x

প্রকাশিত

​মহাকাল আর করোনাকাল পালতোলা নৌকায় চলেছে এনডেমিক থেকে এপিডেমিক হয়ে প্যানডেমিক বন্দরে। ওদিকে একাডেমিক জেটিতে অপেক্ষমান হাজার পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ।​ ​দীর্ঘ সাতমাসের এ যাপন চিত্র মা দুর্গার চালচিত্রে স্থান পাবে কিনা জানি না ! তবে ভুক্তভোগী মাত্রই জানে-

​'চ'য়ে - চালা উড়ে গেছে আমফানে / চ'য়ে - কতদিন হাঁড়ি চড়েনি উনুনে / চ'য়ে - লক্ষ্মী হলো চঞ্চলা / চ'য়ে - ধর্ষিতা চাঁদমনির দেহ,রাতারাতি পুড়িয়ে ফেলা।

​হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানুষটি লালমার্কার দিয়ে গোল গোল দাগ দেয় ক্যালেন্ডারের পাতায়, চোদ্দদিন যেন চোদ্দ বছর। হুটার বাজিয়ে শুনশান রাস্তায় ছুটে যায় পুলিশেরগাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স আর শববাহী অমর্ত্য রথ...। গঙ্গা দিয়ে বয়ে গেছে অনেকটা জল, 'পতিত পাবনী গঙ্গে' হয়েছেন অচ্ছুৎ!

এ কোন সময়ের মধ্যে দিয়ে চলেছি আমরা?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

সমীরণ চক্রবর্তী

বুধবার, ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৮

সঞ্জীব সিনহা

sobdermichil | ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৮ |
শাউরির পো
বর্ধমান শহরের কাছেই একটা উপনগরী গড়ে উঠছে। অনেকের মত আমিও একটা প্লটে বাড়ি করে মাস ছয়েক হল এসেছি। এদিক ওদিক বাড়ি উঠলেও এখনও বেশ ফাঁকা ফাঁকা। আমাদের বাড়ির ঠিক সামনেই রাস্তার ওপারের প্লটটায় বাড়ি তৈরির কাজ চলছে। প্লটের মালিক বাড়ি তৈরির ইট সিমেন্ট রড ইত্যাদি পাহারা দেবার জন্য রহিমদাকে পাহারাদার হিসাবে রেখেছেন। রহিমদা বয়স্ক মানুষ, কালো প্লাস্টিকে ঘেরা একটা ছোট্ট তাঁবুর মধ্যে সিমেন্টের বস্তার পাশে থাকেন।

            সেদিন ছিল রবিবার, বিকালে বাড়ির সামনের রাস্তায় ছেলে রাতুলের সাথে ক্রিকেট খেলবার জন্য বেরিয়েছি, রাতুল রাস্তার ওপর ইট দিয়ে উইকেট বানাচ্ছে। আমি দেখলাম এপ্রিলের এই গরমেও রহিমদা ওর তাঁবুর সামনে একটা ছোট টুলে গায়ে চাদরমুরি দিয়ে জড়সড় হয়ে বসে আছেন।  রহিমদাকে জিজ্ঞাসা করলাম, ’রহিমদা, এই গরমে আপনি গায়ে চাদর জড়িয়ে বসে আছেন কেন, শরীর ঠিক আছে তো?’  রহিমদা বললেন, ’দুদিন হল জ্বর হয়েছে, ঘরে ফোন করে বননু, ছেলেকে পাঠিয়ে দাও, ওকে একানে রেখে আমি গেরামে গিয়ে ডাক্তার দেকিয়ে আসি। তা সে বলে কিনা, - তুমি ওকানে ডাক্তার বদ্যি কর, আমি আমার ছেলেকে পাঠাব না। ওকানে ঝোপঝাড়ে লতা আছে, কখন লতায় কাটবে, ওঝাও পাবে না।‘ ‘বাবু, বাড়িতে যোয়ান ছেলে রয়েছে, আর আমি বুড়োটা এখানে জ্বরে পড়ে আছি, আমি তো শাউরির পো, আমি জ্বরে মোলে, সাপে কেটে মোলে ওর কি এসে যায়।‘ আমি বাড়ি গিয়ে দুটো জ্বরের ট্যাবলেট এনে রহিমদাকে দিয়ে বললাম, ‘রহিমদা, জ্বরের দুটো বড়ি রেখে দাও, একটা  এখনই খেয়ে নাও, জ্বর নেমে যাবে। কাল যদি আবার জ্বর আসে আর একটা খেয়ে নিও। কাল কেমন থাকো আমি একবার খোঁজ নিয়ে যাব।‘ 
  
            রাস্তায় ছেলের সাথে ক্রিকেট খেলা চলছে, কোন সময় আমি ব্যাট করছি ছেলে বল করছে , কোন সময় বা তার উল্টো, ও ব্যাটে আর আমি বলে। দোতলার বারান্দা থেকে আমার স্ত্রী আমাদের খেলা দেখছিল, হয়ত বা ওখান থেকে ছেলেকে পাহারাও দিচ্ছিল। খেলতে খেলতে একবার বলটা রাস্তার পাশে ঝোপের কাছে গিয়ে পড়লে রাতুল বলটা ওখান থেকে আনতে যাচ্ছিল, ওমনি ওপরের বারান্দা থেকে ছেলের মায়ের উচ্চকণ্ঠ এল, ‘বাবুন, ওখানে যাস না, ঝোপঝাড়ে সাপখোপ আছে, কাঁটা আছে, তুই খবরদার যাবি না।‘ আর উনি আমাকে বলে উঠলেন, ‘তোমার আক্কেলটা কি, বাচ্চা ছেলেটাকে ঝোপঝাড়ে বল কুড়াতে পাঠাচ্ছ? যাও তুমি গিয়ে বলটাকে নিয়ে এসো।‘  মনে পড়ে গেল রহিমদার মতন আমিও তো শাউরির পো। 


   

Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.