x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

বুধবার, মে ০৯, ২০১৮

ইন্দ্রাণী সমাদ্দার

sobdermichil | মে ০৯, ২০১৮ | | মিছিলে স্বাগত
 এক অভিশপ্ত দিন ..
কুঝিক্ ঝিক্ করে হাওড়া স্টেশন থেকে ট্রেনটা ছাড়ল। মা ঘড়ি দেখলেন । মা বলে ওঠেন “কোল্ডফিল ঠিক ৫.২০তে ছাড়ল মানে ঠিক রাত ৮.৪৫এ আসানসোল পৌঁছে যাবরে বুই আমরা”। আমার চোখ তখন জানলার বাইরে । আমি দেখি গাছ-পালা, মাঠ,শহর সব কিছু কে পিছনে ফেলে ট্রেন এগিয়ে চলেছে। আমি চলেছি আসানসোল এ আমার দাদাই-দিদিয়ার বাড়ি। যেখানে আছে আমার সদ্যোজাত ছোট্ট বোন কুহু। কুহু আমার মাসির মেয়ে। মা আর আমি চলেছি কুহু কে দেখতে। আপাতত আমি ট্রেনে সিঙ্গারা থেকে ঝালমুড়ি, লজেন্স থেকে বাদাম খেয়ে সময় কাটাচ্ছি। 

ট্রেন ঠিক সময়ে আসানসোলে পৌঁছায়। ট্রেন থেকে নামতেই আমি দেখি দাদাই হাসতে হাসতে এগিয়ে আসছেন। দাদাই মাকে বলে ওঠেন, “আজ ট্রেন একদম রাইট টাইম। বড্ড চিন্তায় ছিলাম রে,যদি ট্রেন লেট করে।” দাদাইয়ের কথা শুনতে শুনতে পৌঁছে গেলাম অটো স্ট্যাণ্ডে। আমরা চলেছি নুলিয়া নদীর ব্রিজ পেরিয়ে কল্যাণপুর হাউসিং। মেলাবুড়ি মন্দিরকে ডান দিকে ফেলে আমরা পৌঁছে গেলাম বাড়ির কাছে। অটো থামতে না থামতেই শুনতে পাই কুহুর কান্নার আওয়াজ।বাড়ির ভিতরে এসে আমি চিন্তায় পড়ি ,“এমা কুহু তো আমার টেডির থেকে ও ছোট, শুধু এর নাক দিয়ে জল গড়াচ্ছে ,যা টেডির কখনোই হয়না।” আমার কথা শুনে সবাই হেসে ওঠে। 

পরের দিন সকালে জলখাবার খাবার পর মা বলেন,” বুই তুমি লক্ষ্মী মেয়ে হয়ে বাড়িতে থেকো, আমি কুহুর জন্য একটা ঔষুধ নিয়ে আসছি” । শুনে আমি বায়না করতে থাকি যে আমিও যাব। মা প্রথমে রাজি না হলেও দাদাই আর দিদিয়ার কথায় নিয়ে যেতে রাজি হন। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে ও কোনো ও অটো বা বাস পাওয়া গেল না। অনেক অপেক্ষার পর একটি বাস যাও বা এল ,সেও প্রথমে যাবে ঝিন্নিমহল্লা তারপর এই পথেই যাবে বাজার। যেখান থেকে তাঁরা পাবে কুহুর ঔষুধ। মা কন্ডাক্টার কাকুকে জিজ্ঞেস করেন, বাসটি ঝিন্নি মহল্লায় কতক্ষণ দাঁড়াবে? উত্তরে কাকু বলেন, পাঁচ মিনিট দাঁড়িয়েই বাস ছেড়ে দেবে আর অনেকক্ষণ ওদিক দিয়ে কোন বাস ও আসেনি। মা আমাকে নিয়ে বাসে উঠে পড়েন। আমরা ছাড়া ও বাসে তিন চার জন ছিলেন। তাঁরা নিজেদের মধ্যে কথা বলছেন, “বাস না পেয়ে ওদিকে যাওয়া কতটা যে ঠিক হচ্ছে, ওটা তো ভারতের বুকে পাকিস্তান “ মা কে ডেকে উঠি,“ মা পাকিস্তান কী ? আর সবাই ওদিকে যেতে ভয় পাচ্ছেই বা কেন ?” মা বলে ওঠেন “১৯৪৭ সালে ধর্মের উপর ভিত্তি করে ব্রিটিশ ভারতের বঙ্গ প্রদেশ ভারত এবং পাকিস্তানের অংশ হিসেবে বিভক্ত হয়। প্রধানত হিন্দু অধ্যুসিত "পশ্চিম বাঙলা" ভারত এবং মুসলিম অধ্যুসিত "পূর্ব বাঙলা" পাকিস্তানের সাথে যুক্ত হয়। পরবর্তীকালে পূর্ব পাকিস্তান যা পাকিস্তানের প্রদেশ ছিল, তা ১৯৭১ সালে যুদ্ধের মধ্য দিয়ে একটি স্বাধীন এবং সার্বভৌম দেশ বাংলাদেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।” আমি আবার বলে উঠি মা ধর্ম কী? মা বলে ওঠেন, “ ধর্ম মানে যা আমরা ধারণ করি। এক এক মানুষের এক একরকম বিশ্বাস। কেউ মন্দিরে,কেউ বা মসজিদে আর কেউ বা গির্জায় যান। আর কিছু দুষ্টু মানুষ আছেন যারা ধর্মের উপর ভিত্তি করে মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টি করে। তাঁরা চায় ধর্মের উপর ভিত্তি করে মানুষে মানুষে অশান্তি সৃষ্টি করা। এই জন্য কত খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ ভিটে হারা হয় আর কত যে মানুষ মারা যায়। ” 

জানলা দিয়ে দেখি দূরে গাড়িতে আগুন জ্বলছে, লোকজন ছোটাছুটি করছে। ড্রাইভার কাকু গাড়ি থামিয়ে এক সাইকেল আরোহীর কাছে জানতে চান কি হয়েছে? সে জানায় কোন এক সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দলের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে হিন্দু –মুসলিম দাঙ্গা বেঁধেছে। আজকের দিনটা হল ১৯৯২ সালের ৬ই ডিসেম্বর। ড্রাইভার কাকু বলে ওঠেন,” বাস আর গেলে বিপদ হবে। বাস থেকে সবাই নেমে আসুন ” । মায়ের মুখে চিন্তার ছায়া দেখি। বাস থেকে নেমে দেখি পেছনে ধুধু মাঠ আর দূরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। হঠাৎ শুনি মাকে কেউ ডাকছে “ বিটিয়া ও বিটিয়া তুমি এখানে ?” পাশে একটা সাইকেলে দেখি জামির দাদু ।

জামির দাদু খুব সুন্দর বাড়ি রঙ করেন। শুধু বাড়ি কেন ফ্রিজ থেকে টব এমন কি দিদিয়ার ঠাকুরের আসন ও কি সুন্দর রঙ করে দিয়েছেন জামির দাদু। মা পুরো ঘটনা জানান। জামির দাদু আমাদেরই শুধু নয়, বাসের বাকিদের ও নিজের দায়িত্বে তাঁর পাড়ায় নিয়ে এলেন । মায়ের কাছ থেকে প্রেসকিপশান নিয়ে পাড়ার একজনের বাইকে করে ঔষুধ নিয়ে আসেন। তারপর অটো করে সবাই কে বাড়ি পৌঁছে দেন।বাড়ির সামনে দাদাই চিন্তিত মুখে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। মা সব ঘটনা দাদাই কে জানান। আর আমার দিকে তাকিয়ে বলেন জানবে মানুষের একটাই ধর্ম আর তা হল মানব ধর্ম। 

indranisamaddar5@gmail.com



Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.