x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৬, ২০১৭

রুমকি রায় দত্ত

sobdermichil | অক্টোবর ২৬, ২০১৭ | | মিছিলে স্বাগত
রুমকি রায় দত্ত
নৈনিতাল পরবর্তী অংশ...।

সন্ধ্যে হতেই নিস্তব্ধতাকে খানখান করে ছড়িয়ে পড়লো জেনারেটরের শব্দ। জানতে পারলাম, গত একমাস ধরে এখানে কারেন্ট নেই। কবে আসবে তারও কোনো ঠিক নেই। রাত দশটার পর শুধু মোমবাতি ভরসা। ঘরে ফিরে গরম চায়ের সাথে পকোড়া আর দুই পরিবারের আড্ডা। টিভিটা শুধুমাত্র সাজানোর বস্তু এখানে, চলে না। ন’টার মধ্যে রাতের খাওয়া সেরে ঘরে ফিরেছি সবে। খাবার ঘরেই আলোচনা শুনছিলাম, বরফ পড়ার মতই নাকি ওয়েদার। বৃষ্টিটা খুব হালকা পড়ছে। আমরাও শোওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। দরজায় টকটক শব্দ শুনে দরজা খুলতেই দেখলাম একটি ছেলে খাওয়ার জন্য গরমজল দিতে এসেছে। ছেলেটি ঘরে ঢুকতেই দেখলাম ওর মাথার চুলের উপর তুলোর মত সাদা সাদা কি সব লেগে। জিজ্ঞাসা করতেই ছেলেটি বললো, ‘বাহার বরফ গিররাহা হ্যয়’। শুনেই লাফিয়ে উঠলাম। পায়ে চটি গলিয়ে সোজা বারান্দায়।
দেখলাম অন্ধকারে সাদা সাদা তুলোর মত বরফ ঝরছে ঝিরঝির করে। বারান্দায় মেলে রাখা কালো ছাতাটার উপর বৃষ্টির ফোঁটার আকারে জমে আছে বরফ। মাঝে মাঝে হাওয়ার দাপটে ঝিরঝিরে বরফ আমাদের গায়ে মুখেও ছড়িয়ে পড়ছে। অন্ধকারে ঝরে পরা সাদা বরফকে ক্যামেরা বন্দি করে ঘরে ঢুকলাম ফুরফুরে মন নিয়ে। অপ্রত্যাশিত প্রাপ্তি সব সময়ই সর্বোচ্চ আনন্দই দেয়। তীব্র শীতের কামড় থেকে রক্ষা পেতে বিছানায় একটা কম্বল পেতে তার উপর চাদর দিয়ে আর গায়ে চাদরের উপর দুটো কম্বল জড়িয়ে এক আরামের ঘুমে সেই যে মগ্ন হলাম, ঘুম ভাঙলো একে বারে ভোরের দিকে।

ভোর না রাত ঘর থেকে বোঝার উপায় নেই। ঘড়িতে দেখলাম ছ’টা বাজে। মোটা পর্দার আড়ালে প্রকৃতির আলো ম্লান লাগছে,কিন্তু একটা হালকা আলোর আভাস। মাথার ঠিক পিছনেই একটা ছোট্ট কাচের জানালা দেখেছিলাম না? পর্দাটা সরাতেই অবাক! ঘুম চোখে ভুল দেখছি কি? চোখ কচলে আবার দেখলাম, যা দেখেছি, ঠিক দেখেছি। ছবিটা কাচে আঁকা নয়, কাচের পিছনে স্বয়ং প্রকৃতি ছবি হয়ে আছে। কি বলবো! কেমন করে বলবো! একে স্বর্গ বলবো, না তার থেকেও বেশি কিছু। পিছনে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো পাইন গাছ গুলো সে এক অপূর্ব সাজে সেজে দাঁড়িয়ে আছে। গাছগুলোর পায়ের কাছে পাহাড়ের ঢালে পুরু বরফের স্তর আর গাছগুলোর মাথায় বরফের মুকুট পড়ে দাঁড়িয়ে আছে। পাতার শিরা-উপশিরা জুড়ে বরফের আবরণের মাঝে মাঝে জেগে আছে সবুজ পাতারা। কোথাও কোথাও সাদা বরফের ফাঁক দিয়ে উঁকি দিচ্ছে বাদামি কান্ড। লাফ মেরে বিছানা থেকে নেমে সবাই চলে এলাম বাইরে। উফ্‌! অপূর্ব সৌন্দর্য।

গতকাল শুতে যাওয়ার আগে সামনের যেখানে জলে ডোবা সবুজ লন ছিল, সেটা তখন প্রায় আট সেমি পুরু বরফের লন। সামনে ঝোলা বিদ্যুতের তারে কালোর বদলে সাদা কোটিং। ছোটো ছোটো খড়ের পালুই এর মাথায় থোকা থোকা ঝুরঝুরে বরফ।লজের ডানদিকে তাকিয়ে দেখলাম বরফের বিছানার উপর বরফের গাড়ি দাঁড়িয়ে। আমাদের ট্রাভেরাটা তখন পুরো ঢাকা বরফের চাদরে। সামনে লনের শেষে কাল যেখানে অনন্ত খাদ ছিল,তাতো আজ নেই! সেখানে তখন এক সমুদ্রের সৃষ্টি হয়েছে। মেঘ সমুদ্র, শুধু নৌকা ভাসানোর অপেক্ষা। পারলাম না আর নিজেদের আটকাতে।সিঁড়ি বেয়ে সোজা নিচে এসে ঝাঁপিয়ে পড়লাম সাদা বরফের বিছানায়। ঝুরঝুরে বরফের মাঝে পা ডুবে যেতে লাগলো। কিছুক্ষণ পর অনুভব করলাম, জুতোর ভিতরে থাকা পায়ের বুড়ো আঙুলে তীব্র যন্ত্রণা। ঠান্ডা তার কামড় বসিয়েছে। ছুটে এসে কাঠ-কয়লার আগুনের পা সেঁকে তবে নিস্তার।

কথা মত সকাল সাড়ে ন’টার দিকে আমাদের রওনা হওয়ার কথা মুন্সিয়ারীর উদ্দেশ্যে। কাঠ-কয়লার আগুনে পা সেঁকতে সেঁকতে গরম চা খেয়ে তরতাজা হয়ে ভাবছি তাড়াতাড়ি স্নান সেরে প্রস্তুত হতে হবে, হাতে সময় বেশি নেই,কিন্তু দিওয়ান জি যেন বেশ নিশ্চল! অন্য জায়গায় দেখেছি গাড়ির চালকই তাড়া লাগায়। আগেরদিন রাত্রে দিওয়ানজি’র জ্বর এসেছিল,প্যারাসিটমল টা দিয়েছিলাম আমিই। তবে কি সেটাই কারণ! জানতে চাইলাম দিওয়ান জি, কব নিকলনা হ্যয়?

দিওয়ানজি জানালেন, আভি ফোন করকে পুছতে হ্যয় রাস্তা সাফ হ্যয় কে নেহি?

নটা’র মধ্যে আমরা সাবাই প্রস্তুত হয়ে নিচে নামলাম যখন,দেখলাম দিওয়ানজি একই ভাবে বসে আছেন। কেমন যেন একটা আশঙ্কা হলো। কাছে যেতেই আশঙ্কাকে সত্যি করে দিওয়ানজি জানালেন, আজ কোনো ভাবেই এখান থেকে বেরোনো সম্ভব নয়। পুরো পথে বরফ পড়ে আছে। মিলিটারি ট্রাক রাস্তা পরিষ্কার না করলে এগোনো সম্ভব নয় কিছুতেই। হতাশ হয়ে বসে পড়লাম চেয়ারে। পুরো পোগ্রাম গেল পালটে। এমনিতেই মুন্সিয়ারী যেতে হলে পথেই একটা দিন যাবে। সেটাতো হিসাবে ধরাই আছে। কিন্তু একটাদিন বসে থাকা মানে কোনো একটা জায়গা বাদ দিতে হবে। কোনটা বাদ দেবো? ভীষণ মনখারাপ হয়ে গেল।এই উত্তরাখন্ডের মুন্সিয়ারী না দেখা মানে স্বর্গচ্যুত হওয়া বলেই শুনেছি কিন্তু প্রকৃতির কাছে হার মানতেই হবে, তাই ছোট্ট একটা আলোচনার মাধ্যমে ঠিক হলো পরেরদিন আমরা রওনা হবো মুন্সিয়ারীর উদ্দেশ্যে,শুধু ওখানে দুদিনের বদলে একদিন থাকা হবে। কিন্তু সারাটাদিন তবে এখানে কি করবো আমরা? আসেপাশে কোনো গ্রামও নেই যে ঘুরে আসবো। দূরে পাহাড়ের টিলায় বরফমাখা গাছের জঙ্গলে দেখা যাচ্ছে একটা ছোট্ট বাড়ি,ঘুরে এলে কেমন হয় ভাবছি এমন সময় নন্দন জি ( এই লজের মালিক) হাতে একটা খবরের কাগজ নিয়ে এসে বললেন, ‘চলিয়ে উপর আনন্দময়ী মাতা আশ্রম ঘুমনে’। হাতে ধরা কাগজটা দেখিয়ে বললেন, আখবার ম্যয় হররোজ উপর মহারাজকো দেনে যাতা হুঁ, আজ আপলোগ চলিয়ে হামারে সাথ’।

শুনেই আমরা রাজি হয়ে গেলাম, গেলেই হয় কিন্তু শুনলাম এক-দেঢ় কিলোমিটার চড়াই পথে হেঁটে যেতে হবে। ছেলের বয়স ছোটো বলে নিয়ে যেতে বারণ করলেন উনি কিন্তু অপরিচিত কারোর কাছে রেখে যেতে সাহস পেলাম না। ঠিক করলাম ওকে নিয়েই যাবো। ঠিক এগারোটার দিকে গলায় ক্যামেরা,কোলে ছেলে নিয়ে হাঁটা লাগালাম আমরা পাহাড়ি পথে। লজের ডানদিক দিয়ে ঘুরে একটা সরু পাহাড়ি রাস্তা লজের পিছন দিয়ে উপরের দিকে উঠে গিয়েছে। কাঁচা মাটির রাস্তা বেশ কাদা ও পিচ্ছিল। আস্তে আস্তে পা ফেলে এগোতে লাগলাম উপরের দিকে। নন্দনজি আমাদের পথপ্রদর্শক। পাহাড়ের ঢালের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর পর দেখলাম আর কোনো রাস্তা নেই,পাহাড়ের গা বেয়ে উপরে উঠতে হবে। বরফে পায়ে চলা রাস্তার সব চিহ্ন ঢেকে গিয়েছে। নন্দন জি বললেন ঠিক ওনার পায়ের ছাপ দেখে দেখে যেন আমরা উপরে উঠি। খাড়া ঢাল,তাতে আবার বরফে পিচ্ছিল। সাবধানে পা রেখে এগোতে এগোতে মনে হলো, এতসুন্দর অভিয়ান আর একটা ফটো তুলবো না? পাপাকে সুজিতের কোলে দিয়ে ক্যামেরা নিয়ে উপরে উঠে পিছন ফিরে ওদের ছবি তুলতে তুলতে কখন যে পাশদিয়ে বয়ে চলা নালার কাছে চলে গিয়েছি খেয়াল ছিল না। একপা পিছোতেই একটা পা ঢুকে গেল নালার মধ্যে,পড়তে পড়তে বেঁচে গেলাম সে যাত্রায়। বাঁ-পায়ের জুতোর মধ্যে ঢুকে গেল জল। সবার কাছে বকা খেয়ে ভাবলাম, নাহ্‌, অনেক হয়েছে এবার হাঁটায় মন দিই। কিছুটা উপরে উঠতেই শুরু হলো পাহাড়ের গায়ে দাঁড়িয়ে থাকা পাইনের জঙ্গল। ঘনকালো খয়েরি কান্ড আর ঘন কালচে সবুজ পাতার খুব সামান্য অংশই দেখা যাচ্ছে। পুরো বনের গাছ মাটি ঢেকে আছে বরফে। চারিদিকে ছড়িয়ে আছে ভাঙা গাছের ডালপালা যেন কোনো মত্ত হাতি তার আক্রোশ মিটিয়ে গিয়েছে। দেখেই বুকের ভিতরটা কেমন যেন ছমছম করে উঠলো। নন্দনজি জানালেন, সারা রাতে বরফ পড়ায় বরফের ভার সহ্য করতে না পেরে ভেঙে পড়েছে ডালপালা। মাঝপথ পর্যন্ত এসেছি প্রায় বেশ শ্বাসকষ্ট হচ্ছে তখন। পাপা এই পর্যন্ত কোল পালটে পালটে এসেছে। এবার নন্দনজি নিলেন ওকে। কোথাও দু’মিনিট দাঁড়িয়ে যে বিশ্রাম নেবো উপায় নেই।

এমনিতেই চলতে চলতে গাছের পাতায় জমা ঝুরঝুরে বরফ গায়ে ঝরে পড়ছে। কিন্তু নন্দনজি জানালেন, দাঁড়ালে বিপদ বাড়তে পারে। উপর থেকে শক্ত বরফের জমা চাঁই মাথায় পড়লে আর রক্ষা নেই। নন্দনজি কে অনুসরণ করলেই দেখলাম মাঝে মাঝেই আমাদের পা হয় পিছলে যাচ্ছে না হলে ডুবে যাচ্ছে ঝুরঝুরে চোরা বরফের মধ্যে। প্রায় ঘন্টাখানেক হতে চললো আমরা এভাবে হাঁটছি। মাঝে মাঝেই শ্বাসকষ্টের কারণে মনে হচ্ছে ফিরে যায় এখান থেকেই যদি ছেলের শরীর খারাপ হয়ে যায়! অজানা প্রকৃতির হাতছানি যেন মৃত্যুকেও উপেক্ষা করে। মন মানছে না ফিরে যেতে। আবার সাহস ফিরিয়ে এনে হাঁটছি। প্রায় ঘন্টাখানেই পর নন্দনজি হাত তুলে সামনে দেখালেন। দেখলাম আশ্রমের প্রাচীরের সীমানা দেখা যাচ্ছে। আর তো ফেরার প্রশ্নই ওঠে না। কিছুটা পথ আরও এগোতেই নন্দনজি বললো সামনে দেখিয়ে পর আওয়াজ মাত কি জিয়ে। সামনে কি? এটাকি পৃথিবী! নাকি কোনো অলৌকিক দর্শন করছি আমরা! যেদিকে তাকায় পুরু মোটা বরফ। একজায়গায় পা দিতেই পা প্রায় হাঁটুর নীচ পর্যন্ত ঢুকে গেল। স্বর্গের নীরবতা। কথারা ঘুমিয়ে পড়েছে প্রকৃতির রূপ দেখে। ছোটো ছোটো ঝাঁউগাছের মাথায় থোকা থোকা বরফ হাতে ছোঁয়া যায়। পাশেই আশ্রম, কেউ নেই। সামনের দিকে বিস্তীর্ণ বরফের পথে নন্দনজি হেঁটে চলেছে আরো কিছুটা উপরের দিকে। ওখানেই থাকেন স্বামী নিরগুনানন্দ। একা এই নির্জনে। বারোবছর বয়সে ঘর ছেড়ে এখানে এসেছিলেন। আর ফেরেননি। আর একটি প্রাণী এখানে থাকে,যে নিরগুনান্দের দেখাশোনা করেন,তিনি দাঁড়িয়ে আছেন আনন্দময়ী মাতার প্রার্থনাগৃহের সামনে। আমরা সেখানে যেতেই তিনি গম্ভীর গলায় বলে উঠলেন, ‘ শান্তি রাখিয়ে,আওয়াজ মাত্‌ করিয়ে’। আমরা জুতোগুলো বাইরে খুলে প্রবেশ করলাম ভিতরে,একটা শান্ত স্নিগ্ধ পরিবেশ,এমনিতেই কথা বলতে ইচ্ছা করে না। একরাশ নীরবতার মাঝে কিছুক্ষণ নিজেকে খোঁজা। নন্দনজি উপর থেকে ফিরে এসেছেন, আমাদের এবার নিচে নেমে যেতে হবে।বাইরে এসে জুতো পড়তে গিয়ে দেখি কার্নিশের নিচে রাখা জুতোগুলো গলে পড়া বরফ জলে ভিজে জল গড়াচ্ছে। কিন্তু ভেজা জুতো পড়া ছাড়া কোনো উপায়ও নেই, সে না হয় ক্ষণিকের জন্য পড়লাম,কিন্তু কাল কি হবে? এমন ভাবে ভিজেছে যে কড়া রোদে দু’দিন ফেলে রাখলে যদি শোকায়! যাইহোক বাইরে বেরোতাই চোখ ধাঁধিয়ে গেল যেন। প্রতিটি বরফকণায় সূর্যরশ্মির প্রতিফলনে সৌন্দর্য এতটাই অসহ্য হয়ে যাচ্ছে যে তাকিয়ে থাকা যাচ্ছে না।

সামনে যতদূর চোখ যাচ্ছে বিস্তীর্ণ বরফভূমিতে যেন ছড়ানো রয়েছে সোনা! নন্দনজির পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমরা নামতে থাকলাম নিচে। নামার পথ আরো ভয়ঙ্কর। বরফ গলে উপর থেকে গড়িয়ে নামছে জল, রাস্তা বেশ পিচ্ছিল,হাঁটতে হাঁটতে মাঝে মাঝেই পিছলে যাচ্চে পা।দেহের ভর ঠিক রাখতে সোজা না নেমে প্রথমে ডানপা তারপর বাঁ-পা এইভাবে সাইড করে নামতে লাগলাম। ফিরে এলাম লজে,ঘড়িতে তখন দেঢ়টা প্রায়। দুপুরের খাবার প্রস্তুতই ছিল। খাওয়া সেরে লজের সামনের চেয়ারে এসে বসলাম, সকালের সব বরফ তখন গলে গিয়েছে। ঘাসের সবুজ রঙ জ্বলে গিয়ে হয়েছে বাদামি। আধঘন্টা বসার পর দেওয়ানজিকে নিয়ে আমরা বেরিয়ে পড়লাম পাহাড়ি পথে হাঁটবো বলে। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে সরু আঁকাবাঁকা নির্জন পথে একপা একপা করে চড়াই হাঁটা। সূর্যের উত্তাপ বেশ কম। পড়ন্ত রোদের সাথে আস্তে আস্তে মিশে যাচ্ছে চিনচিনে ঠান্ডাটা। হাত-পা সব কনকন করছে। পাহাড়ি পথের পাশে মাঝে মাঝেই লালে লাল হয়ে সেজে আছে রডোড্রেন্ডন ফুল। এই প্রথম দেখা এই ফুল। নামে পরিচয় অনেক আগেই। মনে পড়ে গেল রবি ঠাকুরের কথা। হাঁটতে হাঁটতে বেশ অনেকটা পথ এগিয়ে গিয়েছি। ঝুপঝুপ করে নেমে আসছে ঠাণ্ডা। লজে ফিরে সামনের লনে ঘন অন্ধকারে কাঠের আগুনের চারপাশে গোল করে বসে শুরু হলো জমাটি আড্ডা। মাঝে আগুনের লেলিহান শিখা। হাওয়া লেগে মাঝে মাঝে উড়ছে ছোট ছোট ফুলকি। গল্পের সাথে বয়ে চলেছে সময়। মনটাও বিষণ্ণ দু’দিনেই এখানকার প্রকৃতি কেমন যেন আপন করে নিয়েছে আমাদের। এই যে ছেড়ে যাবো আর কি কোনোদিন আসতে পারবো?

......ক্রমশ 



Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.