Header Ads

Breaking News
recent

লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী



 পূজা এলো এলো পূজা 

পূজা এলো এলো পূজা, ও ভাই পূজা এসেছে;
ঢ্যাং কুড় কুড়, ঢাকের তালে বাজনা বেজেছে।
          মা দূর্গা আসেন ধরায়
                  একটি বছর পরে,
         লক্ষ্মী সরস্বতী গণেশ
                কার্তিক সঙ্গে করে।
শঙ্খ বাজে, কাঁসর বাজে জয়-ঢাক উঠে বেজে,
পূজা এলো এলো পূজা, ও ভাই পূজা এসেছে।
           জ্বালো প্রদীপ শঙ্খ বাজাও
                  সবে উলুধ্বনি দাও,
           বরণ ডালা সাজিয়ে মাকে
                  বরণ করে নাও।
মায়ের আগমনে সবার পুলকে হৃদয় ওঠে নেচে,
পূজা এলো এলো পূজা, ও ভাই পূজা এসেছে।
          সপ্তমী ও অষ্টমী তিথি
                   নবমীর দিন পরে,
          দশমীতে বিদায় নিয়ে
                মা যাবেন শ্বশুরঘরে।
পূজোর বাজার কেনাকাটার ভিড় জমে উঠেছে,
পূজা এলো এলো পূজা, ও ভাই পূজা এসেছে।


 বিল্ব ষষ্ঠী (দেবীর বোধন) 

আজি ষষ্ঠী পূণ্য-তিথি দেবীর বোধন,
ধরাধামে আজি তাই পূজা আয়োজন।
প্রতি প্যাণ্ডেলে দেখি আলোর বাহার,
ঢাক বাজে কাঁসি বাজে মণ্ডপ মাঝার।

সন্ধ্যায় আরতি হয় জয়ঢাক বাজে,
আনন্দেতে শিশুদল হাত তুলি নাচে।
জ্বলিছে আলোকমালা পূজার মণ্ডপে,
মৃণ্ময়ী পূজিতা হন চিন্ময়ীর রূপে।

যতনে নব-পত্রিকা করিয়া বন্ধন,
বিধিমতে স্তবপাঠ করেন ব্রাহ্মণ।
দেবীর বোধন আজি শুন সর্বজন,
মহামায়া ধরাধামে আবির্ভূতা হন।

জয় মাগো মহামায়া প্রণমি তোমারে,
যশ দাও, ভক্তি দাও, শ্রদ্ধা দাও মোরে।


 মহা সপ্তমী পূজা 

মহা সপ্তমীর পূজা বিদিত ভুবনে,
মহাশক্তি আরাধনা ভক্তিযুক্ত মনে।
ঢাকীরা বাজায় ঢাক শঙ্খঘণ্টা বাজে,
মণ্ডপের বেদি পরে দুর্গামা বিরাজে।

নদীঘাটে দোলা নিয়ে করয়ে গমন,
মহাস্নান সেরে বিপ্র করে আগমন।
শিশু যুবা বৃদ্ধগণ সকলেই আসে,
সকালের সোনারোদ নদীতটে হাসে।

পুরোহিত করিছেন স্তব মন্ত্র পাঠ,
মণ্ডপের চারিপাশে প্যাণ্ডেল বিরাট।
শঙ্খ ঘণ্টা ধূপ দীপ প্রসাদের থালা,
ঘটে দেয় ধান দূর্বা আর ফুল মালা।

বিধিমতে সপ্তমীর পূজা সমাপন,
পূজা অন্তে করা হয় প্রসাদ বণ্টণ।


 মহা অষ্টমী পূজা 

মহা অষ্টমীর পূজা খ্যাত চরাচরে,
ঢাকঢোল ঘণ্টা বাজে দেবীর মন্দিরে।
সুগন্ধি চন্দন আর ধূপ দীপ মালা,
ফলমূল মিষ্টিদ্রব্য প্রসাদের থালা।

মন্দিরেতে পুরোহিত বসি শুদ্ধাচারে,
করিছেন মন্ত্র পাঠ ভক্তি সহকারে।
পুষ্পাঞ্জলি দেয় সবে উপবাসীগণ,
শক্তি আরাধনা করে কল্যাণ কারণ।

অষ্টমীর সন্ধিপূজা ছাগ বলিদান,
পশুরক্তে দেবীপূজা শাস্ত্রের বিধান।
শুনহ জীবের জীব বচন আমার,
যুপকাষ্ঠে নাহি কর পশু সংহার।

অষ্টমীর সন্ধিপূজা হলে সমাপন,
হৃষ্টচিত্তে করে সবে প্রসাদ ভক্ষণ।


 মহা নবমী পূজা 

মহা নবমীর পূজা বিদিত জগতে,
মহাশক্তি আরাধনা হয় বিধিমতে।
জ্বলিছে প্রদীপশিখা ধূপদানে ধূপ,
মৃন্ময়ীর অপরূপা হিরন্ময়ী রূপ।

মন্দিরেতে পুরোহিত ভক্তিযুক্ত মনে,
করিছেন চণ্ডীপাঠ বসিয়া আসনে।
শতোত্তর অষ্টপদ্ম করি আহরণ,
বিধিমতে হোমযজ্ঞ অভীষ্ট পূরণ।

ধন্য ধন্য দুর্গাপূজা শাস্ত্রের বিধান,
যূপকাষ্ঠে শত শত ছাগ বলিদান।
পশুরক্তে দেবীপূজা এ নহেক পূজা,
জীব রক্ত নাহি চান দেবী দশভূজা।

শুন শুন বিশ্ববাসী! বচন আমার,
বলিহীন হোক পূজা জগত মাঝার।


 মহা দশমীর পূজা 

মহা দশমীর পূজা বিধিমতে হয়,
করিছেন মন্ত্রপাঠ বিপ্র মহাশয়।
শঙ্খঘণ্টা ধূপদীপ নানা উপাচার,
সুমিষ্টান্ন ফলমূল বিবিধ প্রকার।

বিজয়া দশমী আজি জানে সর্বজন,
দশমীতে পূজা শেষে দেবী বিসর্জন।
মন্দিরে সিন্দুর খেলা ভারি ধূম হয়,
নাচে গায় সবে দেয় মা দূর্গার জয়।

শোভাযাত্রা নদীঘাটে দেবী নিরঞ্জন,
দশমীতে দেখে সবে জ্বলিছে রাবণ।
দূর্গতি নাশিণী মাতা দেবী মহামায়া,
অধম সন্তানে মাগো দেহ পদছায়া।

দূর্গাপূজা শ্রেষ্ঠ পূজা বর্ষে একবার,
আগামী বছর তরে প্রতীক্ষা আবার।



কোন মন্তব্য নেই:

সুচিন্তিত মতামত দিন

Blogger দ্বারা পরিচালিত.