x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

শুক্রবার, মে ০৪, ২০১৮

মৌ দাশগুপ্তা

sobdermichil | মে ০৪, ২০১৮ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
র্ষণ নিয়ে মাঝে মাঝে লিখতে ইচ্ছে করে। প্রতিবাদে ফেটে পড়তে ইচ্ছে করে।কিন্তু কিভাবে? দু চার পাতা লিখে ? কি হবে লিখে? পত্রিকার দরকার খবর, টিভির দরকার হট কেক নিউজ। ধর্ষকের শাস্তি ঠিক মতো হলো কিনা, এটা নিয়ে কারো কোনো মাথাব্যাথাই থাকে না। মাঝে মাঝে মনে হয় ধর্ষণ নিয়ে লিখে আসলে আমরা ধর্ষিতাদের ব্যাঙ্গই করি।

দুটি গল্প শোনাই আপনাদের, ভারতীয় গল্প, মহাভারতের গল্প, দেবতা ও দেবপুরুষের গল্প, অসহায় নারীর নারীত্বের অবমাননার গল্প ।

প্রথম ঘটনাটির ঘটনাকাল মহারাজ বিচিত্রবীর্যের অকাল প্রয়ানের ঠিক পরবর্তী সময় । বিচিত্রবীর্যের দুই স্ত্রী, অম্বিকা ও অম্বালিকা নিঃসন্তান মহারাজ শান্তনুর বংশ লোপ পেতে চলেছে । কোনও উপায় না দেখে রাজমাতা সত্যাবতী প্রায় সমবয়সী পুত্র, ভীষ্ম, রাজপুরোহিত ও মহামাত্যর সঙ্গে আলোচনায় সিদ্ধান্ত নিলেন নিয়োগপ্রথা অবলম্বন ছাড়া অন্য উপায় নেই।ডাক পড়লো সাগ্নিক ব্রাহ্মণ মুনিশ্রেষ্ঠ পরাশরের ঔরসে আদিমাতা সত্যবতীর গর্ভেজাত কনীন পুত্র, কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেবের। একটি বার ভাবুন, সেই বিধবা দুই কিশোরী প্রায় রাজমহিষীদ্বয়ের কথা, একদিকে অনিশ্চিত পারলৌকিক জীবনের উৎকন্ঠ উদ্বিগ্নতা, অন্যদিকে বংশরক্ষার গুরুদায়িত্ব পালনের অক্ষমতার লজ্জা ও কুণ্ঠা । এমনিতেই তাঁরা অর্ধমৃতা, তার ওপর অন্তিম আঘাতটি পড়ল এই নিয়োগপ্রথার নির্মম সিদ্ধান্তে। একটিবারও কেউ তাঁদের মতামত জানতেও চাইলেন না। দিন ধার্য হল। দেবকন্যার মত রূপবতী, সালঙ্কারা, আম্বিকা শয়নকক্ষের শয্যায় অপেক্ষমানা। দীপ্যমান প্রদীপালোকে সেখানে ব্যাস উপস্থিত হলেন। ঘোর কৃষ্ণ বর্ণ, ঘন জটাজাল, উজ্জ্বল বন্য চোখ, মুখে একরাশ দাড়ি, পরনে অজিন ।

ভয়ে, ঘৃনায়, অনীহায় রাজমহিষী চক্ষু মুদলেন। তবুও মৈথুনক্রিয়া সম্পন্ন হলো। ফল? বলশালী, বিদ্বান, রাজপ্রতীম, কিন্তু মাতার আচরণ হেতু অন্ধপুত্র!!দৃষ্টান্ত স্মরণ করে অম্বালিকা চোখ খুলে রাখলেন ঠিকই, কিন্তু ওই বীভৎসদর্শন, অসুরপ্রতীম ঋষিপ্রবরকে দেখে ভয়ে বিবর্না হয়ে গেলেন। জন্ম হলো পান্ডু-র ।।মহারাজ শান্তানুর বংশ রক্ষা পেল।মহারাজ ভরতের(যার নামে আমাদেশের দেশের নাম ভারতবর্ষ) বংশ রক্ষা পেল।কিন্তু ধর্ষণ ছাড়া এই দুই রতিক্রিয়াকে কি অন্য কোনো নাম দেওয়া যায়? পাঠক, আপনিই বিচার করুন!!

দ্বিতীয় ঘটনাটির ঘটনাকাল ঠিক এক প্রজন্ম পরে, রাজা কুন্তিভোজের প্রাসাদে আতিথ্য গ্রহণ করলেন প্রখরস্বভাবা মুনি দূর্বাসা। উগ্রস্বভাব, হঠাৎক্রোধী, আভিশাপপ্রবণ এই মুনির আতিথেয়তার গুরু দায়িত্ব পড়ল পালিতা কন্যা পৃথার উপর। রাজা কন্যাকে সতর্ক করে বললেন, শূরনন্দিনী পৃথার হাতেই এখন রাজা কুন্তিভোজের সম্মান রক্ষার রাজাজ্ঞা পালিত হল অক্ষরে অক্ষরে। দুর্বাসা সন্তুষ্ট হলেন। অলোকসামান্যা রূপবতী কুমারী কুন্তীকে ইচ্ছামত দেব-সঙ্গমের মন্ত্র বর দিলেন মুনিশ্রেষ্ঠ।বিপত্তির সূত্রপাত এখানেই। দুর্বাসা দেব-সঙ্গমের রহস্যমন্ত্র সদ্য যৌবনবতী কুন্তীকে শিখিয়ে দিয়ে চলে যেতেই কুন্তীর কুমারী হৃদয়ের অজ্ঞতা, চঞ্চলতা ও কৌতুহলপ্রিয়তা তাঁকে অস্থির করে তুলল। তিনি কিছুতেই সম্বরণ করতে পারলেন না মন্ত্রের বলাবল পরোখ করার প্রবল বাসনা,বালখিল্য চপলতায়, একদিন প্রত্যুষে রাজঅন্তঃপুরের পুষ্প শয্যায় শায়িতা পুষ্পবতী কুন্তী নবোদিত কোমল কিরণময় সূর্যকে আহ্বান করলেন মন্ত্রবলে। মুহূর্তে মূর্তমান হলেন আদিত্যদেব। নম্র সম্ভাষণে কুন্তীর আনুগত্য স্বীকার করলেন, মন্ত্রের শর্ত অনুযায়ী। কিন্তু এই অনুগতভাব বেশীক্ষণ রইল না, যখন কুন্তী তাঁকে ফিরে যেতে বললেন।দেবপুরুষ হাতের কাছে কৃশকটি, অলসগমন, মধুর হাস্যময়ী, সদ্য যৌবনবতী, সুন্দরী কুন্তীকে পেয়ে অস্থির হয়ে উঠলেন। কুন্তীকে লোকলজ্জা ও অভিশাপ প্রদানের ভয় দেখিয়ে কুন্তীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে সঙ্গমে প্রবৃত্ত হলেন, স্পর্শ করলেন কুন্তীর নাভিদেশ।।মহাভারতের সুবিশাল পরিসরে এরকম উদাহরণ খুঁজলে একাধিক পাবো,কিন্তু যে কাহিনী দুটির অন্তরালে লুকিয়ে রয়েছে ধর্ষনের মতো এক মর্মান্তিক ঘটনা, সে দুটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য, কারণ এরা এ দেশের ইতিহাসকে প্রভাবিত করেছে বিশেষভাবে।

সৃষ্টির আদিতে যতই মাতৃতান্ত্রিক সমাজ থাক না কেন, এই মাতৃত্বই নারীকে পৃথিবীর দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক করে রেখেছে। ধীরে ধীরে ভুমির সমার্থক হয়ে উঠেছে নারী। উভয়কে পুরুষ কর্ষণ করেছে বারবার আর তারাও বারবার ফলবতী হয়েছে। তফাত একটাই, নারীকে কর্ষণ যৌনতা আর ভুমিকে কর্ষণ জীবনধারনের একান্ত প্রয়োজনীয়তা। নারী পুরুষের এই স্বাভাবিক জৈবনিক আকর্ষণ নিয়ে রচিত হয়েছে সাহিত্য,সতী অসতীর গালগপ্পো,দেবী, অপদেবী ও অবিদ্যার কাহিনী।সর্বত্রই নারী পণ্য মাত্র। নারীর বাজারচলতি আধুনিক উপমা কি? না,মিষ্টির হাঁড়ি।গরমে নষ্ট, অধিক শীতলতাতেও গ্রহনযোগ্যা নয়।ঢাকা না থাকলে মাছি বসবে, কুকুর বিড়ালে মুখ দেবে আবার বেশি ঢাকাচাপা দিলেও সমস্যা। কি আর বলি, আজকের কথা না হয় ছেড়েই দিলাম, যে নারীর গর্ভে পুরুষের জন্ম তার প্রতি তাদের রিপু আর শৃঙ্গার রসের নিয়ন্ত্রণ সেই বৈদিক যুগ থেকেই বড়ো লাগাম ছাড়া। একটু উদাহরণ দিয়েই বলি, নারীপুরুষের সম্পর্ক নিয়ে রচিত হয়েছে সংস্কৃত সাহিত্যের শৃঙ্গাররস পর্ব। শৃঙ্গার শব্দের অন্তর্গত ‘শৃঙ্গ’ কথাটার মানে হচ্ছে ‘শিঙ’ (যা দিয়ে চুলকানো যায়।) ইংরেজীতে ‘horn’ । যা হতে horny বা কামুক শব্দটি এসেছে। শৃঙ্গ হলো কামুক তার প্রথম প্রকাশ, রতিভাব বা মৈথুন ইচ্ছে প্রকট হয়ে ওঠে এই পথ ধরেই।

‘শৃঙ্গ হি মন্মথোদ্ভেদস্তদাগমনহেতুকঃ’।

পুরুষের লোলুপ দৃষ্টি নারীর বিশেষ বিশেষ অঙ্গের বর্ণনায় এই শৃঙ্গার রসের কোন সুযোগকেই হাতছাড়া করতে চায় নি। এ ব্যপারে মহাকবি কালিদাসের সাথে হরিদাস ( হরিদাসের গুপ্তকথা) বা পানুর লেখক পচার ভাবনার বিশেষ অমিল নেই, দেবীশ্রেষ্ঠা পার্বতীর স্তনের বর্ণনা দিচ্ছেন মহাকবি কালিদাস তাঁর কুমারসম্ভব কাব্যে এভাবে – ‘পার্বতীর পীতাভ শুভ্র দুটি স্তন একটি অপরটির জায়গা আটকে পরষ্পর চাপাচাপি করে বাড়তে লাগল। পাণ্ডু-গৌর স্তনের ওপর দুটি কৃষ্ণাভ চুচুক ও স্তন দুটি এতটাই প্রবৃদ্ধ এবং বর্তুল যে সে-দুটির মধ্যে একটি সূক্ষ্ম মৃণালতন্তুও প্রবেশ করানো যায় না।’ আজ হতে প্রায় তিন হাজার বছর আগের এক শৃঙ্গারের উপমা দেখি। সূর্য উদিত হবার আগে ঊষার সৌন্দর্য কেমন? বলা হয়েছে - ঊষা তার রূপ প্রকাশ করেছে ঠিক নর্তকীর মতো। গাভি দোহনের সময় তার দুধভাণ্ড ‘উধঃ’ যেমন উন্মুক্ত করে দেয়, ঊষাও তেমনি তার বক্ষ দুটো উন্মুক্ত করেন প্রতি প্রত্যুষে। ‘অধি পেশাংসি বপতে নৃতূরিবাপোর্ণুতে বক্ষ উস্রেববর্জহ্ম’ (ঋগবেদ, ১.৯২ ৪) নারীকে পণ্য হিসাবে ব্যবহার করেছে রামায়ণ মহাভারতও। যে কারণে নিজের জাতভাইদের সতর্ক করে ভারবি লিখে গেছেন, 'মাত্রা সস্রা হুহিত্রা বা ন বিবিক্তাসনো ভবেৎ বলবান্ ইন্দ্রিয়গ্রামঃ বিদ্বাসমপি কর্যতি'। অর্থাৎ, মা- বোন বা মেয়ের সঙ্গে কখনো নির্জনে বেশীক্ষণ থেকো না, কেননা ইন্দ্রিয়গুলোর স্বাভাবিক প্রবৃত্তিই বড়ো প্রবল, বুদ্ধিমান লোককেও তা মথিত করে ফেলে। এর পরেও কি আর বলব!!! অসহ্য!!!সত্যি বলতে কি, কী স্বদেশে, কী বিদেশে মেয়েদের এগিয়ে চলার পথে ধর্ষণ হল সবচেয়ে সাধারন সমস্যা। যা খুব সহজেই একটি মেয়েকে শারীরিক ও মানসিকভাবে দুমড়ে মুচড়ে বিকলাঙ্গ করে দিতে পারে। ধর্ষণ কেন করা হয়? শারীরিক আনন্দের জন্য, প্রতিশোধ নেয়ার জন্য, কিংবা শুধু মাত্র বিকৃত সুখ লাভ করার জন্য ।

ছোটবেলায় ‘ধর্ষণ’ শব্দটা খবরের কাগজ কি সাময়িক পত্রিকা থেকে শিখেছিলাম,আজ আর ঠিক মনে নেই। বন্ধুরা কেউ কেউ বলতো ‘নষ্ট হওয়া’। ধীরে ধীরে দেখলাম আমাদের সমাজে মানুষ ধর্ষণকে একটা নিষিদ্ধ শব্দ হিসাবে ধরে নিয়েছে। একজন নারী ধর্ষিত হলে তিনি ‘নষ্ট’ হয়ে যান! অর্থাৎ যিনি ধর্ষিতা হন তাঁর সন্মান বা মান-মর্যাদার ‘হানি’ হয় । তবে সেই বয়সেও কথাপ্রসঙ্গে নষ্টমেয়েছেলে কথাটা শুনলে প্রশ্ন জাগত নষ্টামিসুলভ কাজটা কি মহিলা একা একাই করেছিলেন? তা তো সম্ভব নয়, তাহলে নষ্টামির কাজে জড়িত পুরুষটিকেও কেন একইসাথে নষ্ট ব্যাটাছেলে বলা হয়না? আমাদের পাড়ার অরূপদার মা বলেছিলেন ব্যাটাছেলে তো সোনার আংটি রে। তার আবার ব্যাকাচোরা কি? তা বটে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ আমাদের। আমরা বিবস্বত মনুর সন্তান। শঙ্করাচার্য্য আমাদের অন্যতম ধর্মগুরু। “নারী হল গিয়ে নরকের দ্বার”। তাই চরিত্র একা নারীর অঙ্গাঙ্গী ভূষণ। ধর্ষণ তো আর স্বেচ্ছাবৃত্তি নয়. তবু তা নারীত্বের চরম অবমাননা।

খুব অল্প কথায় ধর্ষণের কারন বিশ্লেষন করা খুবই কঠিন। আসলে, ধর্ষণ একটি মানসিক বিকৃতি। একজন মানুষের মনুষ্যত্ব যখন শূন্যের কোঠায় চলে আসে তখনই সে ধর্ষণ নামক একটি বিকৃত অপরাধ করে। ধর্ষণের আরো কিছু কারন আমি বিভিন্ন পত্রপত্রিকা, ফেসবুক, হোয়াটস এপ থেকে কালেক্ট করেছি, এসবে বলা হচ্ছে কারণগুলো হচ্ছে ইভটিজিং, অপসংস্কৃতির প্রভাব, মোবাইল পর্ণোগ্রাফি এবং আইনের শাসন প্রয়োগের দূর্বলতা। আমাদের দেশে তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে পর্ণোগ্রাফি এখন খুবই সহজলভ্য একটি বিষয়। বিশেষ করে মোবাইল পর্নোগ্রাফি । এই সবক্ষেত্রে পুলিশের ভুমিকা ঠুঁটো জগন্নাথ এর মত। আইন থাকলেও কোন প্রয়োগ নেই। নেই কোন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির উদহারনও। ফলে ব্যবহারকারীরা উৎসাহিত হয়ে যেন তেন প্রকারেন নারীদেহ চেখে দেখতে চায়, আর যদি সফল না হয় তাহলে বিফলে মূল্য ফেরতের মত বিফলে ধর্ষণ করে তারা।

ফেসবুকের একটি কমেন্ট তুলে ধরছি, ফেসবুকেই এক বন্ধু খুব বিরক্তির সাথে, শ্লেষের সাথে লিখেছিলেন, Only dress codes of our ladies/teens/girls/n infants ( obviously only baby girls)are responsible for all sexual massacre... from 18 days' old kid to 81 years old granny! Because " it takes two hands to clap"...আমিও মনে করি পোষাক, আচরন ইত্যাদি ক্ষেত্রে শালীনতার যে বিষয়টি বার বার বলা হচ্ছে তা মূলত শুধু কোন এক পক্ষের জন্য নির্দিষ্ট নয়। বরং শালীনতা একটি সার্বজনীন ব্যাপার। নারী পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই ব্যাপারটি সমান ভাবে প্রযোজ্য। যারা শুধু মাত্র নারীর পোষাককে ধর্ষণের জন্য দায়ী করেন তারা সংকীর্ন দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় বহন করেন। শুধুমাত্র অশালীন পোষাকের কারনে ধর্ষণ হয়-এ ধরনের অবাস্তব যুক্তি কোন ভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়।বোরখা দিয়ে শরীর ঢাকলে কি কোন মহিলা ধর্ষিতা হন না? এ দেশেই আঠারো দিনের বাচ্চা ( দুঃখিত কোনভাবেই এই শিশুটিকে আমি বাচ্চা ‘মেয়ে’ বলে লিঙ্গবিভেদ করতে পারছি না। একহাতের চেটোর ওপর যাকে শুইয়ে রাখা যায় সেই দেবশিশুকে দেখে যার পুরুষাঙ্গ খাড়া হয়ে যায়, সে পুরুষ অবশ্যই, চলমান পুরুষাঙ্গও বলা যায়।) কি তিনমাস বয়সের শিশু থেকে সাতাশি বছরের বৃদ্ধাও তো ধর্ষণের শিকার,এখনে পোষাকী শালীনতা কোন অর্থ রাখে কি?একজন নারী, সে কীভাবে পোশাক পরবে তা নিশ্চয় আপনার রুচি অনুযায়ী পরবে না। কিন্তু সে যদি তথাকথিত উত্তেজক পোষাকও পড়ে, এবং রাস্তা দিয়ে হেঁটে যায়, তাহলেও কোনো তথাকথিত পুরুষমানুষের অধিকার পড়ে না তাকে টেনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে তার যৌনাঙ্গে রড ঢুকিয়ে, বা ক্ষতবিক্ষত করে, অঙ্গহানি করে, নির্মমভাবে খুন করে ফেলে রাখার। তার অধিকার পড়ে না নিজের মোবাইলের পর্ণসাইটে বিবসনা নারীকে দেখে, বা BDSM [Bondage and Discipline (BD), Dominance and Submission (DS), Sadism and Masochism (SM)]. এর মত বিকৃত যৌনাচার দেখে এক চার মাসের বাচ্চাকে ধর্ষণ করার, যেমনটা হয়েছে ইন্দোরে, নওদায়, গরফায়, সাওনের বা শেরপুরায়। এটা যারা করে আর যারা যুক্তি সাজিয়ে তাদের পক্ষাবলম্বন করে, তারা দু' পক্ষই আমার কাছে সমান অপরাধী। সত্যি কথা বলতে কি, আমার কাছে ধর্ষণ করার পিছনে সারাজীবনই চিহ্নিত হয়ে আসবে নিম্ন এবং বিকৃত রুচি, এবং অশিক্ষা, কুশিক্ষা এবং হীন পারিবারিক শিক্ষা। কিছু রেপিস্ট আছে যারা উচ্চশিক্ষিত কাপুরুষ এবং মানসিকভাবে বিকৃত , এরা ধর্ষণ করে শুধুমাত্র মানসিক তৃপ্তি পেতে, এরা মানসিকভাবে অসুস্হ।এদের চিকিৎসা করা ছাড়া অন্য কোন সমাধান নেই।

যৌন আচরণ অনেকক্ষেত্রেই অস্বাভাবিক, কখনো কখনো বড্ড নোংরা। অস্বাভাবিক এবং বিকৃত এই যৌনাচারকে মেডিকেলের ভাষায় প্যারাফিলিয়া (Paraphilia) বলে। পেডোফিলিয়ার কথা তো সকলেই নিশ্চয়ই জানেন। এাড়াও কয়েকটি এই ধরনের বিকৃত রুচির কথা বলি, বমি পেতে পারে আপনারও, তবু বলছি...

১. জুফিলিয়া। যেখানে পশুদের দেখে যৌনাকাঙ্ক্ষা জাগে।

৩.এমেটোফিলিয়া।অন্যকে বমি করতে দেখে যৌন ইচ্ছা জন্মানো। 

৪.ইউরাল্যাগনিয়া পার্টনারের মূত্রত্যাগ করতে দেখে যৌন ইচ্ছা জন্মানো। 

৫.কপ্রোফিলিয়ার ক্ষেত্রে পার্টনারের মল দেখে উত্তেজিত হয়ে পড়েন অনেকে। 

৬.নেক্রোফিলিয়ায় আক্রান্তেরা মরা মানুষের সঙ্গে সেক্স করতে পছন্দ করেন এবং তা করতে গিয়ে অনেক সময় খুনও করে ফেলেন তাঁরা।থ্যানাপ্টোফিলিয়াও একই শ্রেণীভুক্ত।

৭.অ্রানিলিল্যাগনিয়া বয়স্ক মহিলাদের প্রতি আর গেরোনটোফিলিয়া বয়স্ক পুরুষদের প্রতি যৌনকামনা

৮. এনথ্রাপোফ্যাগোলাগনিয়া, ধর্ষণ ও তারপর ধর্ষিতার অঙ্গবিশেষ ভক্ষন

৯,মেজোফিলিয়া ,ল্যাক্টোফিলিয়া আবার মহিলাদের স্তনসম্বন্ধীয়

কত আর বলবো? সুযোগ পেলে ভীড়ের মাঝে মহিলাদের অংগ স্পর্শ করে বিকৃত আনন্দ উপভোগ করাও একটি প্যারাফিলিয়া হতে পারে (Frotteurism)।Retifism নামক আরেক ধরনের প্যারাফিলিয়া আছে যাতে মহিলার জুতো যৌন উত্তেজনা আনে। Transvestic fetishism নামের এক ধরনের কমন প্যারাফিলিয়া আছে যাতে কিছু লোকে মহিলাদের পোষাক পরিধান করে আয়নায় নিজেকে দেখে আনন্দ পায়। কমন প্যারাফিলিয়া সম্পুর্নভাবেই মানসিক রোগ এবং এর চিকিৎসা আছে। সঠিক সময়ে চিকিৎসায় এইসব রোগের উপশম সম্ভব হতে পারে।হতে পারে এ কারনে বলছি যে কিছু লোক মানসিক রোগের কারনে নয়, সুযোগ পেলেই এ অপকর্ম করতে পারে, তাদের কথা আলাদা এবং এরাই ধর্ষক। প্রশ্ন হচ্ছে, এ রোগগুলো তো হঠাৎ করে তো গজায়নি।আগেও ছিল।তবে?আমাদের দেশ সময়ের সাথে এগোচ্ছে না পিছোচ্ছে? হঠাৎ করে এত যৌনতার ছড়াছড়ি কেন? নির্ভয়া,সুজান,থেকে পায়েল, আসিফা, একের পর এক মেয়েদের দেখলেই লালা সপসপে মুখে পুরুষাঙ্গের আস্ফালন।আঠাশ দিনের শিশু থেকে বাহাত্তুরে মহিলা, এদের চোখ ঠিক নারীত্ব খুঁজে নিয়ে বীরবিক্রমে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে।

যারা এই বিষয়ে সামাজিক আন্দোলন করছেন তারা অনেকেই ধর্ষণের শাস্তির হিসাবে একমাত্র মৃত্যুদন্ডের কথা বলেছেন। দিল্লী গণধর্ষণের মামলায় তিন মুখ্য অপরাধীর ফাঁসির সাজা শুনিয়েছেন মহামান্য আদালত। আমি আইনের লোক নই, মৃত্যুদন্ডের আমিও বিরোধী। ধরে নিলাম বিচার ব্যাবস্থা ফুল প্রুফ হয়ে গেল, মানে কোন নিরপরাধ ফেঁসে যাচ্ছে না। তাহলে কি, আগামীতে এই ধরনের যাবতীয় নারকীয় ধর্ষণ এবং/ অথবা ধর্ষণ পরবর্তী নির্মম হত্যাকান্ডের অপরাধী 'মানুষ'রা সংশোধনের সুযোগ পাক আমি চাইবো? যারা একটি পাঁচ বছরের শিশুর অপরিণত যোনি ব্লেড দিয়ে চিরে বলাৎকার করে কিংবা কামদুনীর অত্যাচারিতা মেয়েটির মত একটি মানুষকে ধরে স্রেফ ছিঁড়ে ফেলতে পারে,দিল্লীর নির্ভয়ার মত যোনিপথ দিয়ে জরায়ুতে আমুল গেথে দেয় লোহার রড, মুক বধির আদিবাসী মেয়েটির মত উপড়ে বার করে আনে পেটের নাড়িভুঁড়ি, তারা কি মানুষ? হ্যাঁ, জানি যে, কামদুনি ধর্ষণ মামলায় ৩ জনের নির্ভয়া ধর্ষণ মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে । সাথেসাথে এটাও মনে করিয়ে দিই, দিল্লী গণধর্ষণের মামলায় একই দোষের ভাগীদার হয়েও কম বয়সের সুবাদে একজনের মোটে তিন বছরের কারাদন্ড হয়েছে, সে জেল থেকে বেরিয়ে সরকারী খরচয় সেলাই মেশিন পেয়েছে,নিরাপদে স্বাভাবিক জীবন যাপন করছে, প্রায় ১২৫কোটির জনসমাজে মিশে গেছে স্রেফ জনতার একজন হয়ে। আজকের কথায় আসি।আপনি জানেন আমিও ততটাই যতটা আপনি জানেন বা সংবাদপত্রে ঘোরাফেরা করছে তবুও একটু বলছি এবার থেকে ১২ বছরের কম বয়সীদেড় ধর্ষণের সাজা মৃত্যুদণ্ড ১১২ থেকে ১৬ বছর বয়সীদের ধর্ষণের সাজা ১০ থেকে বাড়িয়ে ২০ বছর বা ক্ষেত্রবিশেষে জীবনব্যাপী হাজত বাস, ১৬ বছরের বেশি বয়সী মহিলাদের ধর্ষণের সাজা পূর্বের ৭ থেকে বাড়িয়ে ১০ করা হয়েছে ।ঘটনার ২ মাসের মধ্যে তদন্ত পক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে , ঘটনার ৬ মাসের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে , সাজা ঘোষণার আগে অপরাধীরা জামিন পাবে না । হাস্যকর ব্যাপার কি জানেন ? একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১৯৯৩ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত মোট ১০ বছরে ভারতবর্ষে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন ১৩০৩ জন আর সম্পাদিত হয়েছে তার মধ্যে ৩ দুর্ভাগার। তাহলে চোখ বুজে বলা যায় বাকি ১৩০০ জন হয় মারা গেছে নয় সরকারি খরচে জেলে মধুচন্দ্রিমা করছে lসংশোধনী দেখলেই বুঝবেন মেয়ের বয়স যত বাড়বে ধর্ষণের সাজা কমবে; যেমন ১৬ বছরের কাউকে ধর্ষণের সাজা ১০ থেকে ২০ বছর জেল আবার ১৮ বছর মেয়েকে ধর্ষণের সাজা ১০ বছর জেল । এককথায় আইন পরোক্ষভাবে অপরাধীদের উৎসাহিত করছে যে রেপ করার ইচ্ছা থাকলে তাদের করো যাদের যোনি পুষ্ট ।তাতে তোমার সাজাও কম আর মজাও বেশি। আবার ১৮ বছরের কম বয়সী ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ড নেই উপরন্ত সাজা অনেক কম, যেহেতু তারা নাবালক l খোঁজ নিয়ে দেখুন বেশিরভাগ ধর্ষণকাণ্ডের নায়ক অপ্রাপ্তবয়স্করা আর এরাই বেশি বেপরোয়া হয়। দোষীর দোষ কখনোই লঘু করে দেখা উচিত নয় আর একই অপরাধের জন্য একই সাজা হওয়া কাম্য। উপর্যুক্ত সাজাগুলি একদিকে হাস্যকর অন্যদিকে বেমানান।

এর আগেও ভারতে ধর্ষণ বিরোধী অধ্যাদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি। তাতে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরোধী এক অধ্যাদেশ এনেছিল ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। এতে বলা ছিল,ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। নির্যাতিতা যদি মারা যায় অথবা মানসিক বিকৃতি ঘটে সেক্ষেত্রে শাস্তি সর্বনিম্ন ২০ বছরের কারাদণ্ড বা যাবজ্জীবন বা ফাঁসি। নতুন অধ্যাদেশে বদলে গেছিল ধর্ষণের সংজ্ঞাও। এতে একাধিক ধরনের নির্যাতনকে যৌন নিগ্রহের আওতাভুক্ত করা হয়েছিল। তার মধ্যে ছিল অ্যাসিড হামলা। এছাড়া, মেয়েদের পিছু নেয়া বা অন্য কোনো ভাবে তাদের হেনস্থা করাকেও অপরাধের তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। মেয়েদের উত্যক্ত করা গুরুতর অপরাধ বলে গণ্য হবে বলা হয়েছিল। এতসবকিছুর পরেও বিচার বিভাগের দুর্বলতা, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব, সর্বোপরি সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে দেশে নারীর প্রতি সহিংসতা বেড়েই চলেছে। এত সব ধর্ষণ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যে প্রতিবাদগুলো হয়েছে তার প্রায় সবই হয়েছে বিচ্ছিন্ন ভাবে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সময়ের সাথে সাথে ব্যাপারগুলো ধামাচাপা পড়ে গিয়েছে। যতদূর মনে পড়ে দিল্লীর দামিনী ধর্ষণ এবং হত্যা নিয়েই প্রথম ব্যাপক ও স্বতঃস্ফুর্ত জনাবেগ প্রকাশ পেয়েছিল। দেরীতে হলে ও অতি প্রয়োজনীয় একটি বিষয়ে সামাজিক আন্দোলন শুরু হয়েছিল। কিন্তু তারপর আরো অনেক ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও তেমন বড় আকারের কোন সামাজিক আন্দোলন ঘটে নি।কিন্তু ধর্ষণ ঘটেছে। জানাজানি হয়েছে। সচেতন জনতার পুঞ্জীভুত ক্ষোভ ফুটন্ত লাভা হয়ে ফুটেছে মনের গভীরে। জম্মু-কাশ্মীরের কাথুয়া, উত্তর প্রদেশের উন্নাও, অসমের নওগাঁওসহ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের ধর্ষণের ঘটনা সামনে এসেছে সাম্প্রতিককালে। উন্নাও ছাড়া অপর দুই নির্যাতিতাকে ধর্ষণের পরে খুন করা হয়েছে। এর মধ্যে কাথুয়ার ঘটনা ঘিরে উত্তাল গোটা ভারত।কাথুয়ার নাবালিকা ধর্ষিতা আসিফার সঙ্গে ঘটে যাওয়া চরম নির্যাতনের বিরুদ্ধে পথে নেমেছে হাজার মানুষ। কত আর সহ্য করবে মানুষ? তবু এইসমস্ত জনরোষে সত্যিই কোন কাজ হয়েছে কি? দোষীদের শাস্তি তো গৌণ মুখ্য ব্যাপার হল মেয়েদের নিরাপত্তা কতটা বেড়েছে তারপরে?এ প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই।আপাতত দেশের সাম্প্রতিকতম বিস্ফোরণ, জাস্টিস ফর আসিফা।জাতিধর্ম নারীপুরুষ নির্বিশেষে পথে নেমেছেন মানুষ সবার একটাই দাবি, অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি দেয়া হোক। অনেকে ফাঁসির দাবি করেছেন।

এই অবস্থায় শুধুমাত্র ধর্ষণ নিয়ে আওয়াজ তোলার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে তিনি লিখেছেন, একটি মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। কিন্তু সবাই বলছে মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে। ধর্ষকের শাস্তি চাই। ধর্ষককে ফাঁসি দেয়া হোক। ধর্ষকের সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা খুনিও। তারা ধর্ষণের পরে খুনও করেছে। কিন্তু কেউ সেই খুনির শাস্তির কথা বলছে না। তাহলে কি খুনের থেকে ধর্ষণ বেশি খারাপ? তসলিমার আরও বলেন, মেয়ে হওয়ার কারণেই ধর্ষণ বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে? কারণ সেখানে যৌনতা লুকিয়ে রয়েছে। প্রতিবাদীরা কি মনে করেন যে, মেয়েটির জীবনের থেকে যোনির দাম অনেক বেশি?

আসিফাকান্ডের দোষীরা আপাতত পুলিশ হেফাজতে, দাবী উঠেছে ফাঁসির।যদিও একই সাথে অনেকেই আবার বলছেন ,মৃত্যু মানে তো শেষ, অপরাধীরা তো যথেষ্ট শাস্তি পেলনা।তা ঠিক ... কিন্তু না পেলেই বা কি। তাহলে মোমবাতিই মনেহয় আমাদের একমাত্র সলিউশন। আফটার অল প্যারাফিন ওয়াক্সের বাজারটাতো বাড়বে।



Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.