x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

শুক্রবার, নভেম্বর ৩০, ২০১৮

বিজন মজুমদার

sobdermichil | নভেম্বর ৩০, ২০১৮ | | মিছিলে স্বাগত
বিজন মজুমদার
মার বড়দা ছিলেন হাইস্কুলের শিক্ষক । তাকে দেখেই আমি ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন দেখতাম , বড় হয়ে আমিও শিক্ষক হব । কিন্তু বড়দার ইচ্ছা ছিল , আমি যেন বড় হয়ে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হই । মাধ্যমিক , উচ্চমাধ্যমিকে ভালো ফল করায় , এমনকি জয়েন্ট এন্ট্রান্স এ চান্স পাওয়ায় বড়দা ধরেই নিয়েছিল , আমি ডাক্তারি পড়ছি । কিন্তু সকলের আশা ভরসাকে জলাঞ্জলি দিয়ে আমি জানিয়ে দিলাম , আমি শিক্ষকই হচ্ছি । কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে অংকে অনার্স নিয়ে ভর্তি হয়ে গেলাম । বড়দা খুব কষ্ট পেলেন । পাড়া প্রতিবেশীদের কাছে শুনেছি, বড়দা তাদের কাছে দুঃখ করে বলতেন , বিজনকে নিয়ে কি ভেবে ছিলাম , আর ও কি হলো ! 

যাক , কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই অংকে অনার্স ও মাস্টারডিগ্রি করলাম ।একটি ইস্কুলে চাকরিও পেয়ে গেলাম তাড়াতাড়ি । 

আসলে আমাদের ছিল চাষী পরিবার । যৌথ পরিবার । সদস্য সংখ্যা সব মিলিয়ে পনের জনের মতো । একমাত্র সরকারি আয় ছিল বড়দার। চাষের জমি থেকে যে ফসল হত , তা পারিবারিক প্রয়োজনে সবটাই লেগে যেত । তাই বড়দা ভেবেছিলেন , আমি যদি ডক্টর হই , তাহলে পারিবারিক টানাটানি অনেকটা কমবে , আর সামাজিক সম্মানও বাড়বে । কিন্তু আমি তার ভাবনার সাথে সহমতে হতে পারি নি । 

আজ আমি ইছাপুর নর্থল্যান্ড উচ্চবিদ্যালয়ে গনিত বিভাগের শিক্ষক । বেশ ভালো লাগে ছাত্রদের পড়াতে । অনেক অভিভাবক আমাকে বলেন  স্যার , আমার ছেলেটাকে যদি প্রাইভেট পড়াতেন , খুব ভালো হত ! আমি সবিনয়ে তাদের বলি , প্রাইভেট পড়ানোর কথা বলে আমায় লজ্জা দেবেন না ! আমার মনে হয় , যারা ঠিকমতো ক্লাস করে , তাদের প্রাইভেট পড়ার দরকার হয় না ! 

আজ আমি বেশ আছি ! সারাদিন তো ছাত্রদের সাথে কেটে যায় ! ক্লাসে জ্যামিতির ক্লাসে যখন জ্যামিতিক সংজ্ঞাগুলিকে ছড়ার মত ছন্দ করে পড়াই , ওরা বেশ উৎসাহ পায় । কেউ কেউ যখন মন্তব্য করে , স্যার , যে সংজ্ঞা মুখস্থ করতে বাড়িতে ঘন্টার পর ঘন্টা চলে যায় , আপনার কাছে বুঝে নেওয়ার পর তা সহজেই মনে থেকে যায় ! এই ঘটনাগুলি আমার কর্মজীবনকে আরও উদ্দীপ্ত করে ! 

আজ বড়দা আমাদের মধ্যে নেই ! তিনি হয়তো আমার ডাক্তার না হওয়ার অতৃপ্তি বহন করেই এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন ! কিন্তু সুখের ঠিকানা যদি হয় মানসিক শান্তি , সেই তৃপ্তি থেকে আমি কিন্তু বঞ্চিত নই । বড়দার ইচ্ছা পূরন করতে না পারার অক্ষমতা মাঝে মাঝে পীড়া দিলেও , এই ভেবে সান্ত্বনা পাই যে , বড়দা কিন্তু তার ইচ্ছাকে জোর করে আমার উপর চাপিয়ে দেননি ! 

আমি যেমন চাপিয়ে দেইনি আমার ইচ্ছা আমার সন্তানের উপর । ও নিজের ইচ্ছে অনুযায়ীই ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে , যাতে ও নিজের প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারে ! এবং শিক্ষক হিসেবে সকল ছাত্রছাত্রীকে আমি এটাই বলি , তোমার যে বিষয়কে একান্ত আপন বলে মনে হয় , সেটাই নিও ! চাপিয়ে দেওয়া বিষয় ঘাড়ে নিলে ভেঙে পড়ার সম্ভাবনাই বেশি ! 

bijanmajumder67@gmail.com
ইছাপুর নর্থল্যান্ড হাইস্কুল ॥ উত্তর চব্বিশ পরগনা ॥পিন ৭৪৩১৪৪ 

Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.