x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

সোমবার, নভেম্বর ১৯, ২০১৮

অনিন্দিতা রায়

sobdermichil | নভেম্বর ১৯, ২০১৮ | | মিছিলে স্বাগত
আমি 'মা' বলছি - '

মা' হওয়াটা সহজ বা কঠিন, সে বিষয়ে মতান্তরে যাবো না। কারণ ডাস্টবিনে পড়ে থাকা শিশু,গর্ভপাতের নষ্ট ভ্রূণ থেকে শুরু করে বড়োলোকের গাবলু গুবলু শিশু... সব সমান আমার কাছে। কারণ জানি, সব শিশুই স্তন না পেলে কাঁদে আর অত্যধিক আহারে বমি করে।

একটু অন্য প্রসঙ্গে আসি তবে। আমি এমন মাকেও দেখেছি যারা যন্ত্রণাবহুল প্রেগন্যান্সি সহ্য করার পর ঘেন্না করেছে তার সদ্যভূমিষ্ঠ কুঁড়িকে।আসলে শিশু মানেই সবসময় ফুলের মত আদরকাড়া বিষয় নয় শুধু, শিশু মানে বমি-পটি -হিসু-রাতজাগা ঘ্যানঘ্যান,বায়না,অবাধ্যতা-কখনো সদ্যওঠা দাঁত দিয়ে নিজেদের নিপল ব্যথা করা বিরক্তি। যারা এটা পড়ার পর গালাগালি দেবেন আমাকে, তাদের বলবো মাতৃত্ব নিয়ে অযথা গ্লোরিফাই বন্ধ করুন। আমি স্টার মায়েদের কথা বলছিনা, যাঁরা বাচ্ছার পাশাপাশি নিজেদের শরীরের যত্ন রাখেন সমানভাবে। কিন্তু আমাদের মত সাধারণ মায়েদের কাছে বাচ্ছা হওয়ার পর ঝুলে যাওয়া সৌন্দর্য, তলপেটে চর্বি.... হ্যাঁ, এগুলো নিয়েও লজ্জিত-বিরক্ত থাকি আমরা।

অনিন্দিতা রায় 
তাই মাতৃত্ব নিয়ে গ্লোরিফাই করা সহ্য করতে পারিনা। আমরা মেয়েরা জন্মসূত্রেই মা। আমরা আমাদের বাবা -কাকা -ভাই -বন্ধু-স্বামী সবাইকেই কখনো না কখনো সন্তানস্নেহে ভালোবেসে ফেলি। এমনকি এটাও জানবেন, আপনার পরিবারের সবথেকে মুখরা, ঝগড়াটে কন্যাসদস্যাটিও যে পার্থিব জিনিসগুলোর জন্য গলা ফাটাচ্ছে সব সময়, তার কোনোটাই নিজের জন্য নয়। যৌথ পরিবারে মাছের মুড়ো নিয়ে নিত্য অশান্তি শাশুড়ী -বউ -ননদ -ভাজের মধ্যে।কিন্তু কেউ সেটা নিজের খাওয়ার জন্য অশান্তি করে না, সেটা রাখতে চায় তার শ্বশুর -ভাসুর -কর্তা-ছেলের জন্য।

ঈশ্বর আমাদের যে লগ্নে মেয়ে বানিয়েছেন, সে লগ্নে মা বানিয়েছেন। মাতৃত্ব তাই সহজাত আমাদের। এবার পারলে কখনো নিজের সেই কুড়ি বছরের পুরোনো ঘরণীকে 'ছেলের মা' না বলে 'আমার প্রিয়া' বলুন একবার।

মায়ের সাথে সাথে প্রিয়াও হতে চাই আমরা,সেই পুরোনো প্রবাদের মতই .... পুরোনো আচার, পুরোনো সোনা, পুরোনো মদ, পুরোনো গান আর কি কি যেন !!



Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.