x

আসন্ন সঙ্কলন

গোটাকতক দলছুট মানুষ হাঁটতে হাঁটতে এসে পড়েছে একে অপরের সামনে। কেউ পূব কেউ পশ্চিম কেউ উত্তর কেউ দক্ষিণ... মাঝবরাবর চাঁদ বিস্কুট, বিস্কুটের চারপাশে লাল পিঁপড়ের পরিখা। এখন দলছুট এক একটা মানুষ এক হয়ে হাঁটছে চাঁদ বিস্কুটের দিকে। আলাদা আলাদা মানুষ এক হয়ে হাঁটছে সারিবদ্ধ পিঁপড়েদের বিরুদ্ধে। পথচলতি যে ক'জনেরই নজর কাড়ছে মিছিল তারাই মিছিল কে দেবে জ্বলজ্বলে দৃষ্টি। আগুন নেভার আগেই ঝিকিয়ে দেবে আঁচ... হাত পোহানোর দিন তো সেই কবেই গেল ঘুচে, যেটুকু যা আলো বাকী সবটুকু চোখে মেখে চাঁদ বিস্কুট চেখে চেখে খাক এই মিছিলের লোক। মানুষ বারুদ কিনতে পারে, কার্তুজ ফাটাতে পারে, বুলেট ছুঁড়তে পারে খালি আলো টুকু বেচতে পারেনা... এইসমস্ত না - বেচতে পারা সাধারণদের জন্যই মিছিলের সেপ্টেম্বর সংখ্যা... www.sobdermichil.com submit@sobdermichil.com

অতিথি সম্পাদনায়

মৌমিতা ঘোষ

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

মৌমিতা ঘোষ

বুধবার, আগস্ট ১৫, ২০১৮

আব্দুল মাতিন ওয়াসিম

sobdermichil | আগস্ট ১৫, ২০১৮ |


প্রেমের জীবন! 
জিব্‌রান খালীল জিব্‌রান
অনুবাদ- আব্দুল মাতিন ওয়াসিম 

বসন্ত

চলো না প্রিয়ে! টিলার ভেতর দিয়ে হাঁটি। এতক্ষণে তো সেখানে বরফ গলে গেছে। জীবনও বিছানা ছেড়ে উপত্যকা ও উঁচুভূমির মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে। আমার সাথে চলো, দূরবর্তী শস্যখেতে বসন্তের পদচিহ্ন খুঁজবো। টিলার চূড়ায় উঠে; সেখান থেকে চারিপাশের সমতলভূমির তরঙ্গায়িত শ্যামলিমা অবলোকন করবো। 

এইতো, বসন্তের ভোর মেলে দিয়েছে শীতের রাতে গুছিয়ে রাখা চাদরটিকে । আর সে-চাদর গায়ে দিয়ে এখন আপেল ও জাম গাছগুলো উৎসবের রাতে নববধূর সাজে সেজে উঠেছে। আঙ্গুর বাগানেরও ঘুম ভেঙে গেছে। তাই, আঙুর-লতাগুলো প্রেমিক-প্রেমিকাদের মতো একে অপরকে জড়িয়ে রয়েছে। নদীনালাগুলো আনন্দের গান গাইতে গাইতে পাথুরে ভূমির ভেতর দিয়ে কোমর দুলিয়ে বয়ে চলেছে। আর পুষ্পরাজি প্রস্ফুটিত হয়েছে প্রকৃতির বুক চিরে; যেমনভাবে সমুদ্রের গভীর থেকে বেরিয়ে পুঞ্জীভূত হয় ফ্যানার পাহাড়। 

এসো; জুঁইফুলের পাপড়ি-পেয়ালায় শীতের অবশিষ্ট নীরবিন্দু পান করবো। চড়ুই-বুলবুলিদের আনন্দমুখোর সঙ্গীতে মন ভরিয়ে তুলবো। প্রভাতী বায়ুর সুঘ্রাণে মেতে উঠবো। এসো; যে-পাথরটির আড়াল থেকে ঘাসফুল উঁকি দিচ্ছে, তার পাশে বসে প্রণয়-চুম্বনে পরস্পরকে রাঙিয়ে তুলবো। 


গ্রীষ্ম

হে প্রিয়ে! চলো যাই শস্যক্ষেতে। সময় এসে গেছে ফসল তোলার । শস্য ছুঁয়ে ফেলেছে তার চরম সীমানাকে; সেজে উঠেছে সোনালি আভরণে প্রকৃতির জন্য সূর্যের সোহাগ-মাখানো উষ্ণ-পরশে । পাখীরা আমাদের পরিশ্রমের ফসল ঘরে তুলে নিয়ে যাবে, পিঁপড়েরা দখল করে নেবে আমাদের জমি– তাদের আগেই তুমি চলে এসো! চলে এসো আমরা জমির ফসল তুলব যেভাবে মন বিশ্বস্ততার অসংখ্য বীজগুলির মধ্য থেকে সৌভাগ্যের দানাগুলি তুলে নেয়; যেই বিশ্বস্ততাকে ভালোবাসাই আমাদের মনের গহীনে লালন করে থাকে। চলে এসো সেই শস্য দিয়ে আমরা শস্যভান্ডারগুলো ভরে তুলবো যেভাবে জীবন-যাত্রা অনুভূতির খামারগুলোকে পূর্ণ করে তোলে। 

ওগো সহচারিণী! চলো ঘাসের বিছানায় শুয়ে, আকাশ গায়ে মুড়ে নিয়ে, নরম ঘাসের বালিশে মাথা রেখে একটু বিশ্রাম নিই; কর্মমুখর দিনের ক্লান্তি শেষে; আর শুনি উপত্যকার মাঝে জলরাশির নিশি-আলাপন...। 


হেমন্ত

প্রিয়তমেষু, চলো না আঙুর-বাগানের দিকে যাই। (সেখানে গিয়ে) আঙুরের নির্যাস বের করবো। অতঃপর মৃৎপাত্রে সেই নির্যাস সংরক্ষণ করবো, যেভাবে হৃদয় আগলে রাখে পূর্বপুরুষদের নীতিকথাগুলোকে। (সেখানে) শুকনো ফল কুড়োবো। অল্প অল্প করে ফুলের আরক বের করবো। আর (সেখানকার মনোরম) দৃশ্য দেখে আমাদের চক্ষু জুড়োবে। 

চলো, (এবার) গৃহে ফিরে যাই। গাছের যে পাতাগুলো বিবর্ণ হয়ে গেছে, বাতাস সেগুলি ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিচ্ছে; যেন গ্রীষ্মের বিদায়ে যাতনা-কাল পেরিয়ে আসা ফুলগুলিকে সে কাফন পরাতে চাইছে। চলো, (এবার) পাখীরাও বাগানের মনোরম আবহকে ডানায় বেঁধে তীরের দিকে রওয়ানা দিয়েছে; আর পিছনে রেখে গেছে জুঁই-চামেলীর জন্য গুমোট নির্জনতা। ফলে অশ্রুর অবশিষ্ট বিন্দুগুলিও ঝরে পড়েছে মাটির উপর। 

চলো ফিরে যাই! প্রবাহ থামিয়ে নদীও দাঁড়িয়ে পড়েছে; থেমে গেছে ঝর্ণার আনন্দাশ্রুর উৎসারণও। টিলাগুলোও তাদের উজ্জ্বল আবরন খুলে ফেলেছে। প্রিয়তমেষু চলো না! প্রকৃতিও তো (এখন) তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে শান্ত-সমাহিত কণ্ঠে (গান গেয়ে) কর্ম-মুখরতাকে বিদায় জানাতে আরম্ভ করেছে।

শীত

ও জীবনসঙ্গিনী কাছে এসো! আমার পাশে বসো। আমাদের শরীরদুটোকে বিচ্ছিন্ন করার কোনো সুযোগই তুষারপাতকে দিও না । এই উনুনটার সামনে এসে আমার গা-ঘেঁষে বসো; আগুনই তো শীতের একমাত্র সুস্বাদু ফল। আর আমার কাছে মানবপ্রজন্মের অভিগমনের বর্ণনা দাও। বাতাসের আর্তনাদ ও প্রকৃতির বিলাপে আমার কান যে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। তুমি দরজা-জানালা সব বন্ধ করে দাও; বিক্ষুব্ধ জলবায়ুর মুখদর্শনে আমার মন ভারাক্রান্ত। বরফ-স্তূপের নীচে শহরটা এখন সন্তানহারা রমণীর ন্যায় কেমন নির্জীব ও কর্মহীন- এ দৃশ্য দেখে আমার হৃদয়ের রক্তক্ষরণ বেড়ে চলেছে...। ও জীবনসঙ্গিনী, প্রদীপের তেল-পিপাসা একটু নিবারণ করো, সেটা যে নিভে যাওয়ার উপক্রম করেছে। অতঃপর প্রদীপটাকে তোমার কাছেই কথাও রেখে দাও; যাতে আমি দেখতে পাই, নির্ঘুম রাতগুলো যে অবসাদ-কাহন তোমার চেহারায় লিখে রেখেছে...। নিয়ে এসো সুরাহী-পেয়ালা-জাম; সুরা পান করবো। আর সেই সাথে অতীতের স্মৃতিচারণ করবো। 

কাছে এসো! কাছে এসো হে প্রাণেশ্বরী! আগুন তো নিভে গেছে; ছাইয়ে ঢেকে গেছে প্রায়। প্রদীপও নিভে গেছে; চারিদিকে এখন অন্ধকারের জয়যাত্রা—আমাকে একটু জড়িয়ে ধরো...। এই তো, পুরাতন মদিরা-পানে চোখ বুজে আসছে। এবার তন্দ্রাবিষ্ট চোখে আমার দিকে চেয়ে থাকো...। আর ঘুম-জড়ানোর আগেই তুমি আমায় জড়িয়ে ধরো...। আমায় একটু চুম্বন-স্বাদও দাও—একমাত্র তোমার চুম্বনকেই যে তুষারপাত গ্রাস করতে পারেনি...। আহ্‌, প্রিয়ে, ঘুমের সাগর কতই না গভীর! আহ্, সকাল কতই না দূরে... এই পৃথিবীতে! 


الربيع

هلمي يا محبوبتي نمش بين الطلول، فقد ذابت الثلوج، و هبّت الحياة من مراقدها و تمايلت في الأدوية و المنحدرات. سيري معي لنتتبّع آثار أقدام الربيع في الحقل البعيد. تعالي لنصعد إلى أعالي الربى و نتأمل تموجات اخضرار السهول حولها. 

ها قد نشر فجر الربيع ثوبا طواه ليل الشتاء فاكتست به أشجار الخوخ و التفاح فظهرت كالعرائس في ليلة القدر، و استيقظت الكروم و تعانقت قضبانها كمعاشر العشاق، و جرت الجداول راقصة بين الصخور مرددة أغنية الفرح، و انبثقت الأزهار من قلب الطبيعة انبثاق الزبد من البحر. 

تعالي لنشرب بقايا دموع المطر من كؤوس النرجس و نملأ نفسينا بأغاني العصافير المسرورة و نغتنم استنشاق عطر النسيمات. لنجلس بقرب تلك الصخرة حيث يختبئ البنفسج و نتبادل قبلات المحبة.




الصيف

هيا بنا إلى الحقل يا حبيبتي فقد جاءت أيام الحصاد و بلغ الزرع مبلغه و أنضجته حرارة محبة الشمس للطبيعة. تعالي قبل أن تسبقنا الطيور فتستغل أتعابنا، و جماعة النمل فتأخذ أرضنا .هلمي نجن ثمار الأرض مثلما جنت النفس حبوب السعادة من بذور الوفاء التي زرعتها المحبة في أعماق قلبينا، و نملأ المخازن من نتاج العناصر كما ملأت الحياة أهراء عواطفنا .

هلمي يا رفيقتي نفترش الأعشاب و نلتحف السماء و نوسد رأسينا بضغث من القش الناعم فنرتاح من عمل النهار و نسمع مسامرة غدير الوادي.




الخريف 

لنذهب إلى الكرمة يا محبوبتي و نعصر العنب و نوعه في الأجران مثلما توعي النفس حكمة الأجيال و نجمع الأثمار اليابسة و نستقطر الأزهار و نستعض عن العين بالأثر.

لنرجع نحو المساكن فقد اصفرّت أوراق الأشجار و نثرها الهواء كأنه يريد أن يكفّن بها أزهارا قضت لوعة عندما ودعها الصيف. تعالي فقد رحلت الطيور نحو الساحل و حملت معها أنس الرياض و خلّفت الوحشة للياسمين و السيسبان فبكى باقي الدموع على أديم التراب. 

لنرجع ! فالجداول قد وقفت عن مسيرها، و العيون نشّفت دموع فرحها، و الطلول خلعت باهي أثوابها. تعالي يا محبوبتي، فالطبيعة قد راودها النعاس فأمست تودّع اليقظة بأغنية نهاوندية مؤثرة.




الشتاء

اقتربي يا شريكة حياتي، اقتربي مني و لا تدعي أنفاس الثلوج تفصل جسمينا. اجلسي بجانبي أمام هذا الموقد، فالنار فاكهة الشتاء الشهية. حدثيني بمآتي الأجيال، فأذناي قد تعبتا من تأوه الرياح و ندب العناصر. أوصدي الأبواب و النوافذ، فمرأى وجه الجو الغضوب يحزن نفسي، و النظر إلى المدينة الجالسة كالثكلى تحت أطباق الثلوج يدمي قلبي ... اسقي السراج زيتا، يا رفيقة عمري، فقد أوشك أن ينطفئ، و ضعيه بالقرب منك لأرى ما كتبته الليالي على وجهك ... تي بجرّة الخمر لنشرب و نذكر أيام العصر.

اقتربي ! اقتربي مني يا حبيبة نفسي، فقد خمدت النار و كاد الرماد يخفيه. ..ضميني ، فقد انطفأ السراج و تغلّبت عليه الظلمة ... ها قد أثقلت أعيننا خمرة السنين ... أرمقيني بعين كحلها النعاس ... عانقيني قبل أن يعانقني الكرى... قبليني فالثلج قد تغلب على كل شيء إلا قبلتك ... آه يا حبيبتي ما أعمق بحر النوم ! آه ما أبعد الصباح ... في هذا العالم !


আব্দুল মাতিন ওয়াসিম
আব্দুল মাতিন ওয়াসিম
matin.cu@gmail.com


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.