x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৭

শ্রীপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়

sobdermichil | সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৭ | | মিছিলে স্বাগত
প্রণাম
শুরু হয়েছিল ঠাট্টা রসিকতা দিয়ে। ক্রমশ ঢুকে পড়ল ব্যঙ্গ বিদ্রূপ। তারপর উত্তপ্ত বাদানুবাদ। ভাগ্যিস দু পক্ষেরই সঙ্গীসাথী কেউ ছিল না, নাহলে হাতাহাতি লেগে যাওয়াও অস্বাভাবিক ছিল না।

“তোদের তেত্রিশ কোটি দেবতার যা কীর্তি কলাপ তাতে এই ব্যাপারে মুখ নাড়া মানায় না। পুরুষোত্তম রাম সীতাকে কখনও পুড়িয়ে মারতে চায় তো কখনও জ্যান্ত কবরে যেতে বাধ্য করে। কৃষ্ণের মতো লম্পটও তোদের পরম দেবতা।”

“তেত্রিশ কোটি মানে তেত্রিশের পিঠে সাতটা শূন্য নয়, তেত্রিশ প্রকার বোঝায়। আর আমাদের দেবদেবীদের ভালোমন্দের সমালোচনা করার হিম্মত আমরাই দেখাই। তোদের মতো প্রোফেট রূপ ডিক্টেটরকে অভ্রান্ত দেবতা বানাই না।”

“মহম্মদ পয়গম্বর, আল্লার প্রেরিত মানুষ, আল্লা নন। ওসব দেবতা টেবতা বানানোর কনসেপ্ট আমাদের নেই।”

“কিন্তু আমরা দেবতাদেরও দোষ ত্রুটি দেখতে পাই যেখানে তোদের মানুষ পয়গম্বরের বচনকে তো চ্যালেঞ্জ এমনকি রেক্টিফাইও করা চলবে না। আমাদের দেবদেবীরা বেশির ভাগই সিম্বলিক, প্রাকৃতিক শক্তির প্রতীক। তাদের মধ্যে মনুষ্যচিত দোষগুণ মানুষই আরোপ করেছে আবার মানুষই বিচার করতে পারে। অন্ধ বিশ্বাস যেমন আছে তার বিরোধিতা করার জায়গাটাও কিন্তু আমাদের ধর্মেই রয়েছে।”

“যে ধর্মে মেয়ে গরুকে মা মনে করা হয় আর মেয়ে মানুষদের জ্যান্ত পোড়ানোকে পুণ্য ভাবা হয়, সেটা আর যাই হোক সভ্য মানুষের ধর্ম হতে পারে না।”

“গরুকে মা মনে করাটা একটা অ্যানিমাল প্রিজারভেশন স্ট্রাটেজি ছিল। আবার বামুনরাও এক সময় গরু খেত সেটাও কিন্তু আমাদের গবেষকরাই আবিষ্কার করে অকপটে জানিয়েছে। আর মেয়ে পোড়ানো প্রথাটা ধর্ম নয়, তার অপব্যবহার; আমরাই ত্যাগ করেছি। ব্রিটিশদের দিয়ে আইন করিয়েছি। কিন্তু তোদের তো ধর্মের নামে মেয়েদের এখনও দাসী করে রাখা হয়, যখন তখন টরচার করে মেরে ফেলা হয়। এত শালীনতা আর পর্দার বহর তোদের মেয়েদের জন্য, অথচ তোদের ধার্মিক পুরুষরা চাইলে যখন তখন যার তার সামনে সেগুলো খুলতে হবে!”

“সেটাও আমাদের ধর্ম কে বলেছে? ওই লোকগুলোর সঙ্গে ধর্মের কোনও যোগ নেই।”

“নেই মানে? তালাক দেওয়া বিবিকে ফিরিয়ে আনতে হালালা করা হয় না? সেটা কী?”

“তোদের মতো আমাদের বরপণ নেই। বরং কন্যাপণ আছে। সতীদাহ অফিশিয়ালি বন্ধ, কিন্তু পণের জন্য বৌ পোড়ানো হয় না?”

“সেটা তো তোদের সমাজও শিখে গেছে। মুখে দেনমোহর প্রমিস করে বাস্তবে পণ নিচ্ছে। যে কোনও অজুহাতে বৌও পোড়াচ্ছে। আবার যখন তখন এক তরফা তালাক আর হালালা।”

“জন্ম জন্মান্তর বেঁধে মারার চেয়ে ভালো। তুই যে এত আমাদের ধর্ম আমাদের ধর্ম করছিস, তুই তো বেসিক্যালি নাস্তিক।”

“তো? বিদ্যাসাগরও নাস্তিক ছিলেন, কিন্তু নিজেকে অহিন্দু বলেননি। ইন ফ্যাক্ট কেউই বলেনি; বরং তিনি ব্রিটিশ সরকারের হিন্দু আইন বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। হিন্দু দর্শনগুলোর বেশ কয়েকটাই তো নাস্তিক দর্শন। বৌদ্ধ বা জৈন দর্শন যে তৈরি হয়েছে সেগুলোর উপাদান কিন্তু ঐ ষড় দর্শনের মধ্যেই ছিল।”

দুই বান্ধবী ধর্ম যে আসলে নারী নির্যাতনের অস্ত্র সেই আলোচনায় বসে কোন ধর্ম অপমান অত্যাচারে বেশি এগিয়ে বা পিছিয়ে তার তুলনামূলক আলোচনায় পৌঁছে গেছে। অতঃপর নিজের নিজের ধর্মের হয়ে অস্ত্র ধারণ করে কাজিয়ায় মেতে উঠেছে। বন্দিরাই তো গ্লাডিয়েটর হয়।

ইসলামে মানবতা ও নারীর মর্যাদার প্রমাণ দিতে তাক থেকে কোরান শরীফ পাড়তে গেল নার্গিস। উঁচু তাক থেকে পেড়েও হাত ফস্কে মাটিতে পড়ে গেল। একেবারে আরতির চেয়ারের নীচে।

ঝট করে বইটা কুড়িয়ে নিয়ে মাথায় ঠেকিয়ে প্রণাম করল আরতি। মা সরস্বতী না?


পরিচিতি
শ্রীপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (রসায়ণ অনার্স),স্নাতকোত্তর বিএড, এমবিএ-র পর কর্মজীবনে নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে লেখালিখিতে থিতু। বর্তমানে একাধিক বাণিজ্যিক ও অবাণিজ্যিক পত্র-পত্রিকায় গল্প,কবিতা, প্রবন্ধ,ছোটদের সাহিত্য, ফিচার ইত্যাদির নিয়মিত চর্চায়। কবিতা দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও গদ্য সাহিত্যে বিশেষত ছোটগল্পে ও ছোটদের গল্পে স্বকীয়তা উল্লেখ্য। তাছাড়া ছোটদের কবিতা ছড়ার মধ্যেও ফুটে ওঠে নিবিড় সমাজ অবলোকন, পরিবেশ সচেতনতা থেকে নির্মল হাস্য কৌতুক। মাঝে কয়েক বছর এসবের সঙ্গে ছিল কয়েকটি ওয়েবসাইটে কনটেন্ট লেখাও। অত্যন্ত স্পষ্টবাদী ও আপাদ-মস্তক স্বচ্ছ স্বভাবের মানুষটির অঙ্কুরোদ্গম ৫ই ডিসেম্বর, ১৯৭১ মামাবাড়ির শহর মেদিনীপুরে আর পৈতৃক বসবাস সূত্রে শেকড় পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল মহকুমার ডিশেরগড় খনি অঞ্চলে। এ পর্যন্ত স্বীকৃতি বলতে ২০১২-র বঙ্গ সংস্কৃতি পুরস্কার, ঋতবাক ‘এসো গল্প লিখি’ পুরস্কার, ২০১৬, ‘শর্মিলা ঘোষ স্মৃতি পুরস্কার’ ২০১৬ (শ্রেষ্ঠ গল্প)। নিজের বইয়ের প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণ সাধারণত নিজেই করে থাকেন। প্রিয় অবসর যাপন ঘুম ও গান শোনা।

প্রকাশিত গ্রন্থ: ১. আবহমান (কবিতা সংকলন) – প্রত্যুষ প্রকাশন, ২. এবং আবহমান (দ্বিতীয় সংস্করণ) – কুসুমের ফেরা প্রকাশন, ৩. এনট্রপি (কবিতা সংকলন) – নীলাক্ষর প্রকাশনী, ৪. বাঘের মাসি ও সাঙ্গপাঙ্গ (ছোটদের গল্প সংকলন) – ইসক্রা, ৫. অণু-কল্প (অণুগল্প সংকলন) –নীলাক্ষর প্রকাশনী, (দ্বিতীয় সংস্করণ) – একুশ শতক,  ৬. আগাছা (ছোটগল্প সংকলন) – দীপ
 


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.