x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৯, ২০১৮

প্রিয়দর্শিনী মিত্র

sobdermichil | এপ্রিল ১৯, ২০১৮ | | মিছিলে স্বাগত
আত্মসমীক্ষা 

ভীষণ এক অস্থির সময়। শিকড় ছিন্নভিন্ন। চারিদিকে অবিশ্বাসের ঝড় বইছে। চেতনাহীন চিত্তের অত্যাচারে ব্যক্তিসত্তার শ্বাসরোধ হচ্ছে। চারিদিকে শুধু ‘আমার আরও চাই’, ‘আমার আরও চাই’ স্বার্থের উন্মুক্ত চিত্ত। স্বার্থের চিত্ত গোগ্রাসে গিলে ফেলছে মনুষ্যত্বকে। মানুষ ভুলে যায় সে অমৃতের সন্তান তাই সে নিজেই নিজেকে বিবেকহীনতার অন্ধকারে আচ্ছন্ন করে রাখে। স্বার্থপরতার জন্য নিজেকে ঢেকে রাখি বাহ্যজগতের আতিশয্যে। বাড়ি থেকে ব্যাগ সবকিছু ভর্তি হতে থাকে আতিশয্যে কিন্তু হৃদয়ে ভালোবাসার স্হান শূন্য হতে থাকে। আতিশয্যের আলয়ে শুয়ে থেকে নিভে যায় মনের আলো। সকল ক্ষেত্রে আতিশয্যের সমারোহ না থাকলেও আপন উদ্দেশ্য সাধনের তীব্র ইচ্ছা থেকে জন্ম নেয় হাজার অপরাধ। কোথাও স্বার্থপরতায় ভরা আতিশয্যের নেশা, কোথাও বিকৃত মানসিকতায় ভরা দেহসম্ভোগের বুভুক্ষতা আবার কোথাও প্রয়োজনীয়তার মিথ্যা অজুহাতে আপন স্বার্থ পূরণের নির্লজ্জ প্রচেষ্টা। আমাদের নির্লজ্জ প্রচেষ্টাগুলো ভীষণভাবে সফলতা পেয়ে যাচ্ছে আমাদেরই অজ্ঞতার জন্য। শিকড় নড়বড়ে হয়ে যাওয়ার জন্য সমাজে জন্ম নিচ্ছে কন্যাভ্রূণ হত্যা, শিশুশ্রম, ধর্ষণ, নারীপণ্য, পণপ্রথা, বধূ নির্যাতন, বধূ হত্যা, এমনকি মাতাপিতার জন্য বৃদ্ধাশ্রম এইরকম হাজার অপরাধ। চারিদিকে ঘোর অমানিশা। সমাজের এইরূপ পরিস্থিতির জন্য আমরা প্রত্যেকেই কিছু না কিছু ভাবে দায়ী। কারণ এই সমাজ আমাদের সকলকে নিয়ে, আমরা প্রত্যেকে এর সদস্য, আমাদের প্রত্যেকেরই তাই দায়িত্ব আছে এক শান্তিপূর্ণ সুষ্ঠু সমাজ তৈরি করার। আজ আত্মসমীক্ষার বড় বেশী প্রয়োজন।

আজ সমাজে যা ঘটে চলেছে তার জন্য ব্যক্তিসত্তাই চরম ভাবে দায়ী। আমরা তার জন্য সমগ্র পুরুষ সত্তাকে দোষ দিতে পারি না। ভালো মন্দ সবকিছুই নির্ভর করে সম্পূর্ণরূপে ব্যক্তিবিশেষের উপর। তাই রুখে দাঁড়ানোর লড়াইটা আজ শুধু নারী জাতির একার নয়। এটা ভালোর সাথে খারাপের লড়াই, শুভ সত্তার সাথে অশুভ সত্তার লড়াই।

বৈশাখ বুদ্ধদেবের জন্মমাস তাই তাঁর এক বিখ্যাত ধর্মকথা যা ধম্মপদের আত্তাবগ্গতে বর্ণিত হয়েছে তা এখানে ভীষণভাবে প্রযোজ্য বলে মনে হল। তিনি বলেছেন যে আমরা নিজেরাই নিজেদের আলোকিত করতে পারি এবং আমরা নিজেরাই নিজেদেরকে সুপথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি।

‘অত্তাহি অত্তনো নাথো কোহি নাথো পরসিয়?' অর্থাৎ “তুমিই তোমার ত্রাণকর্তা। অদৃষ্ট পরিবর্তনে কোন মাধ্যম বা ত্রাণকর্তা নেই।"

আর একটি খুবই জনপ্রিয় উক্তি 'আত্মদীপ ভব’ অর্থাৎ "আত্মশরণ হয়ে নিজের উপায় নিজেই অন্বেষণ কর।” আমাদের নিজ জ্ঞানের আলোর দ্বারাই নিজেকে আলোকিত করে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে এবং এর জন্য প্রয়োজন শুদ্ধ জ্ঞান। তত্ত্বকথা মনে হলেও এর ব্যবহারিক প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।




Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.