x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৭

শ্রী শ্যামল বন্দ্যোপাধ্যায়

sobdermichil | সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৭ | | মিছিলে স্বাগত
শ্রী শ্যামল বন্দ্যোপাধ্যায় / শর্মিষ্ঠা ঘোষ
"শব্দের মিছিল" এর পক্ষ থেকে মুখোমুখি হয়েছিলাম বিশিষ্ট বর্ষীয়ান কবি সাহিত্যিক এবং সম্পাদক শ্রী শ্যামল বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে একটু অন্যরকম আর্জি নিয়ে। প্রথাগত প্রশ্নোত্তর ভিত্তিক সাক্ষাৎকার শুধু নয়, তাঁর জীবনের অভিজ্ঞতা বিস্তৃত জানতে চেয়ে। আমি শুধু শুনব। উনি কখা রেখেছেন।  বিস্তারিত এই আলোচনা একটি সংখ্যায় প্রকাশ সম্ভব নয়। কোনরকম এডিটিং ছাড়াই সেই স্মৃতিচারণ শব্দের মিছিলের দুটি সংখ্যায় তুলে ধরব প্রিয় পাঠকের দরবারে। এমন মণিমুক্তো সহজে মেলে না। আসুন ডুব দেওয়া যাক সে রূপসাগরে ।



একটা সময় একধরণের গানের নাম ছিল "জীবনমুখী " গান । এরকম কি কবিতা সম্পর্কেও বলা যায়? 





আমার মতো একজন সাধারণ কবি ও লিখিয়ের কাছ থেকে এই প্রশ্নমালা বিষয়ে কিছু শুনতে চেয়ে যে সম্মান ও গুরুত্ব আমাকে দিয়েছ, তার জন্যে আমি প্রথমেই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানালাম। বিশদভাবে শুনতে চেয়েছ ---- তাতে ভয় হয়, কথার তোড়ে বিষয়ভাবনা বেশ কিছুটা অসংলগ্ন ও প্রগলভতা-দুষ্ট না হয়ে পড়ে ! আমি বরং চটজলদি সরাসরিই কিছু লিখে যাচ্ছি । তারপর তোমরা যা বুঝবে করো ।

গানকে নতুন মাত্রায় সাজাতে অাধুনিক চিন্তা,আঙ্গিক ও যন্ত্রানুষঙ্গে এটাকে একটা অন্যতর রূপ দেওয়া হয়েছিল এবং হচ্ছেও। একটা ব্র্যান্ড লাগিয়ে দেওয়ায় এবং মানুষের ভিতরকথা অশ্রুতপূর্ব আবেগে ও ঢঙে গাওয়ার জন্যে এটা মানুষকে বিশেষত তরুণপ্রজন্মকে মাতিয়ে দিতে থাকে। পরবর্তীতে 'ব্যান্ড'-এর গান আসে। যাক এসব জানা কথাসমূহ ।

কবিতা যখন সময়ের চিহ্ন বহন করে, সেটাও অবশ্যই জীবনমুখী। সেখানেও পরীক্ষা-নিরীক্ষার আয়োজন চলেছেই। 'কবিতা দৈনিকী' বা 'কবিতা ঘন্টকী'-র উন্মাদনা, মাতামাতির কথা থাক। 'উত্তর আধুনিক' নামেও একটা ব্র্যান্ড এসেছিল। কবিতার আবৃত্তিতে সিনেমাটিক প্রক্রিয়ায় পেছনের পর্দায় সাজেস্টিভ চিত্রলতার প্রোজেকশন বা হাল্কা মিউজিকের সুচারু পরিকল্পনা কখনো বা ফলবতী হয়েছে। কিন্তু আধুনিক কবিতাপাঠের কালে এই জাতীয় আবহরচনা শ্রোতা-দর্শকদের মনঃসংযোগ বিঘ্নিত করতে পারে। যেহেতু, কবিতা বোধের স্তরে পৌঁছাবার চেষ্টা করে, এতে প্রার্থিত ফললাভ হয়তো হবে না। পাঠক নিজে যখন কবিতাটি পাঠ করে তখন মন-মনন-আবেগ ইত্যাদি আরও বেশি ক্রিয়াশীল থাকে। আমি এটাই ভাবি। এটাও মনে হয়, কবিতাকে আরও বেশি বৈচিত্রদানের জন্য নানা ভাষাভাষী কবিদের কবিতা বৈঠকী-আড্ডায়, সভায় বা মঞ্চে পাঠ করা যেতে পারে , তবে ভাবরূপ পরিষ্ফুট করার জন্যে সুবিধেমতো একটা সহায়ক ভাষা ( ইংরেজি অপেক্ষাকৃত গ্রাহ্য) প্রয়োজন হবে। এরকম দেখেছিও কখনও।

কবি-গীতিকার-গায়ক সুমন চট্টোপাধ্যাযের সাথে হলদিযা উৎসবের একটা নিরিবিলি আড্ডা-আলাপ ও ওনার একটা গানের লাইন ---'আমি না আমার আপস খাচ্ছো তুমি--- নিয়ে আমার খটকাপূর্ণ চিঠির প্রসঙ্গ এই অল্প পরিসরে আনলাম না ( কবীর সুমন খুশিমনেই মেনে নিয়েছিলেন, এবং বলেছিলেন আরও কোথাও যদি আমার কিছু মনে হয়, চিঠিতে জানাতে। আমাকে ওঁর জার্মান বৌয়ের সাথে সাংস্কৃতিক অডিটোরিয়মে আলাপ করিয়ে দিলেন, সেদিন হলদিযায়। চিঠি পরে লিখেছিলাম অবশ্য। ৮৮-৯০ সালের গপ্পো। এটাও 'শিবের গীত' কিন্তু। এই বয়সে  বড্ড ফালতু বকি। বলেছিলাম না, এটাই ভয় !) ।



বিশাল অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার আপনার । সে সবই কি উঠে এসেছে আপনার মুক্ত গদ্য আর কবিতায়? 





নাহ্ নাহ্ এত অভিজ্ঞতা আসবে কি করে, শর্মিষ্ঠা !  আমার জীবনটাই তো কেমন একটু অগোছালো, আধাখ্যাঁচড়া মতোন। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপ্লোমা করলাম বেলুড় রামকৃষ্ণ মিশন শিল্পমন্দির থেকে। আবার বিজ্ঞান প্রযুক্তির ছাত্র হয়েও আর্টস নিযে কিছুটা পড়লাম, পরে কিন্তু পার্টওয়ান পরীক্ষাটাও দেওয়া হয় নি,কারণ রাওরকেলা স্টিলের ভাল চাকরি ছেড়ে চলে এলাম কলকাতায় । পূর্বতন বিহার প্রদেশের চক্রধরপুরেই আমার বছর বাইশ তেইশ কেটেছে প্রায়। চক্রধরপুরে থাকতেই বিভিন্ন নামকরা বিদেশি ও স্বদেশি লেখক, কবিদের পড়তে শুরু করি। এক-দুজন বন্ধুর সাথে দিনে রাতে উদ্দাম আলোচনা হতো। রাওরকেলায় শুরু থেকেই  Radical Humanist - পত্রিকাটা পড়তে থাকি ;ওই সূত্রেই এম এন রায়ের অসাধারণ পান্ডিত্যপূর্ণ লেখা বইপত্তর কিনলাম। সাধে কি লেনিন বলেছিলেন ওঁকে ইনটেলেকচুয়াল জায়েন্ট অব এশিয়া। দর্শন বিজ্ঞান সম্পৃক্ত গভীর তত্ত্ব এবং তার বিশ্লেষণ। ঘেমেনেয়ে একাকার, তবু পড়ছি। বন্ধু ও কলিগ পিল্লাইকে দিলাম, স্তম্ভিত পড়ে। পিল্লাইয়ের কাছ থেকে আইনস্টাইন ও অন্য কয়েকজন বিজ্ঞানীর বই নিতাম, ওর কাছে থেকে শিখতামও কত কি ক্ল্যাসিক্যাল বিজ্ঞানচিন্তা ছাপিয়েও। আমরা দুজনেই নিরীশ্বরবাদী ছিলাম।
 
কলকাতায় এসে একদিন  ডাঃ ধীরেন্দ্রনাথ গাঙ্গুলির ( কলকাতা 'পাভলভ ইন্সটিট্যুটের' স্থাপয়িতা  এবং' মানব মন'-পত্রিকার সম্পাদক) সঙ্গে দেখা করলাম। কিছু অ্যাঙসাইটি ও বিচ্ছিন্নতার জন্য কষ্ট পাচ্ছিলাম। ওনার সাথে কযেকদিন আলোচনা, কাউন্সেলিং হলো। উনি আশ্বস্ত করে বললেন -- এত পিউরিটান কেন, দরকারেও দেখেছি, একটা মিথ্যে কথাও তুমি বলতে পারো না। ইয়ার্কি, ঠাট্টাগুলো অতো সিরিয়াসলি নাও কেন!  তোমার কিচ্ছু অসুখ নেই, স্বাস্থ্য এত ভাল। ভুল আইডিযার জন্যে অযথাই কষ্ট পাচ্ছো। তোমার চরিত্রে যা মাধুর্য আছে, লোকে তোমাকে ভাল না বেসে পারবে না। কোন ওভারটাচিনেস, হীনন্মন্যতা রেখো না। আমাকে সস্নেহে টেনে নিলেন ওঁদের কাগজপত্র নির্বাহের বিরাট কাজকর্মের মধ্যে।

এখানেই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় বাঁক, যা আমার জীবনকে আলোয়, জ্ঞানে, বন্ধুত্বে, সংগ্রামে ক্রমেই দৃঢ় প্রতয়ী  ও বলশালী করে তুলতে লাগলো। পত্রিকার কাজে, কখনও ওনার এমিসারি হয়ে কতো গুণী ও বিদ্বজ্জনের কাছে যেতাম। অনেক নাটক, সেমিনার, লেখালেখির উটকোছুটকো কাজ ; অবসর সময়ে কতসময় দু একটা লাইব্রেরিতে গিয়ে পড়তাম টড়তাম। স্টাডি সারকল্, কবিতার লড়াই, গান, নাটক করা, জমাটি পিকনিকে হাজরো সংস্কৃতির মেলা এবং খেলাও ---কি না করতাম। এটা আমার দু'বছরের বেকার জীবনের সুখ-দুঃখের মিশেল হলেও, বলতে গেলে স্বর্ণসময় !  মা' কাছ থেকে দুটাকা নিলেই বাসভাড়া আর একআধটা সিগারেট হয়ে যেত তখন। মানবমন একটা ওয়ার্ল্ড স্ট্যানডার্ড ম্যাগাজিন  ; মাঝে মাঝে ইংরেজি আর একটা মানবমনও বের হতো। হীরেন মুখার্জি, গোপাল হালদার, কপিল ভট্টাচার্য আরো কতো যশস্বী মানুষদের দেখেছি, শুনেছি। ওখানকার অফিসঘরেই কতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা শুনেছি। আমি তো পিগমি বলতে গেলে।

বুঝে গেলাম এভাবেই বিভিন্ন শিল্প বিজ্ঞান বিষয়ে গভীর অধ্যয়ন না করলে 'টোটালিটি অব আউটলুক' তৈরি হয় না। রাজনীতি, অর্থনীতি সবই এর আওতায় আসে। সাহিত্য, কবিতা, গান, নাটকের কোরিয়োগ্রাফি  এসব নিয়েও চর্চা দেখেছি, থেকেওছি। কবি মোহিত চট্টোপাধ্যায়, নবেন্দু চক্রবর্তী, রাম বসু, সিদ্ধশ্বর সেন, শমীক বন্দ্যোপাধ্যায, হেমাঙ্গ বিশ্বাস আরও কতোজনের কথা, কবিতা, নাটক, গান যে শুনতাম বলে শেষ করা যাবে না। মিছিলেও গেছি কখনও দূরে ট্রিগার-হ্যাপি পুলিশ  শেল ছুঁড়ছে, কেউ যেন টেনে আমাকে টেনে ঘরে ঢুকিয়ে নিয়ে দড়াম করে বন্ধ করে দিল বিশাল ভারি দরজা, বেঁচে গেলাম , অনেকে একসাথে দাঁড়িয়ে কত কাছের হয়ে গেলাম।  জানি, বোর করছি তবু সহ্য করুন একটু। ১৯৬৮ সালে কলকাতা পোর্ট ট্রাস্ট এর হলদিযা ডক কমপ্লেক্সের চাকরিটা পেলাম। বেকারত্ব ঘুচে গেল, এবার এশিয়ার বৃহত্তম নদীবন্দর নির্মাণের জন্যে হ্লদিয়ার পথে পা বাড়ালাম।



আপনার সম্পাদনার অভিজ্ঞতার কথা যদি একটু বলেন... 





সম্পাদনার অভিজ্ঞতা আমার খুবই কম। হলদিয়ায় থাকতে কবি তপন কুমার মাইতির সাথে যৌথভাবে 'অনুত্তর' নামে একটা লিটল ম্যাগাজিন বার করেছিলাম ৮৩ / ৮৪ -তে হবে। কয়েকটা সংখ্যা বেরিয়েছিল মাত্র। চাকরি করে এবং অার্থিক জোগান, লেখা জোগাড় ইত্যাদি হয়ে ওঠে নি সেইভাবে।
   
'মানবমন' তো তো খুব ওজনদার পত্রিকা। ওখানে জ্যোতিষ্কদের আনাগোনা। জীববিজ্ঞান-সমাজবিজ্ঞান-মনোবিজ্ঞানের আধুনিক ধারা সমূহ বিপুলভাবে এসেছে ওতে। দাঁত ফুটানোই মুশকিল। আমরা কযেকজন তরুণ ও এক আধজন তরুণী ওই কার্যনির্বাহক সমিতিতে ছিলাম। লেখা আনতে পাঠাতেন, একআধটা সাক্ষাৎকার মতো নিয়েছি আমি (যেমন চিন্তামণি কর। দেখেই বুক ধড়াস করে ওঠে। কিন্তু কি ভাল আর অমায়িক) । কখনও প্রুফ দেখেছি  ওনার চেম্বার-সংযুক্ত বেশ বড়সড় ঘরটার কোনের একটা টেবিলে দু'জন বন্ধু মিলে। কখনও প্রেসেও কিছু দিতে বা নিতে গেলাম। পড়তে পড়তে, বিভিন্ন আলোচনা শুনতে শুনতে একটু দড় হযে গেলাম। WHO- র পাভলভীয়ান সাইকোলজির স্টলে ডেমোনস্ট্রেট-ও করেছি শহিদমিনারের মাঠে। যাক গে, কতো কি ছিল!  পরে ইংরেজি থেকে বাংলায় কিছু সামান্য অনুবাদও করতে দিলেন, করেছি । অনেক পরে, হযতো নব্বইয়ের দশকে সফদার হাসমি-র ওপর আমার লেখাও উনি ছাপিয়েছেন ওতে। অনেক গল্প আছে এখানে ওখানে সারা জীবনের পরতে পরতে । এখানকার এই লেখাটায় তার কিছুই বলা গেল না। তপন কুমার মাইতির সঙ্গে যৌথভাবে 'দীপান্তর' নামে একটা বাংলা কবিতা ও তার ইংরেজি ভাষান্তরণের সঙ্কলন প্রকাশিত হয়েছিল। আমি আমারটা ও আরেক কবির একটা কবিতা অনুবাদ করেছিলাম (১৯৮৫ সাল হবে ওটা) । 'আপনজন' সাপ্তাহিক সংবাদ পত্রিকায় নানা বিষযে গদ্য লিখতাম, সম্পাদকীয়ও অনেক সময়, অন্য লেখা নির্বাচনেও আমার কিছু দায়িত্ব  ছিল। আর বড় আকারের শারদসংখ্যা বা বিশেষ উপলক্ষে প্রকাশিত সংখ্যাগুলোর সম্পাদকমন্ডলির একজন ছিলাম। মূল সম্পাদিকা --তমালিকা পন্ডাশেঠ । বহু বিচিত্র লেখা ও কবিতা পাঠ করে আমার মতামত লিখতাম ;লেখা বাহুল্য সম্পাদিকা আমার এই নির্বাচনকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিত। বিনয় করে এও বলেছে --শ্যামলদার কাছ থেকে কবিতা লেখা শিখেছি। বলতাম, ধুস কবিতালেখা কেউ শেখাতে পারে নাকি সেভাবে !  আর আপনাকে ? কলকাতা বন্দরের সাহিত্যমূলক পত্রিকা 'মোহনা'-র সম্পাদক ত্রয়ীর একজন ছিলাম একবার। কাজ বলতে প্রায শ'খানেক কবিতা-গল্প-প্রবন্ধ গুলো পড়ে প্রত্যেকটার উপর আমার মূল্যায়ন বা মনোনয়ন বিষয়ক ছোট্ট মন্তব্য ইত্যাদি লিখে কলকাতায় পাঠানোর জন্য ওখানকার অফিসে দিয়ে দিলাম মানে কলকাতা থেকেই তো পাঠিয়েছিল। সেটা হয়তো ৯০-এর দশকে। আপনজনে ছিলাম হয়তো ৮৭-৮৮ থেকে ৯৬-৯৭। মানবমন-এ ৬৭ থেকে ৯৮-৯৯।  কবি গৌতম কুমার দে 'প্রোরেনাটা' পত্রিকায় সহ-সম্পাদক মন্ডলিতে দুএকবার আমার না রাখলেও আমি বস্তুত কিছুই করিনি। আমার তরুণ বন্ধুটি ভালবেসে  এটা করেছিল। আমি ওই পত্রিকায় লিখতাম মাঝেসাঝেই। আমাকে সম্মাননাও দিয়েছে  প্রোরেনাটা-গোষ্ঠি। আরও এক আধটাও জুটেছে, তবে অনেক যোগ্য লোক আছে ; যাইহোক, আমি অনেকের মধ্যে একজন, এটাই যথেষ্ট ।

আজকাল সব তো চটপট  মনে করে করে সরাসরি লিখে ফেলতে পারি না ততো ; আমি কোনও বইখাতা খুলিই নি, ট্যাব খুলেছি আর মাঝরাত্তির হতে চললো, লিখছি। হলদিয়ায় ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের নিয়ে 'কলতান' নামে একটা দেয়াল পত্রিকা  একবার করেছিলাম। লেখা-আঁকা ও সঙ্গে একটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, হয়তো  ৮০-র দশকে গোড়ার দিকে। বাচ্চাদের, কে না ভালবাসে। তাই এটা হঠাৎ হুট করে মনে পড়ে গেল। এরকম টুকটাক একআধটা আছে। কিন্তু এতসব অকিঞ্চিৎকর ব্যাপার না এনে ভাবছি দাঁড়ি টেনে দেওয়াই ভাল। পাঠক বোর হচ্ছেন সিয়োর ।

(চলবে) 


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.