x

প্রকাশিত বর্ষপূর্তি সঙ্কলন

দেখতে-দেখতে ১০ বছর! শব্দের মিছিলের বর্ষপূর্তি সংকলন প্রকাশের সময় এ খুব অবিশ্বাস্য মনে হয়। কিন্তু অজস্র লেখক, পাঠক, শুভাকাঙ্ক্ষীদের সমর্থনে আমরা অনায়াসেই পেরিয়ে এসেছি এই দশটি বছর, উপস্থিত হয়েছি এই ৯৫ তম সংকলনে।

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

সায়ন্ন্যা দাশদত্ত

sobdermichil | আগস্ট ১৫, ২০১৮ |
তিনরংয়ের ট্যানা ।
আকণ্ঠ মদ গিলেছে নিয়ামত । উপুড় হয়ে গন্ধ শুঁকছে ধুলোর । মেরে দেশ কি ধরতি' বলে কথা ! পেটে দুপয়সার বাংলা ঢুকলে গুষ্টিশুদ্ধ সব্বার জন্যে কাঁদতে পারে নিয়ামত । আমিনার কোলের ছ্যানাটা কাঁদতে পারেনি ।শুধু বুকটা ওঠাপড়া করে । চোখ থেকে জল গড়ায় ।নাকের ডগায় মাছি । বুকে দুধ নেই ।দুধ কিনার পুয়সা নেই । শালা নিকুচির পুয়সা । বুক পকেটের দু তিনটে পুরোনো লটারির টিকিট কুচিকুচি করে হাওয়ায় ওড়ায় নিয়ামত । লে ,লে পুয়সা গুলে খা । মাইকে বাজছে 'অ্যা মেরে বতনকে লোগো '... থেবড়ে খানিক উঠে বসলো সে । কপালে হাত ছোঁয়ালো । চোখ গড়িয়ে জল । শালা যারা বেমালুম মরে গেলো তাদের জন্যি কাঁদবোনি? বালের বানচোত পাটি !কার পাটি বে ? শালা সবাই যদি মরেই যাব ,পাটি লিয়ে কি করবি বল ? আমার চাঁদ নওয়াজ না খেতে পেয়ে মরবে।আমি মদ গিলে মরব ।আমিনা গলায় দড়ি দিবে।'বতন কে লোগো ' ঠাঁই ঠাঁই করে গুলি ছুঁড়ে মারবে । তার লাগানা আছে। শালা ওইপার টা আমাদের দেশের নয় ! ওখানের লোকগুলা তিন পায়া না মুখ দিয়ে হাগে বলতে পারবনি । ওরা দেশের সত্তুর শালা ! দু পা জড়ো করে সোজা হতে চেষ্টা করে নিয়ামত । পারেনা ।পড়ে যায় । ধাক্কা খায় দেওয়ালে । মাথা ফুলে যায় ।

উল্টোদিকের ছোকরাদুটা হাসে । গুটখা ফেলে থু করে । একটা ইংরিজি বলা মেয়ে নাক সিটকে পেরিয়ে যাচ্ছে নিয়ামতকে। মদের গন্ধে বমি আসছে ওর । ও এবার মাস্টার্স করবে । দামী বয়ফ্রেন্ড অপেক্ষা করছে পাবে । আজ পনেরো । মস্ত ছুটির দিন । বিকেলটা একসাথে কাটাবে বলেই সিনেপ্লেক্সের টিকিট কেটেছে ওরা । এই মদো মাতাল গলিটা পেরিয়ে গেলেই হাইরাইজ ফ্ল্যাটবাড়ির মুখ । তারপর সুদৃশ্য পার্ক ।আপতত স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান চলছে সেখানে । ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা কেক খাচ্ছে এ ওর গায়ে পড়ে। প্লাস্টিকের কাপ উড়ছে মাঠে । মাইকে মাইকে ও আমার দেশের মাটি । নাচ দিদিমণি প্রতীকী ধুলো নিলেন কপালে । নমস্কারের ভঙ্গীতে দাঁড়িয়ে আছেন মঞ্চে ! আর নিয়ামত হুমড়ি খেয়ে পড়লো । জিভ ঘষে গেলো ধুলোয় । নোনতা স্বাদ , বিচিত্র ধুলোবালিতে ভরা ।একটু যেন রক্ত লেগে আছে । চেটে খাচ্ছে সে । নেশার মুখে ভালোই লাগছে ! চাকনা মতো ,নোনতা ! 

নিজের রক্ত নিজেই খাচ্ছে নিয়ামত । আজ পনেরো তারিখ মাসের ,ঘরে একফোঁটা ডালচাবল নেই ! পাটি মিছিলে গেলে কেক ডিমটা মিলবে ।তাই যাহোক করে সেখানে যাবেই নিয়ামত । 

জয় হিন্দ ! আজাদী মুবারক ভাই !


dr.sayannya34@gmail.com


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন


বিজ্ঞপ্তি
■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.