x

প্রকাশিত | ৯২ তম মিছিল

মূল্যায়ন অর্থাৎ ইংরেজিতে গালভরে আমরা যাকে বলি ইভ্যালুয়েশন।

মানব জীবনের প্রতিটি স্তরেই এই শব্দটি অবিচ্ছেদ্য এবং তার চলমান প্রক্রিয়া। আমরা জানি পাঠক্রম বা সমাজ প্রবাহিত শিক্ষা দীক্ষার মধ্য দিয়েই প্রতিটি মানুষের মধ্যেই গঠিত হতে থাকে বহুবিদ গুন, মেধা, বোধ বুদ্ধি, ব্যবহার, কর্মদক্ষতা ইত্যাদি। এর সামগ্রিক বিশ্লেষণ বা পর্যালোচনা থেকেই এক মানুষ অপর মানুষের প্রতি যে সিদ্ধান্তে বা বিশ্বাসে উপনীত হয়, তাই মূল্যায়ন।

স্বাভাবিক ভাবে, মানব জীবনে মূল্যায়নের এর প্রভাব অনস্বীকার্য। একে উপহাস, অবহেলা, বিদ্রুপ করা অর্থই - বিপরীত মানুষের ন্যায় নীতি কর্তব্য - কর্ম কে উপেক্ষা করা বা অবমূল্যায়ন করা। যা ভয়ঙ্কর। এবং এটাই ঘটেই চলেছে -

চলুন মিছিলে 🔴

বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২৮, ২০১৭

স্বপনকুমার ঠাকুর

sobdermichil | ডিসেম্বর ২৮, ২০১৭ | | মিছিলে স্বাগত
পৌষ তোদের ডাক দিয়েছে
যে দিগন্ত ঘেঁষা অবারিত মাঠ।উঁচুনিচু ঢেউ খেলানো ।কোথাও বা সমতল।মাঝে মাঝে দু এক খাবলা ঝোপঝাড়। মাথা ঠারো করে উঠেছে ডিগডিগে তালগাছ। এর নাম পগার। কোন একসময় ডাঙা ছিল। ডাঙা কেটে জমি।তারই স্মৃতি এই পগার। পগারতো চওড়া আলপথ।যখন পালকি বাহকরা বর বধূকে চড়িয়ে এই পথে আসতো তখন বাহকরা সুর ছড়িয়ে বলতো---

ঠাওড় করে হেঁইয়ো/পগার ধরে হেঁইয়ো
বউ চলেছে পগারে।দেখবি যদি আয়রে!

তবে সাবধান! পগার কিন্তু সাপের আড়ত। এক ব্যাঁক কি দু ব্যাঁক সাইজের আলকেউটে গিলেভাঙা সাপের হাঁড়গাড়ি।মাঠের শামুক ব্যাং খেতে মাঝে মাঝেই তেনারা বেরোন।মানুষ দেখলেই হুড়িয়ে তাড়া করে।লোকে তখন বলে এঁকে বেঁকে ছোট। এঁকে বেঁকে ছোট।সাপ নাকি এইভাবে ছুটতে পারেনা। মাঝা ভেঙে যায়।ফলে রণে ভঙ্গ দিয়ে জমিতে নেমে পড়ে। 

মাঠের নামগুলো ভারি মজার।জোলের মাঠ । তার আবার কত নাম। লক্ষ্মীজোল বুড়িজোল ।খাঁবাগরা,শ্যালমারা,নীলাম্বর, চড়কতলা দিকশুনে উনিয়ে ডাঙামাঠ ইত্যাদি। প্রতিটি মাঠের সঙ্গে জুড়ে থাকে আজগুবি লোক ইতিহাস। লোকগল্পের দু এক খি রসালো ফুঁপি। এই যেমন উত্তরের জোলের মাঠ। একদিন শ্যামা মোড়লের আলপাট করতে করতে রাত হয়ে গেল।পুবমাঠের আকাশে সোনার একখান পরতের মত চাঁদ উঠেছে। যেন জোছনা পড়ছে চলকিয়ে।হঠাৎ মাঠময় ভুর ভুর করে ধুনোর গন্ধ। মোড়লের চোখ পড়লো আলে।সোনার পিতিমে লক্ষ্মী ঠাকরুন ঠায় দাঁড়িয়ে। কাঁখে কলসি।হাতে একবোঝা ধানের শিষ। প্রথমে মোড়ল ভয়ে ভিরমি খেল।তারপর একসময় জ্ঞান ফিরতেই লক্ষ্মীর কৃপায় ভয়কে করলে জয়।সেই থেকে মোড়ল হলো বড়লোক। আর মাঠের নাম হলো লক্ষ্মীজোল।



তারাশঙ্করের গল্পে ছাতিফাটার মাঠের কথা আছে ।আমাদের আছে গর্দানমারির মাঠ। এইসময়ে অট্টহাসে গেলেই দেখবেন এসে গেছেন এক তেপান্তরের মাঠে ঘাটে।চারদিকে শুধু সবুজ আর সবুজ ।ধারে ধারে কাশফুল।পরিযায়ী পাখির ভিড়।এই মাঠের নামই গর্দানমারির মাঠ। আর গ্রীষ্মের দুপুরে চাদ্দিকে শুধু ধূ ধূ।যেন লক্ষ লক্ষ ফাটল দিয়ে বেরিয়ে আসছে আগুন-ধোঁয়ার তাত। এই মাঠের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে ডাকাতদের সব দুর্ধষ গালগল্প।

আষাঢ়মাসের মাঠ। একটানা বরিষণে সারা মাঠ জলথৈ থৈ। চাষি ভোর থেকে নাঙলজোড়ে। ইদানিং ট্রাকটরের চাষ।কিন্তু এইতো কটা বছর আগেও আষাঢ় মাসে এলাহি ব্যাপার। আচোটভাঙা এক চাষ।মাটির তলায় ঘুমিয়ে থাকা গুগুলি শামুক উঠে আসে।ভুর ভুর করে মেঠো গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে আষাড়ের ভেজা বাতাসে।একেই রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন "বাতাস ওঠে ভরে ভরে চষা মাটির গন্ধে"।বড় বড় ধবধবে বগের দল।নির্ভয়ে নাঙলের পিছু পিছু ক বগাবগ করে পা ফেলছে ।আর কপ করে গেঁড়ি গুগুলি শামুক খাচ্ছে।চাষি আপন মনে জমি চষে। আর গান করে। নাগর কোথায় রইল্যা রে জল লেগেছে তোমার বাকুরিতে।একটা করে লাইন গায় আর বিরতি ।ফাঁকে ফাঁকে আহহহা বাঁয়ে বাঁয়ে বলে গোরুর ইয়ে দুটো আচ্ছা করে মলে দেয়।হঠাৎ বৃষ্টি নামে ঝেঁপে।

মাঠের কি কোন দেবি আছে? না---আমি দেখিনি। তবে মাঠকালি দেখেছি। রাখাল-বাগালরা পুজো করে। মাঠে তালপাতার কুঁড়ে বানিয়ে সাঁজবেলায় পুজো করে আসে। মাঠের যৌবন আসে ভাদ্রমাস থেকে। শরতে মাঠ রূপবতী কন্যে। শিশির ঝরে সারারাত। আলের দুব্বোঘাসে আলতাধোয়া রোদের পিদিম জ্বলে। ধানের বনে শিশির রচে শিল্প। তারপর মাঠ সবুজ থেকে ক্রমশ হত্তেল। তার থেকে পাকাসোনার রঙ। এখন সে আর রূপবতী কন্যে নয়।সন্তান প্রসবিনী মা। মুঠো মুঠো সোনা ছড়ানো মাঠে। পৌষ তোদের ডাক দিয়েছে আয়রে তোরা আয়!



Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

�� পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ শব্দের মিছিলের সর্বশেষ আপডেট পেতে, ফেসবুক পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.