x

আসন্ন সঙ্কলন

গোটাকতক দলছুট মানুষ হাঁটতে হাঁটতে এসে পড়েছে একে অপরের সামনে। কেউ পূব কেউ পশ্চিম কেউ উত্তর কেউ দক্ষিণ... মাঝবরাবর চাঁদ বিস্কুট, বিস্কুটের চারপাশে লাল পিঁপড়ের পরিখা। এখন দলছুট এক একটা মানুষ এক হয়ে হাঁটছে চাঁদ বিস্কুটের দিকে। আলাদা আলাদা মানুষ এক হয়ে হাঁটছে সারিবদ্ধ পিঁপড়েদের বিরুদ্ধে। পথচলতি যে ক'জনেরই নজর কাড়ছে মিছিল তারাই মিছিল কে দেবে জ্বলজ্বলে দৃষ্টি। আগুন নেভার আগেই ঝিকিয়ে দেবে আঁচ... হাত পোহানোর দিন তো সেই কবেই গেল ঘুচে, যেটুকু যা আলো বাকী সবটুকু চোখে মেখে চাঁদ বিস্কুট চেখে চেখে খাক এই মিছিলের লোক। মানুষ বারুদ কিনতে পারে, কার্তুজ ফাটাতে পারে, বুলেট ছুঁড়তে পারে খালি আলো টুকু বেচতে পারেনা... এইসমস্ত না - বেচতে পারা সাধারণদের জন্যই মিছিলের সেপ্টেম্বর সংখ্যা... www.sobdermichil.com submit@sobdermichil.com

অতিথি সম্পাদনায়

মৌমিতা ঘোষ

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

মৌমিতা ঘোষ

বুধবার, জানুয়ারী ৩১, ২০১৮

কোয়েলী ঘোষ

sobdermichil | জানুয়ারী ৩১, ২০১৮ |
কাউন্সেলিং
রটা অন্ধকার । ডাক্তারবাবু বললেন --- ওই নীল আলোটার দিকে তাকিয়ে থাকুন । এই আমি আপনার পায়ের আঙুল স্পর্শ করছি । অবশ হয়ে যাচ্ছে । এবার পায়ের পাতা -- অবশ হয়ে আসছে ----এই পা ---এই হাঁটু --
ঘুম ---ঘুম --- ঘুমে  চোখ   জড়িয়ে আসে ----   একটা মুখ  আবছা ভাসে --- মুখটা কোথায় হারিয়ে  যাচ্ছে কোথায় ----

কদিন  হল   হোমে এসেছে  এই বৃদ্ধা । ফুটপাতে বসেছিল , পরনে নোংরা শাড়ি ,বিড়বিড় করে কি যে বকে । কেউ একবার দেখেই চোখ ফেরায়  কিন্তু ইনি যে  ফুটপাত বাসী নন  , সে চেহারা দেখলেই বোঝা যায় । সহৃদয় এক  মহিলা গাড়ি করে   হোমে দিয়ে  গেছেন  । হোমে কিছু  পাগল আছে , কিছু টাকাও তিনি দিয়ে গেছেন ।
 বৃদ্ধার   সব  স্মৃতি যেন কোন বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে গেছে ।নাম ,ধাম   কিছুই বলতে পারেন না ।   হোমে তার কাউন্সেলিং , ওষুধ চলতে থাকে ।

সেই আবছা মুখটা স্পষ্ট হয়ে   আসে একদিন । একটা বাড়ি যেখানে শুধু অশান্তি । সবাই   জোরে কথা  বলে ,নিজেদের মধ্যে অশান্তি লাগিয়েই রাখে । যাও ,বেরিয়ে যাও--- শুনে আর দুবার ভাবে নি নীলা । অর্ককে  বুকে  জড়িয়ে পালিয়ে এসেছিল সে ।তারপর ভাড়া  বাড়িতে থেকে ,  স্কুলের  চাকরি করে , কিভাবে যে   মানুষ করে  ফেলল , জানে  না । অর্কর প্রতিটি দুর্দান্ত রেজাল্ট তাকে যে  কি  শান্তি দিত , আনন্দে ,গর্বে বুকের  ভিতর হাজার  সিম্ফনি   । একে একে টপকে টপকে পার হয়ে গেল সব  গণ্ডি ।তারপর বিদেশে চাকরি ,অনেক মাইনে ।

মনে পড়েছে সব ?
হ্যাঁ ডাক্তার বাবু , আমার একটাই ছেলে ,আর কেউ নেই । ওকে অনেক কষ্টে মানুষ করে আমেরিকা পাঠিয়েছি । তারপর সে   আর   আসে  না  ---- কত অপেক্ষা -- কত ফোন ----
ফোন নম্বর মনে আছে ?
চোখ বন্ধ করে নম্বর বলে যায় -- রিং বাজছে --- নিন ,কথা বলুন --

হ্যালো খোকা ,আমি  মা বলছি রে , খুব  অসুস্থ্য , একবার  বাড়ি আয় --আকুল কণ্ঠস্বর ।
ও প্রান্ত নীরব ,ফোন কেটে দেওয়ার শব্দ ।

ফোনটা আস্তে আস্তে   নামিয়ে রাখে নীলা । আস্তে   আস্তে মাথা নড়ে --- ডাক্তারবাবু আমার কেউ নেই । আর কোন আশা নেই ,কোন অপেক্ষা ।  আমি এই পাগলদের মাঝেই বাকি জীবনটা কাটিয়ে দিতে চাই । এখানেই একটা কাজ দিন আমাকে --

ঘড়িটা টিক টিক শব্দে বেজে যাচ্ছে । এই সময় ,এই ক্ষত ,এই রক্তক্ষরণ বাইরে দেখা যায় না ।অর্ক কি এখন ঘুমিয়ে পরেছে ? সে কি ওদেশে বিয়ে করেছে ? না ,আর    ভাবনা নয় । তবু   কেন যে    ভাবনা আসে ? পাশ ফিরে শোয় নীলা । একটা মুখ আবছা   হয়ে আসে ।
বাইরে ঘন কাল  রাত্রি । একটা কুকুর বিশ্রী ভাবে কেঁদে ওঠে ।



Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.