x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৩১, ২০১৭

সৌনক দত্ত

sobdermichil | আগস্ট ৩১, ২০১৭ | | মিছিলে স্বাগত
ব্লু ট্র্যাপ......
প্রিয় উদিতা,  আমি ফিরতে চাই,আবার শুরু করতে চাই আমাদের নিটোল যাপন।
পুরানের চিঠিটা একলাইন পড়ে ভাঁজ করে রাখে উদিতা। তারপর কাজে ডুবে যায়।
পুরান আর উদিতার প্রেম উদাহরণ ছিলো ভার্সিটিতে। শরীর নিয়ে কোন ট্যাবু উদিতার আগেও ছিলো না এখনো নেই। উদিতা মনে করে ভালবাসার একটি স্তর শরীর, ভালবাসা গাঢ় হলে শরীরই তার স্বীকৃতি। ভালবাসা ফুরিয়ে এলে বা ভালবাসার বিন্দুমাত্র অনুভুতি না থাকলে সেখানে শরীর থাকতে পারে না। পুরানের সঙ্গে তার অনেক শরীর শরীর দিন কেটেছে। তবে সেসব শরীর শরীর দিন আজকের মতো নয়।উদিতা প্রায়ই খেয়াল করেছে সোস্যাল মিডিয়া গুলোতে পরিচয়ের কয়েক ঘন্টা পরেই শরীর জেগে ওঠে, কেউ কেউ ফোনেও বেশ স্বাছন্দ্য বোধ করে। উদিতার এতে বড় আপত্তি, মনে হয় সেই মানুষগুলো এক একেকটা রোবট। কিংবা....

কাজ শেষ করে বেরিয়ে পড়ে উদিতা। তারপর চিঠির কথা ভুলে যায়।

কয়েক মাস পরে.....
সকালের সিগ্ধতা নিয়ে পুরান এসে উপস্থিত।
-কেমন আছো উদিতা। আমি পুরান। চিনতে পারছো না? ঢুকতে বলবে না। নাকি বাইরে থেকেই বিদায় করবে।
চেহেরায় আমূল পরিবর্তন, এই চেহেরা সে চেনে না,  পুরানের কোন আদল নেই। কিন্তু কোথায় যেন দেখেছে, কিন্তু কোথায়? কিছুতেই মনে করতে পারে না।ইতস্তত করে ঢুকতে দেয় উদিতা।
-তোমার হাতের কফি কিন্তু এখনো আমি খুব মিস করি। এক কাপ হয়ে যাক।
-আমি বের হবো পুরান।
-অফিসে?
-না,আজ আমি শিকাগো যাবো।
-ও। ভুল সময়ে চলে এলাম তবে।
-তা কিছুটা,তবে তোমার তো আসা যাওয়া সব সময়ই ভুল।
-সেই সময় বিয়ে না করলে আমার স্কলারশিপটা সম্ভব ছিলো না।
-তাই বলে.... ছাড়ো সে সব কথা। তোমার কথা বলো? নিধির কথা বলো।
-নিধি?
-নিজের বউয়ের নাম পাল্টে নিয়েছো নাকি? নাম শুনে আকাশ থেকে পড়লে মনে হচ্ছে।
- না, মানে ইয়ে,তুমি নাকি সুইডেন শিপ্ট করছো শুনলাম স্থায়ী ভাবে। জানো সুইডেনের একটি ভার্সি টি আমায় ডাকছে।
-না,আমি দেশ ছাড়ছি না।
-পুরান হেসে ওঠে,দারুন দুজন একসাথেই থাকতে পারবো আবার, বেশ হবে কি বলো?
-আমি পেছনে ফিরি না পুরান, নিজের স্বার্থের জন্য আর কত ব্যবহার করবে বলতে গিয়েও বললো না উদিতা। চুপ করে রইলো। কিন্তু মনে সেই খচখচানিটা বেরেই যাচ্ছে।এই ফেঞ্চকাট দাঁড়ির মানুষটাকে কোথায় যেন দেখেছে। অথচ পুরান কে দেখছে সে বছর পচিঁশ পরে। 
-খুব ভুল করেছি জানি, কিন্তু বিশ্বাস কর জীবনটা হেল হয়ে গেলো।সব ছেড়ে আমি আবার তোমার কাছেই ফিরতে চাই। ট্রাস্ট মি উদিতা।
-সরি,পুরান আমার এবার বের হবার প্রস্তুতি নিতে হবে। নয়ত দেরি হয়ে যাবে।
-তুমি রেডি হও।একসাথেই বের হই।

উদিতার খুব কষ্ট হচ্ছিলো মিথ্যাগুলো বলতে। কি হবে আবার শুরু করলে। পরক্ষণেই মনে পড়ে, পুরান তো তাকে কোনদিন উদিতা ডাকতো না। সব সময় উদি বলে ডাকতো। তাছাড়া তার অফিস,বাড়ীর ঠিকানা কি রে জানলো পুরান! কি একটা মনে পড়তেই পাগলের মতো কিছু একটা খুঁজতে থাকে উদিতা।

অনেক পুরানো একটি পেপার কাটিং বের করে উদিতা। সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া ধুলি রায় কে আসলে কৌশলে খুন করা হয়েছে বলে তথ্য মিলেছে, স্বামী পলাতক।
উদিতা নম্বর ডায়াল করে.........

মেঘলা বিকাল,দোকান
০৬ এপ্রিল,২০১৭



Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.