x

প্রকাশিত

​মহাকাল আর করোনাকাল পালতোলা নৌকায় চলেছে এনডেমিক থেকে এপিডেমিক হয়ে প্যানডেমিক বন্দরে। ওদিকে একাডেমিক জেটিতে অপেক্ষমান হাজার পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ।​ ​দীর্ঘ সাতমাসের এ যাপন চিত্র মা দুর্গার চালচিত্রে স্থান পাবে কিনা জানি না ! তবে ভুক্তভোগী মাত্রই জানে-

​'চ'য়ে - চালা উড়ে গেছে আমফানে / চ'য়ে - কতদিন হাঁড়ি চড়েনি উনুনে / চ'য়ে - লক্ষ্মী হলো চঞ্চলা / চ'য়ে - ধর্ষিতা চাঁদমনির দেহ,রাতারাতি পুড়িয়ে ফেলা।

​হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানুষটি লালমার্কার দিয়ে গোল গোল দাগ দেয় ক্যালেন্ডারের পাতায়, চোদ্দদিন যেন চোদ্দ বছর। হুটার বাজিয়ে শুনশান রাস্তায় ছুটে যায় পুলিশেরগাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স আর শববাহী অমর্ত্য রথ...। গঙ্গা দিয়ে বয়ে গেছে অনেকটা জল, 'পতিত পাবনী গঙ্গে' হয়েছেন অচ্ছুৎ!

এ কোন সময়ের মধ্যে দিয়ে চলেছি আমরা?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

সমীরণ চক্রবর্তী

বুধবার, ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৮

দীপঙ্কর বেরা

sobdermichil | ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৮ | | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
ভাষা ভাবনায় /
নিজের একেবারে চেনা জায়গা থেকে বাইরে বেরুতেই হয়। কর্মসূত্রে অথবা ভ্রমণে। দু পাঁচ বছর অথবা দু চার দিন। বাইরে বেরোতেই হয়। তাতে শুধু নিজের মাতৃভাষা আঁকড়ে ধরে থাকলে চলবে না। যেখানেই যাই না কেন, সেখানকার আদব কায়দা যেমন জেনে নিতে হয়, তেমনি সেখানকার ভাষাও বুঝে নিতে হয়। তা না হলে মানিয়ে নিতে খুব অসুবিধা হয়। ঠিক তেমনিভাবে আমাদের এখানে কেউ এলে তাকেও কিছুটা হলেও ভাঙা ভাঙা আমাদের ভাষা ও আদব কায়দা শিখতেই হবে।

অবশ্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা হয় না। আমরাই বাইরে বেরিয়ে হয়তো কোন অসুবিধায় পড়তে পারি কিংবা কোন কাজ নাও পেতে পারি ভেবেই অনেক আগে থেকে নিজেরা, এমন কি ছোটদেরও তাতে জড়িয়ে দিয়ে নিজের মাতৃভাষাকে প্রায় পুরোপুরি ত্যাগ করে অন্য ভাষাতেই ঝাঁপিয়ে পড়ছি। যারা আমাদের এখানে আসে আমরা বাঙালীরা তাদের মত হয়ে যাই। তাদের ভাষা ও আদব কায়দা শেখার চেষ্টা করি। কিছুতেই আমাদেরটা বলতেই চাই না। ভাবতে থাকি, এ কি আর বলার মত! পাছে অনেকে না গেঁয়ো ব্যাকডেটেড বলে বসে। আমাদেরও যে অনেক ভাল আছে তা তুলে ধরিই না বা তুলে ধরার চেষ্টাই করি না। 

ভাষা কেবল বলা আর পড়া কিংবা লেখা নয়, ভাব প্রকাশ ও নিজেকে মেলে ধরার অন্যতম রাস্তাও বটে। যেখানে জন্ম, যেখানে বড় হয়ে ওঠা, সেখানের সার্বিক অবস্থান জানতে হলে, সেখানকার মানুষের সাথে মিশে মনুষ্যত্ব বিকাশে জন্য নিজের ভাষা জানা খুব দরকার। সেখানকার নিজস্ব ভাষা চর্চায় জ্ঞানের পুষ্টি লাভ হয়। না হলে ফাঁক থেকে যাবে। এই ফাঁক মানুষ হিসেবে মনুষ্যত্বের অন্তরায় হবেই হবে।

ভিত শক্ত থাকলে অন্য অনেক কিছুই সহজে রপ্ত করা যায়। কোন বিষয়ে সম্যকভাবে ভাবে ভাবনায়, জীবনের ইতিহাস ও আগামী সঠিক ভাবে বুঝে নিতে হলে নিজের ভাষা ছাড়া সম্ভব নয়।

নিজের মাতৃভাষার পরিমন্ডলে থেকে পুরোপুরি অন্যভাষা চর্চায় শিক্ষালাভ অনেকটাই সোনার পাথরবাটির মত। কোন বিষয়ের উপর তার সম্যক জ্ঞান হচ্ছে না। সে হয়ত অন্য ভাষাটি চটপট বলতে পারে, লিখতেও পারে। তার ফলে আমদের ধারনা মতে সে ভাল কাজও পেয়ে যাবে এবং পেয়েও যায়।

তাই আমরা সবাই তার সেই অন্য ভাষাটি শুনে যারপরনাই খুশি হই। কিন্তু মানুষের কল্যাণীয় ভাবনায় কোথাও না কোথাও ছেদ পড়ে যায়। সঠিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে আবেগ, ভাবনা, স্নেহ, ভালোবাসা সর্বোপরি হৃদয়ের কথায় কথা বলতে নিজের মাতৃভাষাই শ্রেয়। যেমন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এইসব ছেলেমেয়েরা আর বৃদ্ধ বাবা মা দাদা দিদিদের দেখেই না। তাদেরকে আমরা নিষ্ঠুর বলি, বলি বাবা মায়ের কষ্টের কথা মনে রাখল না। কিন্তু ভেবেই দেখে না তার বীজ কোথায় রোপন আমরা নিজেরাই করেছি। 

নিজের মাতৃভাষার পরিমণ্ডল ছেড়ে অন্যভাষার ছায়ায় মানুষ হলে তা অনেকটা গ্রহণযোগ্যতা পেতেও পারে।

আমি একবার বেড়াতে গিয়ে এ রকম এক পরিস্থিতিতে পড়েছিলাম। আমি ও আমার মাতৃভাষা বাংলার সাথে তার ভাষা ভাঙা ভাঙা বলতে থাকি। সেও আমার ভাষা অল্প অল্প বুঝে ভাঙা ভাঙা বলতে বাধ্য হয়। অনেক অনেক কথা প্রায় আধধণ্টা ধরে বললাম। দুজনে কথা বলে খুব খুশিও হলাম। কেন না আমাদের কথা ছিল কথার মত কথা, গভীরতায় ভরা ভাবনার মত জীবনের মত । যেখানে নির্মল হাসিটির কোন ভাষা ছিল না। সার্বজনীন। 

এই গভীরতা বিষয় ভিত্তিক জানতে এবং হৃদয় দিয়ে জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে হৃদয়ঙ্গম করতে নিজের মাতৃভাষা জানা বলা ও ভাবা খুব দরকার। তাকে বাদ দিয়ে বিশ্বে এমন খাপছাড়া ভাবে ছড়িয়ে পড়লেও হালে পানি মিলবে না। নিজেরটা তো হারিয়ে যাচ্ছে বা যাবে এবং নিজেও হারিয়ে যাবে।

দেশ দশ যাই হোক না কেন উন্নতি তার জীবন গভীরতায়। তাকে প্রকাশ কি ভাবে করবে সেটা বড় কথা নয়। জ্ঞানের গভীরতা থাকলে কোথাও কোন কিছুই আটকায় না। সফল সে হবেই। তুমি একটা ভাষা ধর, ইংরেজী খুব ভাল জানো। কিন্তু সামনের ঐ কৈশোরের দামালপনার বর্ণনা দাও দেখি। তখন সেই দামালপনা হৃদয়ঙ্গম না করতে পারলে কিছু বলতেই পারবে না। তার জন্য নিজস্ব মাতৃভাষায় কিছু খুঁনসুটি হৃদয়ে আলাপন করে নিতে হবে। 




আর বাংলা ভাষায় যে কত কি মণিমুক্তো আছে তা তো আর নতুন করে বলার নয়। পাঁচালী গাঁথা বাউল ভাটিয়ালী টুসু ভাদু কবিগান গম্ভীরা লোকগীতি ময়মনসিং গীতিকা মঙ্গলগান লালনগীতি আধুনিক আর সবার উপরে রবীন্দ্রসঙ্গীত নজরুলগীতি রজনীকান্তের গান - এতসব নানান সুরের যাদু বাংলা ছাড়া আর কোথায় আছে। 

আর কাব্যের মধ্যে চর্চাপদ মঙ্গলকাব্য পাঁচালি বিদ্যাপতী চণ্ডীদাস চৈতন্যচরিত থেকে শুরু করে দুইটি মহাকাব্য রামায়ণ ও মহাভারত; তারপরেও মধুসূদন রবীন্দ্রনাথ হয়ে বর্তমানে জয় গোস্বামী, শঙ্খ ঘোষ, নির্মলেন্দু গুন, হেলাল হাফিজ, হুমায়ুন আহমেদ বাংলা ভাষার রত্ন। 

আরও কত কি যে আছে তা জানতে হলে ডুব দিতে হবে ডুবিয়ে দিতে হবে বিশ্বকে এই বাংলা ভাষার মহাসমুদ্রে। শুধু কিছু হবে না কিছু হবে না করে নিজেকে অপমান করে কিছু পাওয়া যায় না। 

এত অলংকরণ পৃথিবীর আর কোন ভাষায় নেই। কিন্তু সব কিছু বাঙালীর নিজস্ব হীনমন্যতায় হারিয়ে যেতে বসেছে। অনেক ঐতিহ্যের সাথে সাথে ভাষার বৈচিত্র্যও আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। গ্রামে গঞ্জে এখনও কিছু মানুষের হাত ধরে বেঁচে আছে বাংলা ভাষার নানা গুণ। তাকে বাঁচিয়ে রেখে এগিয়ে যাওয়া যেতেই পারে। অন্য ভাষার সাথে কোন বিরোধ না রেখেও বাংলা তার নিজস্ব জায়গা করে নিতেই পারে। তাকে শুধু হাতে হাত মিলিয়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। 

যে ভাষার জন্য রক্ত ঝরেছে তার প্রতি এর চেয়ে বড় শ্রদ্ধার্ঘ আর কি হতে পারে। বহু বিশিষ্ট মানুষ এখনও বাংলার ভাষার প্রতি তাল লয় ছন্দ গাঁথা পাঁচালী গান কবিতা গল্প উপন্যাস গদ্য ভাবনার প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল। তাঁরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে স্বমহীমায় উজ্জ্বল। বাংলা ভাষাতে থেকেও তাঁদের প্রতিভা বিকাশে বিন্দুমাত্র অনুচ্ছেদ পড়েনি। বাংলাকে যতটা বেশি তাঁরা জেনেছেন অন্য ভাষা শিখতে জানতে বুঝতে ততটাই তাঁদের সহজ ও স্বাভাবিক হয়েছেন। 

তাই বলতে আর দ্বিধা নেই বাংলা ভাষা আমার প্রাণের ভাষা, জীবনের ভাষা, আশা ও জাগরণের ভাষা।


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.