x

আসন্ন সঙ্কলন

গোটাকতক দলছুট মানুষ হাঁটতে হাঁটতে এসে পড়েছে একে অপরের সামনে। কেউ পূব কেউ পশ্চিম কেউ উত্তর কেউ দক্ষিণ... মাঝবরাবর চাঁদ বিস্কুট, বিস্কুটের চারপাশে লাল পিঁপড়ের পরিখা। এখন দলছুট এক একটা মানুষ এক হয়ে হাঁটছে চাঁদ বিস্কুটের দিকে। আলাদা আলাদা মানুষ এক হয়ে হাঁটছে সারিবদ্ধ পিঁপড়েদের বিরুদ্ধে। পথচলতি যে ক'জনেরই নজর কাড়ছে মিছিল তারাই মিছিল কে দেবে জ্বলজ্বলে দৃষ্টি। আগুন নেভার আগেই ঝিকিয়ে দেবে আঁচ... হাত পোহানোর দিন তো সেই কবেই গেল ঘুচে, যেটুকু যা আলো বাকী সবটুকু চোখে মেখে চাঁদ বিস্কুট চেখে চেখে খাক এই মিছিলের লোক। মানুষ বারুদ কিনতে পারে, কার্তুজ ফাটাতে পারে, বুলেট ছুঁড়তে পারে খালি আলো টুকু বেচতে পারেনা... এইসমস্ত না - বেচতে পারা সাধারণদের জন্যই মিছিলের সেপ্টেম্বর সংখ্যা... www.sobdermichil.com submit@sobdermichil.com

অতিথি সম্পাদনায়

মৌমিতা ঘোষ

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

মৌমিতা ঘোষ

বুধবার, জানুয়ারী ৩১, ২০১৮

অনিন্দিতা মন্ডল

sobdermichil | জানুয়ারী ৩১, ২০১৮ |
সরস্বতী মহাভাগে – বিবর্তনের ইতিহাস
ক্ষর দিয়ে নির্মাণ শব্দের। অক্ষরের আরেক অর্থ ব্রহ্ম। সুতরাং শব্দ ব্রহ্ম। শব্দের শক্তিতে মহীয়ান যারা আমাদের প্রনম্য, এ লেখা তাঁদের প্রতি একটি শ্রদ্ধার নিবেদন। সরস্বতী পুজো। বসন্ত পঞ্চমীতে সরস্বতীর আরাধনার নিদান। অতএব ধরে নিতে হবে শীতকালীন পঞ্চমীটিই বাসন্তীপঞ্চমী। সে যাই হোক, সরস্বতী পুজো আমাদের চিরাচরিত আনন্দ উৎসব। আজ একটু তলিয়ে দেখি এ পূজার উদ্ভব কবে ও কিভাবে হল। হিন্দু শাস্ত্রই বা কি বলছে। তার আগে আমাদের ধারণায় দেবী কেমন? তিনি শুক্লা শুভ্রবসনা বীণাবাদিনী ও ব্রহ্মবাদিনী। তিনি কুমারী, শুদ্ধবুদ্ধিদাতা, এবং আদ্যাশক্তি দেবীদুর্গার কনিষ্ঠা কন্যা। তিনি মানবকুলের সমস্ত রকমের বিদ্যার দাত্রী। বিদ্যাপ্রার্থী সব বাঙালি হিন্দু ঘরে তিনি পূজিতা। তিনি বাগদেবী। 

প্রথম বেদসংহিতাতে পাওয়া যায় সরস্বতীর নাম। তখন অবশ্য তিনি বাক ছিলেননা। স্বতন্ত্র দেবী ছিলেন। আরও তিনজন সুকর্মা দেবী, বাক, ইলা ও ভারতীর সঙ্গে সরস্বতীকে আহ্বান করা হয়েছে স্তোত্রে।(ঋগ্বেদ ১০/১১০/৮)। সরস্বতীসূক্ত ছাড়াও আরও প্রায় চল্লিশটি সূক্তে সরস্বতীর উল্লেখ আছে। ঋগ্বেদসংহিতা প্রথম মণ্ডলের তিনটি সূক্তে বিশ্বামিত্রপুত্র মধুচ্ছন্দা ঋষি গায়ত্রী ছন্দে নিম্নলিখিত তিনটি মন্ত্র রচনা করেন। যথা - 

পাবকা নঃ সরস্বতী বাজেভির্বাজিনীবতী। যজ্ঞং বষ্টু ধিয়াবসুঃ।।১০

অনুবাদ - পবিত্রা, অন্নযুক্তযজ্ঞবিশিষ্টা, ও যজ্ঞফলরূপধনদাত্রী সরস্বতী আমাদের অন্নবিশিষ্ট যজ্ঞ কামনা করুন।

চোদয়িত্রী সূনৃতানাং চেতন্তী সুমতীনাং। যজ্ঞং দধে সরস্বতী।।১১

অনুবাদ - সুনৃত বাক্যের উৎপাদয়িত্রী, সুমতি লোকদের শিক্ষয়িত্রী সরস্বতী আমাদের যজ্ঞ গ্রহণ করেছেন।

মহো অর্ণঃ সরস্বতী প্রচেতয়তি কেতুনা। ধিয়ো বিশ্বা বিরাজতি।।১২ 

অনুবাদ - সরস্বতী প্রবাহিত হয়ে প্রভূত জল সৃজন করেছেন, এবং সকল জ্ঞান উদ্দীপন করেছেন।


আদি বেদে এমন প্রাধান্য পেয়েছেন এই দেবী যে এখনও এ নিয়ে কম জল্পনা হয়না। বহু গবেষক সরস্বতীকে দেবী না বলে নদী বলেছেন। কারণ শতদ্রু ও যমুনার মিলনস্থলে উত্তর পশ্চিম ভারতের সেই নদী, যার আঞ্চলিক নাম সরসুতী, সংহিতাতে পূজিতা হয়েছেন বলে দাবী। যাস্ক লিখেছেন সরস্বতী কথাটি নদী ও দেবী উভয়ার্থে বেদে ব্যবহার হয়েছে। তবে শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ – নদী। যাস্কের মতে সরঃ বা সরস অর্থ জল। জল যার আছে সেই সরস্বতী। (সরস্বতী ইতি এতস্য নদীবদ্দেবতাবচ্চ নিগমা ভবন্তি – নিরুক্ত ২/২৩) পরে ব্রাহ্মণ ও উপনিষদ সংহিতার এই সরস শব্দার্থ জলকে পাল্টে সরস অর্থে জ্যোতি ব্যবহার করেছে। অতএব সংহিতাপর্ব থেকে ব্রাহ্মণ ও উপনিষদ পর্বে সরস্বতী নদী থেকে জ্যোতির্ময়ী দেবী পদে উন্নীত হলেন। তবে বৈদিক ঋষিরা সরস্বতী বন্দনায় যে উচ্ছ্বাসে গান করেছেন তাতে মনে হয় সরস্বতী নদীতীরে বহু বিশেষ যজ্ঞাদি সম্পন্ন হতো। শুধু তাই নয়, ভারতবর্ষের উত্তরপশ্চিমাংশের এই নদীতীরবর্তী সভ্যতা বিশেষ সমৃদ্ধিশালী ছিল। অনেকেই সিন্ধু সভ্যতার নাম বদলে সরস্বতী সভ্যতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। অবশ্য স্থানকালভেদে তা গ্রাহ্য হয়নি। তবে সরস্বতী এখনও জ্ঞানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী বলে আরাধ্যা হননি। দেখা যাচ্ছে অথর্ব বেদে তাঁর কাছে প্রার্থনা জানানো হচ্ছে – আমাকে পুত্র দাও। (অথর্ব বেদ – ৭/৬৮/(৭০)/১)। শতপথ ব্রাহ্মনে তাঁকে বলা হচ্ছে সর্পরাজ্ঞী। সর্প উর্বরতা ও প্রজননের প্রতীক। (শতপথ ব্রাহ্মণ – ৪।৬ ৯।১৭) তাহলে তখনও দেবী সরস্বতী আদি মাতৃদেবতার স্থানেই অধিষ্ঠিতা। মাতৃদেবতার সঙ্গে জলের একটা যোগাযোগ অনাদিকাল থেকেই প্রচলিত। তাহলে বিবর্তনের ধারা অনুযায়ী, বাস্তব জগতে ইহলৌকিক প্রয়োজনে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে যে নদীধারা, (প্রত্যেক নদীই সরস+বতী= সরস্বতী), সেই নদীই পরবর্তীতে মাতৃদেবতা, অর্থে প্রজননের প্রতীক, উর্বরা শক্তির প্রতীক। এবং অবশেষে দেবীতে উত্তরণ। যদিও সে তখনও মন্ত্রদ্রষ্টা ঋষির বোধে ব্রহ্মবাদিনী হয়ে ওঠেনি। সরস্বতীকে বেদে ভিষক বা বৈদ্য রূপেও প্রার্থনা করা হয়েছে। শুক্লযজুর্বেদে দেখা যায় অশ্বিনীকুমারদ্বয় ঔষধের দ্বারা এবং সরস্বতী ত্রয়ীলক্ষণা বাকের দ্বারা ইন্দ্রকে বীর্যবান করেন। এই প্রথম বাকের সঙ্গে সরস্বতীর যোগ লক্ষ্য করা গেলো। এই হয়ত বাক হিসেবে তাঁর প্রতিষ্ঠার শুরু। দেবী সরস্বতীর মধ্যে আগামীকালের রনদেবী দুর্গার একটি আভাস পাওয়া যায়। ঋগ্বেদের একাধিক মন্ত্রে  সংগ্রাম দেবী সরস্বতীর সাহায্য চাওয়া হয়েছে। 

বৈদিক যুগের আর্যরা পদ্ম চিনতেন না। তাই শ্রী বা লক্ষ্মী তাঁদের কাছে পদ্মাসনা হতে পারেননি। যদিও আদি অনার্য ভারতের মাতৃদেবতা পদ্মাসনা। তিনিই সমস্ত রকমের সম্পদ ও শ্রী দান করেন। তিনিই লক্ষ্মী। বৈদিক ঋষিরা কিন্তু সরস্বতীর কাছে এই প্রার্থনা জানালেন। অথর্ব বেদের এক মন্ত্রে তাঁর কাছ থেকে ধনধান্য প্রার্থনা করা হয়েছে। শতপথ ব্রাহ্মনেও সরস্বতীকে পুষ্টির দেবতা বলা হচ্ছে। এভাবে লক্ষ্মীর শ্রী হরণ করার পর ঋষিরা লক্ষ্মীকে দিয়ে সরস্বতীকে অর্ঘ্য দেওয়ালেন। তার ফলে লক্ষ্মী হৃতগৌরব ফিরে পেলেন। 

এখনও সরস্বতীর মুক্ত শুদ্ধ বোধরূপ জাগেনি। এখনও বিবর্তন চলছে। এরপর এসে গেলো বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাব। এরপর দেখবো কিভাবে সরস্বতী এলেন সেখানে। 

ক্রমশ 

Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.