x

আসন্ন সঙ্কলন


যারা নাকি অনন্তকাল মিছিলে হাঁটে, তাদের পা বলে আর বাকি কিছু নেই। নেই বলেই তো পালাতে পারেনা। পারেনা বলেই তারা মাটির কাছাকাছি। মাটি দ্যাখে, মাটি শোনে, গণনা করে মৃৎসুমারী। কেরলের মাটি কতটা কৃষ্ণগৌড়, বাংলার কতটা তুঁতে! কোন শ্মশানে ওরা পুঁতে পালালো কাটা মাসুদের লাশ, কোন গোরেতে ছাই হয়ে গেলো ব্রহ্মচারী বৃন্দাবন। কোথায় বৃষ্টি টা জরুরী এখন, কোথায় জলরাক্ষুসী গিলে খাচ্ছে দুধেগাভিনের ঢাউস পেট। মিছিলে হাঁটা বুর্বক মানুষ সেসবই দেখতে থাকে যেগুলো নাকি দেখা মানা, যেগুলো নাকি শোনা নিষেধ, যেগুলো নাকি বলা পাপ। দেশে পর্ণ ব্যন্ড হল মোটে এইতো ক'টা মাস, সত্য নিষিদ্ধ হয়েছে সেই সত্যযুগ থেকে। ভুখা মিছিল, নাঙ্গা মিছিল, শান্তি মিছিল, উগ্র মিছিল, ধর্ম মিছিল, ভেড়ুয়া মিছিল যাই করি না কেন এই জুলাইয়ের বর্ষা দেখতে দেখতে প্রেমিকের পুংবৃন্ত কিছুতেই আসবে না হে কবিতায়, কল্পনায়... আসতে পারে পৃথিবীর শেষতম মানুষগন্ধ নাকে লাগার ভালোলাগা। mail- submit@sobdermichil.com

ভালোবাসার  আষাঢ় শ্রাবণ

অতিথি সম্পাদনায়

সৌমিতা চট্টরাজ

বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৭

রাহুল ঘোষ

sobdermichil | সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৭ |
বিজন সরণির দিকে
।। চতুর্থ পর্ব ।।

'ভালোবাসার জন্য আমি হাতের মুঠোয় প্রাণ নিয়েছি
দুরন্ত ষাঁড়ের চোখে বেঁধেছি লাল কাপড়
বিশ্বসংসার তন্ন তন্ন করে খুঁজে এনেছি ১০৮টা নীলপদ্ম
তবু কথা রাখেনি বরুণা, এখন তার বুকে শুধুই মাংসের গন্ধ'

--- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

'আপনি কি বোকা, নাকি কবিতা লেখেন বলে ভাবের ঘোরেই থাকেন!' 

ডাক্তার দাশগুপ্তর কথাগুলো যেন সপাটে একটা চড় মারলো আমাকে! কোনোক্রমে বলতে পারলাম, 'কবিদের উপর এত রাগ কেন আপনার!'

'স্যরি, ডোন্ট মাইন্ড...আপনার বন্ধুর মুখে নিশ্চয় শুনেছেন আমার কথাবার্তা খুব কঠোর! কবিদের ওপর রাগ নয়। আসলে এটা আপনার এই সুইসাইডাল টেন্ডেনসি দেখে বলছি। এটা যে আপনাকে কোথায় নিয়ে যাবে...'

কিছুটা হতচকিত হয়ে শুধু বললাম, 'কী করেছি আমি?' আর বলেই মনে হলো তোমার তীব্র রাগের সময় ঠিক এভাবেই একটা আবদার-মেশানো প্রশ্ন করা আমার অভ্যাস। মনে পড়তেই, এই কান ঝাঁ-ঝাঁ করে দেওয়া অপমানজনক পরিস্থিতির মধ্যেও একটু হাসি এল। হাসিটাকে গিলে ফেলতেই, কী আশ্চর্য, চোখের কোণে জমে উঠলো একবিন্দু জল!

একদিন একলা ঘরে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলাম, কে জানে কতক্ষণ! জ্ঞান ফিরলে দেখি হাত-পাগুলো আর যেন নিজের নেই! শেষের সময় তাহলে এসেই গেছে, মৃন্ময়ী? কীভাবে সেদিন যে রক্ষা পেলাম, তা তুমি জানো। যা তুমি জানো না, তা হলো, কীভাবে ধীরে ধীরে আমাকে খেয়ে ফেলছে হননকাল! যা তুমি জানো না, তা এই আত্মহত্যাকলা! যে অবশ করে রেখে প্রতিদিন কুচিকুচি করে কাটছে আমাকে। অ্যানাস্থেশিয়ার ঘোর কমতেই আর্তনাদ করে উঠছি আমি, আর পাশে থাকার বদলে ক্রমেই দূরতর হচ্ছে তোমার বিরক্ত ছায়া।

অতএব বন্ধুদের হাত ঘুরে আমার দিনলিপি, রাইটিং প্যাডের টুকরোটাকরা, ডায়েরির ছেঁড়া পাতা আমারই অজান্তে পৌঁছে যায় মনস্তত্ত্ববিদ শমিত দাশগুপ্তের স্টাডি টেবিলে। কেন-না, এই উদ্যোগী মানুষগুলো আমাকে আত্মহত্যার 'মহাপাপ' থেকে বাঁচাতে চায়! তাদের নাছোড়বান্দা মনোভাবে আমি এই খিটখিটে লোকটার সামনে বসে অতএব গিলে চলেছি আজকের এই অকল্পনীয় বাক্যবাণ।

টি-শার্টের পকেটে হাত রেখে মনে পড়লো, চেম্বারে ঢোকার আগেই আমাকে মোবাইলটা অফ করে জমা রাখতে হয়েছে রিসেপশনে। এখানে নাকি এটাই নিয়ম! সবাইকে এইসব অত্যাধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে দূরে রাখা হয় কিছুক্ষণ। লাউঞ্জে একটা টিভি মিউট করে চালানো, সেখানে আল্পস আর আন্দিজের সৌন্দর্য। দেওয়ালে লুকোনো মিউজিক সিস্টেমে জলতরঙ্গের মৃদু টুংটাং। আর চেম্বারে ঢুকলেই দেওয়াল-জোড়া অ্যাকোরিয়ামে লাল-সোনালি মাছের খেলা। আরও পঁয়তাল্লিশ মিনিট বসিয়ে রেখে ঝড়ের বেগে এলেন তিনি, এবং এসেই তাঁর ওই ঝোড়ো আক্রমণ। 

'কিছু মনে করবেন না, আপনার বায়োগ্রাফিক্যাল নোটগুলো স্টাডি করতে গিয়ে একটু দেরি হয়ে গেল।'

কিন্তু এখন যদি তুমি ফোন করো বা লেখো কিছু মেসেজে, আমাকে তো খুঁজেই পাবে না! এমনিতেই সংযোগ কমতে কমতে তলানিতে এখন, তার উপর যদি এটুকুও ব্যাহত হয়...

মনের ডাক্তার মানুষের মুখ পড়তে জানেন। আমাকে যারপরনাই বিস্মিত করে বললেন, 'ফোনের জন্য এত উতলা হবেন না মিস্টার ঘোষ। আপনার সেই ফোন এখন আসবে না।'

কিছু কিছু সময় নিজেকে এত হতভম্ব আর অসহায় লাগে, কোনো প্রশ্ন করা যায় না! অথচ মনের মধ্যে হাজার প্রশ্নের উঁকিঝুঁকি লাগে তখন!

'ভেরি সিম্পল, মিস্টার ঘোষ। আপনি লেখকমানুষ বলেই যে আমার কাজের খুব সুবিধে হয়েছে, তা বলছি না। কারণ আপনার ওরকম নার্ভাস ব্রেকডাউন না-হলে বা আপনি এত ডিটেইলে এই সম্পর্কের সব আনন্দ-বেদনার ঘটনাগুলো লিখে না-রাখলে আমি সুবিধেটা পেতাম না। সব লেখকই তো আর 'হননপ্রক্রিয়া' নাম রেখে, আবার তার সিরিয়াল নাম্বার দিয়ে লং রান সুইসাইডাল ডায়েরি লিখে রাখেন না! সেক্ষেত্রে আপনার সঙ্গে আমাকে প্রচুর কথা বলতে হতো, আর যেটুকু বুঝেছি, ইউ আর আ ভেরি হার্ড নাট টু ক্র্যাক!'

নিজের রসিকতায় নিজেই হেসে ওঠেন ডাক্তার, আর আমি ভাবতে থাকি ক্ষণভঙ্গুর মানুষকে নিয়ে এর চেয়ে বড়ো রসিকতা আর হয় না বোধহয়! ভিতরে টুকরো হতে হতে নিশ্চিহ্ন হচ্ছি রোজ, আর বাইরে থেকে এমনকি সাহায্যকারী মনোবিদও আমাকে ভাঙা যায় না বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছচ্ছেন, এর থেকে আয়রনি আর নেই, বন্যা!

'আপনার আঘাতের জায়গাগুলো খুব পরিষ্কার, মিস্টার ঘোষ। আসলে আপনি এই ডাবল স্ট্যান্ডার্ডটা আর নিতে পারছেন না! অথচ এই রিলেশনশিপে আপনি প্রচণ্ড ইনভল্ভড, টোটালি কমিটেড, অ্যান্ড হোয়াট আই মাস্ট সে, ব্রুটালি অনেস্ট!'

শেষ শব্দদুটো আবার এমন ঝাঁকুনি দিল আমাকে, যে হেসেই ফেললাম আর না-লুকিয়ে! বিস্ময়ের সীমা-পরিসীমা কোথাও না-থাকলে বোধহয় এমন বিপরীত আচরণই করে মানুষ! 

'হাসবেন না, মিস্টার ঘোষ। আপনি জানেন, কথাগুলো কেন বললাম? দেখুন, ডাবল স্ট্যান্ডার্ড নিতে যারা পারে, অর আই শুড সে, যারা ডাবল স্ট্যান্ডার্ড ফলো করে, তারাই দিব্যি ভালোমানুষের মর্যাদা পায়! মানে ধরুন, আমার বাড়িতে কেউ ডাকাতি করলো আর আমি পুলিশে অভিযোগ করলাম। আবার এই আমিই প্রতিদিন বাড়ির পিছনের দরজা কিন্তু কোনো কোনো ছিঁচকে চোরের জন্য খোলা রাখি! এটা একধরনের ডাবল স্ট্যান্ডার্ড, যা আপনার হজম হবে না কোনোদিন! কিন্তু চোরের সঙ্গে যদি আমার বন্দোবস্ত থাকে, আর ডাকাতের সঙ্গে না-থাকে, আপনি কী করবেন!'

মাঝেমাঝে চুপ করে থাকা ভালো। নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার সময় পাওয়া যায়। কিন্তু মনের ডাক্তার আমাকে সেটুকু সময় দিলে তো!

'আচ্ছা, এই ভদ্রমহিলাকে ঠিক কী মনে হয় আপনার? নির্বোধ না ভণ্ড?'

আমার চমকে ওঠা দেখে উত্তরের অপেক্ষা না-করে আবার বলতে শুরু করেন ডাক্তার, 'আপনার নোট করা একটা জায়গা পড়ে শোনাচ্ছি, দেখুন---

"তুমি যে কী করে এমন এক-একটা কথা বলো, ভেবে পাই না! আজ ওইসব কথায় খুব কষ্ট পেয়েছিলাম বলে শুধু জিজ্ঞেস করেছিলাম, 'এরকম করতে পারলে?!' তুমি তার উত্তরে কী অবলীলায় বললে, 'আমি তো এরকমই করি! একজনের সাথে উনিশ বছর পরে করতে পেরেছি, একজনের সাথে ছ'বছর পর, তোমার সাথেও যে পারবো, এতে আর আশ্চর্যের কী?'..."

'এরপরে এসব নিয়ে আর যা-যা লিখেছেন, তা এখন থাক, মিস্টার ঘোষ। যা বুঝেছি, আপনি তাঁর ওই দুর্ব্যবহারে যত-না ধাক্কা খেয়েছেন, তার থেকে বেশি ধাক্কা খেয়েছেন সেই দুর্ব্যবহারকে জাস্টিফাই করার জন্য দু'জন অন্য মানুষের সঙ্গে তুলনায়। এ যেন আপনাকে একটা থাপ্পড় মেরে বুঝিয়ে দেওয়া, দ্যাখো আমি এদের সঙ্গে পর্যন্ত এরকম করেছি, আর তুমি কে হে সেদিনের হরিদাস পাল! তাই তো? আই ক্যান ফিল হোয়াট ওয়াজ গোয়িং ইনসাইড ইউ, মিস্টার ঘোষ! কোয়াইট ন্যাচারাল! বাট, আমি কিন্তু ঠিক ওই জন্য কিছু বলছি না!'

এতক্ষণে ডাক্তার দাশগুপ্ত, বোধহয় দম নেওয়ার জন্যই একটু থামলেন, আর আমি অনেকক্ষণ বাদে সরাসরি তাঁর চোখের দিকে তাকালাম।

'ওঃ ইয়েস, ইউ ক্যান স্মোক হিয়ার। প্লিজ ফিল কমফোর্টেবল...'

আমি সিগারেটের প্যাকেটটা পকেট থেকে বের করেছি, একটা সিগারেটও তুলে নিয়েছি সেখান থেকে, কিন্তু জ্বালাইনি তখনও। ডাক্তার আবার শুরু করেন কখন, তার অপেক্ষা তখন বেশি খোঁচাচ্ছে আমায়! 

'উনি একজনের ক্ষেত্রে উনিশ আর একজনের ক্ষেত্রে ছয়ের যে বাহানা দিচ্ছেন, আমি ঠিক সেটার কথা বলছি। এই দুটো উনি আলাদা করে বললেও আসলে আলাদা করে দেখছেন না! তাহলে বলতেন, তেরো আর ছয়। কারণ আজকে আপনার জন্য যে-উনিশে ধাক্কা দিয়েছেন বলে ইন্ডিকেট করছেন, সেই ধাক্কা তো আসলে উনি দিয়েছিলেন ওই ছয়ের শুরুতে, যখন আজকের উনিশটা ছিল তেরো! তাহলে কী করে হয় যে উনি পরের স্প্যানটাকেও বেমালুম আগের স্প্যানে জড়িয়ে নিচ্ছেন!'

এবার একটু থেমে, হঠাৎ গলাকে যেন সম্পূর্ণ অন্য খাদে নিয়ে গিয়ে বললেন, 'মাত্র একটা কারণেই এটা হতে পারে। আগের যে-স্প্যানদুটোকে উনি জড়াচ্ছেন, সেই দুটো স্প্যানের মধ্যে যে একটা বন্দোবস্ত আছে, সেটা তিনি ভালোই জানেন বা তাঁর সাব-কনশাস জানে। ফলে উনিশকে যে তিনি অনেক আগেই ধাক্কা দিয়েছেন, এখন নয়, সেটাকে ধর্তব্যের মধ্যেই আনছেন না! তাই বলছিলাম, আপনার চোখে কেমন উনি?'

'না না ডক্টর, ও একটু শর্ট-টেম্পার্ড, অনেকটা ইমম্যাচিওরও হয়তো...সে তো আমিও কিছুটা, ডক্টর! কিন্তু ভণ্ড? না না, আমার সেরকম মনে হয়নি কোনোদিনই!'

কিন্তু এসব কথা যে যথেষ্ট সন্তুষ্ট করতে পারেনি তাঁকে, ডাক্তার দাশগুপ্তর চোখ-মুখ সে-কথা বলে দিচ্ছিল আমায়। 

'কিন্তু এই যে কথায় কথায় এত কমপ্যারিজন, আপনার নোটসে বারবার ঘুরেফিরে আসছে সেই কথা! এগুলোতে যে আপনি হার্ট হতে পারেন, কোনোদিন উনি ভেবেছেন বলে তো মনে হয় না! সম্পর্ক তো আপনারও ভেঙেছে। আপনিও কি কমপেয়ার করেছেন কখনও?'

'না না, এসব কোনোদিন করতে নেই ডক্টর! যাকে বলছি, সে খুব লো ফিল করে তাহলে!' নিজের গলাটাকেই এবার আঁতকে ওঠার মতো শোনায় আমার কানে!

'সে-কথাই বলছি! করতে নেই। তাহলে উনি কি না-বুঝেই করেন? নাকি জেনেশুনে...'

'আমি আর কতবার বলবো ডক্টর যে ওর ভীষণ ইমম্যাচিওরিটি আছে! ও বোঝে না কখন কী বলতে নেই!'

'বলছেন?' প্রশ্ন করেই আমার নোটবুকের পাতা ওল্টাতে থাকেন ডাক্তার। তাঁর চোখে-মুখে কৌতুক খেলছে তখন। একটা পাতায় এসে থেমে যান হঠাৎ---'এই যে দেখুন এখানে আপনি লিখছেন, "তোমাকে কতবার বোঝানোর চেষ্টা করেছি, কথায় কথায় এত তুলনা করতে নেই। শুনতে খারাপ লাগে। কোন মানুষ কী বলেছিল, কী করেছিল, তার দায় আমার হতে পারে না! আমি কখনও তুলনা করি না। কিন্তু তুম্জ শুনতে রাজি নও। একরোখা জেদে বলো, 'আমি তো এরকমই। আমি করবোই।' জীবনের সূক্ষ কষ্টগুলো যে কবে বুঝবে তুমি!..."

ডাক্তার চুপ করে যান। বোধহয় আত্মস্থ করতে সময় দেন আমাকে। আমি তো চুপই ছিলাম। আরও নৈঃশব্দ্যে তলিয়ে যেতে থাকি।

'আর কিছু বলবেন মিস্টার ঘোষ?'

মাথায় যেন রক্তের ঝড় ওঠে হঠাৎ! চেয়ার ঠেলে উঠে পড়ি দুম করে। 'আমি আজ আসছি ডক্টর' বলেই তাঁর অনুমতির অপেক্ষায় না-থেকে যখন স্যুইংডোর খুলে ফেলেছি চেম্বারের, পিছন থেকে ডাক্তার দাশগুপ্তর গলা আসে, 'নিজেকে আর কত ঠকাবেন, মিস্টার ঘোষ! রিয়েলিটিটা বুঝতে শিখুন। টোয়েন্টি-ফোর্থ জানুয়ারির নোটটা মনে আছে তো! নাকি নিজের লেখাই আরেকবার পড়বেন?'

রিসেপশন থেকে ফোনটা নিয়ে লিফটের কাছে আসতেই তার দরজা খুলে গেলে, কী ভেবে নিচে না-নেমে উঠে যাই টপ ফ্লোরে। ছাদে দাঁড়িয়ে এতক্ষণের না-জ্বালানো সিগারেটটা জ্বালাই। একবুক ধোঁয়া টেনে নিতে খুশি লাগে বেশ। রেলিং থেকে নিচের কার-পার্কিঙের গাড়িগুলোকে খেলনা আর তার আশপাশের মানুষগুলোকে পোকামাকড় মনে হয়। এই তো জীবন! এর জন্য এত কিছু! শালার সবজান্তা ডাক্তার! সব খুঁড়ে বের করা অভ্যাস! কেন যে বসতে রাজি হলাম!

Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.