x

প্রকাশিত

গোটাকতক দলছুট মানুষ হাঁটতে হাঁটতে এসে পড়েছে একে অপরের সামনে। কেউ পূব কেউ পশ্চিম কেউ উত্তর কেউ দক্ষিণ... মাঝবরাবর চাঁদ বিস্কুট, বিস্কুটের চারপাশে লাল পিঁপড়ের পরিখা। এখন দলছুট এক একটা মানুষ এক হয়ে হাঁটছে চাঁদ বিস্কুটের দিকে। আলাদা আলাদা মানুষ এক হয়ে হাঁটছে সারিবদ্ধ পিঁপড়েদের বিরুদ্ধে। পথচলতি যে ক'জনেরই নজর কাড়ছে মিছিল তারাই মিছিল কে দেবে জ্বলজ্বলে দৃষ্টি। আগুন নেভার আগেই ঝিকিয়ে দেবে আঁচ... হাত পোহানোর দিন তো সেই কবেই গেল ঘুচে, যেটুকু যা আলো বাকী সবটুকু চোখে মেখে চাঁদ বিস্কুট চেখে চেখে খাক এই মিছিলের লোক। মানুষ বারুদ কিনতে পারে, কার্তুজ ফাটাতে পারে, বুলেট ছুঁড়তে পারে খালি আলো টুকু বেচতে পারেনা... এইসমস্ত না - বেচতে পারা সাধারণদের জন্যই মিছিলের সেপ্টেম্বর সংখ্যা... www.sobdermichil.com submit@sobdermichil.com

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

মৌমিতা ঘোষ

বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৭

সুনন্দা চক্রবর্তী

sobdermichil | সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৭ |
মাতলো রে ভুবন
 প্রবাস পূজো  আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, কাশফুল দেখে, ঢাকের আওয়াজ, বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের চণ্ডী পাঠ শুনলে এক অদ্ভুত শিহরণ বাঙালী মাত্রই হয়। আমার মনে হয় যে বাঙালীর এসবে কিছু যায় আসে না সে ঠিক পিওর বাঙালী নয়। পশ্চিমবঙ্গের আকাশে বাতাসে দুর্গা পূজার যে সাজো সাজো রব, সেখানকার পূজার বাজার ,পূজা বার্ষিকী, পূজার গান সব মিলিয়ে একটা জমজমাট ব্যাপার তা কিন্তু প্রবাসের আকাশে বাতাসে নেই। তাও আজ থেকে কুড়ি বছর আগে বাবা, মামা, মাসি, শ্বশুর মশাইয়ের মানি অর্ডার তার সাথে দুলাইন চিঠি “পছন্দমত কিছু কিনিয়া নিও” পড়ে আমারও কিন্তু মনটা পূজা এসে গেল ভেবে উদাস হত। আমিও সেই প্রবাসে জামাকাপড় কিনতে যেতাম , সেখানে আবার আরও কিছু বাঙালীর সাথে দোকান বাজারে দেখা হয়ে গেলে কোথায় বিমলের, গার্ডেনের সেল দিচ্ছে জেনে যেতাম। 

আমি বিয়ের পর গোয়াতেই কাটিয়েছি আমার দীর্ঘ আট বছরের প্রবাস পূজা। প্রথমবার খুব মন খারাপ, কোলকাতার পূজা মিস করব, বন্ধুবান্ধবদের সেই অনাবিল আনন্দ মিস করব ভেবে চোখে জল আসছে। অনেকদিন গোয়াতে বসবাসকারী চেনা বাঙালী বউদিরা বলছে বটে ওখানেও দারুণ আনন্দ হবে। তাও কোথায় যেন স্বজনদের থেকে দূরে থাকার বেদনা, এতদিন ধরে যাদের সাথে ভালোলাগা শেয়ার করেছি তাদের থেকে দূরে চলে আসার কষ্টটা তাড়িয়ে বেড়ায় । পানাজির পালমার এপার্টমেন্টের চারতলা থেকে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি শূন্য দৃষ্টি মেলে, সাদা মেঘের ভেলায় মন ভাসতে ভাসতে আমাদের সোদপুরের বাড়ির আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়ায়। মায়ের,বন্ধুদের চিঠিতে জানতে পারি ক্লাব প্রাঙ্গণে বাঁশ বাঁধার কাজ শুরু হয়েছে। 

পাশের এপার্টমেন্টের বউদি সেবার মালদা তার নিজ বাসভূমে যাবে, তার প্রচুর বাজার দেখতে দেখতে আমি বললাম, “ এখানকার বাচ্চাদের পেলে নাহয় একটু নাচ শিখিয়ে দিতাম পূজার অনুষ্ঠানে নাচত। আমারও এই মনখারাপটা চলে যেত”। আমার কথা শোনা মাত্রই যে যে বাড়িতে বাচ্চা মেয়েরা আছে তাদের বাড়িতে ফোন করে বলতেই তারা সেদিনই বিকেলে বাচ্চাদের নিয়ে হাজির। সেদিন থেকেই আমাদের বাড়িতে মহড়া শুরু হল আর তার সাথে প্রি পূজা আড্ডা,মজা,পি এন পি সি। প্রত্যেকদিন সন্ধ্যাবেলাটুকুর জন্য সারাদিন হা পিত্যেশ করে বসে থাকা। সন্ধ্যে হলেই আমার চারতলার ফ্ল্যাট সরগরম কথায়, গানে, নৃত্যের তালে। মহড়া হত আধ ঘণ্টা আর গল্প হত এক ঘণ্টা।কখনও আরও বেশি, যাদের বাচ্চারা বড় হয়ে গেছে কিছুতে অংশগ্রহণ করবে না, তারাও আড্ডার লোভে গুটি গুটি পায়ে হাজির।

ষষ্ঠীর দিন সন্ধ্যাবেলা গোয়ার কোনও মিনিস্টার , প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বা শিল্পপতি আসতেন পানাজির পূজা উদ্বোধন করতে, তারপর বাংলার নাচগান দেখে এপ্রিসিয়েট করতেন। সপ্তমী থেকে দুবেলা ধরে চলত আমাদের যাতায়াত। সকালবেলা পূজা হয়ে গেলে পড়ে বাচ্চাদের জন্য গল্প বলা, কবিতা বলা,মহিলাদের জন্য নানা প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান রাখা হত, সে এক মজার অনুভূতি। একবার হল কি এক দাদা বললেন, “ এবার মহিলাদের জন্য হাসি প্রতিযোগিতা হবে”। অনেককেই টেনে টেনে স্টেজে নিয়ে যাওয়া হলে কেউ হিহি, কেউ হাতে মাইক নিয়ে ফিচ করে একটু হেসে স্টেজ থেকে পালিয়ে চলে আসে, কেউ যাত্রার স্টাইলে হাহাহাহা করে হাসে তো কারোর হাসিতো শোনাই যায় না। বুলবুল বউদি স্টেজে উঠে তার মিষ্টি করে ঠোঁট চেপে হাসি দেখিয়ে স্টেজ থেকে নামতে নামতে দাঁত বের করে হেসে হেসে কুটিপাটি। এবার মুখারজি বউদি যাকে আমরা বলতাম তুলির মা সে এমন জোরে গগনভেদি হাসি হাসল যে তার সাথে আমরাও হাসতে হাসতে কেঁদেই ফেলছি । বউদি এমনিতেই জোরে জোরে কথা বলে তার হাসিতো অমনধারা হবেই। তাছাড়া আন্তাকসারি ওপেন টু অল শুনে বউদিরা আমায় ঠেলে পাঠিয়ে দিল। আমি ও চম্পা বউদির ছেলে বুকি গান গাইছি। বুকি বলছে, “ আন্টি, তোমার জোর হল রবীন্দ্রসঙ্গীত, আধুনিক বাংলা আর হিন্দি টা আমি ম্যানেজ দেব”। আসলে কিছু নন বেঙ্গলি ইউ পি, বিহারের মানুষজনও দুর্গা পূজায় অংশগ্রহণ করত, তাই হিন্দি গানও রাখা হত। আমরা সেবার সেকন্ড হয়েছিলাম, ল দিয়ে গান মনে পড়ছিল না। জিতে গেল এক নন বেঙ্গলি জুটি । কি যে সেই উত্তেজনা, আনন্দ তা বলে বোঝানো যায় না। আমি ভুলেই যাচ্ছি বন্ধুদের সাথে বারবার পাশের পূজা মণ্ডপে ছুটে যাওয়া, সারাদিন ভেসে আসা গান শুনতে শুনতে আমার বড় হওয়ার গল্প, কলেজ স্কয়ার, মহম্মদ আলি পার্ক, বাগবাজার সার্বজনীন ভুলে যাচ্ছি , পায়ের ফোস্কা নেই, ঘামে জ্যাব জ্যাবে প্যান্ডেল হপিং নেই, বন্ধুদের সাথে চলতে চলতে হঠাৎ হেসে ওঠা নেই এসব আমি ভুলতে বসেছি। মনে হচ্ছে এই পুজোটা আমার বাড়ির , আমরা সবাই রাজা এই খুশির প্রাঙ্গণে মিলেছি ক্ষণেক সুখ, হাসি বিনিময়ের জন্য আর কিছু সঞ্চয় যা আরও একটা বছর আমাদের ভালো রাখবে। কোথাও কোনও আড়ম্বর নেই, প্রাণের আন্তরিকতাই সম্বল। কোনও বিশাল মণ্ডপ সাজসজ্জা নেই, নিজেরাই মণ্ডপ সাজাচ্ছি, নিজেরাই ফল কাটছি , নৈবেদ্য সাজাচ্ছি, পূজা হয়ে গেলে ফল মিষ্টি বিতরণ করছি, সবটুকু নিজেরাই নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেওয়া কাজ। কাজকেও কাজ মনে হয়না , খালি মনে হচ্ছে এ যেন আমি আবহমান করে আসছি। অঞ্জলির দিন এতোটুকু মনে হয়নি আমি পাশে বন্ধুদের মিস করছি, চারপাশে বউদিরা আমাকে বন্ধু করে নিয়েছি তাদের আহ্লাদে আমি ডগমগ। ঠাকুর বরণ মায়ের থেকে দেখা , সেইমত পান , সিঁদুর , মিষ্টি নিয়ে গেছি। বরণ করতে গিয়ে অসুরের মুখে একটু মিষ্টি দিতেই দাদারা রে রে করে এগিয়ে আসল , “ কি সুনন্দা অথবা বউদি এটা কি ঠিক হচ্ছে? আমরা অভুক্ত থাকতে কিনা এতো ভালোমানুষদের ফেলে কিনা অসুরকে খাওয়ানো হচ্ছে?” প্রথমটা ঘাবড়ে গেলেও পরে আমিও হাসছি। সবাই হাত পেতে দাঁড়িয়ে তাদের মিষ্টি দিতে হবে, অসুরকে কেন দেওয়া? আমি যেন এক লাফে মায়ের মতন হয়ে গেছি, চারদিকে বউদি, কাকিমা ডাকগুলোর মধ্যে গোল গোল করে ঘুরে চলেছি নিবিড় সুখে। বউদিদের সাথে সিঁদুর বিনিময় করছি না দোল খেলছি তা কে বলবে? পাসপোর্ট অফিসের উপরে পানাজির পূজা হত , সেখান থেকে পুরো এইটিন্থ জুন রোড থেকে মিরামার বিচ অবধি আমাদের লম্বা প্রসেশন আর কেউ কেউ ভাঙ খেয়ে হাসছে তো হাসছেই তাদের দেখে আমাদের সেকি মজা। সেই পানাজির দুর্গা পূজার আনন্দ আমি আট বছর ধরে পেয়েছিলাম তা আমি মনের মণিকোঠায় রেখে দিয়েছি। 

গুজরাটে দুবছর ছিলাম, বাচ্চা ছোট ছিল । আমরা ভারুচ শহর থেকে ৬০ কিমি দুরত্বে একটা টাউন শিপে থাকতাম বলে পূজায় গেছি মা কে দর্শন করেছি কিন্তু সেভাবে কিছু আর মনে নেই। কিন্তু আঙ্কেলেশ্বরের পূজা খুবই ধুমধাম করে হত দেখেছি। ওএনজিসির বিশাল পূজা প্রাঙ্গণে একদিকে ছিল গুজরাটিদের ডান্ডিয়া, আরেকদিকে উত্তর ভারতের রামলীলা , অপরদিকে বাঙালীদের দুর্গা পূজা ঘিরে অপূর্ব সব অনুষ্ঠান আর ফুড স্টলে যেন যত খাই খাই বাঙালীদের হাউ মাউ খাউ। তাছাড়া বিশাল মেলা কি নেই তাতে ? আমিতো এতো জাঁকজমক এতোটা জায়গা নিয়ে কলকাতাতেও দেখিনি তার আগে। 

ব্যাঙ্গালরে এসে যেন কেমন মিইয়ে গেছিল আমাদের একঘেয়ে জীবন। আমরা থাকতাম একেবারে অর্থোডক্স মানুষজনের মাঝে যারা নিজেদের ভাষাকে এতোটাই গুরুত্ব দেয় যে অন্য প্রাদেশিক লোকজনকে খুব হেয় জ্ঞান করে। পূজার কেনাকাটা করা হলেও বুঝতে পারছি না কোথায় পূজা হয়? আলসুরের পূজা আমাদের বাড়ি থেকে বহুদূর। ব্যাঙ্গালরে গিয়ে দেখি মহালয়া থেকে বাচ্চাদের লম্বা ছুটি। আমার মেয়ে বলছে মা টিভিতে ঢাকের আওয়াজ শুনলেই মন কেমন করছে কেন গো? আমার বাবা আমাকে মহালয়ার ক্যাসেট দিয়েছিল যে তার মেয়ে শুনবে সেই পুণ্য তিথিতে। মেয়ে যখন বলে মহালয়ার গানগুলো শুনলে কিরকম জানি ভালোলাগা আর খারাপলাগা দুটোই হয়, বুকের ভিতর ফাঁকা ফাঁকা লাগে, কলকাতাকে মনে হয় ভীষণভাবে, আমারও মনকেমনের ঘরে পেঁজা তুলোর মত মেঘ জমে। মালেশ্বরমের পূজাতে গিয়ে প্রথমে নিজেকে খুব একা মনে হয়েছিল, কাউকে চিনি না। পরে কিন্তু কিছু চেনা হয়েছিল, ভালো লেগেছিল। তবে গোয়ার পূজা আমাকে যেভাবে আলিঙ্গন করেছিল তা আমি ব্যাঙ্গালরে পাই নি। প্যালেস গ্রাউন্ডের বিশাল পূজাতে গেছি কিন্তু কোথায় যেন অনেক আড়ম্বরের মাঝে শূন্যতা বুকে বেজেছিল। 

পুনায় আসার পর প্রথমে আমরা বিশ্রান্তবারির দুর্গা পূজায় গেছিলাম, চেনা মানুষজনের হাত ধরে। মহিলাদের জন্য ছিল মালা গাঁথা প্রতিযোগিতা। সে এক দারুন ব্যাপার। মাঝখানে বিশাল গাঁদা ফুলের স্তূপ, আর গোল করে আমরা মহিলারা সুঁই সুতো নিয়ে বসেছি। একটা একটা করে ফুল নিয়ে মালা গাঁথতে হবে , সেখানে কেউ নাকি হাতে পাঁচটা একসাথে নিয়ে, কেউ বলল আরেকজনের সুঁই ভোঁতা ছিল, কারোর সুঁই এ সুতো পরাতেই সময় গেল, হাসাহাসি নানা মজার টিপ্পনী শুনতে শুনতে সেই মালা গাঁথা শেষ হলে আমি দেখলাম মাত্র উনিশটা ফুল গাঁথতে পেরেছি আর কেউ কেউ ত্রিশটা পেরেছে। সে নিয়েই হাজার মতান্তর চোট্টামি করার গল্প, বাচ্চাদের বসে আঁকো প্রতিযোগিতা , কবিতা পাঠ , শ্রুতিলিখন, বেস্ট অফ ওয়েস্ট, ধুনুচি নাচের ধোঁয়ার মধ্যে চোখ জ্বালা করে উঠল । আসলে আমারই বারবার পরাজয় অপারগতা কোথায় যেন গোয়ার সাথে মেলাতে যাওয়ার নেশা। প্রবাসের পূজাগুলোর রকমসকম এক, সেখানে মণ্ডপ সজ্জায় বিশাল কিছু নেই, আলোর ঝলকানি নেই, কোনও দেখনদারি নেই, অনেকদিন যারা আছে তারা যতটা ইনভল্ভড থাকে বাইরের লোকেরা সেই ইনভল্ভমেন্টের ছোঁয়া বুঝতে পারে না। 

পরেরবার আমরা প্রায় চারবছর ধরে চন্দননগরের দুর্গা পূজায় থাকি। খুব ঘরোয়া পরিবেশ, বেশি জাঁকজমক নেই, বেশি ভিড় নেই খুব শান্তি পাই এই প্রাঙ্গণে এসে। সবথেকে ভালো লাগে যখন ঐ পূজা কমিটি থেকে অনাথ বাচ্চাদের একদিন ডাকা হয় ওদের সাথে আমরা আমাদের আনন্দ শেয়ার করি, কমিটির মহিলারাই মায়ের পরিচর্যায় বাচ্চাদের খেতে দেয়। খুব কম আয়োজন কিন্তু এই যে প্রাণের ছোঁয়াটুকু আমি অনুভব করি। কালচারাল অনুষ্ঠানগুলো এতো ভালো হয়। কত দূর দূর থেকে একত্র হয়ে মহড়া দেওয়া হয়, বাচ্চাদের ঠিক এইসময় পরীক্ষা থাকে তা স্বত্বেও খুব চেষ্টা থাকে আগামী প্রজন্মের মধ্যে আমাদের ভালোলাগাগুলোর বীজ ছড়িয়ে দিতে। আমাদের বাঙ্গালিয়ানা ওদের ভিতরে যাতে তাঁবু বানিয়ে বসে তার জন্য আপ্রাণ খাটাখাটনি করে বাচ্চাদের সাথে সাথে,তাদের অভিভাবকরা। একটা পূজার জন্য যে কি পরিমাণ ধৈর্য, পরিশ্রম কিছু লোক দেয় বলেই আমরা আনন্দ করি সেই প্রাঙ্গণে, একটুকরো বাংলাকে দেখতে চাই সবার ভালোবাসায়। আমাদের পুনায় প্রায় নয় নয় করে চল্লিশটা পুজা হয়, সবাই দলবেঁধে বাস ভাড়া করে প্যান্ডেল হপিং করে। প্রতিমার নানারূপ, নানা স্টাইল , আজকাল আলোকসজ্জাও হচ্ছে জায়গায় জায়গায়, ফুড স্টলগুলোতে লোকউপচানো ভিড় , কোলকাতার শাড়ি , জামাকাপড়, টেরাকোটার গয়না, পূজাবার্ষিকী , সিডি , ঘর সাজাবার সরঞ্জাম নিয়ে পসরা দেখে আমি কোলকাতা ভুলে যাই। এ যেন কদিনের জন্য কোলকাতাই উঠে এসেছে আমাদের পুনায় সে এক দারুণ অভিজ্ঞতা। সারাদিন ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাড়ি ফিরতে ফিরতে শুনি ব্যান্ডের গান , কখনও বা নচিকেতা, লোপামুদ্রার কণ্ঠ , কখনও ভেসে আসে 'কে তুমি নন্দিনী আগে তো দেখিনি' --- আমার মেয়ে চুলটাকে কপাল থেকে সরিয়ে নেয় পাশের তাকিয়ে থাকা ছেলেটিকে দেখে, মুখে ছদ্মগাম্ভীর্য। সেই টিন এজের আমিকেই যেন আবার দেখে চমকে উঠি । আবার এসো মা , সবাইকে ভালো রেখো , সবার মঙ্গল কর। 


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.