x

প্রকাশিত ৯৬তম সংকলন

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

মৌ দাশগুপ্ত

sobdermichil | নভেম্বর ২৮, ২০১৭ |
মৌ দাশগুপ্ত
 গুচ্ছকবিতা- সাম্প্রতিক 

ভয়

এই কল্লোলিনী শহর তো আমার নয়, গিনিপিগের।
আলাদা আলাদা খাঁচায় আমাদের বেড়ে ওঠা, বেঁচে থাকা।
পারস্পরিক মিথোজীবিত্বের উপর পরিযায়ী ধুলোর আস্তরন,
যেন,আদিম সভ্যতার জঠরে জমা হতে থাকা ফসিল,
অথচ, ময়নাতদন্তে প্রকাশ, আমরা কেউ একলা নই।

প্রেম উৎসব

ভালবাসা আসলে খাঁচার বাইরে থেকে ছুঁড়ে দেওয়া রুটির টুকরো,
মাঝরাতে দিনগত অভ্যাসে শিৎকার শৃঙ্গার অথবা একটা ভ্যালেন্টাইন নাইট ।
দিনে গণৎকার অভ্যাসে টিয়া পোষা, ঠোঁট লাল । সবুজ পালক ।
নাবালিকা প্রেমের ভাগে উপচে পড়া কিছু শাণিত শব্দ...নোংরা গালি...
আর, উৎসব সদ্য সাবালক,
জীবনের জমা অন্ধকার সরিয়ে আলো হতে শিখেছে সাহসী পায়ে...!


ধর্মীয়

শহরজুড়ে ধর্মীয় মিছিল, ট্রাফিকজ্যামে নিশ্চল ৭৮সি বাস,
জানলার ধারে বসা মেয়েটির কপাল ঘেমে উঠেছে , হাত কাঁপছে অল্প অল্প ।
শরীরজুড়ে অরণ্য আঁকতে গিয়ে যারা নখ আর দাঁতের কারুকাজ এঁকেছিল,
তারা ধর্ম মানে নি।
শহর মৌলবাদী মিছিলে পায়ে পা মেলায়।


সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের আগে 

তারা একুশ থেকে উনপঞ্চাশ,জলপাই রঙের আউটফিট...
চোখে মুখে দেশ নামের সোনার ডিমপাড়া রাজহঁাসটাকে ভালোবাসার আশ্বাস ।
দেশভক্তি আর শহীদ শব্দদুটোর মানে পাল্টে বোকামো আর আত্মঘাতী রাখা হোক
মন্ত্রীত্ব থাক,রাজনীতি থা্ক , ভোটও থাক।
মুখেমুখে শুধু অভিধান বদলে যাক।


অর্থ

গভীর থেকেও গভীর...
খোলা হিসাবের থেকেও খোলামেলা...
ডানামেলা স্বাধীনতা তবু দিকচক্রবালে বন্দী...
আমার আনন্দের সীমারেখা...
অভিধান বলছে এই নাকি আকাশ!


জীবন

বৃত্তের পরিধি বেয়ে নিরন্তর আসা যাওয়া
রাত- দুপুর... দুপুর- রাত...
আঁতুড়ঘর থেকে জলছবি সংসার ছুঁয়ে শ্মশানঘাট...
আমি অতীতের ভবিষ্যত...


নাম

পরপর তিনমেয়ে, শাশুড়ি ডাকতেন 'অলক্ষ্মী' ,
স্বল্পশিক্ষিতা মেয়ে এক্স ওয়াই ক্রোমোজোম জানত না,
আঁতুড়েই মরা মেয়েদের স্মৃতি বুকে ছেলের মা হবার বাসনায়
'বিষ্যুদবারে' আলপনা এঁকে ঘট বসাত,
জলভরা চোখে আওড়াত ' এস মা লক্ষ্মী'...


সসাগরা

সম্পর্কের টানাপোড়েনে অবিরত ঢেউ ওঠে,ভাঙে,
ভাঙতে ভাঙতে ভেঙে যায় বেলাভুমি বিশ্বাস,উড়োচর ভরসা....
সাঁতার জানিনা,তবু নোনা জলের সমুদ্র আমার আঙ্গিনায়,
ঢেউয়ে পা ভিজে গেলে পায়ে পায়ে পিছিয়ে যাই নিরাপদ আশ্রয়ে।


সম্পর্ক

গোপিনীদের বস্ত্রহরণ থেকে দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ...
সম্পর্কের মাঝে কতগুলো জটিল রাসায়নিক সমীকরন...
যোগ বিয়োগ চিহ্ন আর কিছু নাম...
আচ্ছা..সম্পর্ক গড়লে তার নামকরণ খুব জরুরী কি?

ভোলবদল

সেদিনের ভালোবাসারা পুড়ে গেছে সময়ের ধূপদানিতে
আরক্তিম গোধুলিতে যে রজনীগন্ধা সুগন্ধে ভরিয়েছিল,
লগ্নজিতা রাতে যে রজনীগন্ধার মালা লজ্জা পেয়েছিল,
আজ নষ্টচন্দ্রায় অভিমানী চিতায় সে-ও বড় একা ।


সাম্প্রতিক

রূপোলী পর্দায় বাহুবলীর মৃত্যুতে নেমে আসে চোখের পাতা।
সীমান্তে জীবনমৃত্যু বৃত্ত ছুঁয়ে-ছুঁয়ে যায় প্রতিবেশীর অগ্নিবাণ ,
গণতন্ত্রের উৎসবে, তিরঙ্গমোড়া কফিনগুলো উপাচার সাজায়,


অবশেষে…

আজকাল খবরের কাগজ পড়তে পড়তে ভাবি
কেন্দ্রীয় চরিত্রে সংবিধান নাকি মহাকাব্য?
যদিও ঘটনাবলীর ক্লাইম্যাক্স নিয়ে আর ভাবিনা,
জার্নালিজম আর স্যোসাল মিডিয়া তো নটেগাছটাই নিয়ে গেছে।



Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন


বিজ্ঞপ্তি
■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.