x

প্রকাশিত বর্ষপূর্তি সঙ্কলন

দেখতে-দেখতে ১০ বছর! শব্দের মিছিলের বর্ষপূর্তি সংকলন প্রকাশের সময় এ খুব অবিশ্বাস্য মনে হয়। কিন্তু অজস্র লেখক, পাঠক, শুভাকাঙ্ক্ষীদের সমর্থনে আমরা অনায়াসেই পেরিয়ে এসেছি এই দশটি বছর, উপস্থিত হয়েছি এই ৯৫ তম সংকলনে।

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

আব্দুল মাতিন ওয়াসিম

sobdermichil | ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৮ |
শ্রদ্ধেয় আব্বাজান
শ্রদ্ধেয় আব্বাজান 
ঠিকানা, অজানা

বাবা, তুমি কোন অজানা দেশে পাড়ি দিয়েছ জানিনা। তবে খুব জানতে ইচ্ছে করে, তোমার কষ্ট হয় না আমায় ছেড়ে থাকতে? আমার কথা একটি বারও মনে পড়েনা? মনে পড়েনা, ছোট বেলায় তুমি আমায় মসজিদে নিয়ে যেতে সঙ্গে করে। হাফ প্যান্ট, গায়ে হাফহাতা গেঞ্জি, আর যত্ন করে মাথায় টুপি পরিয়ে। তুমি নামাজ পড়তে আর আমি এধার থেকে ওধার ছুটতাম। গড়াগড়ি দিতাম। তুমি সাজদায় গেলে তোমার পীঠে চাপতাম। একবার তো ইমাম সাহেবের কাঁধে চেপে বসেছিলাম। সাজদা করতে গিয়ে কতবার যে ডিগবাজি খেয়েছি তার কোন হিসেব নেই। নামাজ শেষে অমনি তুমি বুকে জড়িয়ে ধরতে...? জানো বাবা, কত বছর হয়ে গেলো অমন করে আর কেউ জড়িয়ে ধরেনি।

তুমি আমায় মসজিদে নিয়ে যেতে ভালোই করতে। ঘরে থাকলে মনে হত মা নামায পড়ছে না, ঘোড়া-ঘোড়া খেলছে। যেমনি মা সাজদায় যেত পীঠে চেপে বসতাম। নড়তাম না। বসে থাকতাম। মাও উঠত না সাজদা থেকে। পাছে আমি পড়ি যাই। খেলতে খেলতে যখন নেমে পড়তাম মা মাথা ওঠাত। সালাম শেষে দু’গালে চুমু খেত। স্নেহের সেই চুমুগুলি এখন আর মা আমায় দেয়না, বাবা। তুমি মাকে বকে দিও তো। 

আচ্ছা বাবা, কোন অজানা দেশে চলে গেছ বলো তো? ওখানে কি হোয়াট্‌সঅ্যাপ, ফেসবুক, ইমেল কিছুই নেই। নেই না..., তাই বলি। জানো, রোজ যখন ফেসবুক খুলি, হোয়াটসঅ্যাপ দেখি, ইমেল করি, ভাবি এই বুঝি তুমি আমায় মেসেজ করলে, এই তোমার ইমেল এলো...। আচ্ছা বাবা, চিঠি লিখতে তো পারো রোজ। রোজ না হয় নাই বা লিখলে, সপ্তাহে, মাসে, বছরে...। এতদিনে একটিও লেখোনি; কি নিষ্ঠুর তুমি? হয়তো বা বড্ড অসহায়? জানিনা...। 




আচ্ছা, তুমি তো আমায় প্রথম চিঠি-লেখা শিখিয়েছিলে, যেবার হস্টেলে যাই। বলে ছিলে নিয়ম করে তোমায় চিঠি লিখতে। তোমার ঠিকানা জানিনা। তুমি পাবে তো এই চিঠি? বাবা তুমি ভালো থেকো। আমি ভালো নেই। আজ আবার হেরে গেছি এক সংগ্রামে, পাশে দাঁড়াবার কেউ নেই।

বাবা, আজকাল মা’র শরীরটাও ভালো নেই। খুব ভয় হয়, মাও যদি চলে যায় তোমার কাছে, কে থাকবে আমার সঙ্গে? কে দেখবে আমায়? কে আমায় আদর করবে? কেউ নেই কোথাও, ক’টা পাথরের মূর্তি ছাড়া...।    

ইতি
তোমার বাবু / আব্দুল মাতিন ওয়াসিম 




Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন


বিজ্ঞপ্তি
■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.