x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৭

মন্দিরা ঘোষ

sobdermichil | সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৭ | | মিছিলে স্বাগত
 মন্দিরা  ঘোষ
 উৎসবের দিনগুলি 

১।

ফর্সা মুখে লাল সুর্যরং
কপালের টিপের ভেতর
ঘামে ভেজা এলোমেলো চুল
একটু দূরে লাউ মাচায়
তোমার হাতের যত্ন খুব
গনগনে কাঠের আঁচে
মাটি লেপা পেতলের হাঁড়িতে
ভাত ফুটছে টগ বগ

২।

তালাইয়ের মতন বুনন পরস্পরে
জড়িয়ে থাকার সুখ
শীতের রাতে উনুনের ধারে
গল্পের আসর বসত
পিঠেপুলি  সরুচাকলি
 গরম গরম ভেজা হাতে
আকাশ নামত তখন
আমাদের উঠোনে

৩।

অভাব গুলো মাড়িয়ে মাড়িয়ে
হাত ধরে থাকতাম
অনেকগুলো মুখ একসাথে
ছুঁয়ে যাওয়া সুখ দুঃখ ভাগ হোত
জ্যাঠা কাকার ভেদ ছিল না
বন্ধুবাবার কোল আর
পকেটভর্তি লজেন্স আমার
অধিকারে সবসম
বন্ধুবাবাকে মোস্তাকদা বলে
ডাকতেন বাবা

৪।

বিকেলগুলো ফুরফুরে বসন্তকাল
দাওয়ার ওপর হাসি গানের
সোনার বুনন
পথচলতি মানুষও থেমে যেত
পুরু লেন্সের চশমা লাঠি
আর চওড়া বুকের উদারতায়
আসর জমে উঠত

৫।

রাতের অন্ধকারে দূরের জঙ্গল
বারে বারে চোখ চলে যেত
রাজবাড়ির ছায়াকথার
ছমছমে দিন
অশ্বত্থের গায়ে হাজার জোনাকিচোখ
ঝিঁঝিঁ  পোকার ডাকে
পিছন ফেরা ভয় ছুঁয়ে থাকত
সারারাত

৬।

ইজিচেয়ারের সামনে ঢাউস রেডিও
সেদিন ভোরবেলা ঘুম ভাঙ্গত
সবাই দাদুর ঘরে জড়াজড়ি
বড়রা চায়ের চুমুকে আর
কচি ঘুমচোখে মহালয়া শুনতে শুনতে
ঘুমে ঢলে পড়া
পূজোর দিনগুলো ভেসে থাকত
শরতের সাদা মেঘের মত

৭।

অরণ্যের গভীর হাতছানি
ডাক দিত খুব
ভেসে থাকত জীবন পালকসুখে
কচি শালপাতায় সোনাপোকা
করমচা ফুলের সুগন্ধ আর
পিয়ালবনের নেশায় পথ হারানো
রূপকথা হয়ে ওঠা সব দিন
স্বাধীন বাতাস বইত দিনভোর
খোয়াইয়ের ঢালে খাড়াই উৎরাইয়ে
বয়ে যেত সময়

৮।

সেই লাল মাটির রস
কৃষ্ণচূড়ার ছায়াপাতা দুপুর
শিউলিতলার অন্ধকারে
শিবদালানের চেয়ে থাকা
ইতিহাসের জানলায় মুখ  বাড়ায়
পড়ে থাকা একটুকরো
পৈত্রিক জমির মত উত্তরাধিকারী
এক সময় সারণী...।




Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.