x

প্রকাশিত ৯৬তম সংকলন

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

রূপক সান্যাল

sobdermichil | সেপ্টেম্বর ০৮, ২০১৮ |
সাম্প্রতিক কালে শুধু যে কবি-সাহিত্যিক বা শিল্পী’দের সংখ্যাই বেড়েছে তা’ই নয়,সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছেন বিচারক-সম্পাদক-আলোচক-সমালোচক, এঁরাও। ফলে কে যে কার কাজকে ‘শ্রেষ্ঠ’ বানিয়ে দিচ্ছেন, আর কে হয়ে যাচ্ছেন ‘বিশিষ্ট’— এই তাৎক্ষণিক মূল্যায়ণের বিশ্বাসযোগ্যতাও খুবই ভঙ্গুর হয়ে উঠছে ক্রমশ।

শিল্পচর্চার অধিকার,লেখার অধিকার সবার আছে নিশ্চই। কিন্তু নিজের কাজের মান বিবেচনা না করে কেউ যদি শ্রেষ্ঠত্বের কিংবা ‘বিশেষ অধিকার’এর দাবী করে বসেন,আর তথাকথিত “বিচারকমণ্ডলী” যদি ‘মুখ দেখে মুগের ডাল’ পরিবেশনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন,তাহলে তা প্রকৃত শিল্পের প্রতি এবং শিল্পীর নিষ্ঠার প্রতি চুড়ান্ত অবিচার করা হয়। ধরা যাক,যদি কারুকে বর্তমান সময়ের পত্র-পত্রিকা কিংবা লেখক-কবিদের নিয়ে কিছু লিখতে বলা হয়,তিনি নিজের পছন্দের কিছু লেখকের নাম আর পরিচিত কিছু পত্রিকার নামের একটি তালিকা প্রস্তুত করেন। ব্যাস,তারপর সেটারই নাম হয়ে যায় প্রবন্ধ। অর্থাৎ ওই গণ্ডির বাইরে তাঁর যাতায়াত নেই,জানা নেই আর কোন তথ্য। কোথায় কে কোন সূক্ষ্ম যন্ত্রণাবিদ্ধ অভিজ্ঞতা চিত্রিত করে রাখছেন,কলমের কালিতে বা রঙ-তুলিতে,তার কোন খোঁজই পাওয়া যায়না সেসব লেখায়।

এসব কোন রাগ-দুঃখ-ক্ষোভের কথা নয়। যে সমাজব্যবস্থায় ‘চাটুকারিতা’ আজ প্রায় সর্বত্রগামী,সেখানে শিল্প-সাহিত্য এর আওতার বাইরে থাকবে, এমনটা আশা করা ভুল হবে। যদিও এই অবস্থার মধ্যেও কিন্তু কেউ কেউ একনিষ্ঠ চিত্তে শিল্প-সাহিত্যের চর্চা করে চলেছেন,কোন প্রকার ফুল-বেলপাতা-চন্দন আর কয়েক ডজন ঢাকের আওয়াজ থেকে বহু দূরে। তাঁদের জন্যই তো পথ চেয়ে বসে থাকি। ঠিক যেভাবে আমরা দু’ভাই-বোন উৎসুক দৃষ্টি নিয়ে দূরের দিকে তাকিয়ে থাকতাম, মা’য়ের স্কুল থেকে ফেরার সময় হলেই।

পোশাকের ব্যবহার শুরু হয়েছিল লজ্জা নিবারণের জন্য। কিন্তু ক্রমশ তা যখন শোভাবর্ধক উপকরণে পরিণত হলো,তখন দেখা গেল,শোভা কতটা বর্ধিত হলো কে জানে,তবে অনেক ক্ষেত্রেই তা লজ্জা নিবারণ করতেই ব্যর্থ হলো।

তবু শিল্পকর্মের প্রকৃত আর শেষ বিচারক ‘সময়’ এবং অবশ্যই পাঠক-দর্শক-শ্রোতা। তবে তাঁদেরও প্রশিক্ষিত হওয়া প্রয়োজন।

Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন


বিজ্ঞপ্তি
■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.