x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

মঙ্গলবার, এপ্রিল ০৩, ২০১৮

সুনন্দা চক্রবর্তী

sobdermichil | এপ্রিল ০৩, ২০১৮ | | মিছিলে স্বাগত
বাসন্তিকা
সন্তের আগমন উপলক্ষ করে আমাদের বাংলায় ঋতুর সেজে ওঠাকে আমরা কতশত কবিতায়, গানে বর্ণনা করি। ফাগুণ আসলেই মন অকারণ চঞ্চল আমের বোলের গন্ধে উদাসপারা মন নিয়ে মাঝে মাঝে কি যে করব তাই বুঝতে পারি না এই মধ্যবয়সে এসে। পুরুষ কোকিলের কামার্ত কুহুতানে নারী  কোকিলের মন যেমন উতলা  হয়,  ঠিক তেমনি দক্ষিণা বায়ে আমাদেরও মনের মাঝের অপূর্ণতাগুলো মেরামতি করে নিতে চাই প্রাণপণ। ফাগ ফাগুয়ায় আবির রঙ্গে নিজেকে রাঙ্গিয়ে নেবার মনবাসনায় পলাশ, শিমুলে রঙ প্রার্থনা করি।

কত কত দিন কলেজে পড়ার সময় হোলী এলে ভাবতাম – আহারে! রঙ কে দেবে? আমার বাল্যবান্ধবি সুমি ছাড়া রঙ দেওয়ার কেউ নেই। চারদিক এত খা খা শূন্যতা কি থাকা উচিত একটা উনিশ কুড়ি বছরের মেয়ের? নিজেকেই ছিঃ ছিক্কার দিতাম।একটা ভ্রমর আসতে নেই বুঝি ? আর তরোয়াল হাতে দুস্মন্ত?

সারা ছাদ ঘুরে আমের মুকুলে নাক রেখে কেমন আবেশে জড়িয়ে যেতে যেতে বসন্তবাবুকে আমার ভালো লেগে যেত। আমার তখন কল্প পুরুষ বসন্তবাবু আর আমি বাসন্তিকা। একরাশ লম্বা চুলে বেণী আর তার ফাঁদে আম্রমুকুল। কি রোম্যান্টিক! কি আবেগ!  সব ছাদ জানে। আর জানে গলা বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকা দুটো নারকেলগাছ, একদম ছাদ ঘেঁষে জলট্যাঙ্কির পাশের কচিকলাপাতা রঙের পাকানো সরু লাজুক লাজুক কলাপাতাটা। পাশের পরিত্যাক্ত বাগানের কল্কেফুলগাছটাও উঁকিঝুঁকি দিতে ছাড়ত না। আর বিশাল বড় আমড়া গাছ শূন্য হয়ে হাড় জিরজিরে কাঙালের মতন তাকিয়ে থাকত তা কি আমি দেখিনি? ও তো জানে যে এই বাড়ির মেয়ে যখন বেশি বেশি গান গাইবে, ছাদের আলসে ধরে ঝুঁকে নবীন কিশোরের খোঁজ করবে তখন ওর ডালে ছোট ছোট পাতার কুঁড়ি আসবে। ঝিরঝিরি হাওয়ায় সবে গৌতমদার ( গানের মাস্টারমশাই ) থেকে শেখা গানটা গেয়ে গেয়ে নেচে বেড়াবে বাসন্তিকা – ওরা  অকারণে চঞ্চল/ ডালে ডালে দোলে নব হিল্লোলে/ নব পল্লবদল.........।।

আজও প্রবাস জীবনে আমি ছাদবিলাসী হই, হাইরাইজের ছাদে আমগাছ নামাই। তাতে কোকিল ডাকে। আম্র মুকুলের জন্য মন টনটন করে। দূরে আমাদের আবাসনের রাস্তায় গোলাপি চেরিব্লসমে চোখ রেখে ভাঙ্গা গলায় গান গাই। আবাসনে নতুন লাগানো কৃষ্ণচূড়ায় কি রঙ লাগল? আমার মেয়ের গালেও কি সেই রঙের আভা খুঁজি? আজকাল আতিপাতি করে খুঁজে যাই আমার মেয়েবেলা নিয়ে এক দুপুরে মেয়ের কাছে যাই। ঝোলাটা উজাড় করে দি। কত গল্প, গান, গাছ, পাথর, ফুল দেখাতেই থাকি। আমার এলোঝেলো অবস্থা দেখে রুপালী চুল সরাতে সরাতে আমার মেয়ে বলে – মা , আমার বড্ড অবুঝ একরত্তি মেয়ে। বাসন্তিকা মেয়েবেলার পোঁটলাটা নিয়ে ঘুরে বেড়ায় আজি এ বসন্তে।


sunandaa.chakravorty29@gmail.com


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.