x

প্রকাশিত বর্ষপূর্তি সঙ্কলন

দেখতে-দেখতে ১০ বছর! শব্দের মিছিলের বর্ষপূর্তি সংকলন প্রকাশের সময় এ খুব অবিশ্বাস্য মনে হয়। কিন্তু অজস্র লেখক, পাঠক, শুভাকাঙ্ক্ষীদের সমর্থনে আমরা অনায়াসেই পেরিয়ে এসেছি এই দশটি বছর, উপস্থিত হয়েছি এই ৯৫ তম সংকলনে।

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

sobdermichil | অক্টোবর ৩১, ২০১৮ | |
 কবিতার পথে পথে
দ্বাদশ পর্ব!! 

তোমার ঠিকানা এখনও আমার গন্তব্য। কাজের ফাঁকে ফাঁকে বারবার আমি সেদিকে তাকাই। সময় খুঁজি আরও একটু বেশি সময় সেদিকে তাকিয়ে থাকার। চলতে ফিরতে আমি গন্তব্যকে স্মরণ করি। ওটাই আমার ইপ্সিত লক্ষ্য। এই গন্তব্য আমাকে একমুখী করেছে। অনেক অনেক জায়গা থেকে আমি নিজেকে তুলে আনতে শিখেছি। বিভিন্ন জায়গায় নিজেকে ছড়িয়ে ফেলার জন্য আমার গতি কমে আসছিল। নিজের চলাতেই আমি যেন কোনো জোর খুঁজে পাচ্ছিলাম না। তারপর চলতে চলতে একদিন আমার চারপাশের মানুষের গতিবিধি দেখে আমারও মনে কেমন যেন একটা অস্থিরতা অনুভব করলাম। কিছুতেই চলার মধ্যে আর যেন জোর পাচ্ছিলাম না। চলতে চলতে মানুষের পায়ের দিকে তাকাই। থমকে দাঁড়াই। যেন সবকিছুর সমাধান হয়ে গেছে। চোখের স্থির দৃষ্টিবিন্দুতে লেগে আছে গন্তব্যের রঙ। সেদিন আমার কাছে এটাই ছিল যেন জীবনের প্রথম সমস্যার সমাধান।

জয় করার আনন্দে আমি মশগুল। আমার গতিপথ বদলে যায়। চোখে লাগে নেশা। এক বিশেষ বিন্দু লক্ষ্য করে আমার এগিয়ে চলা। কিন্তু কোথায় ঠিকানা? প্রাপ্তির আনন্দে যা আমাকে একসময় বিভোর করে রেখেছিল আজ তা আমার কাছে মনে হয় এক গতানুগতিক পন্থা। কোথায় আমার সমাধান? অনেক জায়গা থেকে নিজেকে সরিয়ে আনার মধ্যে দিয়ে যে দিশা আমাকে প্রাণিত করেছিল আজ মনে হয় এটাও তো এক বিশেষ গন্ডির মধ্যে নিজেকে আবদ্ধ করে ফেলা। 

আজ মনে হয় কিসের গন্তব্য? গন্তব্যের নেশা তো একজায়গায় নিজেকে বন্দী করে ফেলা। কোনো এক বিশেষ বস্তুতে তোমাকে খুঁজে পাওয়ার সমাধান তো তোমাকে কোনো এক জায়গায় বেঁধে ফেলা। তখনই তো মনের বিস্তারের মৃত্যু। কেন তুমি আমার চোখে এক বিশেষ বিন্দুতে লেগে থাকবে? কেন তোমাকে এক জায়গায় পাওয়ার ইচ্ছা প্রবল হয়ে উঠবে?

সত্যিই কি তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়? সে কি কখনও আমার দু'হাতের তালুর মধ্যে এসে ধরা দেবে? আমি তো আমার খোঁজার পরিণতি জানি। কিন্তু তবুও কি একবারের জন্যও মনে হয় সে অধরা তাই তাকে খোঁজার মধ্যে কোনো শিথিলতা অনুভূত হচ্ছে? একবারের জন্যও কখনও তা মনে হয় না। আমৃত্যু অন্বেষণই তো সাধনার মূল মন্ত্র। রবীন্দ্রনাথের সেই বহুশ্রুত গান ---- " তোমায় নতুন করে পাব বলে হারাই ক্ষণে-ক্ষণ। " হারানোর মধ্যেই তো নিহিত থাকে চিরনতুনকে পাওয়ার হাতছানি। কিন্তু আমরা আমৃত্যু ধরে থাকায় বিশ্বাসী। দু'হাতের নাগালের মধ্যে পাওয়াই আমাদের সাধনার সিদ্ধিলাভ বলে আমরা মনে করি।

পূর্বের পর্ব পড়ুন -
mharitbandhopadhyay69@gmail.com



Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন


বিজ্ঞপ্তি
■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.