x

প্রকাশিত বর্ষপূর্তি সঙ্কলন

দেখতে-দেখতে ১০ বছর! শব্দের মিছিলের বর্ষপূর্তি সংকলন প্রকাশের সময় এ খুব অবিশ্বাস্য মনে হয়। কিন্তু অজস্র লেখক, পাঠক, শুভাকাঙ্ক্ষীদের সমর্থনে আমরা অনায়াসেই পেরিয়ে এসেছি এই দশটি বছর, উপস্থিত হয়েছি এই ৯৫ তম সংকলনে।

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

রিয়া চক্রবর্তী

sobdermichil | আগস্ট ৩১, ২০১৭ |
রিয়া চক্রবর্তী
কয়লা চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েছে চোদ্দ বছরের রাজু।চলন্ত ট্রেনে পকেট কাটতে গিয়ে ধরা পড়ে ন ' বছরের ল্যাংড়া হাবু। আরশাদের পা দুটো রিকশা চালিয়ে ফুলে কলাগাছ হয়ে আছে।যন্ত্রনায় সতেরো বছরের জোয়ান মরদের শরীর কুঁকড়ে যাচ্ছে। নতুন ফ্ল্যাট হচ্ছে, কাজ পেয়েছে এগারো বছরের হারান। মাথায় আট, দশটা ইঁট নিয়ে উঠে যেতে হচ্ছে ওপরে। দেরী হলেই বড় বাবুর মুখ ঝামটা না হলে মার। তাই বাড়ি ফিরে কেঁদে ফেলে ব্যাথায়।"উফফ, বড্ড কষ্ট মা!" তার মা তাকে ঝুপড়ির ছোট্ট ঘরে রাস্তার আলোয় রসুন তেল মালিশ করে দেয়।

প্রফেসর রায়ের ছেলে মস্তবড় এক ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়ে। ডাক্তার আলির ছেলে আজ উকিল।অভিনেতা, অভিনেত্রী বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে বেড়িয়ে নেশার ঘোরে ট্রাফিক নিয়ম ভাঙে। রাতের পার্টিতে চলে মদ, মাংসের মোচ্ছব । গনতান্ত্রিক দেশ আমাদের, সবার সমান অধিকার।কেউ টাকা চুরি করে বাড়িতেই ব্যাঙ্ক বানায়। এদের কিন্তু জেল হয়না। আইনের ফাঁকে কখনো হাতিও গলে যায়।আম জনতা হল কবি নীরেন্দ্রনাথের " উলঙ্গ রাজার " মতো।কেউ কিছু দেখে না, কেউ কিছু বোঝে না।

রাজুর বাবা বছর দুই আগে ট্রেনে কাটা পড়েছে। বাড়িতে এক বোন আর বিধবা মা।বোনের দিকে শালা পাড়ার দালালের নজর। বলেছে এক রাতে অনেক টাকা!মা কে পাড়ার যোগেন কাকু রাতের বেলায় বলেছে টাকা দেবে ধার। সংসার বাঁচাতে রাজু চুরি করে।

ল্যাংড়া হাবু পড়তো, ইংরেজি স্কুলে নয় পাড়ার কর্পোরেশন অবৈতনিক স্কুলে। দুবেলা শাক, ভাতও জোটে না ওদের কপালে।এদের আবার রাজরোগ! মায়ের পেটে ক্যান্সার।চিকিৎসা করাতে গিয়ে হাবুকে চুরি করতে হয়।মা ছাড়া যে তার আর কেউ নেই! 

আরশাদের দিদির বিয়ে তাই একটু বেশি সময় ধরে রিকশা চালাতে হচ্ছে।ছোট্ট হারানের বোনের টিবি হয়েছে তাই বোনকে সারাতে মা আর ও দুজনেই কাজ করে।এদিকে স্বাধীনতা দিবসে মন্ত্রীরা কত গাল ভরা ভাষন দেয়, দারুন লাগে মাইরি শুনতে! 

কত আনন্দ, কত অনুষ্ঠান চারিদিকে আবৃত্তি হবে, গান হবে, নাচ হবে।আজ একটু বেশি রোজগার হবে।তাই আরশাদ সকাল থেকেই রিকশা নিয়ে বেড়িয়েছে।

লক আপে মার খেয়ে রাজুর পিঠে কালশিটে দাগ।
ল্যাংড়া হাবুকে খেতে দেওয়া হয়নি আজ দুদিন।
অথচ কথা ছিলো স্বাধীনতার পরে সবার হবে সমান অধিকার।
স্বাধীনতা যুগ যুগ জিও!!


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন


বিজ্ঞপ্তি
■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.