x

প্রকাশিত বর্ষপূর্তি সঙ্কলন

দেখতে-দেখতে ১০ বছর! শব্দের মিছিলের বর্ষপূর্তি সংকলন প্রকাশের সময় এ খুব অবিশ্বাস্য মনে হয়। কিন্তু অজস্র লেখক, পাঠক, শুভাকাঙ্ক্ষীদের সমর্থনে আমরা অনায়াসেই পেরিয়ে এসেছি এই দশটি বছর, উপস্থিত হয়েছি এই ৯৫ তম সংকলনে।

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৩১, ২০১৭

সৌনক দত্ত

sobdermichil | আগস্ট ৩১, ২০১৭ | | মিছিলে স্বাগত
ব্লু ট্র্যাপ......
প্রিয় উদিতা,  আমি ফিরতে চাই,আবার শুরু করতে চাই আমাদের নিটোল যাপন।
পুরানের চিঠিটা একলাইন পড়ে ভাঁজ করে রাখে উদিতা। তারপর কাজে ডুবে যায়।
পুরান আর উদিতার প্রেম উদাহরণ ছিলো ভার্সিটিতে। শরীর নিয়ে কোন ট্যাবু উদিতার আগেও ছিলো না এখনো নেই। উদিতা মনে করে ভালবাসার একটি স্তর শরীর, ভালবাসা গাঢ় হলে শরীরই তার স্বীকৃতি। ভালবাসা ফুরিয়ে এলে বা ভালবাসার বিন্দুমাত্র অনুভুতি না থাকলে সেখানে শরীর থাকতে পারে না। পুরানের সঙ্গে তার অনেক শরীর শরীর দিন কেটেছে। তবে সেসব শরীর শরীর দিন আজকের মতো নয়।উদিতা প্রায়ই খেয়াল করেছে সোস্যাল মিডিয়া গুলোতে পরিচয়ের কয়েক ঘন্টা পরেই শরীর জেগে ওঠে, কেউ কেউ ফোনেও বেশ স্বাছন্দ্য বোধ করে। উদিতার এতে বড় আপত্তি, মনে হয় সেই মানুষগুলো এক একেকটা রোবট। কিংবা....

কাজ শেষ করে বেরিয়ে পড়ে উদিতা। তারপর চিঠির কথা ভুলে যায়।

কয়েক মাস পরে.....
সকালের সিগ্ধতা নিয়ে পুরান এসে উপস্থিত।
-কেমন আছো উদিতা। আমি পুরান। চিনতে পারছো না? ঢুকতে বলবে না। নাকি বাইরে থেকেই বিদায় করবে।
চেহেরায় আমূল পরিবর্তন, এই চেহেরা সে চেনে না,  পুরানের কোন আদল নেই। কিন্তু কোথায় যেন দেখেছে, কিন্তু কোথায়? কিছুতেই মনে করতে পারে না।ইতস্তত করে ঢুকতে দেয় উদিতা।
-তোমার হাতের কফি কিন্তু এখনো আমি খুব মিস করি। এক কাপ হয়ে যাক।
-আমি বের হবো পুরান।
-অফিসে?
-না,আজ আমি শিকাগো যাবো।
-ও। ভুল সময়ে চলে এলাম তবে।
-তা কিছুটা,তবে তোমার তো আসা যাওয়া সব সময়ই ভুল।
-সেই সময় বিয়ে না করলে আমার স্কলারশিপটা সম্ভব ছিলো না।
-তাই বলে.... ছাড়ো সে সব কথা। তোমার কথা বলো? নিধির কথা বলো।
-নিধি?
-নিজের বউয়ের নাম পাল্টে নিয়েছো নাকি? নাম শুনে আকাশ থেকে পড়লে মনে হচ্ছে।
- না, মানে ইয়ে,তুমি নাকি সুইডেন শিপ্ট করছো শুনলাম স্থায়ী ভাবে। জানো সুইডেনের একটি ভার্সি টি আমায় ডাকছে।
-না,আমি দেশ ছাড়ছি না।
-পুরান হেসে ওঠে,দারুন দুজন একসাথেই থাকতে পারবো আবার, বেশ হবে কি বলো?
-আমি পেছনে ফিরি না পুরান, নিজের স্বার্থের জন্য আর কত ব্যবহার করবে বলতে গিয়েও বললো না উদিতা। চুপ করে রইলো। কিন্তু মনে সেই খচখচানিটা বেরেই যাচ্ছে।এই ফেঞ্চকাট দাঁড়ির মানুষটাকে কোথায় যেন দেখেছে। অথচ পুরান কে দেখছে সে বছর পচিঁশ পরে। 
-খুব ভুল করেছি জানি, কিন্তু বিশ্বাস কর জীবনটা হেল হয়ে গেলো।সব ছেড়ে আমি আবার তোমার কাছেই ফিরতে চাই। ট্রাস্ট মি উদিতা।
-সরি,পুরান আমার এবার বের হবার প্রস্তুতি নিতে হবে। নয়ত দেরি হয়ে যাবে।
-তুমি রেডি হও।একসাথেই বের হই।

উদিতার খুব কষ্ট হচ্ছিলো মিথ্যাগুলো বলতে। কি হবে আবার শুরু করলে। পরক্ষণেই মনে পড়ে, পুরান তো তাকে কোনদিন উদিতা ডাকতো না। সব সময় উদি বলে ডাকতো। তাছাড়া তার অফিস,বাড়ীর ঠিকানা কি রে জানলো পুরান! কি একটা মনে পড়তেই পাগলের মতো কিছু একটা খুঁজতে থাকে উদিতা।

অনেক পুরানো একটি পেপার কাটিং বের করে উদিতা। সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া ধুলি রায় কে আসলে কৌশলে খুন করা হয়েছে বলে তথ্য মিলেছে, স্বামী পলাতক।
উদিতা নম্বর ডায়াল করে.........

মেঘলা বিকাল,দোকান
০৬ এপ্রিল,২০১৭



Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.