x

প্রকাশিত বর্ষপূর্তি সঙ্কলন

দেখতে-দেখতে ১০ বছর! শব্দের মিছিলের বর্ষপূর্তি সংকলন প্রকাশের সময় এ খুব অবিশ্বাস্য মনে হয়। কিন্তু অজস্র লেখক, পাঠক, শুভাকাঙ্ক্ষীদের সমর্থনে আমরা অনায়াসেই পেরিয়ে এসেছি এই দশটি বছর, উপস্থিত হয়েছি এই ৯৫ তম সংকলনে।

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

সোমবার, অক্টোবর ১৬, ২০১৭

কবি পুণ্যশ্লোক দাশগুপ্ত

sobdermichil | অক্টোবর ১৬, ২০১৭ | | | মিছিলে স্বাগত
কবি পুণ্যশ্লোক দাশগুপ্ত
আমার জীবনের প্রথম অসমাপ্ত ইন্টারভিউ। কথা চলছিল। তিনি লিখছিলেন। মাঝে মাঝে কবিতা লিখছিলেন। বলেছিলেন প্রশ্ন পছন্দ হয়েছে। তারপর অসুখ। সেরে উঠছেন, আবার পড়ছেন। ভেবেছিলাম, পুরোপুরি সুস্থ হলে আবার বাকি কথা সারব। সময় দিলেন না কবি পুণ্যশ্লোক দাশগুপ্ত। যার কথা ছিল আমার বাড়ি আসার, পোলাও, ইলিশ, চিতল, জিলিপি খাওয়ার। অনেক কবিতা সাথে নিয়ে আসবেন বলেছিলেন। কতকিছু যে বাকি রয়ে যায়। আমাদের শ্রদ্ধা কবি পুণ্যশ্লোক দাশগুপ্ত কে, ছেঁড়া ছেঁড়া কথায় শব্দের মিছিলের পক্ষ থেকে তাকে শেষ শ্রদ্ধা, প্রণাম। 

যে প্রশ্নগুলি তাকে পাঠিয়েছিলাম, প্রথমে রইল সেগুলি। তার পর একটানা তার কথা। কবিতা লিখতে লিখতে। তার আরো আরো লেখার আকাঙ্ক্ষার কথা। বেশি দিন বাঁচবেন না আর, সে আশঙ্কার কথা। দেখা করবেন বলেছিলেন। সময় হোল না। পরে কখনো... 

১। ‘ধর্ম / অধর্ম / বিকৃত কামনার পুরুষ তো নই / আমি যা চেয়েছি / জলের মতোই ঝলমলে জীবন/ ঘটমান বাস্তবের / নুড়িপাথরের / জীবন / একটি ধাতুর মূর্তি / আয়নায় / এক অপ্রতিরোধ্য আগুন ‘... তোমার এই ব্যাখ্যানকে বিশ্লেষণ করে তবে তোমায় বুঝি , শ্লোক ? তুমি রাজি আছ কি ?

২। ‘আমি হাতে নিলাম মাউথঅর্গান, দাঁড়ালাম গোলপার্কে মেয়ে দেখব / জুবিনের বিকেলবেলা সঙ্গে অপু মেহেদীর ব্ল্যাক ক্যাপ আর লেডিবার্ড বাইসাইকেল / যারা আমাকে কবি জানেন তাদের জন্য বলছি- প্লিজ তাকাবেন না / আর যারা আমাকে চেনেন গ্রামের ছেলে পলিটিক্স করি হ্যাপা অনেক- প্লিজ ডোন্ট বি সিলি ‘ ... অনবদ্য এই স্টাইলেই তোমাকে চেনে নতুন প্রজন্ম , অথচ তুমি খাতায় কলমে এক অগ্রজ কবি , স্বনামধন্য যার একটা ব্রান্ড আছে ... তুমি কি করে মনে মনে এমন সবুজ ধরে রাখ ?

৩। কলকাতায় কফি হাউস তো শিল্পী সাহিত্যিকদের মক্কা ... দেখা শোনা , মত বিনিময় , তর্ক , আড্ডা সব মিলিয়ে জমজমাট প্লাটফর্ম ... উত্তরবঙ্গ এই জায়গাটায় মার খেয়ে গ্যাছে বলে মনে কর ? তুমি কি মনে কর না এখানেও দরকার এমন একটা জায়গা যেখানে শুরু হতে পারে একটা সমান্তরাল ধারা ?

৪। তোমার কর্মস্থল আর বাস তো উত্তরবঙ্গের ধুপগুড়িতে ... জন্ম কোথায় ? তোমার পারিবারিক পরিমণ্ডল সম্পর্কে যদি একটু বল ... কিভাবে তুমি এলে লেখালেখির জগতে ? কার অনুপ্রেরণায় ?

৫। উত্তরবঙ্গের কবি সাহিত্যিকরা প্রায় ই আফসোস করেন , দক্ষিণের হাওয়া অনেক প্রিভিলেজড ... এ বিষয়ে তোমার কি মত ? তুমি কি মনে কর , লেখালেখির জন্য ভৌগোলিক অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ ?

৬। ‘জীবন একটি মাউথঅর্গান .../ হাতে নাও জুবিন / লোকে বলে জুবিনের জীবন আর পিকাসোর স্টুডিও ২ এক / যুবক পিকাসো আসলে জুবিনের অনুগত ছিল / জুবিন গ্রীক হলে ভালোই মানাতো / দাঁন্তে জুবিনের অনুরাগী ছিলেন’ ... তোমার জুবিন সিরিজ কি আসলে নিজেকেই লেখা ? সুনীলের যেমন কাকাবাবু , তুমিও কি তেমনি নিজেকে নাম ভুমিকায় রাখ এখানে ?

৭। ‘মনের প্রত্যেকটি নির্দেশ / ঘন হয়ে আসা জলসাঘর / পরিচারিকার প্রত্যক্ষ উজির আমি / শাদী নয় কিনেছি মনের সন্ধান ‘, অথবা , ‘কবির অভিপ্রায় গেট টুগেদার পদাবলী খুলে মদে চুড় / কন্টিনেন্টাল কিংবা ফ্রেঞ্চ ডেলিকেসি / জীবনের দেহভান্ডের এমন আশ্চর্য মুখ / সে মদে রসোত্তীর্ণ আঙ্গিকে বোঝা যাচ্ছে ‘দেহ যেখানে সাধনার আধার সেখানে ব্যভিচার থাকবেই’ / অশ্লীল অগ্রগন্য / মদ জোরালো, / অন্তরঙ্গ আর হালকা / এক আলাদা বিস্মৃতি জীবন্ত দৈত্য সে / উড়ে চললো নাচের তাঁবুতে মাধুর্যে দেহতত্ত্বের মদে ‘ ... তুমি আদ্যন্ত রূপ রসের পূজারি ... তুমি অসম্ভব রোম্যান্টিক ... তোমার কবিতার বৈদূর্যমণি ঠিকরে পড়ে তোমার অরূপের খোঁজ ... তুমি অসম্ভব সাহসীও ... তোমার মনের সন্ধান শেষ হয়েছে কখনো কোনখানে ? কখনো মনে হয়েছে , এইখানে ই আছে সেই আশ্রয় , যেমন নাটোরের বনলতা জীবনকবি কে আশ্রয় দিয়েছিল ?

৮। ‘আবেগের প্রকাশ অন্যতম একটি গিটার / কোয়েল ডাকছে অনবদ্য সুর / কি সেই বাঁধনছাড়া ডাক / নতুন স্টুডিও আর / একটি অডিটোরিয়াম আন্ডার দ্য ওয়াইন শপ / হায় আল্লা,বাংলা কবিতার যৌবন আস্ত একটা ঘোড়া, / সূর্যমূখী ফুল, স্বতশ্চল ‘ তোমার কবিতায় শব্দ চয়নের ক্ষেত্রে এক খোলামেলা অ্যাটিটুড দেখা যায় , শুদ্ধতা নিয়ে কোন বাতিক নেই তোমার , অনায়াসে বিভিন্ন ভাষার শব্দ সার্থক ভাবে প্রয়োগ কর তুমি , তোমার কবিতার এই খোলা হাওয়া প্রভাবিত করছে পরের প্রজন্মের কবিতা লিখিয়েদের ... এই স্টাইল দেখেছি এলিয়ট , ইয়েটস এর কবিতায় ... অন্য কালচার , রিলিজিয়ন থেকে অগুন্তি শব্দের ব্যবহার ... তুমি নিজে কি বল বিশুদ্ধবাদীদের ?

৯। ‘আমার ইচ্ছে করে না মাকে ছেড়ে দূরে কোথাও যাই / তবু যাই তবু যেতে হয় মাকে ভালো রাখবো বলেই তো / মা তা কিছুতেই বোঝে না / যাস না যাস না তুই আমি একা / কাকেরা পাহাড়া দেয় মাকে / মা ওদের ভাত বেড়ে দেয় চৌকাঠে / ঝাকে ঝাকে পাখিরাও আসে / মা ওদের দানা দিয়ে বলে যাবি না কোথাও ‘… আক্ষরিক অর্থেই তো তোমার এখন একলা সংসারে মাকে নিয়েই জড়িয়ে মরিয়ে থাকা, কোথাও কি রাশ টানতে হচ্ছে তোমার বোহেমিয়ান জীবনে ? তুমি তো বেড়াতে ভালোবাসো , প্রকৃতির মাঝে বসে লিখতে ভালোবাসো, তরাই ডুয়ারসের ঘন জঙ্গল , চা বাগান ঘেঁষা পাহাড়ি রাস্তা , মেঘের পেয়ালায় চুমুক মারতে মারতে ... তুমি ই তো লিখেছ তোমার অভিজ্ঞতা , ‘গভীর রাতে চিলাপাতা জঙ্গলের পথে,সাপ আর বেবুন মনে নেই তোমার? সাদা হাতির সাথে জঙ্গলে,ভূটান আর জলপাইগুড়ি তোমার এনফিল্ড ল্যান্ড্রোভার সিনেমার ট্রাক,মাঠে মাঠে সিনেমা আর মেলায় খেলায় ‘... এখন কি তবে খোঁটায় বাঁধা শান্ত পোষমানা জীবন ?

১০। ‘ধরে নিতে পারেন এটাই আমার প্রথম বই। সবাই পড়লে আমার খুব আনন্দ হবে ... প্রচুর কবিতা দীর্ঘ আর সিরিজ মিলেমিশে একাকার। এ বই পড়ে শেষ করা যায় না। প্রতিদিন নতুনের আস্বাদ পাই,আপনিও পাবেন। অনেক মানুষের জীবন অনেক ভালোবাসার, বুকের কাছে রাখুন আদর দিন বইটিকে দেখবেন কবিতা আপনাকে ভরিয়ে তুলছে অসীম আনন্দে।‘ ... ২০১৪ তে প্রকাশিত তোমার কাব্যগ্রন্থ ‘ কুয়াশার বাগান এ লিটিল মিস্ট্রি ‘, র সম্বন্ধে বলেছ তুমি । সত্যিই কি তবে আর কোন প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ নেই তোমার ? এতদিন দিন ধরে লিখছ , এত পাঠক তোমার , উল্লেখযোগ্য সব লেখাই কি তবে লিটিল ম্যাগে ?

১১। তোমার সাথে তো খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল কবি মল্লিকা সেনগুপ্ত , সুবোধ সরকারদের । উত্তরবঙ্গে তোমার আতিথ্য তারা উপভোগ করেছেন একদা । একজন প্রয়াত । অন্যজন বিড়ম্বিত । তুমি খুব স্বাভাবিক ভাবেই সমসাময়িক প্রখ্যাত লেখকদের অনেকেরই কাছের জন । কেমন লাগে এদের মধ্যে শিবির বিভাজন ? তুমিও কি বিড়ম্বিত বোধ কর ? কিছু কি পরিবর্তন দেখলে কবিতা অঙ্গনে গত তিন চার বছরে ?

১২। বিগ হাউস পাব্লিকেশান সম্পর্কে তোমার মত কি ? তথাকথিত বিগ হাউস না ছাপলে কি সত্যিই কোন অপূর্ণতা থেকে যায় কবি সাহিত্যিকদের ?

১৩। ধুপগুড়ি বইমেলার সাথে অন্তরঙ্গ জড়িয়ে ছিলে । তোমার উদ্যোগে কবিতা পাঠের আসরে অংশ নিতে এসেছে জুবিন , ঋষি সৌরক , উল্কা , মিলন , এমন অনেক তরুণ নক্ষত্র ... তুমি আমাকেও একবার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলে , যেতে পারিনি দুর্ভাগ্য বশত , এখনও কি তেমনি উদ্যমী তুমি ? নাকি কিছুটা দূর এসব থেকে ?

১৪। ‘তুমি সুন্দর / মন বিপর্যস্ত / প্রভুত্ব করিনি,অভিপ্রায় ছিল না / পরস্পর সম্পৃক্তির সুসময় / বন্ধু, একটি নতুন পথ খুলে দাও / আচরণের বিরোধিতা করবো না কোনদিন / ‘কে যেন বন্ধু হতে চায় / আজ স্বপ্নে ভেসে যায়’ সেই বন্ধুত্ব ‘ ... বিরোধ না থাকলে শান্তি থাকে , বিরোধ না থাকলে অন্তরঙ্গতা থাকে কি ? তুমি কি আদতে পলায়নপর তবে ?

১৫। ‘খচ্ছো চা পিকো অরেঞ্জ সঙ্গে ভুখা রাজনীতি / হঠাৎ কেন বৃষ্টি এলো পাহাড় থেকে শীত ভীতি ‘ এই যে তীব্র কষাঘাত , এই যে ব্যাঙ্গ , সে কি স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণায় ? তোমার কি বিশেষ কোন দুর্বলতা আছে বিশেষ কোন রাজনৈতিক দর্শনের প্রতি ?

১৬। ‘উদ্দীপনা ঢেলে দিলাম তরুণ কবিদের মার্কেটে , ধরমতল্লা ডাকছে বাবু আয়- / চাইবাসা নেই বেহেড মাতাল নেই আমি ঝাপসা ট্রাকের-গর্জন ,কবিতা লিখছি ‘… শূন্যদশকের কবিতা সম্পর্কে তোমার মত কি ? তুমি তো কোন ব্র্যান্ডে আটকে রাখনি নিজেকে ... কিভাবে ডিফাইন করতে চাও নিজেকে ?

১৭। তোমার ‘তিতাস কলোনি ‘, আপাত ভাবে পড়লে মনে হয় শিশুপাঠ্য , কিন্তু দুবার পড়ার পর ভাবতে বাধ্য করে সিঁড়িভাঙ্গা অঙ্কের মত , একটা একটা করে ধন্দ সরিয়ে সেটা হয়ে ওঠে একটা অন্য দর্শন ... ভালো কবিতার আসলি মজা অবশ্য এখানেই , ডাবল মিনিং কিম্বা মাল্টিপল ... ‘টুপি মাথায় দাঁড়িয়ে আছে কাক, বাগানে কোট গায় দিয়েছে ভোঁদড় / কাকতাড়ুয়া কোথায় তুমি গেলে? / ছোটো ছোটো ঘাস গল্প শুনছে বসে,গ্রহতারাদের অবাক সমুদ্দুর/ ... চারদিকে চার টুকরো হলো চাঁদ / নদীর থেকে ট্যাংরা মাছের সারি / বললো এসে আমরা তো গান জানি / ঘাসের ওপর গানের জলাঞ্জলি ‘... তুমি যদি কবিতার ক্লাসের মাস্টারমশাই হও , ছাত্রদের কিভাবে লিখতে বলবে ?

১৮। লিখছতো অনেকদিন , স্বীকৃতিও পেয়েছ প্রচুর ... কি কি পুরস্কার তোমার ঝুলিতে এখনও অব্ধি ? আর কি কি পেলে খুশি হবে , আই মিন , আক্ষেপ থাকবেনা আর ?

১৯। কবিতা ছাড়া সাহিত্যের আর কোন শাখায় ইন্টারেস্টেড ?

২০। পেজ আছে তোমার ? নিজস্ব ব্লগ ?

২১।লেখা আর ঘোরা ছাড়া আর কি ভালোবাসো ?

২২। নতুন কবিদের লেখা পড় ? কি মনে হয় , বাংলা কবিতার মান উঠছে না পড়ছে ?


 আন এডিটেড  

পুণ্যশ্লোক দাশগুপ্ত

# ami likhote Suru korechi, Likhte khub bhalo lagche, kalke Saradine Likhe Falbo. ato alpo somoye ami parini. khkb jor. likhchilm. kintu jore porlm, ami kalke dite parbo, hotath kore amr sorir kharap hoye galo. khma koro bondhu, ami ar basi din bachbo na ....

৪দিন সময় দাও। খুব সুন্দর প্রশ্ন। আমার কবিতা লেখার গল্প,লিখছি। তোমার ইনটারভিউটা সেখানে রাখতে চাই। অনুমতি দাও প্লিজ, আমার কবিতা লেখার গল্প  - এই নামে একটি বই লিখছি। তাতে তোমার প্রশ্নগুলো ও তার উত্তর গুলো রাখছি, সে জন্য একটু সময় নিচ্ছি । অনুমতি দাও । # তুমি যে আমার কবিতা পড় এ জন্য আমি ভীষণ খুশি,তোমার আমার শ্রদ্ধা ভালো্বাসা সব দিলাম। আমি তোমার বই আমি একজনের কাছ থেকে নিয়ে এসেছি,  তোমার সব প্রশ্নের উত্তর লিখেছি - তোমার বাড়ি যেতে ইচ্ছে করছে অনেক কবিতা সঙ্গে নেব, যাবই আমি যাবই বাণিজ্যতে যাবই, আমি ইলিশ মাছ ভালোবাসি  আর পোলাও, আর জিলিপি, আর চিতল মাছ ... 
#Swadhinotar Upor akta Lekha Daona, please,choto lekha 1000 Sobdoer moddhye. akhanai  ai in Box ai Dao .amar Subidha hoy

# ঝিলের মণিমাণিক্য 
পুণ্যশ্লোক দাশগুপ্ত

অক্ষরে অক্ষরে শরীরে মিশেছি
গন্ধ নেমেছে আড়ালে
টেলিফোন গ্রীবা
নৈকট্যের অভ্যন্তরে ঘুম,পরিভাষা নেই,রাত্রি নিঝুম
রূপবতী খুঁটে খুঁটে দেখছিল আমাকে
সত্যি পুরুষ কুরুক্ষেত্রের
প্রতিটি চুমুক ঐন্দ্রজালিক,সোল্লাসে ঝাঁপিয়ে পড়েছি
অতলে বজ্রের সমান শরীর খেলিয়ে 
অলৌকিক হতে পারে এই প্রেম
নেশায় মেতেছি

# স্বদেশ চিন্তা নিয়া একটা  লেখা দাও না প্লিজ

# কলকাতার আকাশ 
পুণ্যশ্লোক দাশগুপ্ত

উপরে তাকাও কাক নেই 
নিচে যেখানে তুমি বসে আছো গার্ডেন চেয়ার 
হয়তো কবিতা লিখবে রোবোটিক সাত পাঁচ সিস্টেম খুঁটে খুঁটে রথ
আমি কবিতার নাম দিই আগে,আর যারা লেখার পরে নাম লিখে পোস্ট করে ফেসবুকে
তাদের কবিতা বিষয়ের ঘন মদে মেদুর 
আমি লিখি আগে নাম তারপরে প্রথম রঙের ডিব্বা থেকে লাল ডেলে দিই খাতায়
সবুজ পছন্দ আমার দ্বিতীয় স্তবকে
তোমার সবুজ নিয়ে মেশালাম অন্য পাতায়
একটি কবিতা লিখতে এক কিলো রঙ লাগে জেনো
উপরে তাকাও দেখবে কাকেরাও কবিতা লিখছে

# Kamon acho?Tomr Bari jete ichha korche.
# 100 bhag jabo

# ধূপগুড়ি স্টেশন 
পুণ্যশ্লোক দাশগুপ্ত


এই মাত্র রান্নার গন্ধ যুঁই ফুলে মিশে গেল
রান্নাঘর থেকে গরম পোলাও যার গন্ধে আমি মিশে যাই ইস্তানবুলে
জলপাইগুড়ি আমার নিজস্ব ফড়িং নিজে নিজেই এ পুতুল ও পুতুলে
গান গায় ফরফর করে,তার পেটের ভিতর রাজাভাতখাওয়া 
একটি হরিণের ঘাসবন আলিপুরদুয়ার থেকে ছুটে এলো শামচি ভূটান
প্রথম যেদিন কবিসভা বসেছিল,আমি পড়লাম বিদেশি কবিতা
লেপালের কবিটি লিখে ফেলল অন্তমিল প্রেমের পদ্য
হায় রোবোটের মেয়েটিকে কেন বলা হল গান গাইতে,সে কি জ্যোৎস্নার
কেরামতি বোঝে! নদীতে ঝাঁপায়, লুকোচুড়ি খেলে!নিদেন বাউলের আখড়ায়
আখড়ায় ছিলিমে ছিলিমে দেয় টান!মদের পিঁপেগুলো নির্জন প্লাটফর্মে ঘুমিয়েছে কি?
এই মাত্র আমার মোরগটি ডেকে উঠল কুক্কুর কু
ধূপগুড়ি আমার সঙ্গে নকসা করে ছবি আঁকা শুরু করে দিল
নিজের পেটের ভিতর তেলাপিয়া সিলভারকাফ 
জিরাফ জিরাফ বলে সুর করে ডাকল তাদের আয় তোরা জেলিফিশ খাবি


নাটকের দর্শক ঘুমিয়ে পড়েছে পোয়ালে,ধানবাড়ি পাটাবাড়ি পটলের ক্ষেত
থেকে এসেছেন একান্নজোড়া কৃষির হৃদয়,নাটকীয় উল্লাস পেঁয়াজি আর হাঁস
বড়া,মন ভেঙে যাওয়া জিলিপির রঙ তবু ইতিহাস জেগে উঠবে গিদালের গানে
প্রাণ পেলো লুকোনো ইশারা জমিদার লিখেছেন নাটকের গান,সুরকার নিজে 
হ্যালো সখী ঘুরে ঘুরে,আমরা যে হাঁসফাঁস করি,এই নাও বিড়ির প্যাকেট 
এক সঙ্গে উড়ে এলো পাঁচ পাঁচটি বিড়ির বান্ডিল,বোস বিড়ি গনেশ রাজাবাবু
জেগে উঠলো ডাউকিমারি কালীরহাটের সোমারু সুজান ডেকে উঠল হরবোলা
আনন্দ সামন্ত,নাটকের মাঝখানে সখীদের নাচ হলো খুব

# তোমার একটা গল্প দাওনা অর্জুন পত্রিকার জন্য পুওরোনো হলেও চলবে, এখুনি আমার টাইম্লাইওনে দাও

# মম পর্ব 
পুণ্যশ্লোক দাশগুপ্ত

নতুনতর একটি ফুলের গন্ধ পাহাড় থেকে নেমে আসছে
পার্থক্য,ওদের কাছে প্রকৃত নভেলেট অপেক্ষা করছিল,
ওরা বুঝতে পারেনি,মম আমার বন্ধু ,অচেনা কিস্কুও।
অনাবিল প্রিয়তমা মাদল আমার, আর সবাই নৃত্য করেন।
মম করছে লস্করহাটের নূপুর,রামমঙ্গল পালা,হরিমাধব।
মম চলো বালুরঘাটে যাই,শরীর একমুঠো অন্নের কথা ভাবে।
মন লুপ্তপ্রায়,মোষটার পিঠে উঠলাম,ঝাঁকড়া গাছের তলায়
বসব।নিঃশেষিত নারীর জীবন,বিবির জন্য স্থূলকায় তদবির
আমি ভেসে যাই আমি তো বিত্তবান নই আমি কাঠের
তিনখানা ঘর,প্রেমিকের মেঘ খুনসুটি কুরে স্মৃতির নৌকো
ম্যাজিক হলে তা বিদেশি রঙিন বাকুড়ার ঘোড়া মুর্মু-সোরেন
মম উইঢিবি সেখানে মন্ত্র শ্রেণি-সংগ্রাম আলাদা উইংস
ফুসমন্তর, লিখে দিই তাকে পাংশু পিপল,ক্ষমতা দখল
বারবেলা। এক-আধবার গিয়েছি সেখানে তরমুজ ফেটে  ফুসমন্তর
মম দেখ আমি মুরগি হয়েছি,অসংহত,ধৈর্য কোথায় ভিজে উচাটন
সজারুর পট বেজির পদ্য বিলাসিনী বলে পেন্নাম করি।

# tumi kichu bolo jeno ami amr kobita Edit korte pari Thikmoto

# মমুপর্ব-- ৭ 
পুণ্যশ্লোক দাশগুপ্ত

উপহার পেলাম একটি উলের নায়িকা,তার ডানা নেই
কিন্তু আকাশে উড়তে পারে
আমার নীল সোয়েটার শীতের আগেই প্রস্তুত।
আমার হাতমোজা মহাকাব্যিক সে কি করে জানলো আমি কবি
গল্পের বুনুন অবিশ্বাস্য রকমের ভালো,আমি যেন সিনেমায় আছি।
অশ্বের মালিক আমি,যে আকুতি গল্পের ব্যঞ্জনা,আমি তাকে বাস্তব মনে করি
স্খলিত শিথিল আমি রিঠার আগুনে স্নান করি,প্রাতরাশ বিকেল বেলায়
ভ্রমন আদৃশ্য নয় রূপক-কল্পনায় তারা আছে।
জীবনের মাঝখানে এই আমাদের অশ্বমেধ-ঘোড়া।

# বর্ণালী চিঠির বাক্স
পুণ্যশ্লোক দাশগুপ্ত

রূপা দিয়ে গড়া এই আমার বর্ণালী চিঠির বাক্স,ধ্বনি প্রসারিত,বহুদূর মতো
দেখা যায়। তিনটি তরবারি অধিকন্তু একটি বেহুঁশ ক্ষীণচিত্ত আরব্য উপন্যাস
আমি চমকে উঠলাম আর সবাই যেমন ওঠে।বাক্সটা পেলাম কি ভাবে?
আপনি এদের দেখতে চান,তো মান্যবর মহাশয়,সুনামের কথাই যদি বলেন
বর্ণালী লম্বা-চোওড়া কথা লেখেনি অস্পষ্ট অনির্দিষ্ট কিছু না,ও চেয়েছে
কবিতায় নায়িকা হতে,আর তাই নিজেকে নিজের কাছে চিঠি লিখেছে দশ-জোড়া।
আমি রূপকার, রঙ লাগালাম,নিরেট ফুল-বাবুটি যেমন করে,
আমি অশরীরী প্রেমিক,মধুর বিভ্রান্তিটা মুছে ফেলবার চেষ্টা করছি মাত্র।
দোকানে প্রেমের কবিতা কিনলাম বেছে বেছে,
রাজমুকুটধারীদের আমি কেউ নই,।
আত্মার মহৎপ্রেরণা আমার দোকান,,সাজিয়ে বসেছি

# দার্জ্জিলিং একটি পানপাত্র 
পুণ্যশ্লোক দাশগুপ্ত

{লুকিয়ে উঠেছি টয়ট্রেনের মাথায়,অহো!
পকেটে পয়সা নেই,গার্ড এসে হুকুম দিয়েছে,নেমে এসো,
নইলে টানেলে গোত্তা খেয়ে মরে যাবে।
নেমে ফাস্ট-ক্লাসে জায়গা নিয়ে বসি।}
ট্রেন যেন বাড়ির আঙিনায়,মায়াবী-তরঙ্গ
তিনি তো পুণ্যাত্মা,পাহাড় ভেদ করে ধাবিত
থামবে এসে মেঘফলকে ভেড়াদের গ্রামে
দার্জ্জিলিং ঘরানায় আমি উধাও রূপকথায়
ইমোশন নিরাভরণ
কে না উপভোগ করে,মুখে লেগে আছে মেঘ
ফেস্টিভ মদ্যপান হবে রূপসী দোকান
কত হাজার স্বপ্ন দেখেছো তুমি কত মেঘ পবিত্র নিঃশ্বাস!
যেন আমি চড়াই পাখিটি
আমি যেন অলিভার টুইস্ট

# প্রমার জলসাঘর
পুণ্যশ্লোক দাশগুপ্ত


কী আশ্চর্য ইশারা ফিসফিস পরস্পরের চোখ নামিয়ে দিব্যি মজার
চেঁচিয়ে উঠল ঝাঁকরা চুল,তুই জানিস?এটা প্রমার জলসাঘর!
ছবিগুলো গুছিয়ে রাখলে খানিক অপরূপ খানিক রহস্যময়
বুঝি কেউ ছিটিয়ে দিলে গোলাপজল কেউ এসে লাল-কার্পেট
সোয়েটার বুনছিলো মা ছুটে গেল বল যেন সেও গান শুনবে
নীরবে হাসছেন কবি ভেড়ার লোম উড়ছিলো
চমৎকার পরস্পরের গা ঘোষলে গিনিপিক,
টাটকা ঘোড়ার পিঠে চড়ে এলেন গিটারবাবুটি
মদির চঞ্চল,
হাঁক দিলে মা প্রমা প্রমা,চটপট নীল চোখ মেলে একটু তাকা
প্রমার বিছানায় তখন পাখিগুলো ডানা ঝাপটাচ্ছিলো
কবি জানালার দিকে তাকিয়ে পাপড়িগুলো ভাসাচ্ছিল বাতাসের গায়
যেন তারা মেঘের আড়ালে পুনঃর্জন্ম পায়
এইখেনে তোর জলসাঘর
গ্রিন-চা আলুর পরোটা মাংসের নুন
এ যেন সেই পুরোদস্তুর মিউজিকস্ট্রিট গোলাম আলীর রসুইখানা
রবিশংকরআল্লারাখাঁ ভিয়েন বসেছে সোনার মুকুট
সোহাগীর হাঁসগুলোকে ডেকে আন
পাশ থেকে টিপ্পনি কাটলো একজন
হেঁড়ে গলার গান তো নয়,এ হলো গিয়ে প্রমার জলসা
আমি তখন ঘুমুচ্ছিলাম রাতের সায়রে গ্রামোফোনের সঙ্গে...

এ গানের শেষ নেই অন্তরা থাকেনা,ভুলভুলাইয়া
চিনেডিশ এলোমেলো বাজতেই থাকে
চিকচিক শব্দ হয় ব্লোটিংপেপারে
পায়ের আওয়াজ হুড়মুড় দুরন্তপনার চটপট
রান্নাঘরের ইঁদুর স্ফুর্তিতে টগবগ
আমি তখন ঘুমুচ্ছিলাম রাতের সায়রে গ্রামোফোনের সঙ্গে

এ নয় যে আমি গর্তের ভেতর শুয়ে শুয়ে গান শুনছি
এ নয় যে আমার শবজি বাগানে আগুন লেগেছে
আমি কি ননীর পুতুল নাকি হতচ্চাড়া মিউজিক স্কুল?
প্রমার গানের যাদু গ্রিন চা সমোভারে গোলাপের কুঁড়ি
এ সবে আমার স্নেহ উধাও হবে না,শুধু ঝাঁকড়া চুলের
হাতদুটো তবলায় নির্মম-প্রহার টুপ করে লাফিয়ে নামুক

এমন ঘোরের মধ্যে মাথা নাড়ে আরব্যরজনী
সত্যি কি সজীব সেই সাজানো শৈল্পিক
আবছা আলোর বুকে তার জন্য রূপকথার চিল
তার জন্য ফিল্মি-অ্যাকশন জ্যোৎস্নার নিঃশ্বাস
প্রমার অন্দর থেকে গানের স্টাইলে কথা ভাসে এলো
এই আমার দৌলতখানা কেদারা-কুর্শি সোনার মোরগ
নসিবের ফের চড়ুইপাখিটি।এই আমার অঙ্গবাস
নৃত্যের উৎসব।

আত্মার উন্মোচন যদি ঘটে যদি কল্পনাজারিত রেশম কাপড়
প্রমার প্রপার্টি দীপাবলী ভোজন-উল্লাস বিত্তশালী গান
আরবী ঘোড়ার মিস্ট্রি কিনে নেবো কল্পনার দামে

# চিঠির অপেক্ষায় রাধা
পুণ্যশ্লোক দাশগুপ্ত

কৃষ্ণ চিঠি লিখল রাধাকে,আলাদা আবেগতাড়িত,চাহনি মহামান্য সুলতানের যেমন।
অন্তহীন জাতিধর্ম যৌনতার শাখায় শাখায়,জানালা দিয়ে ভেসে যেতে থাকল ভালোবাসা।
প্রেমিকার একজন পাগল সর্বোপরি কাল্পনিক তুলির স্পর্শ ফ্রেঞ্চ ইংলিশ পরিচ্ছেদের বিষাদ,ভাষান্তরিত।শুধু সে ইয়োরোপিয়ান নয় রঙ মেখে লাফিয়ে ইন্টেরিয়র।
কৃষ্ণ নায়কোচিত। পিয়ানো বাজিয়ে ডাকলো রাধাকে,এসো প্রিয়ে দাঁড়টানা নৌকোয় বসি।চাঁদিনী রাতের স্রোত নতুন রেস্তোরাঁ,আমাদের মিলিত হৃদয়।
মানসিক ক্লেশ নেই,ধ্রুবতারা পার্থিব জাগিয়ে তুলেছে রোমান্স,আর কৃষ্ণ লিখছেন চিঠি।
দৃশ্যপটে নির্নিমেষ চেয়ে রয়েছেন রাধা,গাঢ় এবং গভীর " আপনি ঠিক ছুঁয়ে ফেলেছেন
আমাকে!জরুরী চাহিদার ডিশে এই নিন আমার জীবন..."

# অন্ধকার ফুঁড়ে কাক
পুণ্যশ্লোক দাশগুপ্ত

স্নায়ুর ডানা ঝাপটে  চক্রাকার উড়ে চলল কাক,
অনেকখানি এইভাবে শীতল অনুচরেরা পপলার গাছ আর বন্য গোলাপের ঘ্রাণ
সবজিবাগানের মতো আকাশের একপাশে ফিনকি দিয়ে লাল রণক্ষেত্র
প্রথম স্বাদ পেল পল্লির অঙ্গসজ্জা ভিয়েনে চারুকলা,পোলাও-কালিয়া
লিথোগ্রাফ নয় একাডেমি-ঘর নয় সামান্য থিয়েটার,চোখের সামনে
কার্নিশ থেকে দেখা যায় কাঁসার কড়াই, ডেকচির ভুষোকালি
গোলাদুধ।কাকের জিহ্বা দেখা যায় না,দীর্ঘ চঞ্চু তার লকলক করে
জিভ দিয়ে জল গড়ায় কি না গড়ায় বুঝিনা যদি না থাকে,ভালো লোহার দরজা
সুদূরে শহর আর বনের ঈগলেরা  বারুদের মতো পুড়ে ছাই হোক
ঘনায়মান অন্ধকার ফুঁড়ে আমি গভীর দরাজ দুই হাতে মধুর মিনার কচলাব। 

২ 
গৃহাভিমুখে তুর্কী উল্লাস যেন দশ ঘোড়ায় টানছে ক্ষুধার স্তূপ,চূণকাম করা 
চার-কুইন্টাল ভাত,জীবনের যুদ্ধে আমি অর্ধেক পেয়েছি,আর বাকী
বন্য অশ্বের কেরামতি।মৃত্যুর মতো মৃত্যু যদি আসে গহ্বরে রসুইখানায় ইয়া
আল্লা,শুঁড়িখানা তোলপাড়,অন্যের প্রভুত্ব ছ্যা,অচ্ছেদ্য সঙ্গি আমার দশহাজার কাক।
চিৎকার আনন্দে উজ্জ্বল
ভয় পাইনা এয়ার-গান ইট পাথর দুরাচার ডাইনি-টাইনি

বাদুড় পানকৌড়ি কাক চললো সেই ঘোড়ার গাড়িতে,স্লেজ থেকে বক আর 
লালঠোঁট মাছরাঙা পাখি
এগিয়ে চলল,
অভ্যর্থনার সম্ভাবনা অবগত আছি
সফরের তাঁবু আর ইরাণের জলপাত্র বুকে
ঘোড়ার লাগাম নেই সজ্জিত সতর্ক কপাল,অশ্বপৃষ্ঠে সমাসীন কাক
জয় হো

সুখাবেশ চেরিগাছের ছায়া কাকের স্টুডিও 
ক্যানভাস আর একটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র টুনটুনি
পুকুরের জল পেরিয়ে কাক চলেছে নির্বিঘ্ন
দরদী যৌবন তার সামরিক জীবন ছোঁ-মেরে উপক্রম হল তৃপ্তির ভাব
চুলের ঝুঁটি ধরে আর্শিতে দেখে প্রতিরূপ,অদ্ভুত বীরত্বের গৌরব
মশাইরা, কাক কোনো ইতোর কিছু নয়
ঘুরতে ঘুরতে তার কৌলীন্য জাগে
বেমালুম উধাও তার ঘুম আপাত মনে হয় কিন্তু পৌরুষের
সমস্ত সৌন্দর্য পাকখায়,বুক ঘাড় কাঁধ বিজয়ি-গড়িমা 
কেবল ওর আত্মা থাকে সোনায় মোড়া কিংখাবে
পাহাড়ের মাঝখানে উপত্যকায় বুকের পাঁজর রেখে আসে
তোমার চিকণ কালো ভুরুর দিব্যি খুঁটিতে আর বেঁধে রাখব না তোমাকে

সুগন্ধি চুল্লির দীপ্তি ভেসে চলেছে 
ঝলকাচ্ছে সেটা
জানালার নীচে অতলস্পর্শী খাদ যেন কবর থেকে ফিরে এসেছে ফ্রাই ফিশ
কাক কাক আর কাক উঠে দাঁড়ায় বসে খলবল করে
ভোগ উন্মাদের মতো পিতৃপিতামহ  নৈশ আহার ছাই রঙ 
দেখুন কী বাহাদুর যেখানে খুশি অপ্রতিরোধ্য একরোখা
গৃহস্থালির কাজ নেই শুধু খুঁটে খুঁটে 
মহাশয় ঠাট্টা করবেন না,
কাকেরা প্রারম্ভে আদর-টাদর কিছুই তো পায়নি,প্রণয়ীর চুমু
উদগ্র-আবেগ বেপরোয়া বউ
এই বুঝি ছোঁ-মেরে নেয় প্রক্ষিপ্ত ললাট
শকুনের থাবা গাংচিল শয়তানের আলখাল্লা বিছিয়ে
পৃথিবী মুখর হোক কা কা কা কা কা 
ভীতিপ্রদ কিছুটা সময়
হাসপাতাল ধ্যানমগ্ন ভিলা জানালার পর্দা সৌখিন-রেস্তোরাঁ
শূন্য হয়ে দাঁড়িয়ে রইল এমন তো নয়

মহৎ কল্পনা নিয়ে উড়ে চলল কাক,বিক্ষিপ্ত
বিষাদের পুরোনো বইগুলো 
তাতে ছবি
আমার চিন্তার আগে কাক এসে বসেছে সাগ্রহে
মানুষের বাড়িতে কাক বস্তুত দ্য ইডিয়ট 
তাদের যন্ত্রণার অশ্রু মন্দভাগ্য কি করে লুকিয়ে রাখবেন আপনি
পীড়া থেকে আসা ধুলো বিনির্মাণ করো হে মহাদেব মৃত্যুর পর ও যেন মানুষ হয়
ও যেন খেতে বসে ডিনার টেবিলে
আদব-কায়দা শেখে রঙ পায় যুগপৎ ভাবুক ও নিবিড়

সানুপুঙ্খ আমি কিছুই বলিনি,কেবল কাকের ব্যথা সঞ্চারিত ইশারা-বাচনে
আড়চোখ আর 
ঔদ্ধত্য তুলনায় কম
পাঠকবর্গ বুঝে দেখুন,ক্ষণিকের অন্তর্ধান যেন সেই ফুসমন্তর
সে বুঝি উদ্দীপিত হল সে বুঝি
পরম তৃপ্তি নিয়ে ঢেলে দেবে মাংসের রোস্ট প্রেতাত্মার মুখে

কখনো কখনো কাক ডেকে তোলে প্রেতাত্মার দেহ
খামার বাড়িতে সে খুঁজে পায় রাংতার মোড়কে জড়ানো
ঝাড়া দিলে সোনার রেকাবি ঝন ঝন শব্দ হল খুব
গোটা দল ছুটে আসে কাকাকা কা কা কা কা কা কা
সারা ভারতবর্ষ ডেকে উঠল কাকা কাকা কাকা কাকা
কাকের কি বলিষ্ঠ চিৎকার সাদা হাড় অভিজাত ফুসফুস
উপস্থিতবুদ্ধির পালক বাতাসে ভাসছে যেন আমোদ বেড়েছে
তারও ঝাঁকড়া বুনো নিদ্রা আসে দুপুর গড়ালে,আহা আত্মা
ঝাপ দিল জলে আহা ইহলীলা চলো যাই জাহান্নামের খুপড়িতে
ঢুকে পড়ি,দেশ কাল নতুন বিছানা বালিশের কল্কা করা মুখ
তোমার পাপের ভাগ ভাগাভাগি হোক 

অনুশোচনার কুঠুরিতে কাক নেই 
শুঁড়ির দোকানেও কাক যায়নি
চারদিকে দৃষ্টিপাত শুধু
আত্মার সদ্গতি হোক 
চুল্লি থেকে সদ্য সেঁকা পিঠে 
চাল-কলা
এই নাও বিগ্রহ 
জীবনের গন্ডিতে তন্দ্রা এনে দেবে,এই নাও
মধুর সংকীর্ণ শিশি ।
নিজের নিজের মুখ হতভাগা মগডালে ঝুলন্ত, নিচে 
জলরাশি আয়নার সমান,নেমে এলো মাথা উঁচিয়ে  মেঘ
কাকের সজ্জিত খড়খড়ি 
কাকের আত্মবিস্মৃত মন 
অনাড়ম্বর
অনুভবযোগ্য বলে বেপরোয়া কাক 
পথ দেখাচ্ছে পক্ককেশ পায়রার ঝুঁটি

১০
কাক কী স্লেজ-গাড়ি টানে!
টানেলের ভিতর টয়ট্রেনে কাফেটরিয়ায়?
আমগাছে হোস্টেল খুলেছে কাকেরা,বায়ুদেবতার ঘর শিবখোলা
শ্মশান মশান ভাটিখানা ছিলিমের দোকান 
কাকের দেবতা যিশু 
নির্জনতা তাকে কাবু করতে পারে না,

# Bhalo kharap thakbe na??????????
# Alpo kothay Kaj Sarcho
# bhalo kharap 2tai bolo
# সেটাই তো আমি চাই,
# ২/৩ দিন আগে লিখেছি
# এলাম  অনেক লেখা পড়াব তোমায় .... 





Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন


বিজ্ঞপ্তি
■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.