x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

রবিবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৮

মুনমুন মুখার্জী

sobdermichil | সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৮ | | মিছিলে স্বাগত
জাগো দুর্গা!
-“মিনুর মা! ছাদ থেকে কাপড়গুলো তুলে আনো। দেখো, কেমন মেঘ করেছে!”
-“ঝড় উঠলো বলে গো বৌদিমণি।”

-“দাদাবাবুর পাঞ্জাবীর পকেটটা রিপু করে দিও। আর হ্যাঁ, আলমারির প্রথম তাকে খোকার পুজোর জামাটা রাখা আছে। অষ্টমীর সকালে ওকে স্নান করে ওটাই পরিয়ে দিও, কেমন?” 

-“দেবো ক্ষণ। তোমার লালপেড়ে সাদা তাঁতখানা বের করে, পাট করে বিছানার নীচে রেখে দিয়েছি গো, বৌদিমণি। তুমি সেটি পরে যেও। শাড়ীটা পরলে তোমায় কেমন মা দুগ্‌গার মত লাগে।”

সর্বাণীর চোখের মণি দুটো হঠাৎ দপ করে জ্বলে ওঠে। মিনুর মা লক্ষ্য করে না।

-“ছাদের সেই হাস্নুহেনার টবের কাছে লেবু লঙ্কার আচারের বয়ামটাও রাখা আছে। তুলতে ভুলো না। মেয়েটা আমার লেবুর আচার দিয়ে খিচুড়ি খেতে বড্ড ভালোবাসে।”

চোখের জল লুকাতে ত্রস্ত পায়ে ছাদে যাওয়ার সিঁড়ির দিকে পা বাড়ায় মিনুর মা। ফিরে এসে দেখে, সর্বাণী সেই লালপেড়ে সাদা তাঁতটি পরে অপেক্ষায় আছে। সর্বাণীর কপালের ঠিক মাঝখানে সিঁদুরের টিপটি মায়ের ত্রিনয়নের মত জ্বলজ্বল করছে যেন। 

-“কোথায় চললে? সন্ধ্যে নেবে এল যে!”

-“খোকার খেয়াল রেখো, মিনুর মা।”

ওদিকে চৌধুরী বাড়ির পুজোর দালানে কুমোরের তুলির একটানে মায়ের দৃষ্টিদান শেষ হল। কাছারি ঘরের ইজিচেয়ারের আরামে গড়গড়ায় এক আয়েশী টান দিলেন বড়কর্তা। কাছারির দরজায় এক ছায়ামূর্তির আবির্ভাব। বাইরে তখন বাজ পড়ার শব্দ আর বিদ্যুত-চমক মিলেমিশে একাকার। সেই আলোর ঝলকানিতে ছায়ামূর্তির হাতে মায়ের ত্রিশূলটি ঝলসে উঠছে বার বার। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেই ত্রিশূলেই এফোঁড় ওফোঁড় হয়ে যায় বড়কর্তার হৃৎপিণ্ড খানা। মাটিতে লুটিয়ে পড়তেই ছায়ামূর্তির বাঁ পা খানা উঠে এল বড়কর্তার বুকের ওপর।

কাঁধে কোমল এক স্পর্শে চমকে ওঠে সর্বাণী। রমলাদেবী... বড় গিন্নীমা।

-“ভয় নেই সর্বাণী। ওঁর পাপের ঘড়াখানি পূর্ণ হয়ে গেছে... জানি আমি।” অতি যত্নে নিজের শাড়ীর আঁচলে ত্রিশূলে লেগে থাকা সর্বাণীর হাতের ছাপ মুছতে মুছতে বললেন। 

ঠিক এক বছর আগে খোকাকে কোলে নিয়ে, খুকুর হাত ধরে ঠাকুরের দৃষ্টিদানের সাক্ষী হতে এসেছিল সর্বাণী। হঠাৎ দেখে- খুকু নেই! অনেক খুঁজে কাছারির দরজার পেছনে খুকুর পায়ের একটি মল পাওয়া গেল। কিন্তু খুকু কোথায়?

দশমীর সকালে চৌধুরী বাড়ির পেছনের ডোবায় খুকুর পঁচা, গলা, বিকৃত, আট বছরের শরীরখানা ভেসে উঠেছিল।

প্রবল বর্ষণে ধুয়ে গেছে সর্বাণীর শাড়ীতে লেগে থাকা বড়কর্তার রক্তের দাগ। মিনুর মা তখন খোকাকে কোলে নিয়ে পথের পানে চেয়ে আছে। সদর দরজায় পা রেখে ডুকরে কেঁদে ওঠে সর্বাণী, “খুকু রে!”

munmun.mukherj@gmail.com


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.