x

প্রকাশিত বর্ষপূর্তি সঙ্কলন

দেখতে-দেখতে ১০ বছর! শব্দের মিছিলের বর্ষপূর্তি সংকলন প্রকাশের সময় এ খুব অবিশ্বাস্য মনে হয়। কিন্তু অজস্র লেখক, পাঠক, শুভাকাঙ্ক্ষীদের সমর্থনে আমরা অনায়াসেই পেরিয়ে এসেছি এই দশটি বছর, উপস্থিত হয়েছি এই ৯৫ তম সংকলনে।

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

বুধবার, জানুয়ারী ৩১, ২০১৮

দীপঙ্কর বেরা

sobdermichil | জানুয়ারী ৩১, ২০১৮ | | | মিছিলে স্বাগত
 রাষ্টের সাংসারিক ভাবনা
যেমন ধরুন আপনি সংসারের মালিক। আপনি সংসার চালানোর জন্য প্রথমে দুমুঠো খাওয়া ও পরার ব্যবস্থা করবেন। তারপরে থাকার। তারপরে অন্যান্য। 

এখন খাওয়া পরা ও থাকার ব্যবস্থায় নানান ভ্যারাইটি। ফলে এই সবের চাহিদা আকাশচুম্বী। যা আপনি শত চেষ্টা করেও পরিবারের মনের মত বানাতে বা তুলে দিতে পারবেন না কিংবা এটাই সবচেয়ে সুন্দর ভাবতে বা ভাবাতে পারবেন না। প্রতিদিনই আরো ভালো আরো ভালো এসে যাবে। এখন যেমন রোজই মোবাইল বদল হচ্ছে। 

তাই সংসার চালানোর জন্য এগুলোর মিনিমাম ব্যবস্থা করলেই হল। অর্থাৎ না হলে নয় বা নিজস্ব সামর্থ্য অনুযায়ী বন্দোবস্ত করে বাদ বাকী আপনি নিশ্চয় আপনি আপনার পারিবারিক আত্মিক উন্নতির দিকে দৃষ্টিপাত করবেন। 

পারিবারিক এই আত্মিক দৃষ্টিপাতের প্রথমে এসে পড়বে ছেলেমেয়ের পড়াশুনা এবং পড়াশুনা সংক্রান্ত ভাবনাচিন্তা। এই বিষয়ে আপনি যতটা সামর্থ্য প্রয়োগ করবেন তার পুরোটাই সুদে আসলে আপনার কাছে ফিরে আসবে। সুদে আসলে মানে জীবনের লক্ষ্যে। 

সামর্থ্যের সাথে সাথে আপনার বাদবাকী চিন্তা ভাবনার ফোকাশ যদি এই সংক্রান্ত বিষয়ের উপর থাকে তাহলেই পারিবারিক এবং সামাজিকভাবে সবচেয়ে বড় আত্মিক উন্নতি লাভ হবে। 

কেন না গাড়ি বাড়ি ব্যাংক ব্যালেন্স আসবে যাবে কিন্তু আত্মিক উন্নতি যা সমাজের বুকে আপনাকে ও আপনার পরিবারের সামাজিক জীবন যাত্রা সুন্দর থেকে সুন্দরতম অবস্থানে পৌঁছে দেবে। 

এই আত্মিক উন্নতির ভাবনা সংসারের মধ্যে যতটা ভাবিত ঠিক ততটাই রাষ্ট্র ভাবনার মধ্যে ভাবিত হওয়া উচিত। তাহলে সেই দেশ এবং দেশের মানুষ আরো আত্মীক উন্নতি লাভ করবে। দেশও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে। 

আত্মার সাচ্চা ভাবনাই আত্মিক উন্নতি। যে যত বেশি বিষয় জানবে সে তত বেশি অগ্রবর্তী হবে। এই বিষয় জানা বা জানানোর জন্য পড়াশুনা খুব জরুরী। যে সংসার এই ভাবনায় আবর্তিত প্রসারিত সেই সংসার সুখ শান্তি ও সমৃদ্ধির শীর্ষচূড়ায় অবস্থিত। 

তেমনি রাষ্ট্রকেও এই বিষয়ে সবচেয়ে বেশি ভাবতে হবে। যতটা সম্ভব পড়াশুনা এবং পড়াশুনা সম্পর্কিত ভাবনায় ফোকাস থাকবে ততই সেই সংসার এবং রাষ্ট্র উন্নতির সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে যাবে। 

যেমন, শরীর খারাপ হলে ডাক্তারের কাছে যেমন যেতে হবে তেমনি ভবিষ্যতে যাতে আর না ডাক্তারের কাছে যেতে হয় সে ব্যাপারেও প্রত্যেককে ভাবতে হবে। এই ভাবনার জন্য শিক্ষা চাই। 

যে দু চার টাকা আয় করলেন সেটা কিভাবে খরচ করবেন, সবাইকে খুশি করবেন, কতটা ভবিষ্যতের জন্য জমা রাখবেন ইত্যাদি ভাবা দরকার। আর তার জন্য শিক্ষা দরকার।

তার মানে মালিক হয়ে আপনার প্রধান কর্তব্য মিনিমাম সংস্থানের পরেই ম্যক্সিমাম শিক্ষা ও শিক্ষাসংক্রান্ত বিষয়ে সমস্ত সামর্থ্য প্রয়োগ করা। আর্থিকের সাথে সাথে ছেলে বা মেয়ে কেমন পড়ছে। কোথায় পড়লে আরো ভাল হবে। বাড়িতে কি কি বই ফলো করছে ইত্যাদি পড়া সংক্রান্ত বিষয়ে আপনার সংস্থান যেন আবর্তিত হয়। তাহলে সাফল্য আসবেই। 

রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রপ্রধানের উচিত অন্য সব কিছু মিনিমাম সংস্থান করে শিক্ষাবিষয়ে ফোকাস করা। শিক্ষার ব্যাপারে যেন কোন ফাঁক না থাকে। সে সরকারী হোক, বেসরকারী হোক, আধা সরকারী হোক বা প্রাইভেট। সমস্ত অবস্থানে শিক্ষা ঠিক মত চলছে কি না সেই ব্যাপারে নজরদারি নিয়ে ভাবা উচিত। 

অর্থাৎ শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। আর শিক্ষার প্রধান মেরুদণ্ড হল শিক্ষক। তাই যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক ছাড়া কখনওই নিয়োগ নয়। রাষ্ট্রে প্রচুর বেকার তাই লাখো লাখোর মধ্যে থেকে কাকে আর বাছব তার চেয়ে ডিগ্রী দেখে ঢুকিয়ে দিলে হল। তাতে রাষ্ট্রের ক্ষতি এগিয়ে চলছে। সংসারের ক্ষেত্রে ছেলেমেয়েকে ওই তো পড়াচ্ছে হল না তো কি করব? এর রকম ভাবলে তেমনই হবে। 

শিক্ষা পেলে রোগ জ্বালা কমে যাবে। প্রশাসন যদি ঠিক থাকে তাহলে সঠিক শিক্ষা নিলে যে যার কাজ পাবে। দুর্নীতি কমবে। দুর্নীতির সাথে না জড়িয়ে প্রশাসনের কাজ কমবে। 

না হলে 'আস্তে চালান জীবন বাঁচান' SAVE DRIVE SAFE LIFE শুধু পোস্টার হিসেবে থেকে যাবে। ভাবুন তো, না হলে নিজের জীবন নিজেই বাজি রাখে? নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য অন্যকে উপদেশ দিতে হচ্ছে তাও সে শুনছে না। কেন? 

ঠিক একই অবস্থান অনেক সংসারে ছড়িয়ে পড়ছে। 

বাবা মা বলছে, শিক্ষক বলছে, প্রতিবেশী বলছে কিন্তু ছেলেমেয়ে শুনছে না। আবার বাড়ির বয়স্ক বলছে কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক শুনছে না। 

এই একের ভাল কথা অন্যকে শোনানোর জন্য শিক্ষা দিতে হবে। রাষ্ট্রীয় ভাবনায় এই পদক্ষেপ নেওয়া খুব জরুরী। আপনি বলতেই পারেন ওই তো বললাম শুনলো না তো কি করব? তা কিন্তু নয়। শুনলে যতটা লাভ না শুনলে ততটাই ক্ষতি। কিন্তু দুটো ক্ষেত্রে সবটাই দায় সংসারের ক্ষেত্রে আপনার আর রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের।

কেন না, কেন শুনছে না সেই ব্যাপারটা ভেবে দেখেছি কি? সেই ব্যাপারে পর্যালোচনা করেছি কি? সংসারের বা রাষ্ট্রের বলার যেমন রাইট আছে তেমনি যাদের শোনার কথা তাদেরও না শোনার রাইট আছে। সংসারের ক্ষেত্রে বা রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে কোনটাকেই আপনি অ্যাভোয়েড করতে পারেন না। বক্তা ও শ্রোতা দুটোকেই গুরুত্ব দিলে সমাধান সূত্র মিলবে। 

এবং এর জন্য বক্তা ও শ্রোতা উভয়ের অবশ্যই শিক্ষা প্রয়োজন। এখন এই শিক্ষা কেন পায় নি তার সম্পূর্ণ দায়ভার কিন্তু বক্তার। এখানে সংসারের মালিকের এবং রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে রাষ্ট্র প্রধানের। তাই রাষ্ট্রীয় ভাবনা সংসারের পাদপৃষ্ঠে এবং সাংসারিক সেণ্টীমেণ্ট অনুযায়ী আর্বতিত হলে সংসার ও রাষ্ট্র উভয়ই ভাল চলবে।


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.