x

প্রকাশিত | ৯২ তম মিছিল

মূল্যায়ন অর্থাৎ ইংরেজিতে গালভরে আমরা যাকে বলি ইভ্যালুয়েশন।

মানব জীবনের প্রতিটি স্তরেই এই শব্দটি অবিচ্ছেদ্য এবং তার চলমান প্রক্রিয়া। আমরা জানি পাঠক্রম বা সমাজ প্রবাহিত শিক্ষা দীক্ষার মধ্য দিয়েই প্রতিটি মানুষের মধ্যেই গঠিত হতে থাকে বহুবিদ গুন, মেধা, বোধ বুদ্ধি, ব্যবহার, কর্মদক্ষতা ইত্যাদি। এর সামগ্রিক বিশ্লেষণ বা পর্যালোচনা থেকেই এক মানুষ অপর মানুষের প্রতি যে সিদ্ধান্তে বা বিশ্বাসে উপনীত হয়, তাই মূল্যায়ন।

স্বাভাবিক ভাবে, মানব জীবনে মূল্যায়নের এর প্রভাব অনস্বীকার্য। একে উপহাস, অবহেলা, বিদ্রুপ করা অর্থই - বিপরীত মানুষের ন্যায় নীতি কর্তব্য - কর্ম কে উপেক্ষা করা বা অবমূল্যায়ন করা। যা ভয়ঙ্কর। এবং এটাই ঘটেই চলেছে -

চলুন মিছিলে 🔴

বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২৮, ২০১৭

শ্রীপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়

sobdermichil | ডিসেম্বর ২৮, ২০১৭ | | | মিছিলে স্বাগত
দুষ্টুমি ও একটি শিশু
পুরুষ মানুষ সৃষ্টি প্রকৃতির আত্মঘাতী ভুল এটা লেখায় আমায় কিছুদিন আগে প্রবল আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছিল। পুরুষমানুষ যে অনেক বেশি অপরাধ প্রবণ এটাও মেনে নিতে পারেন না অনেকেই, মেয়েরাও। কিন্তু যদি বলি পুরুষরা প্রকৃতির কাছ থেকে 'দুষ্টুমি'করার ছাড়পত্র নিয়েই জন্মেছে,তাহলে বোধহয় কারও আপত্তি থাকবে না। জিডি বিরলা স্কুলের ওই রূপসী বয়স্কা শিক্ষিকার 'দুষ্টু মিষ্টি'হাসিটা কিছুতেই ভোলা যাচ্ছে না। Y chromosome, testosterone and androgen সমৃদ্ধ শরীর ও মনে দুষ্টুমি বাসা বেঁধে থাকতেই পারে। তাই বলে জেনারালাইজ করলে চলে? দোষ তো শিকারের তার ভাগ্যের। যারা অভিযুক্ত বেচারাদের কঠোর শাস্তি চাইছে,তারা মানবাধিকারের কিস্যু বোঝে না। তাছাড়া শাস্তি টাস্তি দেওয়ার আগে দুষ্ট দুজনের নাম অভিষেক রায় ও মোহম্মদ মোফিজুল – এই দুটো নিয়েও ভাবতে হয়। প্রথম ও প্রধান অভিযুক্তের কঠোরতম শাস্তি চাওয়া গেলেও দ্বিতীয়জনের পেছনে মানবাধিকার কর্মীরা সারিবদ্ধ হবে কিনা ভাবতে হবে না? 

বরং চার বছরের শিশু কন্যার চরিত্রদোষ নিয়ে কথা ওঠেনি সেটাই আশ্চর্যের। অবশ্য একেবারে যে ওঠেনি তা নয়। অভিযুক্তের মা মানতে না নারাজ তাঁর যুবক পুত্র এমন করতে পারে। বরং তাঁর পক্ষে এটা মেনে নেওয়া সহজ যে চার বছরের শিশুটি ষড়যন্ত্র করে মিথ্যে বলেছে, সে নাকি সাবালিকা হলে তার কথা বিশ্বাস করা যেত। তারপরেও আলোচ্য স্কুলে পড়ুয়াদের অভিভাবক থেকে মিডিয়া এমন কি সাধারণ জনতার রাগ পড়ছে না। কি না, বিচার চাই, শাস্তি চাই, শুধু ঐ ‘দুষ্টু’ দুজনের নয়, তাদের দুষ্টুমিকে আড়াল করতে চাওয়া অধ্যক্ষারও। তাই তো, সমাজের এ কী অধঃপতন!! ছি ছি ছি! দুষ্টুরা কেন তোকেই বেছে নিল রে? কেন চকোলেট দেখে ভুলেছিলি? না ভুললে জোর করত ? তবে কেন জন্মেছিলি? নিজের ইচ্ছেয় জন্মাসনি? তাতে কী? দোষ তো তোরই। লজ্জা করে না?

যাই হোক, জিডি বিড়লা স্কুলের শিশু নির্যাতনের পরিপ্রেক্ষিতে অভিভাবক থেকে মিডিয়া ও জনসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া সাধুবাদযোগ্য এবং কার্যত সফল ভেবে বেশ প্রসাদলাভ করছিলাম। এর জেরে শুধু যে অভিযুক্ত শিক্ষক দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাই নয়, অধ্যক্ষাকেও স্কুল কর্ত্রীপক্ষ বরখাস্ত না হোক ছুটিতে পাঠাতে বাধ্য হয়েছে। উপরন্তু এই ঘটনার জেরেই এমপি বিড়লা স্কুলে ধামাচাপা পড়ে যাওয়া গুরুতর ছাত্রী হ্যানস্থার তদন্তও করতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন। সেখানেও অভিভাবকদের সঙ্ঘবদ্ধ প্রতিবাদে অভিযুক্ত অশিক্ষক কর্মীকে ধরা হয়। তবে মনে হচ্ছিল শাস্তিদানের সময় তা আর পাঁচটা ওই জাতীয় অপরাধের সঙ্গে তুলনা করে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া দরকার। এই ক্ষেত্রে কচি শরীর ভেদ করা হলেও তাতে আঙুল ব্যবহৃত হয়েছে,পুংদন্ড বা ধারাল অস্ত্র নয়। কচি শিশুকে পর্নোগ্রাফি দেখানো অতি জঘন্য ব্যাপার, তবে বাচ্চাটিকে আর অন্যভাবে অত্যাচার করা বা মেরে ফেলার চেষ্টা হয়নি। না, এটা অপরাধকে লঘু করার চেষ্টা নয়। কিন্তু শাস্তিটা অপরাধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে অপরাধীদের মনে হতে পারে তাহলে কি বাঁচিয়ে রেখে ভুল হল? ভিকটিমকে মেরে ফেললে এর বেশি কী আর হোত? বরং অপরাধীদের কাছে এই বার্তাই যাক – যেমন কর্ম তেমন ফল। ভাগ্যিশ আর বেশি কিছু করিনি। করলে বাঁচার উপায় থাকত না। 

কেস সিআইডি নেওয়াতে প্রশাসনিক অসহযোগিতা বা গাফিলতির অভিযোগ করার জায়গা থাকে না। কিন্তু বারংবার একটা বাচ্চাকে যন্ত্রণাদায়ক ও অস্বস্তিকর পরীক্ষা করা নিয়ে পরিবারটির ক্ষোভ প্রকাশের মুখে নতুন ফরেন্সিক রিপোর্ট বলে দিল তার নাকি অত্যাচারিত দেহাংশে কোনও আঘাতই নেই! পুরো অভিযোগটিকে ভিত্তিহীন প্রমাণের পক্ষে এই রিপোর্ট যথেষ্ট। অথচ বাচ্চাটির শরীর থেকে রক্তক্ষরণ, রাত-বিরেতে পারিবারিক চিকিৎসক থেকে এসএসকেএম হাসপাতাল দৌড়নো, প্রথম ময়না তদন্তে নির্যাতনজাত ক্ষত আবিষ্কার, পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলে দেরিতে চিকিৎসা শুরু হওয়ায় মেয়েটির শারীরিক অবস্থার অবনতি এতকিছু সব নাটক প্রমাণিত হল? সে তো এখনও অসুস্থ, সেটাও অভিনয় করে? কে জানে? এখানে তো রাজনৈতিক প্রভাবের প্রশ্ন নেই। নাকি আছে? 




Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

�� পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ শব্দের মিছিলের সর্বশেষ আপডেট পেতে, ফেসবুক পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.