x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

মঙ্গলবার, অক্টোবর ০৩, ২০১৭

পিয়ালী চক্রবর্ত্তী

sobdermichil | অক্টোবর ০৩, ২০১৭ | | | মিছিলে স্বাগত
ই-ই-ই-ই-ইয়েতি
কাল সবে চোখটা বুজেছি, এমন সময় দেখি কানের কাছে সৃজিতদা না বড় বড় চুল রেখে, মাথা একদিকে হেলিয়ে বলছে ই-ই-ই-ই-ইয়েতি, আর বুম্বাদা তার ঘাড়ে চেপে গাইছে ‘পালকি চলে পালকি চলে পালকি চলে রে, হুন হুনা’। আমি তো অক্কা পাই আর কি, ঘুম ভেঙ্গে, ঘেমে নেয়ে একসা। 

এমনিতে সিনেমা, হলে গিয়ে দেখার ব্যাপারে আমি হাড় কেপ্পন। পারতপক্ষে যাই না। লারেলাপ্পা বলিউড তো ছেড়েই দাও, একটা সিনেমার চার-পাঁচটা রিভিউ না পড়ে কদাপি আমি যাই না। প্রাইম আর হটস্টার (সেই একাউন্টটাও একটা বন্ধুর থেকে ধার করা) আর আমার বাড়ির হার্ডডিস্ক জিন্দাবাদ। এমতাবস্থায় ‘মিশর রহস্য’ দেখার পরেও শুধুমাত্র ‘পাহাড় চূড়ায় আতঙ্ক’ গল্পটা আর ওই মরীচিকাসম ট্রেলার দেখে আমি কাল রাতে সাড়ে দশটার সময় দুধের বাচ্চাকে ছেড়ে দেখতে গেলুম ইয়েতি রহস্য। 

বলি ও সৃজিত দাদা ৩৪৮ টাকা টিকিট বাবদ আর পুজো সপ্তাহের জন্য জমিয়ে রাখা মানসিক শান্তি, আমায় ফিরিয়ে দাও। এখুনি।

- কাকাবাবুকে নেপালী মিংমা শেরপা কফি দিয়েছে, কাকাবাবু জিজ্ঞেস করলেন ‘তোমরা খেয়েছ?’ নেপালী শেরপা হয়ে গেল নেপাল পাল। বলে ‘খালিয়া’। বাঙালী চা/কফি খালিয়া বলে যে প্যাঁক খায়, তাইতে কি ড্যামেজ কন্ট্রোল মারলে দাদা? 

- সকাল/সন্ধ্যে গম্বুজের জানলা দিয়ে কাকাবাবু বাইনোকুলার লাগিয়ে বসে থাকে, আর কে নাকি অজ্ঞাতপরিচয় দরজা ধাক্কা দিল, তাই নয় বাইরে থেকে বন্ধ করে দিল, তখন কই একবারও ছুটে গিয়ে জানলা দিয়ে দেখলে না তো। বুম্বাদা কি যে কর 

- আর কাকাবাবু আবার পাড়ার নান্টুদার অবতার গো। প্রথমে ভাইপোকে প্রেম নিয়ে আওয়াজ মারে, পরে ওয়ারলেস সিস্টেমের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে ‘আমারও তো…?’ উফ পরের ডায়লগটা মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসছিল গা… ‘চল কাকা বিড়ি খাই’।

ওগো সৃজিত দাদা আমার মনের শান্তি ফিরিয়ে দাও।

- ভারত সরকার কে আবার অফিসার চিত্রাঙ্গদা ভার্মাকে পাঠিয়েছে, হেবি ঝিঙ্কু, তাই দেখে নেপালী অফিসারের সেকি সুড়সুড়ি। সেই অফিসার যীশু পুরো আমার মেয়ে মিঠির মত বাংলা বলে ‘কি করস? কোথায় যাসস? তুমি কি খাসস?’ দুজনে মিলে রায়চৌধুরীর চিন্তায় বাঁইবাঁই করে ছুটে এল, আর রায়চৌধুরী হাপিশ হয়ে যেতে ওদেরও পুরকি শেষ বলে ঘর যাব, অমনি সন্তু বুক চিতিয়ে বলে ‘আমিও রায়চৌধুরী’ (কাল যদি একে স্বপ্নে দেখি!! মাগো)। শেষে দেখা গেল চিত্রাঙ্গদা নাকি ফেক...বোঝ সে আবার সরকারী দূত হয়ে নেপাল হেডকোয়ার্টারে ঢুকে পড়ল চেকিং ছাড়াই। মনের দুঃখে যীশু বলে উঠল ‘চিতু’...আঃ সৃজিত দাদাগো আমার গলায় পা তুলে দিতেও তো পারতে।

- এভারেস্টের তলায় একখানা লাক্সারি গুহা, তাতে চারিদিকে লাইট রাখা, আর পালা করে লাল, নীল সবুজ লাইট জ্বলছে। টু-নাইট, থ্রি ডেস এর প্যাকেজ দেয় মনে হয় উইথ ডিজে নাইট, চাইলে নববর্ষ আর রবীন্দ্র জয়ন্তীতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সেইখানে আবার ইয়েতিরূপী বাঙালী থাকে, শুনলুম মুখ না দেখানো লোকটা নাকি সৃজিত। তা ভাল, ও মুখ আর দেখিওনি।

কি গান ছিল একটা দিগন্তে প্রশ্ন হাজার, মাটিতে বা পড়ল রাজার, তারপর সমবেত কন্ঠে ‘বিপদকে করব মাদুলি’......

অ সৃজিত দা, ফিরিয়ে দাও আমার মনের শান্তি......।




Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.