x

আসন্ন সঙ্কলন

গোটাকতক দলছুট মানুষ হাঁটতে হাঁটতে এসে পড়েছে একে অপরের সামনে। কেউ পূব কেউ পশ্চিম কেউ উত্তর কেউ দক্ষিণ... মাঝবরাবর চাঁদ বিস্কুট, বিস্কুটের চারপাশে লাল পিঁপড়ের পরিখা। এখন দলছুট এক একটা মানুষ এক হয়ে হাঁটছে চাঁদ বিস্কুটের দিকে। আলাদা আলাদা মানুষ এক হয়ে হাঁটছে সারিবদ্ধ পিঁপড়েদের বিরুদ্ধে। পথচলতি যে ক'জনেরই নজর কাড়ছে মিছিল তারাই মিছিল কে দেবে জ্বলজ্বলে দৃষ্টি। আগুন নেভার আগেই ঝিকিয়ে দেবে আঁচ... হাত পোহানোর দিন তো সেই কবেই গেল ঘুচে, যেটুকু যা আলো বাকী সবটুকু চোখে মেখে চাঁদ বিস্কুট চেখে চেখে খাক এই মিছিলের লোক। মানুষ বারুদ কিনতে পারে, কার্তুজ ফাটাতে পারে, বুলেট ছুঁড়তে পারে খালি আলো টুকু বেচতে পারেনা... এইসমস্ত না - বেচতে পারা সাধারণদের জন্যই মিছিলের সেপ্টেম্বর সংখ্যা... www.sobdermichil.com submit@sobdermichil.com

অতিথি সম্পাদনায়

মৌমিতা ঘোষ

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

মৌমিতা ঘোষ

বুধবার, জানুয়ারী ৩১, ২০১৮

শ্রীমতি ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়

sobdermichil | জানুয়ারী ৩১, ২০১৮ |
শ্রীমতি ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়
‘শব্দের মিছিল’ এর ‘একমুঠো প্রলাপ’ এ এবারে আমাদের অতিথি বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক , সম্পাদক , গায়িকা শ্রীমতি ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় । বিচিত্র কথাসম্ভারের মালকিন এই লেখিকার সাথে আলাপচারিতায় উঠে আসল কিছু আলোর ঝলক , আমরা যারা হতাশায় তলিয়ে যাই অনেকসময় , জীবন সেভাবে সুযোগ দিল না ভেবে , তাদের কাছে দুর্দান্ত প্রাণ সঞ্জীবনী সুধা হয়ে । তিনি এক জলজ্যান্ত উদাহরণ , মনের জোরে এমনকি হাফ চান্স গুলোকেও পারফেক্ট ক্যাচ এ পরিণত করে দেখানোর স্ট্যামিনা রাখার , ভীষণ পজিটিভলি জীবনকে দেখার । ‘শব্দের মিছিল’ এর পক্ষ থেকে তাঁর জন্য শুভেচ্ছা অফুরান । শুভ হোক তাঁর আগামী , অনেক ভালোবাসা । 

তোমার কথাতেই জানা, তোমার লেখক জীবন দশ বছরের। 
কিন্তু একদিনে তো একজন লেখক জন্মান না। প্রস্তুতিপর্ব সম্পর্কে একটু বল আমাদের।





এ যেন ছিল বেড়াল হয়ে গেল রুমাল। আমার জীবনটাও ঠিক তেমনি। বিজ্ঞানের ছাত্রী ছিলাম। গবেষণার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি বিয়ে, সন্তান পর্বের ধাক্কা সামলাতে গিয়ে। তারপর রসায়নের প্যাশন নিয়ে গৃহশিক্ষকতা করতাম ঘরেই। মাঝেমধ্যে টুকটাক লিখতাম। কারণ লেখাটা ছিল কিছুটা রক্তে। মা বাড়িতে যারই বিয়ে হত কবিতা লিখতেন। সেই দেখে ছন্দ মিলিয়ে কবিতা লেখার বেশ তাগিদ অনুভূত হত। এই করতে করতে স্কুল ম্যাগাজিনে টুকটাক সুযোগ পেতাম। উচ্চমাধ্যমিকে বাংলায় খুব ভাল নম্বর পেয়েছিলাম। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস পড়াটা সেই থেকে নেশার মত ছিল। ভাবতাম যদি কোনোদিনো সুযোগ আসে এসব নিয়ে লিখতেই হবে। বাবার কর্মজীবনের অবসর নেওয়ার দিন আমার লিখে দেওয়া ফেয়ারওয়েলের বক্তৃতা খুব সমাদৃত হল। জনপ্রিয় মিষ্টির দোকান কেসি দাস এর বাড়ির মেয়ে ছিল আমার অতি প্রিয় সহপাঠী। তার বাবা মায়ের পঁচিশ বছরের বিবাহবার্ষিকীর জন্য একটি লেখা লিখতে বলা হয়েছিল আমাকে। আর সেটি ছাপিয়ে অতিথিদের হাতে হাতে দেওয়া হয়েছিল। তখন আমি ঊণিশ বছরের যুবতী।কলকাতার নামীদামী প্রচুর মানুষ সেই কাগজটি পড়ে তারিফ করেছিলেন। এর ফাঁকে ফাঁকে চলত পত্রসাহিত্য। বন্ধু, দিদি, বৌদি সকলকে হাতে লেখা চিঠি লেখা ছিল আমার নেশা। সকলে চিঠি পাবার লোভে চিঠি লিখত আমায়। 

এর মধ্যে আন্তর্জাল এসে জীবনের আদ্যোপান্ত কেমিষ্ট্রিটা বদলে দিল। রোজ রাতে শুতে যাবার আগে ডায়েরী লেখাটা শুরু হল হঠাত করে কিন্তু কালি-কলমে নয়, ডিজিটাল ডায়েরীতে। ২০০৮ সালে পা রাখলাম ব্লগ দুনিয়ায়। বহুদিনের অযত্নে আমার কলম কে শানিয়ে নিলাম রোজ। তারপর বিভিন্ন কমিউনিটি ব্লগ আর ই-ম্যাগাজিনে লেখালিখি শুরু করলাম। 

তোমার লেখার রেঞ্জ বিচিত্র। এই উপন্যাস, গল্প তো ঐ ভ্রমণকাহিনী, রান্নার বই। 
এত বৈপরীত্য মেলাও কোন ম্যাজিকে ?





দেখ আমি মনে করি যে লিখতে পারে তার পক্ষে সাহিত্যের সব আনাচকানাচ নেড়েচেড়ে দেখাটা খুব একটা শক্ত কিছু নয়। ছোট্টবেলা থেকে একজন শ্রদ্ধেয়া সাহিত্যিককে দূর থেকে একলব্যের মত শ্রদ্ধা করে এসেছি। তিনি আমাদের সকলের প্রিয় নবনীতা দেব সেন। তাঁর ভ্রমণকাহিনী পড়তাম আর ভাবতাম যদি কোনোদিন ভ্রমণকাহিনী লিখি এনার মত লিখতে হবে যেখানে ভ্রমণবেত্তান্ত শুধুই গেলাম, খেলাম আর দেখলাম হবেনা। তার মধ্যে থাকবে রম্যরস। সুচারুভাবে পরিবেশিত হবে ভ্রমণস্মৃতি আর পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তুলে ধরতে হবে দ্রষ্টব্য স্থানটি নিয়ে যাতে পাঠকের মনে দাগ কাটে। সাহিত্যের সব ধারায় এই প্রণম্য লেখিকার বিচরণ।

ঠিক তেমনি রসরচনায় আমার গুরু হলেন সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়। ছোটবেলা থেকে এদের লেখা পড়ে বড় হতে হতে কেমন করে আমিও যেন লিখতে শুরু করে দিলাম ভ্রমণকাহিনী, রম্যরচনা। এভাবেই প্রথম ভ্রমণকাহিনী "থাণ্ডার ড্রাগনের দেশে' বেরুল ২০১০ সালে দৈনিক স্টেটসম্যানে। তারপর ভ্রমণবেত্তান্ত লেখার নেশায় পেয়ে বসল। যেখানে বেড়াতে যেতাম অনলাইন রোজকার আপডেট লিখতাম নিজের ব্লগে।

এর ফাঁকে আরেকটা কথা বলি । তদ্দিনে অর্কুট উঠোনে কবিতার বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে আর ফেসবুক বারান্দাতো উপছে উঠল বন্ধুতায় । থোড়বড়ির জঞ্জালে, আমার মুক্তি হল আলোয় আলোয় । এ সংসারে কিছুই যাবেনা ফেলা । তাই ব্লগে রাখা একরাশ কবিতারা বই হতে চাইল । এহেন নগন্য বেকার হোমমেকারের প্রথম বই হয়ে ছেপে বেরুলো ২০০৯ এ । এবং দ্বাদশ বেহালা বইমেলায় সেটি প্রথম পুরষ্কারও পেল। লেখালেখির উৎসাহ প্রবল হল। তবে বইপ্রকাশ করতে এসে শ্রদ্ধেয় জয় গোস্বামী বলে গেলেন গল্প লিখতে আর রোজ এক পাতা করে উপন্যাস লিখতে। তারপর কেমন করে গল্প আর উপন্যাসে যে ঢুকে গেলাম তা নিজেই জানিনা। 

প্রথম গল্প "প্যাটিপিসির আর্মাণি আর্শি' প্রকাশিত হল ২০১১ সালে দেশ পত্রিকায়। গল্প লেখার খিদে বাড়ল। বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় গল্প পাঠাতে লাগলাম। ছাপাও হল বেশ কিছু গল্প। এর ফাঁকে ফাঁকে নিয়মিত ব্লগ লেখা চালিয়ে গেছি। নানা ধরণের গদ্য লিখে হাত সড়গড় করেছি। আর যে যেখানে লেখা চেয়েছে তাকে ফেরাইনি। বুক রিভিউ, সিনেমার রিভিউ, ফিচার, স্মৃতিকথা সব লিখেছি। বেড়াতে গিয়েছি। সঙ্গে সঙ্গে ভ্রমণকাহিনীও লিপিবদ্ধ করেছি। এভাবেই লিখে চলেছি এখনো। 

আর রান্নাবান্না? তার নেশাও ছোট থেকেই। সেই গুণ রপ্ত করেছি মায়ের কাছ থেকে। শুধু রান্না নয়, কেমন করে তাকে দৃষ্টিনন্দন ভাবে পরিবেশন করা সেটায় ছিল চরম আগ্রহ। 

রান্নাঘরে ইনোভেশান আরেকটি ভালোলাগার ঠেক । আবার সেই একফোঁটা ঋণ আন্তর্জালের কাছে। তাই ডিজিটাল সৃষ্টিরহস্যে মাতল কিচেন ব্লগ । নতুন রেসিপি, প্রেজেন্টেশানের কায়দা, আর ক্লিক ক্লিক ! ২০১৩তে ছেপে বেরুলো এহেন গৃহিণীর হেঁশেল বই ! এভাবেও নারীমুক্তি সম্ভব ! ম্যাজিক নয় আসলে কোনোকিছুর প্রতি অদম্য টান অনুভব করলেই সেটা করা যায় বলে আমি মনে করি। তবে এই ডিজিটাল প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে নিতে পারতাম না যদি আমার ঘরের মানুষটির গাইডেন্স না পেতাম। 

দুর্দান্ত কীর্তন গাইতে পার। সঙ্গীতের অন্যান্য ধারাতেও সমান স্বচ্ছন্দ। 
তোমার শিক্ষাগুরু কে? বৈষ্ণব পদাবলী সাহিত্যকে কি কোনভাবে কাজে লাগিয়েছ তোমার লেখায়?





গান আমার আরেকটা ভালোবাসার ঠেক। কীর্তণে নাড়া বেঁধেছিলাম মায়ের কাছে । আমার জ্যেঠামশাই স্বর্গীয় জহরলাল বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন বেতার শিল্পী। উনি হাতে করে ক্লাসিক্যালে তালিম দিতেন। সুযোগ পেলেই রেওয়াজ করাতেন। আর মামার বাড়িতে আমার দাদু ছিলেন পরম বৈষ্ণব। তাই প্রতি রবিবার খোল করতাল, খঞ্জীরা নিয়ে কীর্তণের আসরে বসতেই হত মাত্র পাঁচ বছর বয়স থেকে। মায়ের পাশে বসে শুনতে শুনতে কেমন করে কীর্তণও আমার সহজাত হয়ে উঠল। প্রচুর গুরু বদল হয়েছে তাই সঙ্গীত ভাণ্ডারে যা আছে তা এই জীবনে গেয়ে ফুরোতে পারলে আমি নিজেকে ধন্য মনে করব। 

আগেই বলেছি বাংলাসাহিত্যের ইতিহাস আমার একটা ভালোলাগার বিষয়। আর সেখানে অনেকটা স্থান জুড়ে রয়েছে বৈষ্ণবসাহিত্য। এবার মায়ের কাছ থেকে প্রচুর বই এবং পুঁথি সংগ্রহ করেছি যেগুলি দুষ্প্রাপ্য। আর কীর্তণের স্ক্রিপ্ট লিখতে বসে বারেবারেই ভেবেছি এই নিয়ে বড় গল্প বা উপন্যাস লিখলে কেমন হয়। আমার নিজস্ব একটি প্রোডাকশান আছে "কীর্তন কোলাজ' নামে। তা থেকেই জন্ম নিয়েছে আমার একটি অণু উপন্যাস "জন্মান্তর' (পুরুলিয়া দর্পণ পুজোসংখ্যায় প্রকাশিত) 

নানুরে চন্ডীদাসের ভিটে, কেঁদুলিতে কবি জয়দেবের মন্দির সব পরিদর্শণ করে এই দুই কবির সাধনমার্গের কথা এবং রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা মিলেমিশে একাকার হয়েছে আধুনিক প্রেক্ষাপটে, যেন নতুন করে কবিজন্ম হয়েছে তাঁদের এই উপন্যাসটিতে। 

তোমার শিক্ষাগত যোগ্যতা যা, দিব্যি এম এন সি তে বিশাল অঙ্কের চাকরি করতে পারতে। 
তোমার এই চয়েসটা কি স্বেচ্ছাকৃত? কেন?





রসায়নে গবেষণা করে একটা জব্বর চাকরী হয়ত হত কিন্তু নিজের মনের খিদে মেটানোর এই জায়গাগুলো অর্থাত লেখালেখি, গানবাজনা, রান্নাবান্না এগুলোর জন্য আফশোস থেকে যেত। আসলে আমি একটা শান্তিপূর্ণ সংসার চেয়েছিলাম। যেখানে থেকে আমি সব কিছু করতে পারব। রক্ষণশীল শ্বশুর বাড়ি ঘরে বসে যা কিছু করতে বলল। কিন্তু আমার যা সাবজেক্ট তা ল্যাবরেটরি ওরিয়েন্টেড। অতএব লেখা, গান আর বাড়ীতে পড়ানো নিয়ে বেশ থাকতাম। আরেকটা কথা। স্বামীর চাকরী এবং সন্তান মানুষ করার তাগিদে গবেষণা কে হয়ত প্রায়োরিটি দিই নি তবে মনের খিদের আশ না মেটাতে পারলে বোধহয় আরো বেশী গুমরে মরতাম। লেখা আর গান আমাকে সেই মরণের হাত থেকে রক্ষে করেছে। তুমি বলবে অনেক মেয়ে চাকরী, গবেষণা চালিয়েও গান, লেখা দিব্য সামলাচ্ছে । সংসারে তারা সেদিক থেকে আমার চেয়ে ভাগ্যবতী। 

মাত্র তেইশবছরের পোষ্টগ্র্যাজুয়েট সদ্য পরিণীতা এককথায় সমঝোতায় এসে কেরিয়ার বিসর্জনই দিয়েছিল...সেটাই সত্য আমার জীবনে। আর লিখে আর গান গেয়ে মানুষের যা ভালবাসা পাচ্ছি তা বোধহয় ফ্যাটি পে প্যাকেটের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। ভালবাসাই তো এখন সংসারে অপ্রতুল। 

আরেকটা কথা এ বিষয়ে অবশ্যই বলে রাখি, সায়েন্স কলেজে পড়বার সময় রিসার্চ ল্যাব, গাইড নিয়ে এদেশের রিসার্চের যে রকম ন্যক্করজনক প্রোলঙগড পরিকাঠামোর চাপানউতোর দেখতাম, শুনতাম তাতে মনে হয় জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সময়টুকু ল্যাবে অতিবাহিত হয়ে যেত। তার ফলে না পেতাম একটা শান্তির সংসার না ভাল করে মানুষ করতে পারতাম ছেলেকে। এই প্রসঙ্গে বলি ছেলের জন্য কোনোদিন গৃহশিক্ষক রাখিনি। তাকে নিজের মত করে পড়িয়েছি। সেটাই আমার সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা। 

তুমি খুব ভালো সংগঠক । তোমার সময়ানুবর্তিতা, শৃঙ্খলাপরায়ণতা অনুকরণযোগ্য। 
এই শৃঙ্খলা কি একজন লেখককে কিছুটা হলেও এগিয়ে দেয়?





যে কোনো কাজেই সময়ানুবর্তিতা এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ হওয়াটা খুব জরুরী। আগের দিন রাতেই যদি পরদিন কি কি কাজ করব ভেবে না রাখা যায় তাহলে কিন্তু এলোমেলো হয়ে যায় জীবন। আরেকটা কথা হল ভোরবেলা ঘুম থেকে ওঠা। দিনের শুরুতেই হাতে অনেকটা সময় পাওয়া যায়। আর এসব পাওনা আমার মায়ের কাছেই। মা হলেন আমার জীবনের অন্যতম গ্রুমার। 



তোমার নেতৃত্বে "গল্পবৈঠক' অল্পদিনেই নজর কেড়েছে সাহিত্য মহলে। 
এটির ভবিষ্যত নিয়ে তোমার কোন বিশেষ পরিকল্পনা আছে?





দেখ আমরা অনেকেই টুকটাক লিখি। কারো লেখা প্রকাশিত হয় কারো হয় না। আর বাংলায় কবিতাপাঠ হয় রমরমিয়ে। সেই অনুপাতে গল্পপাঠ হাতে গোনা যায়। সেই ভাবনা থেকেই গল্পবৈঠকের জন্ম। আমরা যারা লেখালেখি করি তাদের সকলকে এক ছাদের নীচে নিয়ে আসাটাই গল্পবৈঠকের লক্ষ্য। অনেকেই ভাল লিখছেন আজকাল কিন্তু তারা একটু লাইমলাইটে এলে উত্সাহিত হয়। নিজের গল্প পাঠে যে আনন্দ তা যিনি গল্পের লেখক তিনিই জানেন একমাত্র। সেই আনন্দ কিছু সমমনস্ক লেখক বন্ধুদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া। সেই গল্পের আলোচনায় উঠে আসে গল্পের খুঁত কিম্বা আরো কি করে গল্পের উত্কর্ষতা বাড়ে সেদিকেও নজর দেওয়া যায়। তাই এই গল্পবৈঠকের আয়োজন। 

ব্লগ চালাও। আদ্যন্ত ডিজিটাল। ই বুক নিয়ে কি ভাব? 
আগামীতে প্রিন্ট ম্যাগাজিন আর ব্লগজিনের মধ্যে কে টিকবে মনে হয়?





ঐ যে আগেই বলেছি আন্তর্জালের কাছে আমি এই সাহিত্যচর্চার ব্যাপারে আদ্যোপান্ত ঋণী। এই প্রযুক্তির জন্যই আজ ব্লগদুনিয়ায় পা রাখা। আমার নিজের ব্লগ চারটি। মূল ব্লগ সোনারতরী, ভ্রমণ ব্লগ চরৈবেতি, রম্যরচনার ব্লগ রসকলি আর কবিতার ব্লগ ছিন্নপাতা। নিয়মিত ব্লগ না লিখলে বুঝি থেমে থাকত সাহিত্যচর্চা। আর আমার সম্পাদনায় ই-পত্রিকা প্যাপিরাস উত্সব সংখ্যা প্রকাশিত হয় বছরে দুবার। এই পত্রিকার সাতবছর পূর্ণ হল। প্রিন্ট পত্রিকার পাশাপাশি ই-পত্রিকার বাড়বাড়ন্ত দেখে মনে হয় ই-পত্রিকাই সাহিত্যচর্চার ভবিষ্যত। অত্যন্ত কম খরচে এই পত্রিকা ডিজিটালি প্রকাশ করায় অনেক সুবিধা।

আর হাতের মুঠোয় ফোন বা ট্যাব থেকে পড়ার সুবিধা। আর ডিজিটাল এই মাধ্যমটি খুব ইকোফ্রেন্ডলি। যে হারে পরিবেশের দূষণ বাড়ছে তাতে গাছ কাটা বোধহয় অদূর ভবিষ্যতে সম্পূর্ণ বন্ধই হয়ে যাবে। তখন কোথায় কাগজ আর কোথায় কালি? ই-বুক ই হবে ভরসা আমাদের। 

"কলাবতী কথা' তো তোমার প্রথম উপন্যাস ? খানিকটা গবেষণাধর্মী। তোমার লেটেস্ট উপন্যাসটি নিয়ে কিছু বলতে চাও? কিভাবে এটির আইডিয়া এল, এর পেছনে কিভাবে ওয়ার্ক আউট করেছ? 





প্রথম উপন্যাস 'কলাবতী কথা' লিখেছিলাম দু'বছর ধরে। তখন খড়গপুরে থাকতাম। প্রত্যন্ত সব গ্রাম, মন্দির ঘুরে দেখেছিলাম। পটশিল্পীদের খুব কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল। মানুষকে খুব কাছ থেকে দেখেছিলাম। আর বীরভূমের প্রত্যন্ত সব গ্রাম ঘুরে মাদল নাচিয়েদের জীবনযাত্রার সঙ্গে পরিচিত হতে পেরেছিলাম। সেগুলো কেন্দ্র করেই একটি আদিবাসী মেয়ের জীবনের উত্তরণের কাহিনী এই 'কলাবতী কথা'। 

আর দ্বিতীয় উপন্যাস ‘ ত্রিধারা” হল তিন যুগের তিনজন মেয়ের গল্প। যেখানে রয়েছে তাদের সাংসারিক টানাপোড়েন, বর্তমান যুগের কিছু সমস্যা যেমন লিঙ্গ বৈষম্য, বাইসেক্সুয়ালিটি, লিভ টুগেদারের মত স্পর্শকাতর কিছু বিষয়। তিন প্রজন্মের এই নারীর জীবনে অদ্ভূত এক ঘটনা ছিল । তাকে সাদৃশ্য, কাল্পনিক নাকি নিছক অলৌকিক বা কাকতালীয়... যা পাঠককে দাঁড় করায় যুক্তিতর্ক এ সবের ঊর্ধ্বে থাকা এক অদ্ভুত মায়াময় অলৌকিকতায়। মধ্যপ্রদেশের অভ্যন্তরে ভীমবেটকার গুহা দেখে এসে যশোধরার দশবছরের বিবাহিত জীবন সফল মাতৃত্বের আস্বাদ পায় । মায়ের ডায়েরী পড়ে স্রগ্ধরাও ঐ অঞ্চলে যায় । সেখানে গিয়ে সেও অন্তঃসত্ত্বা হয়। আর এই দুই ঘটনার মধ্যে অদ্ভূত মিল খুঁজতে হবে পাঠককে যা খুঁজে বেড়ায় শ্রীধারাও। সেও এক ঘটনার সাক্ষ্য বহন করে চলে । স্থান ও কালের এক চরম আবর্তের মধ্যে সে খুঁজতে থাকে সাদৃশ্য । অজানা এক উত্তর তাকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায় মধ্যপ্রদেশের গুহায়, পাহাড়ে, মন্দিরে। অন্তঃসলিলা নদীর বহমানতার মত চলতেই থাকে সেই অনুসন্ধিত্সা, যা হল ত্রিধারার ট্র্যাডিশান। 

২০১২ তে ভীমবেটকার গুহা দেখে এসে এই উপন্যাসের বীজ বোনা শুরু। তারপর সেই ভাবনা রূপায়িত হল এদ্দিনে। 

বাংলার লোকাচার, সংস্কৃতি, ধর্মীয় রীতি, পুজো পার্বণ নিয়ে প্রচুর লেখ। 
এটি কি বিশেষ কিছু ভেবে না কি শুধুই ভালোলাগা?





বাংলার পুজোপার্বণ, লোকাচার এসব নিয়ে লিখতে খুব ভাল লাগে। আসলে আমি গঙ্গাতীরের এমন একটি ঘটি পরিবারে জন্মেছি যেখানে এইসব কিছু নিয়েই আমার ছোটবেলা থেকে ওঠাবসা। মা, ঠাম্মা, দিদার মুখে প্রচুর লৌকিক গল্প, কিংবদন্তী শুনে বড় হওয়া। তাই এইসবের মধ্যে দিয়েই নিজেকে এখনো বয়ে নিয়ে যাওয়া এই আর কি। কেউ না জানালে এগুলো তো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে।

এগুলো তো বাংলার মূল সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রতো ভাবে জড়িত, তাই নয় কি? তাই লিখি এসব নিয়ে আর প্রচুর পড়ি। 

সংসার, ছেলে মেয়ে মানুষ করা, লেখালেখি সবকিছুকেই দুর্দান্ত সামলাচ্ছে আমাদের মহিলা সাহিত্য কর্মীরা। মনে হয় না কোথাও তারা বলে বলে গোল দিয়েছে পুরুষ সাহিত্যিকদের ? এটা কি কেবল দশভুজার জাত বলে সম্ভব না কি এর পেছনেও কোন অসহায় করুণ কাহিনী? তোমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা কি?




এই প্রশ্নটা খুব ভাল। মেয়েদের ঈশ্বর দশভুজা করেই পাঠিয়েছেন এ সংসারে। তাদের পোটেনসিয়াল আছে বলেই তারা একহাতে ঝিনুকবাটি অন্যহাতে অফিস কাছারি অথবা এক হাতে কলম ধরে, অন্যহাতে লড়াই করে। পুরুষ সাহিত্যিকরা সেই তুলনায় অনেকটাই ঈশ্বরের আশীর্বাদ ধন্য। তাঁরা যখন লিখতে বসেন তখন শুধু লিখতেই থাকেন। আর আমরা মেয়েরা? যখন লিখতে বসি তখনি শাশুড়িমায়ের দাঁতের যন্ত্রণার ওষুধ খুঁজে দিতে হয় কিম্বা ধোবির জামাকাপড়ের হিসেব নিতে হয় অথবা কাগজওয়ালার পাওনা মেটাতে হয় আবার ভাতের হাঁড়ি নামিয়ে কর্তা কে অফিসের ভাতও দিতে হয়।

মেয়ে লেখকরাও ভরা পোয়াতির দিনেও লেখে আবার সন্তান কে দুধ খাওয়াতে খাওয়াতেও লেখে... তাদের আধারটা পুরুষদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। 


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.