x

প্রকাশিত ৯৬তম সংকলন

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

রিয়া চক্রবর্তী

sobdermichil | আগস্ট ৩১, ২০১৭ |
স্মৃতির সরণি


জীবনে চলার পথে পথে সজ্ঞানে অজ্ঞানে, সচেতন অচেনভাবে ঘটনার আকস্মিকতায় সঞ্চিত হয় বিচিত্র সব ঘটনার স্মৃতি। সেই সঞ্চয় থেকেই একটি ঘটনার অবতারণা।কোন জম্পেস আড্ডায় কোন ঘটনার কথোপকথনের মাঝেসাঝে মনে পড়ে যায় সেইসব ফেলে আসা মজার ঘটনা। আজ কিছু টুকরো টুকরো ঘটনা বলি।

আমাদের পাড়া ছিলো বেশ ছোট, একটি মাঠ ঘিরে কয়েকটা বাড়ি। আর আমরা প্রত্যেকেই প্রত্যেকটি বাড়ির খোঁজ রাখতাম। আর সেই মাঠটি ছিলো আমাদের প্রাণের থেকেও প্রিয়। স্কুল থেকে বাড়ি ফিরেই সেই মাঠে যেতেই হতো, সমস্ত খেলা খেলেছি। ক্রিকেট থেকে ডাংগুলি পর্যন্ত। পাড়ায় মেয়ের থেকে ছেলের সংখ্যা বেশী তাই সবাই আমার বন্ধু। আমার স্কুল ছিলো হোলি চাইল্ড, কেউ সাউথ পয়েন্ট, কেউ ডন বস্কো, কেউ আবার সেন্ট লরেন্স। অর্থাৎ পড়ার চাপে খেলার সময় ভীষণ কম। তাই স্কুল থেকে ফিরে কেউ আর খাবার জন্য সময় নষ্ট করতাম না। আর আমরা মোটেও শান্ত শিষ্ট বাচ্চা ছিলাম না। পাড়ার কারো অনিষ্টও করতাম না। আমাদের যত বীরত্ব ছিলো আমাদের মাঠে।

ছোট থেকেই আমি টিকটিকি ভীষণ ভয় পাই। সে যদি নর্থ পোলে থাকে তাহলে আমি সাউথ পোলে। একবার গরমের ছুটি চলছে। আমার এক বন্ধুর বাড়িতে তার একটা পোষা টিকটিকি ছিলো, সেই কারণে আমি কখনোই ওদের বাড়ি যেতাম না। যত কথা বাইরে দাঁড়িয়ে। যাইহোক, কিভাবে যেন সেই পোষা টিকটিকি যমুনা দেবী (নাম আমার দেওয়া ছিলো) মারা যায়। আমরা বন্ধুরা সবাই মিলে স্বান্তনা দিতে গেলাম সেই বন্ধুকে। ঘটা করে সেই টিকটিকিকে আমাদের মাঠেই কবর দেওয়া হল। তার স্মরণে সেই জায়গায় আমাদের মালি কাকুকে বলে একটা কৃষ্ণচূড়া গাছ লাগানো হল। সেই গাছ অনেক বড় হয়ে একদিন কালবৈশাখী ঝড়ে পরেও যায়।

আমাদের মাঠের এককোণে ছিলো গাঙ্গুলি জেঠুর বাড়ি।গাঙ্গুলি জেঠু ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মী। তার ছিলো দুই মেয়ে। আমাদের থেকে বড় তাই আমরা দিদি বলতাম। সেই গাঙ্গুলি জেঠু ছিলো পাড়ায় সবথেকে কৃপণ মানুষ। তার বাড়িতে চা করার পরে সেই চা পাতা ফেলে দেওয়া হতো না। সেটা রোদে শুকিয়ে আবার কৌটায় রেখে দেওয়া হতো, পরের বার চা করার জন্য।সেই গাঙ্গুলি জেঠুর অনেক মজার কাহিনী আছে। এই মুহূর্তে একটা মনে পরছে সেটাই বরং বলি। তাঁর দুই মেয়ে ছিলো, অনেকটাই বড় আমাদের থেকে। দুজনেই ছিলেন শিক্ষিত এবং সুচাকুরে। যাইহোক, আগে আমাদের পাড়ায় একটা রেওয়াজ ছিলো, কোন অনুষ্ঠানে বা বিশেষ করে বিজয়া দশমীর দিন পাড়ার প্রায় সব বাড়িতেই নানান মিষ্টি বা নোনতা খাবার তৈরী হতো। আমরা ছোটরা সেইসব খাবার প্রতিবেশীরদের দিয়ে আসতাম, এইভাবে প্রত্যেকেই প্রত্যেকের বাড়িতে দিতো।শুরু আদেশ ছিলো গাঙ্গুলি জেঠুর বাড়ি থেকে কিছু খেতে দিলে যেনো আমরা না খাই, এটা আশেপাশের সব বাড়ির অর্ডার। যেহেতু তখনকার বাচ্চারা অন্যরকম ছিলাম,পাড়াও অন্যরকম ছিলো তাই পাড়ার বড়রা আমাদের শাসন করার বা আমাদের ভালো মন্দ বিচার করার অধিকার রাখতেন। এখন অবশ্য অন্য ব্যপার। কিছু না খাওয়ার কারণ বলছি পরে।

গাঙ্গুলি জেঠুকে কখনোই পুরো পা পর্যন্ত লুঙ্গি পড়তে দেখিনি, হাঁটু পর্যন্ত পড়তেন।তিনি একটা লুঙ্গি কিনে সেটা দর্জিকে দিয়ে লম্বালম্বি কেটে সেলাই করে দিতে বলতেন। এক ভাগ পরতেন, আর এক ভাগ রেখে দিতেন আগের ভাগ ছিঁড়ে গেলে, তখন পরতেন। সেইভাবেই বাজার, দোকান করতেন। আর একটা ফতুয়া যেটা কোন এক কালে সাদা ছিলো খুব সামান্য হলেও বোঝা যায়। এখন হলদেটে। সেই জেঠুর বাড়ি খুব কম আত্মীয় আসতেন। তাদের আত্মীয় ছিলোই কম। জানিনা কেন। আমরা যখন মাঠে খেলাধূলা করছি, আর এই সময়ে যদি কোন আত্মীয় এলো ওই বাড়িতে, ব্যস আমাদের খেলা সেদিনের মতো সেখানেই শেষ। আমরা চললাম গাঙ্গুলি জেঠুর বাড়ির আশেপাশে তিনি আত্মীয়দের কি খেতে দেবেন সেটা দেখার কৌতূহলে।

উহুঁ ভাববেন না আমরা হ্যাংলা ছিলাম। এমনিতেই খাবারের প্রতি বেশি লোভ টোভ আমাদের ছিলো না। দেখার কারণ এইবার বলছি, যদি সেই আত্মীয় কোন রসের মিষ্টি আনেন, তাহলে গাঙ্গুলি জেঠু আর কষ্ট করে পাশের নিমাই কাকুর মিষ্টির দোকানে যাবেন না। সেই মিষ্টিই হাঁড়ি খুলে নিজেরাও খাবেন আর তার থেকেই আত্মীয়দেরও দেবেন। ঝামেলা কম। কিন্তু আত্মীয়স্বজন যদি কোন সন্দেশ জাতীয় পদার্থ নিয়ে আসে, তাহলে জেঠুর খাটনি বেড়ে যায়। জেঠুকে কষ্টকরে নিমাই কাকুর দোকানে যেতে হবে, তাঁর থেকে দু তিন রকমের মিষ্টি বানানোর ছাঁচ নিতে হবে। তারপর আত্মীয়ের আনা সন্দেশ একটা থালায় নিয়ে ভালো করে মাখতে হবে আর তারপর দু তিন রকম ছাঁচে ফেলে নতুন নতুন ডিজাইনের তৈরী করে আত্মীয়দের খেতে দিতে হবে। পরে অবশ্যই সেই ছাঁচ ধুয়ে নিমাই কাকুর দোকানে ফেরত দিয়ে আসতেন।

সেই অভিনব কায়দা দেখার জন্য সেইদিন আমরা আমাদের খেলা বিসর্জন দিতাম।


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন


বিজ্ঞপ্তি
■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.