x

প্রকাশিত

​মহাকাল আর করোনাকাল পালতোলা নৌকায় চলেছে এনডেমিক থেকে এপিডেমিক হয়ে প্যানডেমিক বন্দরে। ওদিকে একাডেমিক জেটিতে অপেক্ষমান হাজার পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ।​ ​দীর্ঘ সাতমাসের এ যাপন চিত্র মা দুর্গার চালচিত্রে স্থান পাবে কিনা জানি না ! তবে ভুক্তভোগী মাত্রই জানে-

​'চ'য়ে - চালা উড়ে গেছে আমফানে / চ'য়ে - কতদিন হাঁড়ি চড়েনি উনুনে / চ'য়ে - লক্ষ্মী হলো চঞ্চলা / চ'য়ে - ধর্ষিতা চাঁদমনির দেহ,রাতারাতি পুড়িয়ে ফেলা।

​হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানুষটি লালমার্কার দিয়ে গোল গোল দাগ দেয় ক্যালেন্ডারের পাতায়, চোদ্দদিন যেন চোদ্দ বছর। হুটার বাজিয়ে শুনশান রাস্তায় ছুটে যায় পুলিশেরগাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স আর শববাহী অমর্ত্য রথ...। গঙ্গা দিয়ে বয়ে গেছে অনেকটা জল, 'পতিত পাবনী গঙ্গে' হয়েছেন অচ্ছুৎ!

এ কোন সময়ের মধ্যে দিয়ে চলেছি আমরা?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

সমীরণ চক্রবর্তী

বুধবার, আগস্ট ১৫, ২০১৮

তপশ্রী পাল

sobdermichil | আগস্ট ১৫, ২০১৮ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
জীবন ও জীবিকা – কিছু প্রশ্ন
আরো একটি ১৫ই আগস্ট ফিরে এলো । ভারতের স্বাধীনতার একাত্তর বছর পূর্ণ হচ্ছে এ বছর । প্রায় এক শতাব্দীর তিন চতুর্থাংশ পেরিয়ে এলাম আমরা । দীর্ঘ দুশো বছরের পরাধীনতার পর, অনেক রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর, বহু বিপ্লবীর আত্মাহুতির পর অর্জিত এই স্বাধীনতা ছিল অনেক স্বপ্নের । কিন্তু এই দীর্ঘ সময়েও ভারতবর্ষের এক বড় সংখ্যক নাগরিককে, তাদের ন্যূনতম অধিকার অর্থাৎ খাদ্য, বাসস্থান, জীবিকা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা দেওয়া সম্ভব হয় নি । বিশাল জনসংখ্যা এবং বিশাল বৈচিত্র ও বৈপরিত্যের এই দেশে, কেন সম্ভব হয় নি সেই প্রশ্নটি এতোই জটিল যে পুরো বিষয়টি এই পরিসরে আলোচনা সম্ভব নয় । তাই এর যে কোন একটি, অর্থাৎ “জীবিকা” প্রসঙ্গটি তুলে ধরার চেষ্টা করছি ।

আমাদের ক্ষুদ্র পরিধিতে অর্থাৎ নিজের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের (বর্তমানে বাংলা) পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি একটু ভেবে দেখা যাক । পশ্চিমবঙ্গ একটি এমন রাজ্য যার শতকরা সত্তর ভাগ গ্রাম, শতকরা কুড়ি থেকে পঁচিশ ভাগ ছোট শহর বা আমরা যাকে বলে মফস্বল এবং বাকি পাঁচ থেকে দশ শতাংশ বড় শহর । জীবিকা ও তার সমস্যার বিষটি এই তিনটি অঞ্চলে তিন রকম । গ্রামে বেশিরভাগ কৃষিজীবি মানুষ অথবা জেলে, কুমোর, কামার ইত্যাদি বিভিন্ন পেশায় নিযুক্ত মানুষ । এরা অনেকেই শহরের মানুষের তুলনায় দরিদ্র, কিন্তু নিজের জীবিকায় নিযুক্ত আছেন । এই শ্রেনীর মানুষের জন্য কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার বিভিন্ন সরকারী অনুদান এবং স্বনিযুক্তি কার্যক্রম করেছেন । এছাড়া অন্ততঃ ১০০ দিনের কাজ ইত্যাদি তারা পেয়ে থাকেন । মহিলারা অত্যন্ত অবহেলিত ছিলেন, তারাও আজকাল সমবায়ের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে নিযুক্ত হচ্ছেন । অর্থাৎ কোন জীবিকা নেই এমন মানুষ গ্রামে কম । কিন্তু আরো উন্নত জীবন ও জীবিকার সন্ধানে প্রতিনিয়ত গ্রাম থেকে প্রচুর মানুষ ছোট ও বড় শহরগুলিতে চলে আসছেন । সমস্যা সেখানে ।

আমাদের রাজ্যে বড় শহর বলতে কলকাতা । কলকাতার ওপর অত্যধিক নির্ভরশীলতা এ রাজ্যের উন্নতি ও নতুন জীবিকার সন্ধানের ক্ষেত্রে এক বড় বাধা । কিন্তু কেন কলকাতার ওপর এই অত্যধিক নির্ভরশীলতা? কারণ অনেক ন্যূনতম নাগরিক সুবিধাগুলি যেমন ভাল হাসপাতাল, উচ্চশিক্ষার ব্যাবস্থা, খেলাধুলার জন্য পরিকাঠামো, ভালো রাস্তাঘাট, বিমান যোগাযোগ অন্য শহরগুলিতে নেই । নেই জীবিকা নির্বাহের জন্য শিল্পের বিকাশ । 

দুর্গাপূর-আসানসোল শিল্পাঞ্চল মৃতপ্রায় । পুরোনো শিল্পগুলি যেমন ইস্পাত, কয়লা ইত্যাদি ধুঁকছে অথবা উঠে যাচ্ছে । ভগ্নপ্রায় রাস্তাঘাট । পরিকাঠামো যেমন ব্রিজ ইত্যাদির মেরামত হয় নি বহুকাল । কোন শিল্প নতুন করে এই সব জায়গায় গড়ে উঠছে না । তাই এখানকার মানুষেরা হয় অন্য রাজ্যে চলে যাচ্ছেন জীবিকার সন্ধানে অথবা কলকাতায় চলে আসছেন । 

তেমনি হলদীয়া শিল্পাঞ্চলেও বিমান যোগাযোগের অভাব ও রাস্তাঘাটের অবস্থা বিকাশের অন্তরায় । গঙ্গার অতিরিক্ত পলির ফলে বন্দরে জাহাজ এসে লাগতে পারে না । তাই যে পরিকল্পনা করে এখানে শিল্পাঞ্চল স্থাপন করা হয়েছিল তা অনেকাংশে অসফল । এই অঞ্চলের শিল্পগুলিতে নতুন নিয়োগ প্রায় নেই বললেই চলে । রাজনৈতিক হস্তক্ষেপও এ ব্যাপারে এক বড় বাধা । 

তেমনি চা বাগান ও চা শিল্প রাজনৈতিক কারণে ও নতুন লগ্নির অভাবে ধুঁকছে । তাই উত্তরবঙ্গেও শিল্পের চূড়ান্ত অভাব । 

উপরিউক্ত সমস্ত অঞ্চলগুলি থেকে এবং প্রতিবেশী রাজ্য থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ এসে ভীড় জমাচ্ছেন কলকাতায় । এমনকি প্রতিবেশী দেশ থেকেও বেআইনী ভাবে বহু মানুষ ঢুকে পড়ছেন কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় । এখানে তিন ধরণের মানুষ আছেন । উচ্চশিক্ষিত, অল্প শিক্ষিত ও অশিক্ষিত । উচ্চশিক্ষিত শ্রেনীর মধ্যে কিছু সংখ্যক রাজ্যে কম্পুটার ও তথ্য প্রযুক্তি সংস্থাগুলিতে কর্মরত । এছাড়া হোটেল, ব্যাঙ্ক, অফিসগুলিতে কিছু সংখ্যক মানুষ কর্মরত । কিন্ত প্রতিবছর যত মানুষ এখানে জীবিকার সন্ধানে আসছেন এবং কলকাতার যত ছেলেমেয়ে প্রতিবছর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করে বেরোচ্ছেন তাদের শতকরা ত্রিশ শতাংশকেও চাকরী দেওয়ার ক্ষমতা এই শহরের নেই । কারণ নতুন শিল্প নেই । তাই উচ্চশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়েই চলেছে । বহু উচ্চশিক্ষিত ছেলেমেয়ে অন্য রাজ্য এমনকি অন্য দেশে চলে যাচ্ছেন জীবিকার সন্ধানে । কলকাতা অল্প শিক্ষিত ও অশিক্ষিত মানুষে ভরে উঠছে ।

অল্পশিক্ষিত যারা কলকাতাবাসী মূলত হকারী, অটোচালনা, দালালী, বাড়ি ও বাড়ি তৈরীর সামগ্রীর ব্যাবসা, রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ ইত্যাদিকে পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন । সমস্যা হল বহু উচ্চশিক্ষিত ব্যাক্তি জীবিকার অভাবে এইসব পেশায় আসতে বাধ্য হচ্ছেন । ফলে এইসব পেশাতেও প্রচন্ড চাপ পড়ছে ।

আমাদের শহরের অশিক্ষিত মানুষেরা ঘরে ঘরে কাজের মাসী, মল ও খাবারের দোকানে কর্মরত, সিকুরিটির কাজ করছে অথবা রাস্তা দখল করে গুমটি দোকান খুলে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করছে । কিন্তু এই শ্রেনীর মানুষের সংখ্যা এতো বেড়ে উঠছে যে এখানেও বেকারের সংখ্যা প্রচুর । তাই চুরি ডাকাতি দিন দিন বেড়ে চলেছে এবং চিন্তাজনক অবস্থায় পৌছেছে । 

ওপরের সবকটি অবস্থাই দুটি দিকে দিকনির্দেশ করছে । শহরের বিকেন্দ্রীকরন ও অন্যন্য শহরগুলিতে পরিকাঠামো ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যাবস্থা গড়ে তোলা । নতুন শিল্প বিশেষ করে বুনিয়াদী বৃহৎ শিল্পস্থাপন । পরিকল্পনা ও দূরদৃষ্টির অভাব এবং বিনা কারণে রাজনৈতিক কোন্দল স্বাধীনতার সত্তর বছর পরেও আমাদের বিকাশে বাধা দিচ্ছে । মানুষ পাচ্ছে না উপযুক্ত জীবন ও জীবিকা । এর প্রতিকার যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হওয়া প্রয়োজন । 


তপশ্রী পাল
তপশ্রী পাল
anandapur.ccu@fr.dtdc.com


Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.