সমীরন চক্রবর্তী

সমীরন চক্রবর্তী
 জল হাওয়ার কথা 

# এক

নাব্যতা হারানো নদীটি বড়োই রহস্যময়ী
মুহূর্তে নাবালিকা খাল হয়ে যায় গর্ভবতী নদী, হঠাৎ প্রসব যন্ত্রণা বিপদসীমা ছাড়াতে চায়। ক্রংক্রীটের স্তম্ভে কালোরেখা ধীরে ধীরে লাল দাগ ছোঁয়ার স্পর্ধা দেখালেই সহসা ধ্বনিত হয় শত রমণীর হাতের বিপদ সংকেত শঙ্খ সমস্বরে, গেল গেল রবে ভেঙে যায় পাড়...
ঈষাণ কোণে কালো মেঘ তখন উন্মাদ
আর এ পাড়ের সমস্ত বাঁধ?
শুধুই বালির বাঁধ...।

# দুই

শান্ত সরোবর থেকে উড়ে গেল শেষ পানকৌড়িটি,
কেন্দ্র থেকে অপসৃয়মান ঢেউয়ের বলয়
পা টিপে টিপে পাড় ছুঁয়ে যায়।
বাম দিকটায় চেনা ব্যথা, চিনচিন
হৃদয় কেন্দ্রীক বৃত্তবলয় সীমানা ছাড়ায়...
অস্ফু্টে বলে উঠি-
“ওরে পানকৌড়ি, আর একটা ডুব দে,
আর একটা বলয় এঁকে যা, জল রঙে,
মনের ক্যানভাসে...।“

# তিন

নেমে যাই পুকুর ঘাটে
ধাপের পর ধাপ,
সাবধানে পা রাখি
আড়াআড়ি পাতা গাছের গুঁড়িতে,
সবুজে পিচ্ছিলে জেগে থাকে খুঁটি
আর জাগে খোলকের ভেতর ভীরু চোখ।
সব জেনেও পিছলে যেতে চাই
গেঁড়ি গুগলির ভেজা জলসায়।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

সুচিন্তিত মতামত দিন

নবীনতর পূর্বতন