x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৩১, ২০১৭

রিয়া চক্রবর্তী

sobdermichil | আগস্ট ৩১, ২০১৭ | | মিছিলে স্বাগত
রিয়া চক্রবর্তী
কয়লা চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েছে চোদ্দ বছরের রাজু।চলন্ত ট্রেনে পকেট কাটতে গিয়ে ধরা পড়ে ন ' বছরের ল্যাংড়া হাবু। আরশাদের পা দুটো রিকশা চালিয়ে ফুলে কলাগাছ হয়ে আছে।যন্ত্রনায় সতেরো বছরের জোয়ান মরদের শরীর কুঁকড়ে যাচ্ছে। নতুন ফ্ল্যাট হচ্ছে, কাজ পেয়েছে এগারো বছরের হারান। মাথায় আট, দশটা ইঁট নিয়ে উঠে যেতে হচ্ছে ওপরে। দেরী হলেই বড় বাবুর মুখ ঝামটা না হলে মার। তাই বাড়ি ফিরে কেঁদে ফেলে ব্যাথায়।"উফফ, বড্ড কষ্ট মা!" তার মা তাকে ঝুপড়ির ছোট্ট ঘরে রাস্তার আলোয় রসুন তেল মালিশ করে দেয়।

প্রফেসর রায়ের ছেলে মস্তবড় এক ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়ে। ডাক্তার আলির ছেলে আজ উকিল।অভিনেতা, অভিনেত্রী বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে বেড়িয়ে নেশার ঘোরে ট্রাফিক নিয়ম ভাঙে। রাতের পার্টিতে চলে মদ, মাংসের মোচ্ছব । গনতান্ত্রিক দেশ আমাদের, সবার সমান অধিকার।কেউ টাকা চুরি করে বাড়িতেই ব্যাঙ্ক বানায়। এদের কিন্তু জেল হয়না। আইনের ফাঁকে কখনো হাতিও গলে যায়।আম জনতা হল কবি নীরেন্দ্রনাথের " উলঙ্গ রাজার " মতো।কেউ কিছু দেখে না, কেউ কিছু বোঝে না।

রাজুর বাবা বছর দুই আগে ট্রেনে কাটা পড়েছে। বাড়িতে এক বোন আর বিধবা মা।বোনের দিকে শালা পাড়ার দালালের নজর। বলেছে এক রাতে অনেক টাকা!মা কে পাড়ার যোগেন কাকু রাতের বেলায় বলেছে টাকা দেবে ধার। সংসার বাঁচাতে রাজু চুরি করে।

ল্যাংড়া হাবু পড়তো, ইংরেজি স্কুলে নয় পাড়ার কর্পোরেশন অবৈতনিক স্কুলে। দুবেলা শাক, ভাতও জোটে না ওদের কপালে।এদের আবার রাজরোগ! মায়ের পেটে ক্যান্সার।চিকিৎসা করাতে গিয়ে হাবুকে চুরি করতে হয়।মা ছাড়া যে তার আর কেউ নেই! 

আরশাদের দিদির বিয়ে তাই একটু বেশি সময় ধরে রিকশা চালাতে হচ্ছে।ছোট্ট হারানের বোনের টিবি হয়েছে তাই বোনকে সারাতে মা আর ও দুজনেই কাজ করে।এদিকে স্বাধীনতা দিবসে মন্ত্রীরা কত গাল ভরা ভাষন দেয়, দারুন লাগে মাইরি শুনতে! 

কত আনন্দ, কত অনুষ্ঠান চারিদিকে আবৃত্তি হবে, গান হবে, নাচ হবে।আজ একটু বেশি রোজগার হবে।তাই আরশাদ সকাল থেকেই রিকশা নিয়ে বেড়িয়েছে।

লক আপে মার খেয়ে রাজুর পিঠে কালশিটে দাগ।
ল্যাংড়া হাবুকে খেতে দেওয়া হয়নি আজ দুদিন।
অথচ কথা ছিলো স্বাধীনতার পরে সবার হবে সমান অধিকার।
স্বাধীনতা যুগ যুগ জিও!!


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.