x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৩১, ২০১৭

সায়ন্ন্যা দাশদত্ত

sobdermichil | আগস্ট ৩১, ২০১৭ | | মিছিলে স্বাগত
দেশকে কি দেওয়ার আছে আমাদের
প্রথমত আমাদের কাছে দেশের কনসেপ্টটা ক্লিয়ার হওয়া প্রয়োজন । দেশ কি ? দেশ মানে রাষ্ট্রপতি ? দেশ মানে রুলিং পার্টি ? দেশ মানে পনেরই আগস্ট ? দেশ মানে ক্ষুদিরাম , সূর্য সেন , নজরুল , রবীন্দ্রনাথ ? দেশ মানে নোংরা রাস্তাঘাট , বেহাল প্রশাসন ,অনিয়ন্ত্রিত যুব সমাজ ? নাকি দেশ মানে চাইল্ড অ্যাবিউজ ?

দেশের সংজ্ঞাটা ?দেশ বললে প্রথমেই কি মনে পড়বে ?স্বাধীনতা সংগ্রাম ,হিমালয় ,জে .সি বোস , প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার অথবা অধুনা জি .টি .এস !দেশ বললেই ব্যক্তিগতভাবে এই নামগুলোই আগেভাগে ধরা দেয় মনে । কিন্তু দেশ বললে আমার বাড়ি ...দেশ বললে আমি ...দেশ বললে ষাটে অবসরপ্রাপ্ত আমার বাবা মনে আসেননা কেন ? দেশ মানেই চরম শ্রদ্ধায় জনগণ মন অথবা দেশ বললেই দুরাচারি পলিটিক্যাল পার্টির কথা এসে যায় ।আসলে দেশ বলতে আমি নই ।আসলে দেশ বলতে আমরা নই কখনো । দেশ একটা ধারণা ।রাষ্ট্র একটি স্বপ্ন আর সেই স্বপ্নে আমরা নিজেদের কোনদিন ইনক্লুড করতেই পারিনি । শেখান হয়নি হয়ত ।আবার শিখিওনি সেও সত্য । বরাবর দেশের ব্যপারে আমরা মূঢ় দর্শক ।হয় হাততালির ভার নইলে সমালোচনার ভার আমাদের ।কিন্তু সে হাততালির অংশীদার আমরাও অথবা সমালোচনার দায় আমাদেরই সে কথা কখনো ভাবতে পারিনি আমরা !

আলোচ্য টপিক হলো দেশকে কি দেওয়ার আছে আমাদের । নাহ ঝুড়ি ঝুড়ি বিজ্ঞানী ,চিকিৎসক ,কবি ,লেখক অথবা দার্শনিক নয় দেশের প্রয়োজন ভালবাসা । নিরাকার ব্রম্ভের সাধন কঠিন অপেক্ষাকৃত ।সুতরাং যদি ধরেই নিই দেশ মানে আমার পরিবারের গুরুজন ।একজন বয়স্ক মানুষ অথবা মানুষী যিনি আপতত কেবল ছেলেমেয়ে ,নাতি নাতনি সহ স্বচ্ছল ,শান্তির সংসার প্রত্যাশা করেন ।বাকিদের হাসি দেখে নিজেও খুশি থাকতে চান ।বাগানের টগর ,জুঁই ,গন্ধরাজের গায়ে হাত বুলিয়ে ভাবতে চান সন্তানসন্ততি ভাল আছে ,সুখে আছে ...তবে আশু প্রয়োজন নিজেদের ভালথাকা ।শুধু ভালথাকা নয় সংযত থাকা । ব্যক্তিস্বার্থ অগ্রাহ্য করে সবাই মিলে সুখী পরিবার হওয়া যায় কিভাবে সেই ব্যপারটা নিয়ে কাজ করা । অহেতুক ঝগড়াঝাঁটি ,ভাগ বাটোয়ারা ,তুই মুই যেমন বয়োবৃদ্ধ মানুষের যন্ত্রণা দেয় ..হতাশা দেয় ঠিক সেভাবেই আমাদের দেশও ব্যথা পায় ,আহত হয় এটুকু ভাবতে পারলেই কাজটা সহজ হয় ।হিন্দু ,মুসলিম ,গরু ,শূকর ,তাজিয়া ,কাজিয়া ,রাম ,মহম্মদ ...লড়াইটা যাকিছু নিয়েই হোক ,শেষমেষ লড়ছি আমরাই ।মরছি আমরাই ।মারছি আমরাই ।সেই স্বধীনতার পুণ্যলগ্ন থেকেই পাকিস্থান আর ভারতবর্ষ ...ভাগ হলাম কারা ? দুটো চোখ ,একটি নাক ,একটি মাথা আর চার হাতপায়ালা মানুষ বই নয় ! আজ রাস্তার পাশে জঞ্জাল ডাই করে বাড়িতে রুম ফ্রেশনার ছড়িয়ে সুখ করছি যারা তারা ভুলে যাচ্ছি পরিবেশ দূষণ কোন নির্দিষ্ট পাড়া বা রাজ্যভিত্তিক স্তরে আটকে থাকবেনা ।বাতাস ,জল ...কবে ভাগ বাটোয়ারা বুঝেছে ?কবে মেনেছে কাঁটাতার ?! এই ব্যক্তিভিত্তিক বোকাবোকা আমি এবং আমার ধারণাটার বাইরে না বেরুতে পারলে শুধুমুদু পনের তারিখ পতাকা দুলিয়ে কোন লাভ নেই !দেশ পতাকা চায়নি ।দেশ দাবি করেনি পৃথক মালিকানা ।দেশ কখনো জাত ভিত্তিক সন্তানের স্বপ্ন দেখেনি ।আর দেশ কখনো শ্রেণীভিত্তিক সমাজব্যবস্থার প্রোটোকল গড়তে চায়নি। ক্রিকেট মানে শুধু ক্রিকেটই হোক। ভাল খেলা হাততালি পাক। রাষ্টগত বা জাতিগত উল্লাস এবং অভিমান একদিন খেয়ে ফেলবে আমাদের । ধ্বংসলীলা কোন পাড়া ,রাজ্য বা দেশে আটকে থাকবেনা ।

দেশকে দেওয়ার আছে একটি শ্যামল চাদর ।অসংখ্য কৃষকের গর্বিত লাঙল । গর্ভবতী ধানের শিস ভরিয়ে দিক আদিগন্ত জমি । দেশকে দেওয়ার আছে উন্মুক্ত খেলার মাঠ ।জাতি এবং লিঙ্গ নির্বিশেষে সেখানে শৈশব বেড়ে উঠুক ।দেশকে দেওয়ার আছে নিরাপদ একটি রাস্তা যেখানে ধর্ষন শব্দ অবান্তর । যেখানে মা বোনেরা পূজিতা । কৃষি রূপে ।শষ্য রূপে ।জল রূপে । খাদ্য রূপে । মা রূপে ।স্ত্রী রূপে । কন্যা রূপে অথবা সৃষ্টির মূল আদ্যাশক্তি রূপে । দেশকে দেওয়ার আছে একটি নিরপেক্ষ মাতৃক্রোড় যেখানে মুসলিম পাড়ায় হিন্দু বাস করেন ।যেখানে হিন্দু মন্দিরে একবেলা নিশ্চিন্তে অন্ন পান এক মুসলিম রমণী ।দেশ আমার গুরুজন ।আমার মাতামহ ...পিতামহী ...আমার পিতা ...আমার জননী ...আমার শিক্ষকের থেকে আলাদা কেউ নন !দেশ মানেই আগ্নেয়াস্ত্র হাতে সিয়াচেন নয় ।দেশ মানেই নিহত জওয়ানের বিক্ষত দেহ নয় ।দেশ মানেই তেরঙ্গা পতাকা ঝুলিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রদর্শন নয় ।দেশ মানে ছাতা ।পরিবারের আধার ।আমাদের শেকড় ...যাকে আপতত একটু নিরবিচ্ছিন্ন শান্তি দেওয়ার প্রয়োজন ।যাকে আপতত স্বস্তি দেওয়া প্রয়োজন ....নিজেদের ভুল শুধরে নিয়ে ।দেশ রং চায়নি । জাত চায়নি । কাশ্মীর চায়নি । রায়ট চায়নি ।গীর্জা চায়নি ।ধর্মগ্রন্থ চায়নি ...চেয়েছে ভালবাসা ।পারস্পরিক আদরে গড়ে ওঠা একখণ্ড বৃহৎ সংসার ।আর পাঁচটি পরিবারের মতই নিটোল , ভালবাসা এবং বন্ধনের ।


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.