x

প্রকাশিত | ৯২ তম মিছিল

মূল্যায়ন অর্থাৎ ইংরেজিতে গালভরে আমরা যাকে বলি ইভ্যালুয়েশন।

মানব জীবনের প্রতিটি স্তরেই এই শব্দটি অবিচ্ছেদ্য এবং তার চলমান প্রক্রিয়া। আমরা জানি পাঠক্রম বা সমাজ প্রবাহিত শিক্ষা দীক্ষার মধ্য দিয়েই প্রতিটি মানুষের মধ্যেই গঠিত হতে থাকে বহুবিদ গুন, মেধা, বোধ বুদ্ধি, ব্যবহার, কর্মদক্ষতা ইত্যাদি। এর সামগ্রিক বিশ্লেষণ বা পর্যালোচনা থেকেই এক মানুষ অপর মানুষের প্রতি যে সিদ্ধান্তে বা বিশ্বাসে উপনীত হয়, তাই মূল্যায়ন।

স্বাভাবিক ভাবে, মানব জীবনে মূল্যায়নের এর প্রভাব অনস্বীকার্য। একে উপহাস, অবহেলা, বিদ্রুপ করা অর্থই - বিপরীত মানুষের ন্যায় নীতি কর্তব্য - কর্ম কে উপেক্ষা করা বা অবমূল্যায়ন করা। যা ভয়ঙ্কর। এবং এটাই ঘটেই চলেছে -

চলুন মিছিলে 🔴

মঙ্গলবার, নভেম্বর ২৮, ২০১৭

সায়ন্ন্যা দাশদত্ত

sobdermichil | নভেম্বর ২৮, ২০১৭ | | | মিছিলে স্বাগত
প্রসঙ্গটা ডেঙ্গু নয় ।
দানিং এক সুন্দর উটপাখি জীবন কাটাচ্ছি আমরা । ভালো ভাবলে সবটাই ভালো । মন্দ দেখতে চাইনা সুতরাং দেখতে পাচ্ছিনা । আঙ্গুলটা কেবল প্রশাসনের দিকে তাক করলেই দায় মেটেনা সম্ভবত । যিনি ডেঙ্গু দেখতে পাচ্ছেন না তাকে দুয়ো দিচ্ছি , রাস্তার পাশের ঘেয়ো ভিখিরিকে ডিঙ্গিয়ে অফিস যাচ্ছি, পান চিবুচ্ছি আর নিয়ম মেনেই তাকে দেখতে পাচ্ছিনা কিছুতেই ! ওহো রাজার / রানীর দিকে আঙ্গুল তোলাই যায় কিন্তু জনগণ ? তারা তো প্রশ্নাতীত ! ভোট দেন । কর দেন । উদয়াস্ত খেটে গন্ডা মাগগির বাজারে সংসার চালান । ছেলেকে ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলে পড়িয়ে স্টেটস বজায় রাখেন । বৌ পেটাতে ইচ্ছে হলেও পেটান না ,লুকিয়ে মদ খেয়ে চেপে যান ।এরবেশি কতটা দায়িত্বশীল হতে বলেন আপনারা ? দেখেও না দেখা , বুঝেও না বোঝার রোগটা তো দুতরফা । একপক্ষকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালে চলে ?

আচ্ছা আপনারা জানেন না জমা জলে মশার লার্ভা জন্মায় ? এতদিনে তো এও জানেন যে পরিষ্কার অপরিষ্কার যেকোন জমা জলেই ডেঙ্গুর মশা ডিম পাড়ে । ডেঙ্গুর মশা ডোরাকাটা না ফর্সা । কোন প্রজাতি , কোন গোত্র , কেন এডিস নাম হলো , জীবনচক্র কতদিনের ,জ্বরের লক্ষণ মশা কামড়ানোর ঠিক কতদিনের মধ্যে ফুটে ওঠে এইসব তত্বগত হরিমটর না ভেজে এই মুহূর্তে অনেকবেশি জরুরি নিজের দায়িত্বটুকু পালন করা । যে মুহূর্তে প্রশাসনকে আপনার বাড়িতে আসতে হয় জল জমিয়েছেন কিনা দেখতে ; সেইমুহূর্তে আপনি আঙ্গুল তোলার অধিকার হারিয়ে ফেলেন । প্রশাসন মৃত্যুর হার লুকিয়ে রাখেন আর আপনি উদাসীনতায় জল পাল্টাতে বা মশারি টাঙাতে ভুলে যান । বাজারে ফেয়ারনেস ক্রিম না কিনে মশা মারার তেল (যা কিনা কেবল প্রশাসন তরফে সরবরাহ করা হয় ) কিনে নিজেদের বাড়ির সামনের নালানর্দমা বা অন্যান্য জমা জলগুলোয় ছড়িয়ে দিলেই যে অনেকটা বিপদ কমে যায় সেসব বোঝার দায়বদ্ধতা আমাদের নয় ।

দায় আমার । দায় তোমার । দোষ এপক্ষের, দোষ ওইপক্ষের এইসব বালখিল্যতা ছেড়ে এই মুহূর্তে পরিস্থিতিটা সামাল দেওয়ার ব্যপারটা প্রাধান্য পেলে বোধয় সমস্যাটা সবথেকে দ্রুত সমাধান করা যায় । প্রিভেনশন সবথেকে জরুরি তাই জল জমতে না দেওয়া , জমা জলে নিয়মিত লার্ভা নিধনকারী তেল স্প্রে করা এবং যেকোন জ্বরে একটা নির্দিষ্ট রক্ত পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া দরকার । 

দ্বিতীয়ত , ডেঙ্গু না সারার কোন কারণ নেই । সঠিক এবং দ্রুত চিকিত্সা হলে রোগী অবশ্যই সুস্থ হয়ে যাবেন । ডেঙ্গু হলে প্লেটলেট (এক বিশেষ ধরনের রক্তকোষ ) খুব দ্রুত নষ্ট হতে থাকে। রক্তচাপ নেমে যায় নিচে । শরীরের ফ্লুইড ব্যালেন্সে হেরফের হয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ডিহাইড্রেশনে মৃত্যু হয় রোগীর । রক্তপাতও একটা অন্যতম সমস্যা ডেঙ্গুর । যদিও তা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব প্লেটলেট সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়ে রক্ত দেওয়ার মাধ্যমে । সুতরাং যেকোন জ্বরে পেশেন্টের যেন ডিহাইড্রেশন না হয় এবং যথোপযুক্ত রক্ত যেন দরকারে রোগী সহজেই পান সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যপার ।

রোগটা ভাইরাস ঘটিত । এবং এই ভাইরাসটিও অন্যদের মতোই তার জেনেটিক গঠন পাল্টে ফেলতে সক্ষম সুতরাং আপতত এই রোগ এবং ভাইরাসটির চরিত্র হিসেবে যা চিন্হিত করা হচ্ছে, খুব সম্ভব আর কিছুদিন বাদেই হয়তো সেসব মার্কার পাল্টে যাবে। মেঘলা আবহাওয়া - উপযুক্ত শীত না পড়া এইসব গ্লোবাল ওয়ার্মিং সম্পর্কিত জটিলতাগুলি পরোক্ষভাবে ডেঙ্গুকেই বেড়ে উঠতে সাহায্য করছে । তাই মশা জন্মানোটা বিরোধী পক্ষের চক্রান্ত না এই সরকারের ব্যর্থতা সে নিয়ে বিস্তারে আলোচনা না করে যথেচ্ছ গাছ কেটে ফেলা , নতুন নতুন ফ্ল্যাট তুলতে পুকুর নষ্ট করা , গাড়ির বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে দেওয়া , যথেচ্ছ মোবাইল টাওয়ার স্থাপন করা , রাসায়নিক সারের ব্যবহার , মাত্রাতিরিক্ত বর্জ্য নদীতে ফেলে আসা ....এইসব সামান্য কিছু আত্মরক্ষার পদ্ধতি প্রয়োগ করাটা বোধয় অনেক বেশিই জরুরি ।

এই পক্ষ , ওই পক্ষ , বিরোধী পক্ষ যাই হইনা কেন থাকতে তো হবে এই পৃথিবীতে আর ডেঙ্গুর মশা সরকার বা জনগণের ডি .এন .এ চিনে কামড়ায়না । দূষণও পাড়া দেখে ছড়ায়না । ফলত এইবেলা উঠপাখির পোশাকটা ছেড়ে ভদ্রস্থ , মানুষ সুলভ চেহারাটা গড়ে তোলায় মন দিলে ভালো হয় ।

ডেঙ্গু নিপাত যাক ।আচ্ছে দিন আমাদের দেশে এসো । অতি শীঘ্র এসো ,অপেক্ষায় আছি !


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

�� পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ শব্দের মিছিলের সর্বশেষ আপডেট পেতে, ফেসবুক পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.