x

প্রকাশিত

​মহাকাল আর করোনাকাল পালতোলা নৌকায় চলেছে এনডেমিক থেকে এপিডেমিক হয়ে প্যানডেমিক বন্দরে। ওদিকে একাডেমিক জেটিতে অপেক্ষমান হাজার পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ।​ ​দীর্ঘ সাতমাসের এ যাপন চিত্র মা দুর্গার চালচিত্রে স্থান পাবে কিনা জানি না ! তবে ভুক্তভোগী মাত্রই জানে-

​'চ'য়ে - চালা উড়ে গেছে আমফানে / চ'য়ে - কতদিন হাঁড়ি চড়েনি উনুনে / চ'য়ে - লক্ষ্মী হলো চঞ্চলা / চ'য়ে - ধর্ষিতা চাঁদমনির দেহ,রাতারাতি পুড়িয়ে ফেলা।

​হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানুষটি লালমার্কার দিয়ে গোল গোল দাগ দেয় ক্যালেন্ডারের পাতায়, চোদ্দদিন যেন চোদ্দ বছর। হুটার বাজিয়ে শুনশান রাস্তায় ছুটে যায় পুলিশেরগাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স আর শববাহী অমর্ত্য রথ...। গঙ্গা দিয়ে বয়ে গেছে অনেকটা জল, 'পতিত পাবনী গঙ্গে' হয়েছেন অচ্ছুৎ!

এ কোন সময়ের মধ্যে দিয়ে চলেছি আমরা?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

সমীরণ চক্রবর্তী

বুধবার, ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৮

আব্দুল মাতিন ওয়াসিম

sobdermichil | ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৮ | | মাত্র সময় দিন। পড়ে নিন,শুনে নিন।
শ্রদ্ধেয় আব্বাজান
শ্রদ্ধেয় আব্বাজান 
ঠিকানা, অজানা

বাবা, তুমি কোন অজানা দেশে পাড়ি দিয়েছ জানিনা। তবে খুব জানতে ইচ্ছে করে, তোমার কষ্ট হয় না আমায় ছেড়ে থাকতে? আমার কথা একটি বারও মনে পড়েনা? মনে পড়েনা, ছোট বেলায় তুমি আমায় মসজিদে নিয়ে যেতে সঙ্গে করে। হাফ প্যান্ট, গায়ে হাফহাতা গেঞ্জি, আর যত্ন করে মাথায় টুপি পরিয়ে। তুমি নামাজ পড়তে আর আমি এধার থেকে ওধার ছুটতাম। গড়াগড়ি দিতাম। তুমি সাজদায় গেলে তোমার পীঠে চাপতাম। একবার তো ইমাম সাহেবের কাঁধে চেপে বসেছিলাম। সাজদা করতে গিয়ে কতবার যে ডিগবাজি খেয়েছি তার কোন হিসেব নেই। নামাজ শেষে অমনি তুমি বুকে জড়িয়ে ধরতে...? জানো বাবা, কত বছর হয়ে গেলো অমন করে আর কেউ জড়িয়ে ধরেনি।

তুমি আমায় মসজিদে নিয়ে যেতে ভালোই করতে। ঘরে থাকলে মনে হত মা নামায পড়ছে না, ঘোড়া-ঘোড়া খেলছে। যেমনি মা সাজদায় যেত পীঠে চেপে বসতাম। নড়তাম না। বসে থাকতাম। মাও উঠত না সাজদা থেকে। পাছে আমি পড়ি যাই। খেলতে খেলতে যখন নেমে পড়তাম মা মাথা ওঠাত। সালাম শেষে দু’গালে চুমু খেত। স্নেহের সেই চুমুগুলি এখন আর মা আমায় দেয়না, বাবা। তুমি মাকে বকে দিও তো। 

আচ্ছা বাবা, কোন অজানা দেশে চলে গেছ বলো তো? ওখানে কি হোয়াট্‌সঅ্যাপ, ফেসবুক, ইমেল কিছুই নেই। নেই না..., তাই বলি। জানো, রোজ যখন ফেসবুক খুলি, হোয়াটসঅ্যাপ দেখি, ইমেল করি, ভাবি এই বুঝি তুমি আমায় মেসেজ করলে, এই তোমার ইমেল এলো...। আচ্ছা বাবা, চিঠি লিখতে তো পারো রোজ। রোজ না হয় নাই বা লিখলে, সপ্তাহে, মাসে, বছরে...। এতদিনে একটিও লেখোনি; কি নিষ্ঠুর তুমি? হয়তো বা বড্ড অসহায়? জানিনা...। 




আচ্ছা, তুমি তো আমায় প্রথম চিঠি-লেখা শিখিয়েছিলে, যেবার হস্টেলে যাই। বলে ছিলে নিয়ম করে তোমায় চিঠি লিখতে। তোমার ঠিকানা জানিনা। তুমি পাবে তো এই চিঠি? বাবা তুমি ভালো থেকো। আমি ভালো নেই। আজ আবার হেরে গেছি এক সংগ্রামে, পাশে দাঁড়াবার কেউ নেই।

বাবা, আজকাল মা’র শরীরটাও ভালো নেই। খুব ভয় হয়, মাও যদি চলে যায় তোমার কাছে, কে থাকবে আমার সঙ্গে? কে দেখবে আমায়? কে আমায় আদর করবে? কেউ নেই কোথাও, ক’টা পাথরের মূর্তি ছাড়া...।    

ইতি
তোমার বাবু / আব্দুল মাতিন ওয়াসিম 




Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.