x

প্রকাশিত | ৯২ তম মিছিল

মূল্যায়ন অর্থাৎ ইংরেজিতে গালভরে আমরা যাকে বলি ইভ্যালুয়েশন।

মানব জীবনের প্রতিটি স্তরেই এই শব্দটি অবিচ্ছেদ্য এবং তার চলমান প্রক্রিয়া। আমরা জানি পাঠক্রম বা সমাজ প্রবাহিত শিক্ষা দীক্ষার মধ্য দিয়েই প্রতিটি মানুষের মধ্যেই গঠিত হতে থাকে বহুবিদ গুন, মেধা, বোধ বুদ্ধি, ব্যবহার, কর্মদক্ষতা ইত্যাদি। এর সামগ্রিক বিশ্লেষণ বা পর্যালোচনা থেকেই এক মানুষ অপর মানুষের প্রতি যে সিদ্ধান্তে বা বিশ্বাসে উপনীত হয়, তাই মূল্যায়ন।

স্বাভাবিক ভাবে, মানব জীবনে মূল্যায়নের এর প্রভাব অনস্বীকার্য। একে উপহাস, অবহেলা, বিদ্রুপ করা অর্থই - বিপরীত মানুষের ন্যায় নীতি কর্তব্য - কর্ম কে উপেক্ষা করা বা অবমূল্যায়ন করা। যা ভয়ঙ্কর। এবং এটাই ঘটেই চলেছে -

চলুন মিছিলে 🔴

মঙ্গলবার, নভেম্বর ২৮, ২০১৭

গার্গী মালিক

sobdermichil | নভেম্বর ২৮, ২০১৭ | | মিছিলে স্বাগত
হোয়াটস্অ্যাপ
ছর দুয়েকের মধ্যেই হয়ে গেল ডিভোর্সটা। আচার আচরণে চরম মিল -যাকে বলে রাজযোটক! বিয়ের পর পর বাড়ির সবাই সমস্বরে বলে উঠতো "মেড ফর ইচ আদার" - দুজনেই বড় ছেলেমানুষ -এই ঝগড়া - এই ভাব -দুজনেরই সমান রাগ; আর অভিমান? একজনের এক আকাশ হলে অন্যজনের এক সমুদ্র! তবুও ডিভোর্সটা... হয়েই গেল। প্রমাণিত - চুম্বকের সমমেরুতে বিকর্ষণ। তাদের নিত্যদিনের অশান্তির আঁচে পুড়ছে পরিবার ... বাধ্য হয়ে এই সিদ্ধান্ত - মিউচুয়াল ডিভোর্স।

ডিভোর্সের পর কেটে গেছে প্রায় ছটা মাস। দিশা রীতিমতো কর্মজগতে ব্যস্ত। কাজের মধ্যেই কেটে যায় সারাদিন , তবু রাত্রে শোবার আগে একবার হোয়াটস্অ্যাপটা চেক না করলেই নয়। অনেক কাজের মেসেজ আসে, চেক করে নিতে হয় সব; এরই মাঝে তার রোজকার অভ্যাস ...একবার সার্চ ...টাইপ 'রুদ্র' ... অনলাইন! কষ্টের চেয়ে মন ভরে ওঠে সংশয়ে! "এখনও কি আমি আছি ওর লিস্টে! " ভাবতে থাকে ... ভাবতে থাকে ... অপেক্ষায় থাকে প্রতিদিন।

কনফিউশন আরও বেড়ে গেল সেদিন, তার কলিগের মোবাইলে রুদ্রর নম্বরটা সেভ করল - অবাক কান্ড! ডিপি-স্ট্যাটাস -লাস্টসিন সবই দৃশ্যমান! তবে কি ....এতদিন স্রেফ ধোঁকা খেয়ে কাটাল! শুধু শুধুই ভেবে বসল .....

দিশার প্রাইভেসি চিরকালই 'মাই কনট্যাক্ট' - এই ব্যাপারে সে ভীষণ সচেতন , সবার কাছে এভেলেভেল হতে সে কখনও শেখেনি কোনো ক্ষেত্রে; অজানা অচেনা চোখে না দেখা কোন ব্যক্তিকে সে তার কনট্যাক্ট এ রাখেনা। রাগ অভিমানের পারদ চড়ল সপ্তমে। মনে মনে বলল,"মানলাম সংসার আমাদের জন্য নয়; তবু এর বাইরেও তো কোন এক সম্পর্কে আবদ্ধ থাকা যায়! ছয়মাসে যেখানে একটা বর্ণেরও আদানপ্রদান হয়নি তেমন মৃত অ্যাকাউন্ট সাজিয়ে রাখা নেহাতই মূর্খতা ..... অনেক ম্যাচিউর হয়ে গেছো রুদ্র ....অনেক ম্যাচিউর! আমি তো তোমার রাজযোটক ... কাজেই আমাকেও তো হতে হবে তোমারই মতন ..." বুকের মাঝে হাজারো কথার ঝড় তুলে অবশেষে ডিলিট অপশন প্রেস ... কনট্যাক্ট লিস্ট থেকে বিদায় - 'রুদ্র গোস্বামী'। একটা বড়মাপের সংশয় থেকে নিজেকে মুক্ত করে বেশ হাল্কা বোধ হচ্ছে তার ... অবশেষে সেও পেরেছে। 

কেটে গেল আরও ছয়টা মাস ... বাইশে সেপ্টেম্বর ...আজই শেষ দেখা হয়েছিল রুদ্রর সাথে ...কোর্ট চত্ত্বরে ... অসংখ্য মানুষের ভিড়ে চার চোখের মিলন জানিয়েছিল বিদায় সম্ভাষণ; আজ দিশার খুব ইচ্ছে করছে একবার দেখতে ... জানতে - "রুদ্র তুমি কেমন আছো?" অবাক হয়ে দেখল নম্বরটা এখনও মুখস্থ! আরও অবাক হল - ডিপিতে রুদ্র গোস্বামীকে জড়িয়ে দিশা হালদার! স্ট্যাটাস এ -"তুমি যে আমার দিশা ... "অকূল অন্ধকারে  ..."



Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

�� পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ শব্দের মিছিলের সর্বশেষ আপডেট পেতে, ফেসবুক পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.