x

আসন্ন সঙ্কলন

গোটাকতক দলছুট মানুষ হাঁটতে হাঁটতে এসে পড়েছে একে অপরের সামনে। কেউ পূব কেউ পশ্চিম কেউ উত্তর কেউ দক্ষিণ... মাঝবরাবর চাঁদ বিস্কুট, বিস্কুটের চারপাশে লাল পিঁপড়ের পরিখা। এখন দলছুট এক একটা মানুষ এক হয়ে হাঁটছে চাঁদ বিস্কুটের দিকে। আলাদা আলাদা মানুষ এক হয়ে হাঁটছে সারিবদ্ধ পিঁপড়েদের বিরুদ্ধে। পথচলতি যে ক'জনেরই নজর কাড়ছে মিছিল তারাই মিছিল কে দেবে জ্বলজ্বলে দৃষ্টি। আগুন নেভার আগেই ঝিকিয়ে দেবে আঁচ... হাত পোহানোর দিন তো সেই কবেই গেল ঘুচে, যেটুকু যা আলো বাকী সবটুকু চোখে মেখে চাঁদ বিস্কুট চেখে চেখে খাক এই মিছিলের লোক। মানুষ বারুদ কিনতে পারে, কার্তুজ ফাটাতে পারে, বুলেট ছুঁড়তে পারে খালি আলো টুকু বেচতে পারেনা... এইসমস্ত না - বেচতে পারা সাধারণদের জন্যই মিছিলের সেপ্টেম্বর সংখ্যা... www.sobdermichil.com submit@sobdermichil.com

অতিথি সম্পাদনায়

মৌমিতা ঘোষ

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

মৌমিতা ঘোষ

বুধবার, জানুয়ারী ৩১, ২০১৮

সমীরণ চক্রবর্ত্তী

sobdermichil | জানুয়ারী ৩১, ২০১৮ |
সাক্ষাৎকার ˸ মুখোমুখি চোর চূড়ামণি
শৈশবে হাতেখড়ি, আর আজ আকাশ ছোঁয়া সাফল্য তার। পাঁচ পুরুষের পেশা। স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত চোর চূড়ামনি মদন মালের সাথে এক সান্ধ্য আড্ডায় উঠে এলো কত অজানা তথ্য...

প্রঃ শোনা যায় চৌর্য্যবৃত্তি আপনার রক্তে রয়েছে?

উঃ ঠিক তাই, গর্ব করেই বলতে হয়, আমার ঠাকুরদার ঠাকুরদা ছিলেন ডাকসাইটে নামি চোর, ইজ্জতই আলাদা। রাজ সভায় ঢুকে তিনি স্বয়ং রাজার হীরে খোচিত মুকুট আর রূপোর তলোয়ার চুরি করে এনে ছিলেন। ওনার সময়েই স্বয়ং রায়বাহাদুর আমাদের মালখানায় চুরির মাল সরেজমিনে দেখে আমাদের ‘মাল’ উপাধি প্রদান করেন, তার পর থেকে আমরা সবাই মাল। আমরা হলাম বংশ-চোর খানিকটা বংশ-বদের মত।

প্রঃ আচ্ছা এই চুরির পেশাটাকে আপনি ঠিক কেমন চোখে দেখেন?

উঃ অ্যাজ অ্যান ইন্টেল্যাকচুউয়াল এন্ড আর্টিস্টিক প্রোফেসান...অ্যা লিটল্ বিট অব রিস্ক বাট নো ইনভেস্টমেন্ট, ইট ইজ অ্যা গ্রেট বিজনেস অলসো হোয়্যার প্রোফিট মোর দ্যান হান্ড্রেড পারসেণ্ট... ওই একটা প্রবাদ আছে না ‘চুরি বিদ্যা মহা বিদ্যা’ তবে হ্যাঁ, যদি না পড়ে ধরা।

প্রঃ আজকাল ট্রেনে, বাসে, মেলায়, আফিসে চোরের কত রকমফের দেখি, এ বিষয়ে যদি একটু আলোকপাত করেন...

উঃ হিন্দু পুরাণ মতে ভগবান বিষ্ণুর যেমন দশ অবতার, ঠিক তেমনিই চোরেদের ছয় অবতার...

(ক) ছিঁচকে চোর- এরা সবচেয়ে নিম্নমানের চোর, হাতের কাছে যা পায় তাই সালটে দেয়।

(খ) সিঁধেল চোর- এরা গ্রাম গঞ্জের স্যাম্পেল, চৌকাঠের নিচ দিয়ে মাটি খুঁড়ে প্রথমে সুড়ঙ্গ বানায়, তারপর সুড়ঙ্গ পথে সাপের মতো ঘরে ঢুকে, সারা রাত ধরে সব সাফ করে দেয়।

(গ) পকেটমার- এরা জনবহূল স্থানে ঘাপটি মেরে থাকে, উঁচু পকেট আর মোটা মানি ব্যাগ দেখলেই এদের তর্জনী আর মধ্যমা চুলকোয়, নিমেষেই কাজ হাসিল করে সটকে পড়ে।

(ঘ) বাটপাড়- এরা একটু বুদ্ধি ধরে, বাপেরও যেমন বাপ থাকে তেমনই এরা হল গিয়ে চোরের চোর।

(ঙ) জোচ্চোর- এরা বুদ্ধিমান চোর, মিষ্টি কথায় ভুলিয়ে লোক ঠকাতে এরা বেশ পটু।

(চ) ডিজিটাল চোর- এরা পাকা বুদ্ধির শিক্ষিত চোর, ক্রেডিট কা্র্ড আর ডেবিট কার্ড এর পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নিয়ে মোটা টাকা হাপিস করে দেয়।

এছাড়াও বেশ কিছু উপঅবতার বিরাজ করেন, প্রকাশ্যে নেতাদের থুড়ি তেনাদের নাম নেওয়া বারণ...

প্রঃ এই যে বংশ পরম্পরায় চোর হয়েই থেকে গেলেন, কখনো মনে হয় নি, একটু ডাকাবুকো ডাকাত হতে?

উঃ কখনোই না, চুরিতে যে ভরপুর এক্সাইটমেন্ট আছে, একটা গেম গেম ভাব আছে, ডাকাতিতে সেটা কোথায়? ওরাতো প্রাণের ভয় দেখিয়ে সব কিছু কেড়ে নেয়, আমরা তেমন নই, আমাদের পেশায় কেমন যেন একটা ম্যাজিক ম্যাজিক ভাব আছে, যেমন ধরুন একটু কাব্য করেই বলি-

কাল ছিল তালা চাবি
লকার ভরা টাকা
একটা রাতেই সাবড়ে দিলাম
ভোর না হতেই ফাঁকা।

ওই খানিকটা গিলি গিলি ছু মন্তর আর কি, ডাকাতিতে এই চার্মটা কোথায়?

প্রঃ বেশ ভালো বলেন আপনি, আচ্ছা আপনার পেশার মানে এই চৌর্য্যবৃত্তির অনুপ্রেরণা পান কোথা থেকে?

উঃ দেখুন আগেই বলেছি, চুরি আমার পেশা, চুরি আমার নেশা, চুরি আমার রক্তেও, সর্বোপরি একটা কথা আপনাকে না জানিয়ে পারছিনা, আমার স্ত্রী মালা আমার থেকেও বড় চোর, আর হবে নাই বা কেন, পদক প্রাপ্ত চোরের বউ বলে কথা। প্রতি রাতে চুরি করে যা নিয়ে আসি, পরের দিন দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যে মালা আবার সে গুলোকে ঝেড়ে দেয়, পকেট আমার ফাঁকা, কেমন একটা ইগোতে লাগে, বেরিয়ে পড়ি নতুন উদ্যমে আবার চুরি করতে। তবে হ্যাঁ, মালা এখন মালা মাল, নামেও অর্থেও..., ওকে নিয়ে আমার বেশ গর্বও হয়।

প্রঃ আপনি তো ২০১৬ তে চোর চূড়ামণি সন্মান আর ২০১৭ তে স্বর্ণপদকও পেলেন, এগুলো কারা দেয়, কিভাবেই বা বিবেচিত হয়? একটু যদি আলোকপাত করেন...

উঃ খুবই সহজ, এখানেও চুরি তবে ভাবের ঘরে। আমরাই সব চোরেরা মিলে একটা সংগঠন চালাই, আমিই তার সম্পাদক আর আমার শাকরেদ শুঁটোকে নিষ্কর্মা সভাপতি করে রেখেছি, চেলা চামুণ্ডাও মেলা। ওরাইতো আমাকে মনোনিত করে ষোলতে চোর চূড়ামণি সন্মান আর সতেরোতে স্বর্ণপদক দিল, সাথে শুঁটোকে দিল লৌহপদক। তবে হ্যাঁ, ওর হাতেও যাদু আছে, দেখবেন, ঠিকঠাক লেগে থাকলে ও একদিন স্বর্ণপদক পাবেই।


প্রঃ সে নাহয় বুঝলাম কিন্তু আপনাদের এই চোর সংগঠনের কাজ কি শুধুই সন্মাননা দেওয়া?

উঃ না, না তা কেন হবে, নানাবিধ কর্মসূচী আমাদেরও থাকে, মানে কখন কোন বাড়িতে নগদ আছে, সোনাদানা কত আছে, কোন বাড়ি ফাঁকা আছে, থাকলে বাড়িতে কুকুর আছে কিনা, কুকুর থাকলে কোন জাতের, সেই কুকুর রাতে ছাড়া থাকে নাকি প্রভুর বিছানায়, বাড়িতে কত রাত পর্যন্ত্য আলো জ্বলে এসব জরুরী তথ্য সংগ্রহ এবং সদস্যদের মধ্যে দায়িত্বভার বণ্টন, তার দেখভাল সবই আলোচনা হয়। এইতো গত সপ্তাহেই নোদোকে সাসপেণ্ড করা হলো স্ট্রীট লাইট বিকল করতে না পারার আপরাধে।

প্রঃ দীর্ঘদিন চুরির পেশায় আছেন, মজার কোন ঘটনা ঘটেছে চুরি করতে গিয়ে?

উঃ অনেক, অনেক ঘটনাই আছে, কোনটা ছেড়ে কোনটা বলি, তবে একটি ঘটনা শুনুন...

এক গরমের রাতে তালা ভেঙে ঢুকে পড়লাম ফাঁকা বাড়িতে। পেটে তখন ছুঁচোর ডন, ফ্রীজ খুলতেই দেখি মাটন বিরিয়ানি। মাইক্রোওভেনে গরম করে নিলাম। গরমে তখন অস্থির অস্থির লাগছে, চোখ পড়লো এসির উপর। এসি অন করে বসেছি বিরিয়ানি নিয়ে, আশ মিটিয়ে খেলাম। ঠাণ্ডায় শরীর জুড়িয়ে গেল, সেই সাথে চোখও জুড়ে এল, সোফায় গা এলিয়ে দিলাম। ফাঁকা ঘর, একটু ঘুমিয়ে নিই আরাম করে, ভোর রাতে ঘুম ভাঙলে সব হাতিয়ে পালাবো ভেবেছিলাম, তা আর হলো কই। ঘুম ভাঙলো পুলিশের রুলের গুঁতোয়। যা হওয়ার তাই হলো, এক্কেবারে লকআপে।ওখানে তখন মাসতুতো ভাইয়েরা, সে কি অভ্যর্থনা, হা হা হা...!




Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.