x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

মঙ্গলবার, এপ্রিল ০৩, ২০১৮

রুমকি রায় দত্ত

sobdermichil | এপ্রিল ০৩, ২০১৮ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
ল্যাপচাজগৎ
বেশিদূর নয়তো, দার্জিলিং থেকে ১৮ কি.মি. আর ঘুম থেকে ৯ কি.মি. সেখানেই তো থাকে আমাদের মেঘপরিরা। চলেছি সেই রূপকথার দেশে মেঘপরিদের সাথে গল্প করতে। ঘুম স্টেশন থেকে কিছুটা এগিয়ে ডানদিকে চকচকে পিচের রাস্তা ছায়াঘেরা। কেমন হবে সে দেশের মেঘপরিরা? ভাবতে ভাবতে গাড়ির জানালা দিয়ে যেই না বাইরে তাকিয়েছি, দেখি ডানপাশের পাহাড়বুড়ো ইয়া বড় বড় ফার্ণ গাছের দাড়ি ঝুলিয়ে বসে বসে ঝিমাচ্ছে। আমি দেখছি প্রাণভরে! ছুটে চলেছে গাড়ি পাহাড়ি পথের বাঁকে বাঁকে। কি জানি ঠিক কতটা সময়! এমন পথে কেউ সময়ের হিসাব রাখে নাকি তাই? সামনে তাকিয়ে দেখি গাড়ি যে পথে ছুটে চলেছে তার দু’ধারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে ঘন কালো পাইনবন। ধীরে ধীরে প্রবেশ করছি পাহাড়ি জঙ্গলের পথে। ঐ দূরে দেখা যাচ্ছে ছোট্ট একটা জনপদ। দু’ধারে গুটিকয় বাড়ি মাঝে চলে গেছে কালো পিচের রাস্তাটা। থেমে গেল গাড়ি, ডানদিকে ছোট্ট একটা চায়ের দোকান। এদিক ওদিক গুটিকতক শীতের পোশাকে মোড়া মানুষ। এই তবে সেই রূপকথার দেশ ‘ল্যাপচাজগৎ’! চায়ের দোকানে ব্যাগপত্র রেখে খুঁজতে বেরোলাম থাকার জায়গা। হোমস্টে তো আছেই, আর কিছুকি পাওয়া যেতে পারে? হাঁটতে হাঁটতে আরো জঙ্গলের রাস্তায় কিছুটা এবড়োখেবড়ো পিচের পর ঢাল বেয়ে বাঁধানো রাস্তা নেমে গেছে নিচের দিকে, যার শেষে দাঁড়িয়ে আছে সরকারি গেস্টহাউস। লোহার বড় গেটে হাত দিতেই খুলে গেল দরজা। চারিদিকে তাকিয়ে দেখলাম পাহাড় আর খাদের মিলনস্থলে ঘন জঙ্গল। অসম্ভব সুন্দর একটা পরিবেশ। এমনই একটা পরিবেশই তো চেয়েছিলাম মেঘপরিদের সাথে গল্প করবো বলে। কিন্তু আগে তো বুকিং করা নেই,জায়গা কি পাবো? মাথা নাড়লো কেয়ারটেকার। কিছুক্ষণ পর আবার গেলাম। ‘প্লিজ দেখিয়ে না’। কিযেন ভাবলো, জানতে চায়লো ‘একদিন রুকেঙ্গে না?...আভি এক বুকিং ক্যান্সেল হুয়া হ্যায়’। উফ্‌! জিও......... আনন্দ আর দেখে কে। সোজা দোতলায়, ঢুকে ডানদিকে। অসাধারণ সুন্দর একটা ঘর! কাঠের দেওয়াল, কাঠের মেঝে, ঝকঝকে বাথরুম আর বিছানার ডানদিকে কাচের জানালার বাইরে অবাধ উন্মুক্ত প্রকৃতি।

খানে মে কিয়া লেঙ্গে আপ? একটি ছেলে এসে জানতে চায়লো।

‘কিয়া মিলেগা’?

আলুগোবি, অমলেট

ঠিক হ্যায় খিচড়ি অর অমলেট বানা দিজিয়ে।

ঘরের জানালা খুলে বাইরে তাকিয়ে দেখলাম খুব কাছেই দুটি ফুলে ভরা রডোড্রেন্ডন গাছ, একটা গাঢ় লাল আর একটা ফিকে। একটি পাখি থোকাতে ঠোঁট গুঁজে মধু খাচ্ছে। দূরে খাদের ওপারে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে দাঁড়িয়ে থাকা পাইন বনের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, ঘন কালচে সবুজ রঙের মাঝে সাদা মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে। মনে মনে ছুঁতে চাইলাম ওদের। খোলা গরাদহীন জানালা দিয়ে একঝলক ঠান্ডা বাতাস ছুঁয়ে গেল আমায়, সজীব, সতেজ সেই অনুভূতি কিযেন এক হিল্লোল তুললো গহিন অন্তরে।

খাবর টেবিলে গরম ধোঁয়াওঠা খিচুড়ি, সাথে অমলেট আর কাঁচা পেঁয়াজ। বেশ কয়েক চামচ খাওয়া হয়েছে তখন, হঠাৎ আকাশ জুড়ে কালো মেঘ ছেঁয়ে গেল,সঙ্গে বিকট আওয়াজ করে বজ্রপাত। খাওয়া শেষ হওয়ার আগেই আকাশ ভেঙে নামলো বৃষ্টি। ঘরে ফিরে ব্যালকনির দরজা খুলে কাঠের রেলিং দেওয়া খোলা বারান্দায় দাঁড়ালাম। শান্ত হলো প্রকৃতি। ঠান্ডাটা বেশ জাঁকালো মনে হলো, একেই ফাল্গুন মাস,তারপর বৃষ্টি ভেজা বাতাস। বিছানায় ফিরে লেপের ওম নিতে নিতে জানালা দিয়ে বাইরে তাকালাম, দেখলাম ঘন কালো পাইনের সদ্য ধুয়ে যাওয়া পাতার উপর ঠিকরে পড়েছে চকচকে রোদ, মাঝে মাঝে পাইনের গলা জড়িয়ে আছে থোকা মেঘ। ভাবছি একোন পৃথিবী! সরে সরে যাচ্ছে মেঘ। হঠাৎ দেখলাম খাদের নিচ থেকে ঘন সাদা মেঘ ধীরে ধীরে উঠে আসছে উপরের দিকে ঢেকে যাচ্ছে পাইনবন,মেঘের ফাঁকে ফাঁকে ঠিকরে বেরোচ্ছে সূর্যরশ্মি। মেঘ ভাসতে ভাসতে ছুটে আসছে যেন আমারই দিকে। একথোকা মেঘ ভাসতে ভাসতে ঢুকে পড়লো ঘরের ভিতর।গুঁড়ি গুঁড়ি জলকণা। সামনে ব্যালকনির দিকে তাকিয়ে দেখলাম শুধু মেঘ আর মেঘ মাটিতে মিশে আছে। সাদা রডোড্রেন্ডনটাও দেখা যাচ্ছে না। বিস্ময়বিমুগ্ধ আমি চেয়ে আছি।

ভোরের আলোয় ঘুম ভাঙলো, দেখি গেটের সামনের বাঁধানো রাস্তায় ঝকঝকে রোদ। হাঁটতে বেরোলাম আমরা দুজনে, আমি আর আমার জীবনসঙ্গী। অদ্ভূত রহস্যময় সে রাস্তা! দু’পাশে মাথা তুলে সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে ঘন পাইন। ঘন ছায়াঘেরা শীতল পিচের রাস্তা বুক পেতে শুয়ে আছে। হাঁটতে হাঁটতে অনেকটা পথ পেরিয়ে গিয়েছি তখন, আবার একই পথে ফিরে আসা। বেরিয়ে ছিলাম কাঞ্চনজঙ্ঘার দর্শনে। মেঘপরিদের দেশ থেকে তাকে নাকি আরও মনমোহিনী লাগে! জনপদটির ঠিক মাঝখানে একটি উঁচু পাহাড়ের গায়ে পতাকা দিয়ে পথের নিশান আঁকা। খাঁজকাটা পাথুরে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে থাকা। কিছুদূর যেতেই জোরে জোরে নিঃশ্বাসের স্রোত বইতে লাগলো তবু এক অমোঘ আকর্ষণে উঠতে থাকা। পাহাড়ের চূড়ায় একটুকরো স্বর্গ। একটা ছোট্ট কাঠের বেঞ্চ সামনে অনন্ত খাদের ওপারে ঝকঝকে দুধসাদা কাঞ্চনজঙ্ঘা হাতছানি দিচ্ছে, তাকে ঘিরে ভেসে চলেছে মেঘের ঢেউ। প্রকৃতি এখানে অবারিত উন্মুক্ত, রচনা করেছে এক কল্পরাজ্যের, যেখানে বাস করে শুধু মেঘপরিরা। কান পাতলে শোনা যায় রূপকথার গল্প।




Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.