x

প্রকাশিত

​মহাকাল আর করোনাকাল পালতোলা নৌকায় চলেছে এনডেমিক থেকে এপিডেমিক হয়ে প্যানডেমিক বন্দরে। ওদিকে একাডেমিক জেটিতে অপেক্ষমান হাজার পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ।​ ​দীর্ঘ সাতমাসের এ যাপন চিত্র মা দুর্গার চালচিত্রে স্থান পাবে কিনা জানি না ! তবে ভুক্তভোগী মাত্রই জানে-

​'চ'য়ে - চালা উড়ে গেছে আমফানে / চ'য়ে - কতদিন হাঁড়ি চড়েনি উনুনে / চ'য়ে - লক্ষ্মী হলো চঞ্চলা / চ'য়ে - ধর্ষিতা চাঁদমনির দেহ,রাতারাতি পুড়িয়ে ফেলা।

​হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানুষটি লালমার্কার দিয়ে গোল গোল দাগ দেয় ক্যালেন্ডারের পাতায়, চোদ্দদিন যেন চোদ্দ বছর। হুটার বাজিয়ে শুনশান রাস্তায় ছুটে যায় পুলিশেরগাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স আর শববাহী অমর্ত্য রথ...। গঙ্গা দিয়ে বয়ে গেছে অনেকটা জল, 'পতিত পাবনী গঙ্গে' হয়েছেন অচ্ছুৎ!

এ কোন সময়ের মধ্যে দিয়ে চলেছি আমরা?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

সমীরণ চক্রবর্তী

বুধবার, আগস্ট ১৫, ২০১৮

সৌরভ দত্ত

sobdermichil | আগস্ট ১৫, ২০১৮ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
ওদের_লড়াইয়ের_কথা_ভাইরাল_হোক
ওদের_পরাধীনতার_কথা_ভাইরাল_হোক

পটকার আওয়াজ জানান দিচ্ছে আজ স্বাধীনতা দিবস। দেশনেতা দের গাল ভরা প্রতিশ্রুতি জানান দেবে আজ স্বাধীনতা দিবস। কিন্তু ওরা? মালদার GKCIET র ক‍্যাম্পাস থেকে প্রায় ৩৬০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়ে ধরনা দিচ্ছে কলকাতার সাংস্কৃতিক পীঠস্থান একাডেমী নন্দন চত্ত্বরের সামনে রানুছায়া মঞ্চে। ওপরে খোলা আকাশ। রোদ পোড়াচ্ছে, বৃষ্টি ভেজাচ্ছে দিন রাত।

স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগের দিন ওই আন্দোলনরত ছাত্রদের একজন, সুব্রত সাহা এসেছিল শ্রীরামপুরে। প্রচার হল ওদের লড়াইয়ের কথা। মানবিক এর কর্মীরা মানুষের কাছে পৌঁছতেই রাজ‍্যপালের কাছে দিতে চাওয়া ডেপুটেশনের পাতায় গণস্বাক্ষর সংগ্রহ হল। আর ওদের এই লড়াইকে মদত দেওয়ার জন‍্য অর্থ সংগ্রহ হল। মানুষ শুনলেন, সই দিলেন অর্থ দিলেন, পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন।

শ্রীরামপুর ছাড়াও একই দিনে ওদের জন‍্য প্রচার সই সংগ্রহ অর্থ সংগ্রহ হয়েছে খড়দা, বারাসাত, পাঁচলা, আমতায়।

যাদবপুর প্রেসিডেন্সি মেডিকেল কলেজের লড়াইয়ের মেজাজটা বয়ে নিয়ে চলেছে মালদার GKCIET র ছাত্ররা। মানুষ পাশে দাঁড়াবেন না? ওদের আজ খুব প্রয়োজন মানুষের বাড়িয়ে দেওয়া হাত। ওদের প্রয়োজন সহযোগিতা। ওদের প্রয়োজন অর্থ। ব‍্যাঙ্ক এ‍্যাকাউন্ট নং আর Paytm নং দিলাম। আমার বন্ধুরা হাত বাড়িয়ে ওদের অসহায় হাতগুলো একটু ধরুন।
AC no.– 34042751659
IFSC – 0007082
Name – Subrata Saha
PAYtm – 9933784530. 9064028905

ওরা যে লিফলেট বিলি করছেন তার বয়ান দিলাম নীচে।

★ আমরা কারা - 
আমরা মালদা জেলার কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান GKCIET'র সাধারণ ছাত্রছাত্রী।

★ আমাদের সাথে কি হয়েছে -
(২+২+২) মডিউলার প্যাটার্নে ৬ বছর পড়বার পর জানতে পারলাম আমাদেরকে দেওয়া সার্টিফিকেটটি চাকরীক্ষেত্রে বা উচ্চশিক্ষাক্ষেত্রে প্রয়োগ করার যোগ্যই নয়, অর্থাৎ অবৈধ।

★ তাহলে আমরা এখন কোন জায়গায়?? - 
৬টি বছর, অগুন্তি টাকা ও ঘামঝরানো পরিশ্রম নষ্ট করে আমরা এখন কার্যত মাধ্যমিক পাশ করা ৮০০ জন ছাত্র-ছাত্রী, যাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।

★ আমাদের কী দোষ?? - 
আমরা প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি ও মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রীর ওপর অন্ধ বিশ্বাস রেখেছিলাম। উল্লেখ্য, GKCIET'র উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি ও মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী।

★ আমাদের মূল দাবী কি কি?? - 
১) ন্যায্য বৈধ সার্টিফিকেট চাই।
২) বি.টেক.এর দ্বিতীয় বর্ষে কলেজেই ল্যাটেরাল এন্ট্রির মাধ্যমে যোগ্য ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি নিতে হবে।

★ আমরা আমাদের দাবী আদায়ের জন্য কি কি পদক্ষেপ নিয়েছি - 
আমরা আমাদের দাবী আদায়ের জন্য GKCIET কর্তৃপক্ষ, MHRD, NIT দুর্গাপূর কর্তৃপক্ষ, MAKAUT কর্তৃপক্ষ, UGC'র আঞ্চলিক কার্যালয় (কলকাতা) ও শেষত রাজ্যপালের দোরে ঘুরেছি। শুধু তাইই নয়, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছেও গেছি।

★ আমরা কীভাবে পদক্ষেপ নিয়েছি?? - 
চিঠি পাঠানো, অবস্থান, অনশন, মিছিল, প্রতীকী রেল ও পথ অবরোধ ইত্যাদি আমাদের করতে হয়েছে।

★ আমরা কি পেয়েছি?? - 
শুধু আশ্বাস আর আশ্বাস। আর, পুলিশের লাঠি, কর্তৃপক্ষের চোখরাঙানি উপেক্ষা ও অমানবিক আচরণ এবং জেলা প্রশাসনের ভুয়ো প্রতিশ্রুতি। আন্দোলন করার কারণে কতবার যে হসপিটালে ভর্তি হতে হয়েছে, তার ইয়ত্তা নেই। এত কিছু সত্ত্বেও আমাদের সাহস যুগিয়েছে সাধারণ মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থন।

★ আমরা এখন কোথায়?? - 
আমাদের কিছু বন্ধু মালদাতেই এখন অনশন-অবস্থান করছে এবং অন্যদিকে কিছু বন্ধু কলকাতায় এসেছে দাবী ছিনিয়ে নেওয়ার লড়াই লড়তে।

★ আমাদের এই মুহূর্তের স্লোগান - 
হয় বৈধ সার্টিফিকেট নিয়ে বাড়ি ফিরব, নয় আমাদের লাশ ফিরবে

---------------------------
সরকার, প্রশাসন, আইনের প্রতি আমাদের আর আস্থা নেই। আমরা আমাদের ন্যায্য লড়াই লড়ে যেতে চাই আপনার সক্রিয় সমর্থনের ওপর দাঁড়িয়ে। ছেলে-মেয়ে বা ভাই-বোনের মত এই ৮০০ ছাত্রছাত্রীর পাশে সমাজের একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে আপনাকে পাশে চাই।







Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.