীবনের প্রবাহে, শোষকে এবং আপোষে চির উপাদেয়। 

তাই কে সম্পাদক, কে কবি, কে শিল্পী, কে সাহিত্যিক, কারা মানুষের জন্য প্রকৃত নিবেদিত, কারা নাগরিক সভ্যতার নামে শুধুই করে কর্মে খাওয়ায় প্রতিষ্ঠিত এর নির্নয় বাস্তবিকই আজ প্রয়োজন। আমরা কেউ কি ভাবছি কেমন আছে আমার দেশ, আমার রাজ্য, আমার পড়শি আমার ভালোবাসার হৃদয়, সহযাত্রী সমগ্র সহদয়। শতাংশে আজ নিরুঙ্কুশ ভাবেই মাণ হুশে আমরা তা ভাবছি না। ভাবছি, শুধুমাত্র নিজের করে নিজের আঁখেরে বলবান হতে - কি রাজনীতি, কি অর্থনীতি কিম্বা যেনতেন প্রকারনের গদোগদে হৃদয় প্রীতিতে। 

সম্মাননিয়া জয়তী রায় শব্দের মিছিলের ‘ফেসবুক পোস্ট’ বিভাগের একটি গদ্যে লিখেছেন – “নিজেকে প্রশ্ন করি, কেন লিখি? কলকাতার নানা কূট কচালি বার বার বাধ্য করে প্রশ্নের সামনে আসতে _কেন লিখি? নাহ্‌। আমার কোনো দায় নেই। বাংলা সাহিত্য বহু গুণীজনে সমৃদ্ধ ...সেখানে আমার কোনো দায় বা দায়িত্ব কোনওটাই নেই। সাহিত্য বলতে আমি বুঝি আলো”। 

আবার আরও একটি অণুচ্ছেদে লিখেছেন - “লেখাটি পড়ার পরে সামনে কিছু এসে যদি দাঁড়ায়, সে একটা ছবি! যে ছবি প্রাত্যাহিক হয়েও অনন্তের, আজকের হলেও চিরকালীন, যে ছবি কখনো মুছে যায় না। শুধু কালের প্রভাবে এদিক ওদিক হয় মাত্র। স্বাভাবিক ভাবেই মনের অন্ধকার কোন গুলিতে আলো ফেলে সাহিত্য। কোনো পত্রিকার প্রকাশনায় নাম যদি না ও থাকে, তবু আমার লেখা পড়ে কোনো তাপিত প্রাণের কখনো যদি মনে হয়, এ যেন আমার কথা ... তবে সে লেখা সার্থক”।

তিনি অকপটে লিখেছেন জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে মূল্যবোধ। লেখাতেও ছাপ পড়ছে লেখকের মানসিকতার। দুরকম ব্যক্তিত্ব বেশিদিন বজায় রাখা যায় না। যা নিজের বিশ্বাস, যে যেমন মানুষ, লেখার আয়নায় তার ছাপ পড়তে বাধ্য।

একজন লেখক এবং একজন সম্পাদকের সাথে যে নিবিড় বন্ধন প্রয়োজন, নাগরিক সমাজে যে দায়বদ্ধতার প্রয়োজন আজ আত্মগরিমার চূড়ান্ত আস্ফালনে, আমরা কখনই ভাবিনা, ভাবছি না – একজন পত্রিকা সম্পাদকের কথা, তাঁর ব্যথা, পত্রিকা প্রকাশে – তার বিকাশে তাঁর সামগ্রিক দূরদর্শিতা ...।

শব্দের মিছিলের সক্রিয় লেখিকা মৌসুমী মন্ডল দেবনাথ যখন আজ তাঁর সম্পাদিত পত্রিকার শুধুমাত্র ‘সৌজন্য সংখ্যা’ দিতে বা সময়ে প্রেরণে বিলম্বিত করেছেন এই অভিযোগে - লাগাতার নানা কুটু ভাষা, হুমকি তে যখন জেরবার তখন শুধুমাত্র তিনি অসম্মানিত হলেন না, একসময় অসুস্থ হয়ে পড়লেন এবং মুকুন্দপুর অবস্থিত একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হলেন।

জীবনের প্রতি মানুষের মায়া অপরিসীম। জীবনকে ভালোবাসে বলেই মানুষ এতো দুঃখ কষ্ট সংগ্রামের মধ্যেও বেঁচে থাকার স্পর্ধা সঞ্চয়ে হাঁটে ক্রোশ এর পর ক্রোশ। আমরা বিশ্বাস করি তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন, তিনি সমবেত সমমনে হাঁটবেন, লিখবেন, শ্লোগানে সামিল হবেন মুক্ত কন্ঠে। আমরা বিশ্বাস করি তিনি আবারও আহবান করবেন, এবং সমবেত করবেন শুধুই সমমন সমূহ।


@শব্দের মিছিল। 

Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.