x

আসন্ন সঙ্কলন

গোটাকতক দলছুট মানুষ হাঁটতে হাঁটতে এসে পড়েছে একে অপরের সামনে। কেউ পূব কেউ পশ্চিম কেউ উত্তর কেউ দক্ষিণ... মাঝবরাবর চাঁদ বিস্কুট, বিস্কুটের চারপাশে লাল পিঁপড়ের পরিখা। এখন দলছুট এক একটা মানুষ এক হয়ে হাঁটছে চাঁদ বিস্কুটের দিকে। আলাদা আলাদা মানুষ এক হয়ে হাঁটছে সারিবদ্ধ পিঁপড়েদের বিরুদ্ধে। পথচলতি যে ক'জনেরই নজর কাড়ছে মিছিল তারাই মিছিল কে দেবে জ্বলজ্বলে দৃষ্টি। আগুন নেভার আগেই ঝিকিয়ে দেবে আঁচ... হাত পোহানোর দিন তো সেই কবেই গেল ঘুচে, যেটুকু যা আলো বাকী সবটুকু চোখে মেখে চাঁদ বিস্কুট চেখে চেখে খাক এই মিছিলের লোক। মানুষ বারুদ কিনতে পারে, কার্তুজ ফাটাতে পারে, বুলেট ছুঁড়তে পারে খালি আলো টুকু বেচতে পারেনা... এইসমস্ত না - বেচতে পারা সাধারণদের জন্যই মিছিলের সেপ্টেম্বর সংখ্যা... www.sobdermichil.com submit@sobdermichil.com

অতিথি সম্পাদনায়

মৌমিতা ঘোষ

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

মৌমিতা ঘোষ

বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২৮, ২০১৭

স্বপনকুমার ঠাকুর

sobdermichil | ডিসেম্বর ২৮, ২০১৭ |
পৌষ তোদের ডাক দিয়েছে
যে দিগন্ত ঘেঁষা অবারিত মাঠ।উঁচুনিচু ঢেউ খেলানো ।কোথাও বা সমতল।মাঝে মাঝে দু এক খাবলা ঝোপঝাড়। মাথা ঠারো করে উঠেছে ডিগডিগে তালগাছ। এর নাম পগার। কোন একসময় ডাঙা ছিল। ডাঙা কেটে জমি।তারই স্মৃতি এই পগার। পগারতো চওড়া আলপথ।যখন পালকি বাহকরা বর বধূকে চড়িয়ে এই পথে আসতো তখন বাহকরা সুর ছড়িয়ে বলতো---

ঠাওড় করে হেঁইয়ো/পগার ধরে হেঁইয়ো
বউ চলেছে পগারে।দেখবি যদি আয়রে!

তবে সাবধান! পগার কিন্তু সাপের আড়ত। এক ব্যাঁক কি দু ব্যাঁক সাইজের আলকেউটে গিলেভাঙা সাপের হাঁড়গাড়ি।মাঠের শামুক ব্যাং খেতে মাঝে মাঝেই তেনারা বেরোন।মানুষ দেখলেই হুড়িয়ে তাড়া করে।লোকে তখন বলে এঁকে বেঁকে ছোট। এঁকে বেঁকে ছোট।সাপ নাকি এইভাবে ছুটতে পারেনা। মাঝা ভেঙে যায়।ফলে রণে ভঙ্গ দিয়ে জমিতে নেমে পড়ে। 

মাঠের নামগুলো ভারি মজার।জোলের মাঠ । তার আবার কত নাম। লক্ষ্মীজোল বুড়িজোল ।খাঁবাগরা,শ্যালমারা,নীলাম্বর, চড়কতলা দিকশুনে উনিয়ে ডাঙামাঠ ইত্যাদি। প্রতিটি মাঠের সঙ্গে জুড়ে থাকে আজগুবি লোক ইতিহাস। লোকগল্পের দু এক খি রসালো ফুঁপি। এই যেমন উত্তরের জোলের মাঠ। একদিন শ্যামা মোড়লের আলপাট করতে করতে রাত হয়ে গেল।পুবমাঠের আকাশে সোনার একখান পরতের মত চাঁদ উঠেছে। যেন জোছনা পড়ছে চলকিয়ে।হঠাৎ মাঠময় ভুর ভুর করে ধুনোর গন্ধ। মোড়লের চোখ পড়লো আলে।সোনার পিতিমে লক্ষ্মী ঠাকরুন ঠায় দাঁড়িয়ে। কাঁখে কলসি।হাতে একবোঝা ধানের শিষ। প্রথমে মোড়ল ভয়ে ভিরমি খেল।তারপর একসময় জ্ঞান ফিরতেই লক্ষ্মীর কৃপায় ভয়কে করলে জয়।সেই থেকে মোড়ল হলো বড়লোক। আর মাঠের নাম হলো লক্ষ্মীজোল।



তারাশঙ্করের গল্পে ছাতিফাটার মাঠের কথা আছে ।আমাদের আছে গর্দানমারির মাঠ। এইসময়ে অট্টহাসে গেলেই দেখবেন এসে গেছেন এক তেপান্তরের মাঠে ঘাটে।চারদিকে শুধু সবুজ আর সবুজ ।ধারে ধারে কাশফুল।পরিযায়ী পাখির ভিড়।এই মাঠের নামই গর্দানমারির মাঠ। আর গ্রীষ্মের দুপুরে চাদ্দিকে শুধু ধূ ধূ।যেন লক্ষ লক্ষ ফাটল দিয়ে বেরিয়ে আসছে আগুন-ধোঁয়ার তাত। এই মাঠের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে ডাকাতদের সব দুর্ধষ গালগল্প।

আষাঢ়মাসের মাঠ। একটানা বরিষণে সারা মাঠ জলথৈ থৈ। চাষি ভোর থেকে নাঙলজোড়ে। ইদানিং ট্রাকটরের চাষ।কিন্তু এইতো কটা বছর আগেও আষাঢ় মাসে এলাহি ব্যাপার। আচোটভাঙা এক চাষ।মাটির তলায় ঘুমিয়ে থাকা গুগুলি শামুক উঠে আসে।ভুর ভুর করে মেঠো গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে আষাড়ের ভেজা বাতাসে।একেই রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন "বাতাস ওঠে ভরে ভরে চষা মাটির গন্ধে"।বড় বড় ধবধবে বগের দল।নির্ভয়ে নাঙলের পিছু পিছু ক বগাবগ করে পা ফেলছে ।আর কপ করে গেঁড়ি গুগুলি শামুক খাচ্ছে।চাষি আপন মনে জমি চষে। আর গান করে। নাগর কোথায় রইল্যা রে জল লেগেছে তোমার বাকুরিতে।একটা করে লাইন গায় আর বিরতি ।ফাঁকে ফাঁকে আহহহা বাঁয়ে বাঁয়ে বলে গোরুর ইয়ে দুটো আচ্ছা করে মলে দেয়।হঠাৎ বৃষ্টি নামে ঝেঁপে।

মাঠের কি কোন দেবি আছে? না---আমি দেখিনি। তবে মাঠকালি দেখেছি। রাখাল-বাগালরা পুজো করে। মাঠে তালপাতার কুঁড়ে বানিয়ে সাঁজবেলায় পুজো করে আসে। মাঠের যৌবন আসে ভাদ্রমাস থেকে। শরতে মাঠ রূপবতী কন্যে। শিশির ঝরে সারারাত। আলের দুব্বোঘাসে আলতাধোয়া রোদের পিদিম জ্বলে। ধানের বনে শিশির রচে শিল্প। তারপর মাঠ সবুজ থেকে ক্রমশ হত্তেল। তার থেকে পাকাসোনার রঙ। এখন সে আর রূপবতী কন্যে নয়।সন্তান প্রসবিনী মা। মুঠো মুঠো সোনা ছড়ানো মাঠে। পৌষ তোদের ডাক দিয়েছে আয়রে তোরা আয়!



Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.