x

প্রকাশিত

​মহাকাল আর করোনাকাল পালতোলা নৌকায় চলেছে এনডেমিক থেকে এপিডেমিক হয়ে প্যানডেমিক বন্দরে। ওদিকে একাডেমিক জেটিতে অপেক্ষমান হাজার পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ।​ ​দীর্ঘ সাতমাসের এ যাপন চিত্র মা দুর্গার চালচিত্রে স্থান পাবে কিনা জানি না ! তবে ভুক্তভোগী মাত্রই জানে-

​'চ'য়ে - চালা উড়ে গেছে আমফানে / চ'য়ে - কতদিন হাঁড়ি চড়েনি উনুনে / চ'য়ে - লক্ষ্মী হলো চঞ্চলা / চ'য়ে - ধর্ষিতা চাঁদমনির দেহ,রাতারাতি পুড়িয়ে ফেলা।

​হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানুষটি লালমার্কার দিয়ে গোল গোল দাগ দেয় ক্যালেন্ডারের পাতায়, চোদ্দদিন যেন চোদ্দ বছর। হুটার বাজিয়ে শুনশান রাস্তায় ছুটে যায় পুলিশেরগাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স আর শববাহী অমর্ত্য রথ...। গঙ্গা দিয়ে বয়ে গেছে অনেকটা জল, 'পতিত পাবনী গঙ্গে' হয়েছেন অচ্ছুৎ!

এ কোন সময়ের মধ্যে দিয়ে চলেছি আমরা?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

সমীরণ চক্রবর্তী

সোমবার, ফেব্রুয়ারী ১৯, ২০১৮

শ্রীপর্না বন্দ্যোপাধ্যায়

sobdermichil | ফেব্রুয়ারী ১৯, ২০১৮ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।


নিঃসংকোচে গালাগাল দিতে পারা যা চিরকাল অসভ্যতা বলে জেনে এসেছি, আজকাল তা শিল্প সাহিত্য চর্চায় সপ্রতিভতার পরিচায়ক।

আগে জানতাম জুতসই গাল 4-5 অক্ষরের হয়। যেমন শুধু 'বোকা' বলে সুখ নেই তারপর একটি অনুসর্গ বা suffix জুড়তে হয়। আবার দ্বিতীয়ার্ধ অপরিবর্তিত রেখে বোকার বদলে ভগ্নী বা মা ব্যবহার করলে তীব্র আপত্তিকর অজাচার বোঝানো যায় যা শুনলে আগে কানে হাত চাপা দিত অনেকে। আবার কেবল 'জাদা' বললে কিস্যু হয় না, তার আগে একটা অসম্মান বাচক উপসর্গ বা prefix আবশ্যক। তেমনি শুধু সারমেয় বরাহ ইত্যাদি বলেও ঠিক গায়ের জ্বালা মেটে না। সেই পশুগলির অপত্য বললে বেশ বাপ-মা তোলা খিস্তি হয়। যারা আরও অগ্রসর তারা পশু নয়, বিশেষ পেশায় আবদ্ধ মানবীর সন্তান বলে কারও জন্ম ও পরিচয়কে সর্বাধিক অপমান করতে পারত বা পারে।

যাইহোক অপভাষ বলতে 3-4 বছর আগেও মূলত 4,5 বা ততোধিক অক্ষর নির্মিত শব্দ বা শব্দবন্ধকে বুঝতাম।

ইদানিং রাস্তাঘাটে অটোরিকশা চালক থেকে আড্ডা প্রেমী তরুণ - সবার মুখে 2 অক্ষরের দু তিনটি প্রত্যঙ্গের নাম গালাগালি হিসাবে বহুল প্রচলিত হয়ে উঠেছে। কন্যাকে সংগে নিয়ে বেরোলে এই জাতীয় শব্দের বন্যা কতটা অস্বস্তিকর লাগে আমার প্রজন্মের কিছু মানুষ হয়তো অনুভব করতে পারবেন। শুধু অস্বস্তির নয় চারপাশে ঘটে চলা ঘটনা প্রবাহের নিরিখে রীতিমতো ভীতিকরও মনে হয়।

কিন্তু এই নোংরা ব্যধি শুধু অশিক্ষিত বা স্বল্প শিক্ষিত ইতরজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তথাকথিত আধুনিক সাহিত্যিকদের কলমেও দেদার ব্যবহৃত হচ্ছে। তারা সবাই যে এই যুগের ছেলেছোকরা তাও নয়। আমার বযসী বা জ্যেষ্ঠতর সাহিত্যচর্চাকারীও আছে। এমনকি অনেক মহিলাও ব্যাপরটাকে ভান ভনিতা না করা সততা ও সপ্রতিভতার সূচক হিসাবে পৃষ্ঠপোষকতা করছে। নিজেরাও লিখছে পুরুষদের 'ব' গঠিত অপভাষ সমন্নিত Facebook post like করছে বিস্তর।

মাইরি বলছি হিংসায় চিরকাল বুক জ্বলার কথা শুনেছি, কষ্ট হলে বুকের ভেতরটা বাস্তবিক চিনচিন করে; কিন্তু আজকালকার লেখকদের মতো অন্য কিছু জ্বলার গন্ধ পাইনি। সমাজের ছবি তুলে ধরা তথা অন্যায়ের প্রতিবাদ করার জন্য যাদের সালিশি মানা হয়, তারাই যদি ব্যধিগ্রস্ত হয়ে যায় তাহলে বাকিদের কী বলব? সমাজ যে ক্রমশ বেশি বেশি হিংস্র অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠছে তার প্রতিফলন এই জাতীয় লেখাও। বিপদ হল এগুলো সব বটতলার চিহ্নিত পর্নোগ্রাফি নয়, বরং গুণগত মানের জন্য অনেক ক্ষেত্রেই সাহিত্য হিসাবে স্বীকৃত।



Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.