x

আসন্ন সঙ্কলন

গোটাকতক দলছুট মানুষ হাঁটতে হাঁটতে এসে পড়েছে একে অপরের সামনে। কেউ পূব কেউ পশ্চিম কেউ উত্তর কেউ দক্ষিণ... মাঝবরাবর চাঁদ বিস্কুট, বিস্কুটের চারপাশে লাল পিঁপড়ের পরিখা। এখন দলছুট এক একটা মানুষ এক হয়ে হাঁটছে চাঁদ বিস্কুটের দিকে। আলাদা আলাদা মানুষ এক হয়ে হাঁটছে সারিবদ্ধ পিঁপড়েদের বিরুদ্ধে। পথচলতি যে ক'জনেরই নজর কাড়ছে মিছিল তারাই মিছিল কে দেবে জ্বলজ্বলে দৃষ্টি। আগুন নেভার আগেই ঝিকিয়ে দেবে আঁচ... হাত পোহানোর দিন তো সেই কবেই গেল ঘুচে, যেটুকু যা আলো বাকী সবটুকু চোখে মেখে চাঁদ বিস্কুট চেখে চেখে খাক এই মিছিলের লোক। মানুষ বারুদ কিনতে পারে, কার্তুজ ফাটাতে পারে, বুলেট ছুঁড়তে পারে খালি আলো টুকু বেচতে পারেনা... এইসমস্ত না - বেচতে পারা সাধারণদের জন্যই মিছিলের সেপ্টেম্বর সংখ্যা... www.sobdermichil.com submit@sobdermichil.com

অতিথি সম্পাদনায়

মৌমিতা ঘোষ

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

মৌমিতা ঘোষ

শনিবার, জুন ৩০, ২০১৮

আব্দুল মাতিন ওয়াসিম

sobdermichil | জুন ৩০, ২০১৮ |


সাল ২০১১। মৌলানা আজাদ কলেজে আরবি সাহিত্যে অনার্স করছি। তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সেবার। আরবি বিদেশী ভাষা। তাছাড়া ছাত্র সংখ্যাও খুব কম। তাই বাজারে আরবি বই তেমন সহজলব্ধ নয়। প্রামাণ্য গ্রন্থাদির জন্য আজও আমাদের (আরবি পড়ুয়া ও শিক্ষকদের) একমাত্র ভরসা ইন্টারনেট। সাতপাঁচ না-ভেবে স্থির করলাম একটা ল্যাপটপ কিনবো। শুরু করলাম পয়সার জোগাড়। স্কলারশিপের টাকা, মায়ের দেওয়া টাকা, জমানো টাকা, কিছু বন্ধুদের থেকে ধারও নিলাম; আরও কত কিছু করলাম। অবশেষে চাঁদনির ইমল থেকে কিনলাম একখানা ল্যাপটপ। ব্র্যান্ড- ডেল ভোস্ত্রো। ১৮-১২-২০১১, রবিবারে। সঙ্গে ছিল রফিক ও বাকি। সেদিনই রাতে ফোন করে মাকে জানালাম ল্যাপটপ কেনার কথা। মা জানালেন বাবাকে। 

পরের সপ্তাহে বড়দিনের ছুটি। তাই রবিবার, ২৫শে ডিসেম্বর রাতে বাড়ি যাবার টিকিট করলাম। মা-বাবাকে দেখাবো বলে অনেক রকমের ছবি, অডিও এবং ভিডিও সংগ্রহ করলাম। কিছু বন্ধুদের থেকে কপি করলাম, তো কিছু ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড। সিটিমার্ট থেকে বাবার জন্য খাবারও কিনলাম, চকলেট-বিস্কুট ইত্যাদি। 

শনিবার, ২৪শে ডিসেম্বর। সকালে উঠে যথারীতি বেরিয়ে পড়েছি। পার্ক সার্কাসে পৌঁছে ক্লাস নিচ্ছি কার্টুচ স্কুলে। সামনে বসে মাকিন-মর্জিনা-সানাম-কালাম-আর্মিনা-আমিনারা। এমন সময় বাড়ি থেকে একটা ফোন আসল। ও প্রান্ত থেকে উৎকণ্ঠা মিশ্রিত একটা চেনা কণ্ঠস্বর বলছে- “ভাই এখন কোথায় আছো, বাবা খুব সিরিয়াস। তুমি তাড়াতাড়ি বাড়ি চলে এসো”। আমি দিগ্বিদিক শূন্য হয়ে “আচ্ছা” বলে ফোনটা রেখে দিলাম। কিছুক্ষণ পর, ক্লাস ছুটি দিয়ে অটোয় চেপেছি এমন সময় আবার ফোন আসল। দিদি বলছে, “বাবা এখন অনেকটা সুস্থ...”। দিদিকে আমি দৃপ্ত কণ্ঠে বললাম, “বাস্তবটা আমি জেনে গেছি। আমি আসছি...”। 

সেদিন রাত সাড়ে নটায় বাড়ি পৌঁছলাম। ল্যাপটপ-চকলেট-বিস্কুট সঙ্গে করে। সাড়ে দশটা নাগাদ বাবাকে রেখে আসা হল তাঁর ‘আসল বাড়ি’-তে। আমার নিয়ে যাওয়া চকলেট-বিস্কুট বাবা খেয়ে যেতে পারেননি। আমার প্রথম ল্যাপটপের কথা বাবা শুনে গেছিলেন; কিন্তু দেখে যেতে পারেননি...। 

এখন আমি অন্য একটা ল্যাপটপ ব্যবহার করি। বেশ দামী। আগের সেই ল্যাপটপটা এখনো আছে। ভালোই চলছিল। তবে কিছুদিন ধরে স্ক্রিনে একটু সমস্যা দেখা দিয়েছে। সাহানা একদিন বলল, “ল্যাপটপটা সারিয়ে আমাকে দাও। আমি ব্যবহার করবো”। মাঝে একদিন পারভেজ বলল, “কাকু ল্যাপটপটা সারিয়ে নিচ্ছি আমি”। আমি কিন্তু ল্যাপটপটা কাউকে দিইনি। আমার খাটের এক কোণে থাকে প্রায় সময়। ডিসপ্লেটা কিছুদিন থেকে আর কাজ করছে না। কিছুই দেখা যায় না তাতে। তবুও রেখেছি কাছে। ওটা যে আমার কাছে শুধু একটা ল্যাপটপ নয়; ওটা একটা প্রতীক। একটা চিহ্ন। পিতাপুত্রের মাঝের এক অদ্ভুত বন্ধন; কর্ণের পথ বেয়ে যেটি বাবার কল্পনার জগত অবধি পৌঁছে ছিল; কিন্তু দৃষ্টির সোপান দিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতার বহরকে সমৃদ্ধ করতে পারেনি। ওটা পাশে থাকলে মনে হয়, বাবা আছে আমার আশে পাশে কোথাও, তাঁর শোনানো গল্প-কাহিনী, শেখানো আদর্শ-নীতি ইত্যাদির মাধ্যমে। আমার কাছেই আছে; তবে আমি তাঁকে দেখতে পাচ্ছি না। ঠিক ল্যাপটপটার মতো;সব মেশিনারি কাজ করছে, অন্‌ করলে; শুধু স্ক্রিনে তা দেখা যাচ্ছে না! 

matin.cu@gmail.com

Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.