x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৯, ২০১৮

প্রিয়দর্শিনী মিত্র

sobdermichil | এপ্রিল ১৯, ২০১৮ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
আত্মসমীক্ষা 

ভীষণ এক অস্থির সময়। শিকড় ছিন্নভিন্ন। চারিদিকে অবিশ্বাসের ঝড় বইছে। চেতনাহীন চিত্তের অত্যাচারে ব্যক্তিসত্তার শ্বাসরোধ হচ্ছে। চারিদিকে শুধু ‘আমার আরও চাই’, ‘আমার আরও চাই’ স্বার্থের উন্মুক্ত চিত্ত। স্বার্থের চিত্ত গোগ্রাসে গিলে ফেলছে মনুষ্যত্বকে। মানুষ ভুলে যায় সে অমৃতের সন্তান তাই সে নিজেই নিজেকে বিবেকহীনতার অন্ধকারে আচ্ছন্ন করে রাখে। স্বার্থপরতার জন্য নিজেকে ঢেকে রাখি বাহ্যজগতের আতিশয্যে। বাড়ি থেকে ব্যাগ সবকিছু ভর্তি হতে থাকে আতিশয্যে কিন্তু হৃদয়ে ভালোবাসার স্হান শূন্য হতে থাকে। আতিশয্যের আলয়ে শুয়ে থেকে নিভে যায় মনের আলো। সকল ক্ষেত্রে আতিশয্যের সমারোহ না থাকলেও আপন উদ্দেশ্য সাধনের তীব্র ইচ্ছা থেকে জন্ম নেয় হাজার অপরাধ। কোথাও স্বার্থপরতায় ভরা আতিশয্যের নেশা, কোথাও বিকৃত মানসিকতায় ভরা দেহসম্ভোগের বুভুক্ষতা আবার কোথাও প্রয়োজনীয়তার মিথ্যা অজুহাতে আপন স্বার্থ পূরণের নির্লজ্জ প্রচেষ্টা। আমাদের নির্লজ্জ প্রচেষ্টাগুলো ভীষণভাবে সফলতা পেয়ে যাচ্ছে আমাদেরই অজ্ঞতার জন্য। শিকড় নড়বড়ে হয়ে যাওয়ার জন্য সমাজে জন্ম নিচ্ছে কন্যাভ্রূণ হত্যা, শিশুশ্রম, ধর্ষণ, নারীপণ্য, পণপ্রথা, বধূ নির্যাতন, বধূ হত্যা, এমনকি মাতাপিতার জন্য বৃদ্ধাশ্রম এইরকম হাজার অপরাধ। চারিদিকে ঘোর অমানিশা। সমাজের এইরূপ পরিস্থিতির জন্য আমরা প্রত্যেকেই কিছু না কিছু ভাবে দায়ী। কারণ এই সমাজ আমাদের সকলকে নিয়ে, আমরা প্রত্যেকে এর সদস্য, আমাদের প্রত্যেকেরই তাই দায়িত্ব আছে এক শান্তিপূর্ণ সুষ্ঠু সমাজ তৈরি করার। আজ আত্মসমীক্ষার বড় বেশী প্রয়োজন।

আজ সমাজে যা ঘটে চলেছে তার জন্য ব্যক্তিসত্তাই চরম ভাবে দায়ী। আমরা তার জন্য সমগ্র পুরুষ সত্তাকে দোষ দিতে পারি না। ভালো মন্দ সবকিছুই নির্ভর করে সম্পূর্ণরূপে ব্যক্তিবিশেষের উপর। তাই রুখে দাঁড়ানোর লড়াইটা আজ শুধু নারী জাতির একার নয়। এটা ভালোর সাথে খারাপের লড়াই, শুভ সত্তার সাথে অশুভ সত্তার লড়াই।

বৈশাখ বুদ্ধদেবের জন্মমাস তাই তাঁর এক বিখ্যাত ধর্মকথা যা ধম্মপদের আত্তাবগ্গতে বর্ণিত হয়েছে তা এখানে ভীষণভাবে প্রযোজ্য বলে মনে হল। তিনি বলেছেন যে আমরা নিজেরাই নিজেদের আলোকিত করতে পারি এবং আমরা নিজেরাই নিজেদেরকে সুপথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি।

‘অত্তাহি অত্তনো নাথো কোহি নাথো পরসিয়?' অর্থাৎ “তুমিই তোমার ত্রাণকর্তা। অদৃষ্ট পরিবর্তনে কোন মাধ্যম বা ত্রাণকর্তা নেই।"

আর একটি খুবই জনপ্রিয় উক্তি 'আত্মদীপ ভব’ অর্থাৎ "আত্মশরণ হয়ে নিজের উপায় নিজেই অন্বেষণ কর।” আমাদের নিজ জ্ঞানের আলোর দ্বারাই নিজেকে আলোকিত করে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে এবং এর জন্য প্রয়োজন শুদ্ধ জ্ঞান। তত্ত্বকথা মনে হলেও এর ব্যবহারিক প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।




Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.