x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

বুধবার, আগস্ট ১৫, ২০১৮

মৌ দাশগুপ্ত

sobdermichil | আগস্ট ১৫, ২০১৮ | | মিছিলে স্বাগত

⤺প্রসঙ্গ : স্বচ্ছ ভারত

অবশেষে,

কিছু রাজনীতিকদের  আফশোষ শোনা গেল
সাদাকালো অথবা কালোসাদা কোলাজ বানানোয় সিদ্ধহস্ত হলেও
ক্ষমতা ও পক্ষপাতের হিসাব-বহির্ভুত মৈথুনলীলার ফাঁদে পড়ে
রাজা ও প্রজার নিপাতন সিদ্ধ সমীকরনে তাদের জ্ঞানলাভ হয়নি ।

ওদিকে আবার সরষেক্ষেত জুড়ে হলুদ খবর ওড়ায় যে পঙ্গপালের ঝাঁক,
কালোটাকার মেছোগন্ধ ছড়ালেই খুব সক্রিয় হয়ে ওঠে তাদের ঘ্রাণেন্দ্রিয়,
এঘর সেঘর, এপাড়া ওপাড়া, লতায় পাতায়, তুলসীতলায়, ঘাসের ডগায়,
রটনার পর রটনার ডিম পেড়ে যায় অনায়াসে।


নস্ট্রাদামুসের লোককথা খোলস বদলায়, আমরা দেখি,
মহাভারতের পাশা খেলায় দান পাল্টায়, প্রতিপক্ষ বদল হয়,
টাকার রঙ বদল হয় কিনা জানা নেই, তবে,.
জনশ্রুতি বলে রাজনীতি নাকি প্রকৃতপক্ষে সংক্রমণের আর এক নাম,

সংক্রামক ব্যাধি যখন ছড়িয়ে পড়ে রাজপ্রাসাদ থেকে পথের আনাচেকানাচে
কন্যাভ্রূণ ঘুমিয়ে পড়ে নর্দমার জলে, ডাস্টবিনে,
শিশুর কঙ্কাল মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে আসে অনাথ-আশ্রম আর হাসপাতালে,

 চোখে ঠুলি এঁটে
প্লাস্টিকমানি হাতে পাবার আগে বাতিল কাগজের গোছা নিয়ে
আপামর ভারতবাসী দাঁড়িয়ে পড়ে ব্যাঙ্কের কাউন্টারে,পোসটাফিসে,পেট্রলপাম্পে,
ঘুম ভাঙলেই স্বচ্ছ চোখে ভারত দেখার বাসনা নিয়ে ।
ক্ষমতার পিঠেভাগে লাল সবুজ নীল গেরুয়া ইত্যাদি সবাই লোভ চকচকে চোখ,
আঙুল নাড়াতেই বুর্জোয়া সর্বহারা সবাই এক লাইনে....


আমরা আসলে শকুনির বশম্বদ পাশার গুটিমাত্র ।।


⤺আমার এ দেশ

আমার এ দেশ
নায়ক ও খলনায়কের,রাম ও রাবণের,
রক্ষকের আর ভক্ষকের, পরমপুরুষ আর কাপুরুষের
কৃষ্ণ আর কীচকের,ভীষ্ম আর দুঃশাসনের,
এ দেশ সৌধ ও সমাধির,গর্ব ও লজ্জার,
এ দেশ সয়ম্ভূ মনুর,এ দেশ মহাভারতের,
মহাভারতীর নয়,
নারীর নয়, মেয়েমানুষের নয়।
ভারতবর্ষ মহা-'ভারত'-এর দেশ।

এ দেশে গঙ্গা দেবী হয়েও বহুভোগ্যা,
পৃথ্বী স্বয়ং চিরদুঃখিনী,
সন্তানসম্ভবা বৈদেহী স্বামী পরিত্যক্তা,
পঞ্চস্বামী থেকেও পাঞ্চালী পণ্যমাত্র,
পণরক্ষায় মাধবী পরপুরুষের অঙ্কশায়িনী,
ইন্দ্রের অপরাধে অহল্যা পাষাণপ্রতিমা,
গৃহবধূ বেহুলা দেবদরবারে নর্তকীমাত্র,
দেবী সাজানো মেয়েমানুষ
সেবাদাসী, দেবদাসী বই কিছু নয় তো।
এ দেশ নারীর নয়, মেয়েমানুষের নয়।
ভারতবর্ষ মহা-'ভারত'-এর দেশ।

আজ স্বপ্নেই না হয় এক নতুন ভারত গড়ি,
যেখানে মায়ের কোল নেই,ঘুমপাড়ানি গান নেই,
বোনের হাতের রাখী কি ভাইফোঁটা নেই,
স্ত্রীর সবিত্রী ব্রত,কড়োয়া চৌথ ,লক্ষ্মীব্রত নেই,
ফুটফুটে একরত্তি মেয়ের মুখে ‘বাবা’ ডাকটা নেই,
বান্ধবীর কোমল ভরসাটুকু নেই,
নেই কর্কশ পুরুষালী জীবনে প্রেমের পরশ।
রোগাতুর বিছানার পাশে নিদ্রাহীনা চোখ নেই,
রাতের বিছানায় ভাগিদারী নেই,
কপালে স্নেহের স্পর্শ নেই,ঠোঁটে নেই উষ্ণ চুমু,
কোন নবজাতিকার কান্না নেই,
কোন নবজাতকের জন্ম নেই।
এ দেশ নারীর নয়, মেয়েমানুষের নয়।
ভারতবর্ষ হোক শুধু এক পুরুষের নাম।

(শ্রদ্ধেয়া কবি কৃষ্ণা বসু, আমাদের কৃষ্ণাদির ভাবধারায় অনুপ্রাণিত)

মৌ দাশগুপ্ত
মৌ দাশগুপ্ত



Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.