Header Ads

Breaking News
recent

কোয়েলী ঘোষ

উড়িষ্যার পথে
পায়ের তলায় সরষে তাই বেড়িয়ে পড়ি প্রকৃতির টানে । এবার চলেছি উড়িষ্যার পথে । হাওড়া থেকে জনশতাব্দী এক্সপ্রেস ধরে উড়িষ্যার বালাসোর ষ্টেশন । সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে চলেছি চাঁদিপুর । দুদিকে রুক্ষ বিস্তীর্ণ প্রান্তর , ঝাউ ,নিম আর বাবলা কাঁটার ঝোপ । ১৭ কিমি এই রাস্তা বেশ নির্জন । গাড়ি এসে পৌঁছল ''আশা নিবাস হোটেলে । হোটেলের তিনটে ঘরে থাকার ব্যবস্থা হল। বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালে দূরে সমুদ্র , ঝাউবন । 

পায়ে পায়ে সমুদ্রের কাছাকাছি । পান্থনিবাসের কাছাকাছি বাঁধানো সিঁড়ি । সমুদ্র এখানে ৫ কিলোমিটার দূরে চলে যায় আবার কাছে আসে । দুধারে ঝিনুক ,মুক্তোর দোকান , কিছু খাবার দাবারের হোটেল । কিছুক্ষণ বালিয়াড়িতে বাচ্চাদের সাথে ছুটোছুটি করে সিঁড়িতে বসে অপেক্ষা সাগরের জন্য । 

সন্ধ্যার আকাশে পূর্ণচন্দ্র। চাঁদের রুপোলী জ্যোৎস্না গায়ে মেখে রুপোলী ঢেউ তুলে তুলে সমুদ্রের কাছে আসা। সবাই নেমে পড়েছি জলকেলি করতে । হঠাত লোডশেডিং ,ঝুপ করে অন্ধকার । তখনই প্রকৃতি বড় কাছাকাছি। জ্যোৎস্নায় ভাসছে সাগর আর মুগ্ধ দৃষ্টিতে আমরা । 

পরের দিন স্নিগ্ধ এক ভোরে পাখির কূজনে ঘুম ভাঙছে। এক দেহাতীর দোকানে তখন উনুন জ্বলেছে। ওরা কাছেই কোন গ্রাম থেকে আসে, আবার রাতে ঝাঁপ বন্ধ করে বাড়ি ফেরে । লাল চা , বিস্কুট খেয়ে আবার সমুদ্র সৈকতে। ভোরের সূর্য রক্তিম আভা ছড়িয়ে দিয়েছে আকাশে । এই স্নিগ্ধ হাওয়া , নির্জন তটভূমি জীবন জুড়িয়ে দিচ্ছে । পায়ের নিচে সাদা ,বাদামী কাজের শঙ্খ এই সাগরের উপহার । আবার ফেরা , দুপুরে খাওয়া দাওয়া সেরে আবার সমুদ্র । 

সেদিনটা দোলপূর্ণিমার রাত্রি । আকাশের লাল চাঁদ অপরুপ এক মায়া তৈরি করেছে । এই দৃশ্য এখনও লেগে আছে চোখের পাতায় । লাল আবীর ছড়িয়ে রহস্যময়ী সাগর আসছে এগিয়ে। সেই চাঁদনী রাত আর অপরুপ সমুদ্র ভাসিয়ে নিয়ে গেছে আমায় সৃষ্টি আর সুন্দরের মাঝে ।

পরের দিন চলেছি কুলডিহার জঙ্গল । ছোট ছোট গ্রাম পেরিয়ে , মাটির বাড়ি আর খড়ের চাল পেরিয়ে দূরে দেখা গেল নীলগিরি পর্বতের
চূড়া। কুলডিহার জঙ্গল বেশি গভীর নয় । কচি সবুজ গাছে ফুল ,শাল ,মহুল সারি সারি । মাটিতে পড়ে মহুয়া ফল । 

এবার গন্তব্য পঞ্চলিঙ্গেশ্বর।  ৩১১ টি সিঁড়ি। যাত্রাপথের দুধারে ফল ,ফুল ,ধুপ মিষ্টির দোকান। এক ডালা কিনে কাঠের হাতল ধরে ধরে উঠছি । সবাই চলে গেছে আমি পিছনে। রবি ঠাকুরের গান মনে মনে গুনগুন করছি --  ''আমি তোমার যাত্রী দলের রব পিছে ,  স্থান দিয়ো হে '' .......

অবশেষে পৌঁছলাম পাহাড়ের মাথায় । বাইরে পুজো দিয়ে ভেতরে । প্রথমে বাঁ পা , তারপর ডান ছড়িয়ে হাঁটু মুড়ে স্পর্শ করতে হবে । জলের মধ্যে পাঁচটি শিবলিঙ্গ স্পর্শ করে জল মাথায় দিয়েছি । আবার অবতরণ সেই পথেই । গাড়ি আবার ছুটে চলেছে । 

পরিশেষে বলি, প্রকৃতি সুন্দর কিন্তু কিছু মানুষ এই ধ্যানমগ্নতার মাঝে উল্লসিত হয়, সি বীচে বোতল গড়াগড়ি খায়, কিছু আবর্জনা দৃষ্টিকটু। সচেতনতা প্রয়োজন সেখানে। সেই সুন্দর স্মৃতি নিয়ে , সেই চাঁদনী রাতের মুহূর্ত ধরে রেখেছি সযতনে । 




কোন মন্তব্য নেই:

সুচিন্তিত মতামত দিন

Blogger দ্বারা পরিচালিত.